০৬:৫৫ পি.এম
ঢাকায় একটি আদালত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামের একটি সংগঠনের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এইদিন রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে শুনানি করেছে। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।
আরও পড়ুন: বিএনপি এমপির আহ্বান: ইয়াবা, হেরোইন নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হোন
তবে আসামিপক্ষের শুনানি শেষ না হওয়ায় আগামী ১৪ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
এই বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জন আসামির মধ্যে ২৫৯ জন পলাতক রয়েছেন। অপরদিকে, সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামে একটি গ্রুপের জুম মিটিং হয়ে থাকে। ওই মিটিংয়ে পলাতক শেখ হাসিনাকে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আনা এবং তা নিশ্চিত করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়ে থাকে। ওই সভায় দেশ-বিদেশ থেকে মোট ৫৭৭ জন অংশ নেন এবং শেখ হাসিনার সব নির্দেশ পালন করার ব্যাপারে সকলে একমত প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: সরকারকে সহযোগিতা করতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানালেন প্রিন্স
এছাড়া ড. রাব্বি আলমের (যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি) হোস্টিংয়ে শেখ হাসিনা এবং হোস্ট, কো-হোস্ট ও অংশগ্রহণকারীদের কথোপকথনে ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনায় 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আলোচনা হয় যে, বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মিটিংয়ে সরকারকে উৎখাত করার জন্য গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের সুস্পষ্ট উপাদান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়ার কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক।
পরে সিআরপিসি’র ১৯৬ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. এনামুল হক।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবিনা আক্তার তুহিন, ড. রাব্বি আলম, কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ. কে. এম. আক্তারুজ্জামান, আজিদা পারভীন পাখি, শাহীন, এডভোকেট এ. এফ. এম. দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক এমপি পংকজ নাথ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজান।
আরও পড়ুন: ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন