সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৪ পি.এম
অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তান বর্তমানে চাপে রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও ভারতের সঙ্গে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানকে ছোট ছোট প্রদেশে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর ফার্স্টপোস্ট
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। দেশটির প্রায় ৩৩ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির এবং জনসংখ্যার ১৬ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহে মানুষের সীমিত সামর্থ্য এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
পাকিস্তানের সংকট খাদ্যনিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যুৎ খাতের বিপুল দেনা, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এসব সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হচ্ছে।
পাকিস্তানে পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ৩০০ রুপি ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘদিনের অদক্ষতাকেও এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া দেনার পরিমাণ ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্রমবর্ধমান লোকসান এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) সক্ষমতা বাবদ উচ্চ ব্যয়।
দেশটির বৃহত্তম শহর করাচিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কে-ইলেকট্রিক সম্প্রতি নতুন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিদ্যুৎ সমস্যায় ভুগতে থাকা শহরটিতে এ সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে। তুলনামূলক ভালো বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য পরিচিত রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হচ্ছে এবং এসব কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলগুলোও নেতৃত্ব দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতাও বেড়ে যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আটক রাখা এবং তার শারীরিক অবস্থার উদ্বেগের কারণে তার সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসুস্থ ইমরান খান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগেরও সীমিত সুযোগ পাচ্ছেন।
গত ১১ অক্টোবর, ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নিয়ন্ত্রণে থাকা খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে প্রদেশটিতে হাজার হাজার সমর্থক মিছিল করেছেন। তারা সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং কঠোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের ক্ষোভ বেড়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এক হাজারের বেশি পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে বিভিন্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। সেতুতে বালুর বস্তা রাখা হয় এবং রাজধানীতে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি রাজধানীতে ২২ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের কারণে বিক্ষোভ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যাপকতা পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জরুরি ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের দলে ভেড়াতে ডমেষ্টিক থ্রি (ডি-থ্রি) ট্রফির নিলামে টুর্নামেন্টের ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি রীতিমতো কাড়াকাড়ি করেছে।
ঢাকার একটি হোটেলে সোমবার ডি-থ্রি ট্রফির নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নিলামে অংশগ্রহণ করেছে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি।
অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার পর ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে জাতীয় দলের বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে দলে নিয়েছে সিটিজেন ব্যাংক।
নিলামটি পয়েন্ট ভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে উল্লেখিত পয়েন্ট বা সংখ্যা খেলোয়াড়দের প্রকৃত বেতন বা পারিশ্রমিক নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক নির্ধারিত ঘরোয়া ম্যাচ ফি পাবেন ক্রিকেটাররা।
প্রতিটি দলের জন্য স্কোয়াড সাজাতে সর্বোচ্চ ১০ কোটি পয়েন্ট বরাদ্দ করা হয়েছে।
খেলোয়াড়দের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পয়েন্ট ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য ৪০ লাখ পয়েন্ট। ‘বি’ ক্যাটাগরির জন্য ৩০ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরির জন্য ২০ লাখ, ‘ডি’ ক্যাটাগরির জন্য ১০ লাখ এবং ‘ই’ ক্যাটাগরির জন্য ৫ লাখ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
শরিফুল ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় হওয়ায়, তার দল যত পয়েন্টই খরচ করুক না কেন, তিনি ৪০ লাখ টাকাই পাবেন।
ওয়ালটন গ্রুপ ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে পেসার তাসকিন আহমেদকে। এছাড়া ২ কোটি পয়েন্টে জাতীয় দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে দলে নিয়েছে ফরচুন গ্রুপ।
আরেক ওপেনার সাইফ হাসানকে দলে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। এজন্য তারা খরচ করেছে ১ কোটি ৯৫ লাখ পয়েন্ট।
১ কোটি ৭০ লাখ পয়েন্টে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলী অনিককে দলে নিয়েছে সিটিজেন ব্যাংক।
নিলামের জন্য মোট ২৭৫ জন ক্রিকেটারকে তালিকায় রাখা হয়েছে। তিন ফরম্যাট নিয়ে আয়োজিত ‘ডি-থ্রি’ ট্রফি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান (আইডিএফ চিফ অব স্টাফ) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামিরের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত ও তীব্র দ্বন্দ্বের খবর প্রকাশিত হয়েছে। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইরান সংশ্লিষ্ট একটি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নেতানিয়াহু যে নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন, তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আইডিএফ প্রধান।
সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে বা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে এই উস্কানিমূলক সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সামরিক নেতৃত্ব। আইডিএফ প্রধান জামির এই নির্দেশনা কার্যকর করার আগে সুনির্দিষ্ট আইনি অনুমোদন এবং লিখিত দলিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে এই ধরনের পদক্ষেপ তেহরানের সাথে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সামরিক কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতারা এই ঘটনাকে দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ ও ক্ষমতা ধরে রাখতে ইসরায়েলের নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তাকে বাজি রাখতে দ্বিধা করছেন না নেতানিয়াহু। তবে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইডিএফ প্রধানের সাথে বিরোধের এই খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বাজে বকা’ বলে খারিজ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ এই সামরিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন পুরো অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের সিংড়ায় যুব সমাজের উদ্যোগে সাবেক মেয়র মরহুম শামীম আল রাজি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান মন্টুর স্মরণে ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সেমিফাইনালটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৫ টায় উপজেলার ইন্দ্রাসন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এই খেলায় বড়িয়া মৎস্য আড়ত ফুটবল একাদশ ও কালিগঞ্জ ফুটবল একাদশ অংশগ্রহণ করে।
খেলার দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বড়িয়া মৎস্য আড়ত একাদশের হয়ে গোল করেন নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় চুক্কা। অন্যদিকে, খেলা শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে কালিগঞ্জ ফুটবল একাদশের আবু কাহার গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনেন। পরে ট্রাইব্রেকারে ৪-১ গোলে বড়িয়া মৎস্য আড়ত ফুটবল একাদশ বিজয়ী হয়। খেলায় নাইজেরিয়ান দুইজন খেলোয়াড় ছাড়াও নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খেলোয়াড়বৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মাঠের চারপাশে হাজার হাজার দর্শক উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে যুব সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও পরিবেশ কর্মী আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহাদত হোসেন মিন্টু, উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, চৌগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শের আলী, চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল পাশা, সাংবাদিক ও পরিবেশ কর্মী হাসিবুল হাসান শিমুল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রবিউল করিম রবি প্রমুখ।
খেলার উদ্যোক্তা যুব সমাজের প্রতিনিধি আব্দুল করিম বলেন, "মাদক থেকে যুব সমাজকে দুরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘকাল ধরে পর্যটনের সাফল্য মূলত পর্যটকের সংখ্যা, হোটেল কক্ষ ব্যবহারের হার এবং ব্যয়ের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে বিশ্বের অনেক জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র অতিরিক্ত পর্যটকের চাপের কারণে সংকটে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিচ্ছিন্ন বোধ করার কারণ হচ্ছে পর্যটকের চাপ বৃদ্ধি, যা অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, সংস্কৃতির বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে এবং পরিবেশের ক্ষতি করছে। ফলে পর্যটন বৃদ্ধি সত্ত্বেও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটনের সাফল্য শুধুমাত্র সংখ্যা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। যদি স্থানীয় মানুষের কল্যাণ, পরিবেশের সুরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে পর্যটন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ভবিষ্যতে সফল পর্যটনকেন্দ্র হবে সেগুলো, যারা পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিবর্তে স্থানীয় মানুষের কল্যাণ, সংস্কৃতি এবং পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দেবে। এইভাবে স্থানীয় জনগণ উপকৃত হবে, অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যটনকেন্দ্রের নিজস্ব পরিচয় বজায় থাকবে।
পাকিস্তানের পর্যটন খাত দেখাচ্ছে যে, পরিকল্পনা ছাড়া শুধুমাত্র পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি কতটা ব্যর্থ হতে পারে। দেশটিতে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তব ফলাফলে তা খুব কমই রূপ নেয়। ঈদের ছুটি এবং সরকারি ছুটির সময় পাকিস্তানের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যানজট, আবর্জনা এবং প্রয়োজনীয় সেবার সংকট দেখা দেয়। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়েন এবং পর্যটকদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়।
পর্যটকের ভিড় নিজে সমস্যা নয়, সমস্যা হলো তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। পর্যাপ্ত নির্দেশনা এবং আচরণবিধি না থাকায় অনেক পর্যটনকেন্দ্রে উচ্চস্বরে গান, বেপরোয়া আচরণ এবং বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। এর ফলে ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও ভোগান্তিতে পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবের কারণে পর্যটনের ধরন বদলে যাচ্ছে। অনেকেই কোনো স্থান ও তার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার চেয়ে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করতেই বেশি আগ্রহী। এর ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো ছবি তোলার জায়গায় পরিণত হচ্ছে এবং হারিয়ে যাচ্ছে সেখানকার প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় মানুষের প্রতি সম্মান।
পাকিস্তানে পর্যটন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান এবং বোঝাপড়ার ঘাটতি রয়েছে। কথার এবং বাস্তবতার এই ব্যবধান পর্যটনশিল্পের জন্য বিপজ্জনক। এর ফলে গন্তব্যের সুনাম নষ্ট হয়, দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যান, স্থানীয় মানুষ নিজেদের শোষিত মনে করেন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায়। ফলে কোনো স্থান তার সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতির বদলে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার জন্য পরিচিত হয়ে ওঠে।
প্রকৃত পর্যটনের সাফল্য নির্ভর করে সবার জন্য সুফল নিশ্চিত করার ওপর। পর্যটকদের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ এবং খাঁটি অভিজ্ঞতা, শেখার সুযোগ এবং সম্মানজনক পরিবেশ। স্থানীয় জনগণের জন্য প্রয়োজন আয়, মর্যাদা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষা। ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, শুধুমাত্র মৌসুমি পর্যটকের ভিড়ের ওপর নির্ভরশীলতা নয়।
শুধু পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই পর্যটনশিল্প শক্তিশালী হয় না। দশ লাখ পর্যটক যদি স্থানীয় অর্থনীতিতে সামান্য অবদান রাখেন, স্থানীয় রীতিনীতি উপেক্ষা করেন এবং অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন, তাহলে তাদের চেয়ে কমসংখ্যক সেই পর্যটকেরাই বেশি মূল্যবান, যারা দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন, দায়িত্বশীলভাবে অর্থ ব্যয় করেন এবং স্থানীয় জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে অর্থপূর্ণভাবে যুক্ত হন।
পাকিস্তানের জন্য এর অর্থ হলো, শুধুমাত্র স্লোগান দিয়ে নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্য পর্যটনকেন্দ্রের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত পেশাজীবী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ করতে হবে। ছুটির দিনের বিশৃঙ্খলা সামলানোর পরিবর্তে সারা বছরের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে। পাশাপাশি, শুধুমাত্র ছবি তোলার উপযোগী স্থান তৈরি নয়, স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পর্যটন পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন করতে হবে।
পাকিস্তানের অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় সমৃদ্ধ করতে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দায়িত্বশীল পরিকল্পনা ছাড়া এই সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব নয়। বেশি পর্যটক মানেই বেশি লাভ নয়। দায়িত্ববোধহীন পর্যটন স্থানীয় জনগণের শোষণের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সঠিক পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পর্যটন অর্থনীতি, সমাজ এবং সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তাই অর্থবহ এবং দায়িত্বশীল পর্যটন গড়ে তোলার সময় এখনই।
পর্যটনের সাফল্য পরিমাপের ধারণা নতুন করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে, পর্যটক, স্থানীয় জনগণ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবেশের সুরক্ষা, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় এবং স্থানীয় মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পাকিস্তানের পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। পর্যটকদের জন্য প্রকৃত এবং অর্থবহ অভিজ্ঞতা তৈরি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে পর্যটন উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ পর্যটনকর্মী তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে পাকিস্তানের পর্যটনশিল্প টেকসইভাবে বিকশিত হতে পারে এবং দেশটির পর্যটনকেন্দ্রগুলো দায়িত্বশীল পর্যটনের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। পর্যটনকে নতুনভাবে দেখার এবং এর সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময় এসেছে।
মূল লেখাটির লেখক ড. শাব্বির আব্বাস নাকভি প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজিতে পিএইচডি করেছেন। তার গবেষণার প্রধান বিষয় ছিল সিন্ধু নদীর বিবর্তন। এ ছাড়া পর্যটন এবং আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা বিষয়েও তার পিএইচডি রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ