১১:১৬ এম
বরিশাল নগরসংলগ্ন চরকাউয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও বাস মালিক সমিতির নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাস মালিক ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খন্দকার গত শুক্রবার শতাধিক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোঁটা ও অস্ত্রশস্ত্রসহ বাসস্ট্যান্ডে প্রবেশ করে দখল নেন। এ সময় বাস মালিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চরকাউয়া বাস মালিকদের সমন্বয়ে সাহাদাৎ হোসেনকে সভাপতি এবং মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন যুবদল নেতা মামুন খন্দকার।
পরবর্তীতে মামুন খন্দকার নিজেকে সভাপতি করে নতুন একটি কমিটি গঠন করে তা এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের কাছে অনুমোদনের জন্য জমা দেন। তবে এমপি সরোয়ার ওই কমিটি অনুমোদন না দিয়ে উভয় পক্ষের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই গত শুক্রবার বিকেলে মামুন খন্দকার শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেন।
বাস মালিক সমিতির পূর্বের সভাপতি সাহাদাৎ হোসেন দাবি করেন, তাদের কমিটিই এখনো বৈধ। তিনি বলেন, "কমিটি গঠনের এক বছর পরও অনুমোদনের আগেই সহ-সভাপতির মৃত্যু হয়। এরপর মামুন খন্দকার এমপির নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে নতুন কমিটি গঠন করেন।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের নাম রাখা হয়েছে, যারা নিজেরাই বিষয়টি জানেন না। এর মধ্যে বরিশালের রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের পেশকার আবু জাফরকে সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে।
সাহাদাৎ হোসেন বলেন, "মামুন খন্দকার শতাধিক বহিরাগত ও অস্ত্রধারী ব্যক্তিকে নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং আমাকে ও অন্য সদস্যদের জোরপূর্বক বের করে দেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।"
এদিকে সরকারি চাকরিজীবী হয়েও কীভাবে বাস মালিক সমিতির কমিটিতে নাম এসেছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের পেশকার আবু জাফর বলেন, "চরকাউয়া রুটে আমার স্ত্রীর একটি বাস রয়েছে। আমি কোনো কমিটির সঙ্গে জড়িত নই। এমনকি কমিটি হয়েছে কি না, তাও জানি না।"
অন্যদিকে, নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দাবিদার আওলাদ হোসেন স্বপন বলেন, ৫ আগস্টের পর গঠিত পূর্বের কমিটি আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব দেয়নি। এ কারণে বাস মালিকরা নতুন কমিটি গঠন করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশসহ খুলনা শ্রম অধিদপ্তরে পাঠিয়েছেন।
বাসস্ট্যান্ড দখলের সময় অস্ত্রধারীদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, "এম আওলাদ লঞ্চের মালিক আওলাদ হোসেনের ছোট ভাই ধলু খান লাইসেন্সধারী অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি প্রায়ই বাসস্ট্যান্ডে আসেন এবং সবার সঙ্গে বসেন।"
ধলু খান বাস মালিক সমিতির সদস্য কি না—এ প্রশ্নের জবাবে স্বপন বলেন, "তিনি বন্ধু হিসেবে সেখানে আসেন। পুলিশ প্রশাসনের সদস্যদের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।"
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা মামুন খন্দকার। তিনি বলেন, "৫ আগস্টের পর আমাকে যুগ্ম সম্পাদক করে একটি কমিটি করা হয়েছিল। কিন্তু ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আঁতাত করায় বাস মালিকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে বাস মালিকরা আমাকে সভাপতি করে নতুন কমিটি গঠন করেন এবং সংসদ সদস্যের অনুমোদন নেন।"
অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাসস্ট্যান্ড দখলের অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, "আমি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও বাস মালিকদের নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের উপস্থিতি দেখে অন্যরা সরে যান।"
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, "মামুন খন্দকারের পক্ষ আমার কাছে এসেছিল। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, কমিটিকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। তাই আমি কোনো পক্ষের কমিটির সুপারিশ করিনি। উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলাম। এর আগেই বাসস্ট্যান্ড দখল করা মোটেই সমীচীন হয়নি।"
চরকাউয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট এই বিরোধের কারণে স্থানীয় পরিবহন খাত ও বাস মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন