ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ-মালাক্কাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী, শতাব্দীর পর শতাব্দী ভূরাজনীতির কেন্দ্র


হরমুজ-মালাক্কাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী, শতাব্দীর পর শতাব্দী ভূরাজনীতির কেন্দ্র

হরমুজ ও বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রণালী ষোড়শ শতাব্দী থেকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে। এই প্রণালীগুলো ইতিহাসজুড়ে ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার উৎস হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যখন হরমুজ প্রণালীর ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে, তখন ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বন্দর থেকে এবং বন্দরের উদ্দেশে লোহিত সাগর হয়ে চলাচলকারী জাহাজে বিঘ্ন ঘটাতে চায়। তারা সুয়েজ খালে যেতে জাহাজগুলোকে যে বাব আল-মান্দেব প্রণালী অতিক্রম করতে হয়, সেখানে নৌ চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

উপসাগর ও লোহিত সাগরে প্রবেশের দুটি পথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত প্রায় এক ডজন প্রণালির মধ্যে অন্যতম।

তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার, বাল্ক ক্যারিয়ার এবং কাঁচামাল ও পণ্যবোঝাই কনটেইনার জাহাজ এসব সংকীর্ণ প্রাকৃতিক জলপথ দিয়ে চলাচল করে।

১৯৮২ সালের ১০ ডিসেম্বর মন্টেগো বে-তে স্বাক্ষরিত জাতিসংঘের সমুদ্র আইনকে সমুদ্রের এক ধরণের সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বোর্দোর সায়েন্সে-র প্রভাষক এবং জিওপলিটিক্স অব মেরিটাইম স্পেসেস গ্রন্থের লেখক সিলভাঁ ডোমের্গ এএফপিকে বলেন, এই সনদে প্রণালীকে এমন একটি প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে কোনো ধরণের টোল আরোপ করা যাবে না এবং অবাধ নৌ চলাচলের নীতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে পানামা বা সুয়েজের মতো কৃত্রিম খালগুলোর ক্ষেত্রে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্র টোল আদায় করতে পারে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ডোমের্গ বলেন, ‘মন্টেগো বে সনদে অনুসমর্থন না করলেও ইরান এতদিন পর্যন্ত প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সেটি মেনে চলেছে।’

তিনি বলেন, ভারতগামী সমুদ্রপথ প্রথম উন্মুক্ত করা পর্তুগাল ১৫০৭ সালেই হরমুজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মসলা ও প্রাচ্যের সম্পদের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

-'সমুদ্র কারও একার নয়'-

তবে বিখ্যাত এক বিতর্কের পর সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে ডাচ আইনজ্ঞ ও দার্শনিক হুগো গ্রোটিয়াসের মারে লিবেরুম বা ‘মুক্ত সমুদ্র’ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা পায়। সেই ধারণা অনুযায়ী, দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য প্রণালীগুলো অপরিহার্য, কারণ ‘সমুদ্র কারও একার নয়।’

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

ডোমের্গ বলেন, ‘নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই প্রণালীগুলো দিয়ে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হতো।’

তার মতে, নেদারল্যান্ডস এ নীতি গ্রহণ করে এবং সমুদ্রে অবাধ চলাচলের পক্ষে অবস্থান নেয়। পরে ব্রিটেন এবং এরপর যুক্তরাষ্ট্রও একই নীতি অনুসরণ করে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো মন্টেগো বে সনদের প্রায় সব বিধান মেনে চলে, যদিও দেশটিও সনদটি অনুসমর্থন করেনি।

তবে ডোমের্গ বলেন, অবাধ নৌ চলাচলের নীতি থাকা সত্ত্বেও ব্রিটেন তার উপনিবেশ বিস্তারের কৌশল অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারণ করেছিল।

ব্রিটেনের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলো গড়ে তোলা হয়েছিল কৌশলগত জলপথের পাশে। এশিয়ায় তাদের সবচেয়ে বড় ঔপনিবেশিক নৌঘাঁটি ছিল সিঙ্গাপুরে। এর মাধ্যমে তারা মালাক্কা প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। বর্তমানে চীন থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সমুদ্রপথের পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

ব্রিটেন বাব আল-মান্দেব প্রণালী ও লোহিত সাগরের প্রবেশমুখের কাছে সোকোত্রা দ্বীপেও সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল।

ইউরোপে বাল্টিক সাগরের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণকারী ডেনিশ প্রণালিগুলো—ওরেসুন্ড ও কাটেগাট—ঊনবিংশ শতাব্দীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ডোমের্গ বলেন, এসব প্রণালির মাধ্যমে ডেনমার্ক দীর্ঘদিন টোল আদায় করেছিল। এগুলোর কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে, কারণ এগুলো বাল্টিক অঞ্চলের শক্তিগুলোর, বিশেষ করে রাশিয়ার, আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশের পথ নিয়ন্ত্রণ করে।

- ব্যতিক্রমী তুরস্ক -

বর্তমানে যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতে এখনো টোল আদায় করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে তুরস্কের বসফরাস ও দারদানেলিস প্রণালী। এগুলো ১৯৩৬ সালের মন্ট্রো চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম

ডোমের্গ বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে অন্যান্য প্রণালিকে ঘিরেও নতুন প্রশ্ন সামনে আসবে।’ তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের ঘোষিত আঞ্চলিক দাবির প্রেক্ষাপটে তাইওয়ান প্রণালী এবং সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে অবস্থিত মালাক্কা প্রণালীর কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রণালীতে ইতোমধ্যে ‘বালুর যুদ্ধ’ চলছে। চীনের নির্মাণ খাতের জন্য চীনা জাহাজ তাইওয়ানের দাবিকৃত জলসীমা থেকে সামুদ্রিক বালু সংগ্রহ করছে। এটি উসকানিমূলক পদক্ষেপ।’

ডোমের্গ জানান, ইরান যেদিন সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালিতে টোল চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করে, সেদিনই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি খুবই ভালো ধারণা এবং মালাক্কা প্রণালিতেও একই ব্যবস্থা চালুর কথা তিনি বিবেচনা করতে পারেন। তবে, পরে তিনি ওই অবস্থান থেকে সরে আসেন।

ডোমের্গ বলেন, ‘মালাক্কা প্রণালীতে যদি টোল আরোপ করা হয়, তাহলে পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুর তার জৌলুস ও মর্যাদার একটি বড় অংশ হারাবে।

আরও পড়ুন: সাঈদীর মামলার বাদীকে দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন জামায়াতের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে পুড়ে গেল বসতঘর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে পুড়ে গেল বসতঘর

ঢাকার ধামরাইয়ে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে একটি বসতঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ টাকা। এই অগ্নিকাণ্ড বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পাল্লি-কুল্লা এলাকায় ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্র থেকে জানা গেছে, আজ দুপুর ১২টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

পরে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। ভুক্তভোগী হিসেবে পাল্লি এলাকার ময়নাল হোসেন (৪৫) রয়েছেন।

ধামরাই ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আল আমিন খান জানান, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বসতঘরটিতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, যদিও আগুনে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ২ লাখ টাকার, কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতার ফলে প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর ইয়ামালের ‘৩০৪’ উদযাপনের রহস্য প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


আর্জেন্টিনাকে হারানোর পর ইয়ামালের ‘৩০৪’ উদযাপনের রহস্য প্রকাশ

বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামালের গোল উদযাপনের রহস্য অবশেষে সামনে এসেছে। গোল করার পর তিনি দুই হাত দিয়ে ‘৩০৪’ সংখ্যা তৈরি করে উদযাপন করেন।

এই ‘৩০৪’ আসলে বার্সেলোনার শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দার পোস্টাল কোডের শেষ তিন অঙ্ক, যেখানে ইয়ামালের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ইয়ামাল নিজের শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা ও এলাকার মানুষের প্রতি সম্মান জানাতেই বিশেষ এই উদযাপনটি করেন।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন ১৭ বছর বয়সী এই ফুটবলার। অনেকেই এটিকে নিজের পরিচয় ও শেকড়কে সম্মান জানানোর এক অভিনব উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে ইয়ামালের বিনয়ী ব্যক্তিত্বের আরেকটি দৃষ্টান্তও সামনে এসেছে। সম্প্রতি তিনি বার্সেলোনার সঙ্গে ২০৩১ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ক্লাব সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা ও ক্রীড়া পরিচালক ডেকোর উপস্থিতিতে চুক্তি সম্পন্ন হলেও ইয়ামাল আনুষ্ঠানিক ফটোসেশন স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন।

ইয়ামাল চান, তার জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দাদিও পাশে থাকুন। কারণ, অনুষ্ঠানে তার দাদি ফাতিমা উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাই তার ১৮তম জন্মদিনের পর জুলাইয়ে দাদিকে সঙ্গে নিয়েই আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইয়ামাল একাধিকবার বলেছেন, মাত্র তিন বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তার বাবা-পক্ষের দাদি ফাতিমাই তাকে বড় করে তুলেছেন এবং জীবনের মূল্যবোধ শিখিয়েছেন। তাই ইয়ামাল তার সাফল্যের প্রতিটি মুহূর্তে দাদিকে পাশে রাখতে চান।

ফাতিমা ১৯৯০ সালে মরক্কো থেকে বার্সেলোনায় এসে রোকাফোন্দা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই ও মা শেইলা এবানার বিচ্ছেদের পর নাতির লালন-পালনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জানা যায়, একসময় ইয়ামাল তার দাদিকে নতুন বাড়ি কিনে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ফাতিমা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি রোকাফোন্দাতেই থাকতে চান, কারণ এই এলাকাটিই তার আপন ঠিকানা।

এদিকে নতুন চুক্তির মাধ্যমে ইয়ামাল ২০৩১ সালের পর্যন্ত বার্সেলোনায় থাকবেন। চুক্তিতে ১ বিলিয়ন ইউরোর বিশাল বাইআউট ক্লজ রাখা হয়েছে, যা ক্লাবটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ইয়ামালের গুরুত্বই তুলে ধরে।

নিজের শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা এবং দাদির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এই দুই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলভক্তদের প্রশংসায় ভাসছেন লামিন ইয়ামাল।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার তরুণের কাঁথায় মোড়ানো মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে উদ্ধার তরুণের কাঁথায় মোড়ানো মরদেহ

খুলনায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ বিশ্বজিৎ দেউড়ী (৩৫) নামে এক তরুণের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার পর থেকে তার রুমমেট ও সহকর্মী অন্তর সরকার নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে পাইকগাছা পৌর এলাকার হাসপাতাল মোড় এলাকা থেকে বিশ্বজিতের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত বিশ্বজিৎ দেউড়ী (৩৫) ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেতরা গ্রামের হিরালাল দেউড়ীর ছেলে এবং তিনি আরএফএলের ভিগো গ্রুপে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে, নিখোঁজ অন্তর সরকার মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লিটন সরকারের ছেলে, যিনি একই প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্বজিৎ ও অন্তরের সঙ্গে কাজ করা সহকর্মী নয়ন রায় তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেয়ে ভাড়া বাসায় যান। সেখানে তিনি দেখেন দরজা তালাবদ্ধ এবং সামনে রক্তমাখা একটি ছুরির খাপ পড়ে রয়েছে, এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানান।

পুলিশ খবর পাওয়ার পর তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে কাঁথা দিয়ে মোড়ানো ও তোশকের নিচে ঢাকা অবস্থায় বিশ্বজিতের মরদেহ উদ্ধার করে। তারপর তারা প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং পরে ঘটনার আলামত পরীক্ষার জন্য পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক দলকে খবর দেয়।

রাত সাড়ে আটটার দিকে সিআইডির ফরেনসিক কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম (মনির) এর নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল) আমির হামজা এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলীসহ পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা মিলে ঘটনাস্থলের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারনা, এই মর্মান্তিক ঘটনা সোমবার গভীর রাতে ঘটতে পারে। বাড়ির মালিক রামপ্রসাদ মণ্ডল জানান, বিশ্বজিৎ ও অন্তর তার বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন, কিন্তু ঘটনার পর থেকে অন্তরকে আর এলাকার মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

আরএফএল কোম্পানির পাইকগাছা শাখার ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম জানান, বিশ্বজিত এবং অন্তর দুজনই তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে অন্তর সরকারের কোনো সন্ধান নেই। স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনা ঘটার পর তিনি কক্ষে তালা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি অন্তরকে খুঁজে বের করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হলো পাথর আমদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হলো পাথর আমদানি

কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে গত ১৮ জুলাই থেকে ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানি বন্ধ করে রেখেছেন অনির্দিস্টকালের জন্য।

স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের অভিযোগ হল, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছেন। এছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে তারা নিম্নমানের মাটিমিশ্রিত পাথর সরবরাহ করছে। এই নিম্নমানের পাথর এবং চড়া দাম বাংলাদেশের বাজারের সঙ্গে মিলছে না। এর ফলে আমদানিকারকরা প্রতিনিয়ত লোকসানে পড়ছেন। তাই সাময়িকভাবে পাথর আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দরটি কুড়িগ্রামে অবস্থিত। গত ৪ দিনের মধ্যে সেখানে একটি ট্রাকও বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। তাই বন্দরের দৃশ্য পুরোপুরি ভিন্ন হয়ে গেছে। বন্দরের ওয়্যার হাউজ ফাঁকা হয়ে আছে। ভারতীয় ট্রাকগুলোর এখানে কোন আনাগোনা নেই, পাথর ভাঙার বেল্ট মেশিনগুলো অলস পড়ে রয়েছে, অধিকাংশ ডিপোও পাথর শূন্য হয়ে গেছে এবং ট্রাক টার্মিনাল খালি।

স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ১২০টির মতো ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্ধরে প্রবেশ করতো। এখন পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

পাথর আমদানিকারকদের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে পাথর সরবরাহ করছেন তা গুণগত মানের দিক থেকে অত্যন্ত খারাপ। তারা রিভার স্টোন বোল্ডারের বদলে ছোট পাথর সরবরাহ করছেন। অটোক্রাশ মেশিন দিয়ে ভাঙলে পাথর অনেক ছোট হয়ে যাচ্ছে, ফলে পাথরের স্বাভাবিক মাপে মিলছে না এবং কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর কিনতে চাইছে না।

এছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছেন। পূর্বে প্রতি টন রিভার স্টোনের দাম ছিল ১১ ডলার। বাংলাদেশে আসতেই খরচ দাড়াচ্ছিল ১ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে সেই দাম বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ৬৭০ টাকা। এরপর, ভারত থেকে আমদানি করা যে পাথর সরাসরি খনি থেকে ট্রাকে লোড করা হয়, তাতে মাটি ও বালি অতিরিক্ত পরিমাণে থাকে, ফলে পাথর ভাঙার পর মানও খারাপ হচ্ছে। ভারতের ব্যবসায়ীরা একতরফাভাবে দাম বৃদ্ধি করার পাশাপাশি নিম্নমানের পাথর সরবরাহের কারণে ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকাল পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, ভারত থেকে যেভাবে চাহিদামতো পাথর পাওয়া যাচ্ছে না এবং পাথরের মান খারাপ হচ্ছে, সেখানে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই ভারত থেকে পাথর আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

সোনাহাট স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক আমিনুল হক জানিয়েছেন, দুদেশের আমদানি ও রপ্তানিকারকদের কারণে এই সোনাহাট স্থলবন্দর পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। সরকার প্রতি দিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%