ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ডিজি-টেকের সঙ্গে ওয়ালটন হাই-টেকের একীভূতকরণ চূড়ান্ত পর্যায়ে


ডিজি-টেকের সঙ্গে ওয়ালটন হাই-টেকের একীভূতকরণ চূড়ান্ত পর্যায়ে

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সঙ্গে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন দিয়েছেন। যথা কারণে, প্রযুক্তিপণ্য খাতের শীর্ষ এই দুই প্রতিষ্ঠানের একীকরণের প্রক্রিয়া কার্যকর করার উদ্দেশ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন গ্রহণের লক্ষ্যে গত বুধবার (৩ জুন) ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একটি বিশেষ সাধারণ সভা বা ইজিএম আয়োজন করে।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইজিএমে ডিজি-টেক একীভূতকরণ প্রস্তাবনাকে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেন ওয়ালটন হাই-টেকের শেয়ারহোল্ডাররা।

আরও পড়ুন: আইনমন্ত্রী: আইনজীবীর শক্তি মানবিক মূল্যবোধ, দক্ষতা ও সততা

ইজিএমে অন্যদের মধ্যে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগদান করেন ওয়ালটন হাই-টেকের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এম মাহবুবুল আলম, উদ্যোক্তা পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী ও এস এম রেজাউল আলম, পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম অভী, তাহমিনা আফরোজ, রাইসা সিগমা হিমা এবং সাবিহা জারিন অরনা, স্বতন্ত্র পরিচালক ড. সাদিকুল ইসলাম, পিএইচডি, এফসিএমএ ও জোহরা বিবি।

এছাড়া, ওয়ালটন হাই-টেকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মো. জিয়াউল আলম, এফসিএ, এসিএ (আইসিএইডব্লিউ), কোম্পানির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাতিষ্ঠানিক এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডার ইজিএমে অংশগ্রহণ করেন। ইজিএম সঞ্চালনা করেন ওয়ালটন হাই-টেকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম।

সভায় অংশগ্রহণকারী শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে ডিজি-টেক একীভূতকরণ প্রস্তাবনার প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য এবং সুবিধাসমূহ তুলে ধরে ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম বলেন, 'বাংলাদেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক পুঁজিবাজারের একটি কমপ্লায়েন্সনির্ভর, মৌলভিত্তিসম্পন্ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ওয়ালটন ডিজি-টেক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি), ইলেকট্রিক বাইকসহ অসংখ্য আইসিটি পণ্য, এক্সেসরিজ এবং প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে।'

তিনি আরও উল্লেখ করলেন, 'ডিজি-টেক একীভূতকরণের ফলে ওয়ালটন হাই-টেকের প্রোডাক্ট লাইন আরও শক্তিশালী হবে এবং কোম্পানির বাজার সম্প্রসারণ, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যার সুফল পাবেন ওয়ালটন হাই-টেকের শেয়ারহোল্ডাররা।'

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত

ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, 'ওয়ালটন ডিজি-টেককে ওয়ালটন হাই-টেকের সঙ্গে একীভূত করার এই প্রস্তাবটি মূলত একটি সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন। এই সিদ্ধান্ত ওয়ালটনের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও একধাপ এগিয়ে নেবে। এই একীভূতকরণ শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় নয়; এটি আমাদের প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, গবেষণা-উন্নয়ন সক্ষমতা এবং বাজার সম্প্রসারণ কৌশলকে একটি অভিন্ন শক্তিতে রূপান্তর ঘটাবে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে দ্রুততর, সম্পদের ব্যবহার হবে আরও দক্ষ এবং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অধিক মূল্য সৃষ্টি হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য শুধু বাংলাদেশের বাজারে নেতৃত্ব দেওয়া নয় বরং বিশ্ববাজারে 'মেইড ইন বাংলাদেশ' ট্যাগযুক্ত প্রযুক্তিপণ্যের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, এই একীভূতকরণ সেই অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।'

ইজিএমে জানানো হয়েছে, ওয়ালটন ডিজি-টেকের একীভূতকরণের ক্ষেত্রে কোম্পানিটির ৩৮.৪৫ শেয়ারের বিপরীতে ওয়ালটন হাই-টেকের একটি শেয়ার ইস্যু করা হবে। সেই হিসাবে ওয়ালটন ডিজি-টেকের ৩ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ওয়ালটন হাই-টেকের মোট ৭ লাখ ৮০ হাজার ২৩৪টি শেয়ার ইস্যু করা হবে।

আরও পড়ুন: ‘সরকারকে ধন্যবাদ, তবে এভাবে রাষ্ট্র চালাতে পারবেন না’: মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ কমিটি, দেড় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ কমিটি, দেড় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি এ বিষয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে তিস্তা অববাহিকায় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে, খুব দ্রুত এই ব্যবস্থাপনাটিকে কীভাবে সম্পন্ন করা যায়। বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি ৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে একটি রিপোর্ট দেবে আমাদের।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে রিপোর্টের ভিত্তিতে আবার বসা হবে। প্রকৃতপক্ষে বলা যায় যে কাজটি অল্প কয়েক দিনের নয়, এজন্য কিছু সময় প্রয়োজন। এই সময়ই আমরা খুব দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে চাই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও তাগিদ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে জানিয়েছেন যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আজকের মিটিংটি করা হয়েছে।

এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আমি তিস্তাপাড়ের সন্তান। তিস্তা নিয়ে অনেক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রীও এসব বিষয় নিয়ে নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। আজকের আলোচনায় আমি ওই আন্তরিকতাটিকে লক্ষ্য করলাম। তিনি বলেছেন কাজ দ্রুত শুরু করতে। এটি ১০ বছরের পরিকল্পনা, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। আমি এটাকে কোনও সমস্যা মনে করি না, তবে টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে আনার দরকার হতে পারে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে অঙ্গীকার করেছেন, সেটির বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে তিস্তারপাড়ের মানুষ ও দেশের মানুষ দেখতে পাবে যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় আমরা কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছি। যেমন- আমাদের ব্যারেজ এবং নদীর পানি সংরক্ষণ করাকে ফার্স্ট প্রায়োরিটি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, আমাদের কিছু টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে, সেগুলোর জন্য টিমগুলো গঠন করা হয়েছে এবং সেগুলো কাজ শুরু করছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকেও মন্ত্রীসহ আমরা একটি টিম সেখানে ভিজিট করতে যাব। এর মধ্য দিয়ে আমরা দ্রুততার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের ইশতেহার বাস্তবায়ন দেখতে পাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুতিনের কাছে নাগরিকত্ব চাইলেন মার্কিন সাংবাদিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৪ পি.এম


পুতিনের কাছে নাগরিকত্ব চাইলেন মার্কিন সাংবাদিক

মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক এবং আমেরিকান কমিউনিস্ট পার্টির (এসিপি) আন্তর্জাতিক সম্পাদক ক্রিস্টোফার হেলালি জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে রুশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন।

রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম (এসপিআইইএফ)-এর ফাঁকে রুশ বার্তাসংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

হেলালি বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশে চার পৃষ্ঠার একটি চিঠি লিখেছেন। ওই চিঠিতে তিনি রুশ নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ্রহের কথা তুলে ধরেন এবং রাশিয়ার প্রতি নিজের অবদান, ডোনবাস অঞ্চলে কাজ, আন্তর্জাতিক রুশপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং রুশ-মার্কিন বন্ধুত্ব জোরদারে দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “আমি রুশ নাগরিকত্ব পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। আমি রুশ ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব সবসময়ই সমর্থন করে এসেছি। এসব বিষয়ও চিঠিতে তুলে ধরেছি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাবেন।

হেলালি বলেন, “রাশিয়া আমার জন্য যা কিছু করেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

সম্প্রতি তিনি একদল বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের (এলপিআর) স্টারোবেলস্ক শহরে একটি কলেজে সংঘটিত ইউক্রেনীয় হামলার স্থান পরিদর্শন করেন।

এর আগে মার্চ মাসে তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেলালি জানিয়েছিলেন, তিনি একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং বিশেষ সামরিক অভিযানের অঞ্চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হেলালি বর্তমানে গ্লোবাল ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্ক (জিএফসিএন)-এর একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের ২৯তম আসর ৩ থেকে ৬ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের ফোরামের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘বাস্তবধর্মী সংলাপ: স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথ’। বিশ্ব অর্থনীতির চলমান পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক উন্নয়নের নতুন মডেল গড়ে তোলার বিষয়টি এবারের আয়োজনের মূল আলোচ্য। সূত্র: তাস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে আমিরপুর খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ী বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


রাজশাহীতে আমিরপুর খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ী বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর টি-বাঁধ এলাকায় পবা উপজেলার চর মাজারদিয়াড় (আমিরপুর) খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রীরামপুর নদীতীর এলাকায় চর মাজারদিয়াড়ের বাসিন্দারা এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, চর মাজারদিয়াড়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্য রাজশাহী শহরে বিক্রির জন্য নদী পার করে আনতে হয়। তবে খেয়াঘাটে সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করা হয় না। বরং ইজারাদার পক্ষ নির্ধারিত টোলের চেয়ে অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক হারে টাকা আদায় করে থাকে। এর প্রতিবাদ করলে অনেক সময় সাধারণ মানুষকে শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয় বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর এলাকার বিপুল পরিমাণ আবাদযোগ্য জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ফলে কৃষিনির্ভর মানুষের আয় ও জীবিকা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত এই খেয়াঘাটের ইজারা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
মানববন্ধনে জানানো হয়, পবা উপজেলার ৪ নম্বর হরিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর মাজারদিয়াড় এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশই কৃষিজীবী। এলাকায় কোনো গরুর করিডোর কিংবা সীমান্ত পারাপারের পথ নেই। তাই খেটেখাওয়া ও সীমিত আয়ের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় মাজারদিয়াড় (আমিরপুর) খেয়াঘাটের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা পায়ে হেঁটে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম-এর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চর মাজারদিয়াড় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবির, অ্যাডভোকেট সেলিম রেজাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান

আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়, তাই বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী এবং সংগঠকেরা।

তারা দাবি করছেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণে কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারের আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রাক-বাজেট নীতি নির্ধারণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

পরিবেশ ও উন্নয়নমূলক বেসরকারি সংস্থা ডপস’র নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল চক্রবর্তী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, এলএনজি এবং কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎব্যবস্থার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে যে কারণে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি এবং ক্যাপাসিটি পেমেন্ট রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ফরহাদুজ্জামান ফারুক, পরিবেশ সুরক্ষা ফোরাম রংপুরের সদস্য সচিব, জ্বালানির জ্বলন্ত চুল্লি থেকে মুক্তি এবং জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা কমানোর জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান, যেন তারা নিজেদের ভবনে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে। তিনি বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনও অত্যন্ত কম রয়েছে। অথচ রুফটপ সোলার, সোলার ইরিগেশন, এগ্রিভোল্টাইকস, ভাসমান সোলার প্যানেল বা ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি ও কমিউনিটি-ওউন্ড এনার্জি সিস্টেমস দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য এবং জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হতে সরকারকে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এস এম পিয়াল, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রংপুরের সভাপতি। তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এর জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অধিক বরাদ্দ, সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের জন্য কর ও শুল্ক প্রত্যাহার, সহজ ঋণ সুবিধা এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন কয়লা, তেল এবং এলএনজি নির্ভর প্রকল্পে বিনিয়োগ সীমিত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়ন, নেট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে সবুজ জ্বালানির ব্যবহারের নিশ্চয়তা দানও সময়ের দাবি।

এস এম পিয়াল এ সময় বলেন, টেকসই উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে উদ্ভূত চলমান হুমকি কার্যকরভাবে মোকাবেলার জন্য সরকারের কাছে ১৩টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সুপারিশগুলো হলো- জ্বালানি বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য, জীবাশ্ম জ্বালানির ঋণচক্র থেকে দূরে থাকা, নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য আর্থিক প্রণোদনা, জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি, সৌর পার্ক দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, সৌর সেচ ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ, পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দক্ষতা উন্নয়ন, স্বল্প-সুদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি তহবিল গঠন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ, পরিচালন দক্ষতা এবং মেধাক্রম, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার ও টেকসই জ্বালানির জন্য ভর্তুকি সংস্কার।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক আব্দুর রহমান মিন্টু, রেজওয়ান রনি, এহসানুল হক সুমন, আলোকচিত্রী রনজিৎ দাস ও মানবাধিকার কর্মী মো. কবির মিয়া বক্তব্য রাখেন।

ডেভেলপমেন্ট অব পুওর সোসাইটি (ডপস), ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফইডি) রংপুর, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন), বাংলাদেশ পরিবেশ ও উন্নয়ন ওয়ার্কিং গ্রুপ (বিডব্লিউজিইডি) এবং পরিবেশ সুরক্ষা ফোরাম রংপুর যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%