০৮:১৮ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়ার প্রেক্ষিতে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি দেওয়া এবং তাঁর পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রুবেল হোসেন (৪১) থানায় মামলা করেছেন, যেখানে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা আল আমিন বিশ্বাস মারধরের ঘটনা স্বীকার করলেও, টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে আল আমিন বিশ্বাস রুবেল হোসেনের শোরুম থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কিনেছিলেন। এ জন্য তাঁর কাছে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। বাকি টাকা চাইলে আল আমিন নানা অজুহাত দিতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারের সিনেমা হলসংলগ্ন মশিউর রহমানের ডেকোরেটরের দোকানে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে রুবেলকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই অবস্থান করা ব্যক্তিরা তাঁকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে আল আমিন বিশ্বাস, তাঁর ভাই মো. মোমিন হোসেন এবং মো. নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রুবেলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রুবেল দাবি করেছেন, হামলাকারীদের আঘাতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে গেলে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গলা চেপে ধরা হয় এবং এ সময় পকেটে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত রুবেলকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বি-ক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে রুবেলকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়। ফুটেজে আল আমিন বিশ্বাসের উপস্থিতিও দেখা গেছে। এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা রুবেলের টি-শার্ট খুলে নেওয়ার দৃশ্যও ফুটেজে ধরা পড়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে আল আমিন উপস্থিত ব্যক্তিদের মারধরের নির্দেশ দিতে দেখা গেছে।
আরেকটি দৃশ্যে রুবেলের বাড়িতে বোমা ফাটানোর হুমকি দিতে শোনা যায় বলে দাবি করেছেন তিনি।
রুবেল হোসেন বলেন, ‘হামলার পর আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাঁর ভাই আমার বাড়িতে বোমা ফাটিয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আরও তিনজনকে তাঁর লোকজন দিয়ে একইভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁরা ভয়ে মুখ খুলছেন না, এমনকি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। আমার মতো আর কেউ যেন এমন হামলার শিকার না হন, সে জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি করছি।’
আরও পড়ুন: বর্ষপূর্তিতে ম্যাগাজিন বর্ষবার্তা বের হচ্ছে
অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাস বলেন, ‘টেলিভিশন কেনার সুবাদে রুবেল আমার কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। ওই টাকা নিয়ে ১৬ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে হেলিপ্যাড এলাকায় (হাটখোলা বাজার) কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সন্ধ্যায় গোমস্তাপুর সিনেমা হলের সামনে তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের দোকানে টাকা দেওয়ার বিষয়ে মীমাংসার জন্য বসি। কিন্তু সেখানেও রুবেল উচ্চবাচ্য করেন। তখন আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার ঘটনা সত্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাঁর আপন চাচাতো ভাইয়ের কাছে আমি আগে থেকেই সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পেতাম। সেই টাকা তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর ভাই তাঁকে টাকা দেননি, সেটা আমার জানা ছিল না। রুবেল টাকা পাবেন, এটা ঠিক। কিন্তু তিনি আমাকে যখন-তখন অসম্মানজনক কথা বলেছেন। সে কারণেই আমার লোকজন তাঁকে মারধর করেছে।’
এদিকে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, মারধরের ঘটনায় ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এমএইচ
আরও পড়ুন: মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন