শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১২ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সংসদ সদস্যের মালয়েশিয়া সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ সদস্যরা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে সফরটি বাংলাদেশে ব্যক্তিগত সফর হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠককে ‘শিক্ষামূলক সফর’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ড. মাসজলি মালিক। বৈঠকে সংস্কারমুখী রাজনৈতিক দলের চ্যালেঞ্জ, সংসদ সদস্যদের ভূমিকা, স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক দল কেদিলানের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরো এবং ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইসলামিক স্টাডিজ (আইএআইএস) মালয়েশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড. মাসজলি মালিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের আতিথ্য দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংস্কারমুখী দলগুলোর সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং এসব পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের কী ধরনের ভূমিকা পালন করা উচিত, তা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
বৈঠকে অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন সারদারের ‘পোস্ট-নরমাল টাইমস’ ধারণা এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ‘মাদানি’ ধারণার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। ড. মাসজলি মালিকের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ের জনপ্রতিনিধিদের পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে স্বচ্ছতা, সত্যনিষ্ঠা, সততা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের কথা শোনা এবং তাদের প্রত্যাশার প্রতি সাড়া দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সংসদে আগে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন সদস্যদের অভিজ্ঞতা থেকেও আলোচনায় অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। সফরকারীদের মধ্যে কেউ পশ্চিমা দেশে শিক্ষালাভ করেছেন, আবার কেউ তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবী ও শিক্ষাবিদদের নেটওয়ার্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ড. মাসজলি।
প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, জামায়াতের ৩৪ সংসদ সদস্য ও তাদের স্ত্রীদের একটি বড় বহর ১৩ সেপ্টেম্বর এয়ার এশিয়ার ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের একে-৭০ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তালিকায় নাম না থাকলেও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনও ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর-৬ আসনের মো. নুরুল আমিন, ঢাকা-৫-এর মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, খুলনা-৬-এর মো. আবুল কালাম আজাদ, পিরোজপুর-১-এর মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১-এর মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, খুলনা-২-এর এস কে জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল, বাগেরহাট-২-এর শেখ মঞ্জুরুল হক রাশেদ, চুয়াডাঙ্গা-১-এর মো. মাসুদ পারভেজ, নওগাঁ-২-এর মো. এনামুল হক, চুয়াডাঙ্গা-২-এর মো. রুহুল আমিন, গাজীপুর-৪-এর সালাহউদ্দিন, কুড়িগ্রাম-৪-এর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নড়াইল-২-এর মো. আতাউর রহমান, ঢাকা-৪-এর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং ময়মনসিংহ-৬-এর মো. কামরুল হাসান।
এ ছাড়া তালিকায় রয়েছেন নীলফামারী-৪-এর আবদুল মুনতাকিম, কুড়িগ্রাম-১-এর মো. আনোয়ারুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫-এর মো. আবদুল ওয়ারেস, গাইবান্ধা-১-এর মো. মাজেদুর রহমান, নীলফামারী-২-এর আলফারুক আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১৬-এর মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, জয়পুরহাট-১-এর মো. ফজলুর রহমান, নীলফামারী-১-এর মো. আবদুল সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২-এর মো. মিজানুর রহমান, পাবনা-৩-এর মোহাম্মদ আলী আসগর, পাবনা-৪-এর মো. আবু তালেব মণ্ডল, রংপুর-১-এর মো. রায়হান শিরাজী, নীলফামারী-৩-এর ওবায়দুল্লাহ সালাফি, নেত্রকোনা-৫-এর মাসুম মোস্তফা, মেহেরপুর-১-এর মো. তাজউদ্দিন খান, কুষ্টিয়া-৪-এর মো. আফজাল হোসাইন, গাইবান্ধা-২-এর মো. আবদুল করিম, ঢাকা-১৪-এর মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং যশোর-৫-এর গাজী এনামুল হক।
সংসদ সদস্যদের বাইরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ফলে মূল তালিকায় ৩৫ জন পুরুষের নাম রয়েছে—৩৪ জন সংসদ সদস্য ও একজন দলীয় নেতা। সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তাদের স্ত্রীদেরও সফরসঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের একসঙ্গে মালয়েশিয়া সফর দেশটির বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও ইসলামি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সংস্কার, জবাবদিহি ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়ায় সফরটির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় জামায়াতের কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় কর্মসূচি, প্রবাসী নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক কিংবা সংগঠন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে সফরটি ব্যক্তিগত ভ্রমণের পাশাপাশি কতটা শিক্ষামূলক ও রাজনৈতিক মতবিনিময়কেন্দ্রিক ছিল, তা স্পষ্ট হবে সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী কর্মসূচি ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৮৫০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘গত বছরের মতো এবারও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখব, ইনশাআল্লাহ। কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সকলকে বড় স্বপ্ন দেখে তা বাস্তবায়নে মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো মাদক। শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। পাশাপাশি একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে।’
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলকে একসময় শিক্ষা নগরী বলা হতো। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা আরও শিক্ষামুখী ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে।’
১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে সবারই কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। তবে জনগণ বিচার করবে তাদের এই কর্মসূচি করা ঠিক হচ্ছে কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারপ্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে তেল-গ্যাস খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে খাতটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। সরকারের কোনো গাফিলতি থাকলে তারা সেটি নিয়ে কথা বলতে পারত।’
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রিজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। তাদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রীও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ফাহাদ’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। BUET ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নিজেদের সফলতার কৌশল ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জে আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক রোগী, রেখা বেগম (৪৫), মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে নতুন ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত এক প্রেস নোটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখা বেগমের মৃত্যু ঘটে। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই ঘটনায় জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এদিকে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জেলার বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও জোরদার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় পূর্ববিরোধ ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা দুই দিনের সংঘর্ষে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহ আলমগীর (২৩) নামে এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে ঢাকার কুর্মিটোলা এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহ আলমগীরের মৃত্যু হয়। তিনি খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামের নুরুল হক মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারও মুখোমুখি হয়। পরে থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন। তাঁদের অনেকে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত শাহ আলমগীরসহ চারজনকে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শাহ আলমগীরের প্রতিবেশী ও আত্মীয় সানোয়ার ফকির বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীরের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষের নেতৃত্বদানকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। নিহত শাহ আলমগীর স্থানীয় লিগেল মিয়া ও জালাল মিয়া পক্ষের সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুর রহমানের অনুসারীরা।
খালিয়াজুরী উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিগেল মিয়া চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাবা মো. জালাল মিয়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমান চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটিতে তাঁর পদ নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্বজনদের দাবি, তিনি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। আবার একটি তালিকায় তাঁর নামের পাশে ‘সম্মানিত সদস্য’ উল্লেখ রয়েছে।
সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই পরস্পরকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছে। তবে স্থানীয়ভাবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
শাহ আলমগীরের মৃত্যুর পর রানীচাপুর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়ে খালিয়াজুরী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দুটি মামলা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ইতিহাস শুধু হাওর, নদী ও লোকসংস্কৃতির ইতিহাস নয়; এই জনপদ থেকে উঠে এসেছেন এমন অনেক মানুষ, যারা বৃহত্তর উপমহাদেশের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে অক্ষয় কুমার দাস অন্যতম উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক সূত্রে তাঁকে দিরাই উপজেলার চিতলিয়া গ্রামের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯০৩ সালে জন্ম নেওয়া অক্ষয় কুমার দাস কঠোর পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে গ্রামের পরিবেশ থেকে উঠে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে আইন পেশায় প্রবেশ করেন।
শিক্ষাজীবন ও আইন পেশা
অক্ষয় কুমার দাস শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। স্থানীয় জীবনীভিত্তিক লেখায় বলা হয়েছে, তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯২২ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯২৫ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯২৯ সালে আইন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
আইন পেশার পাশাপাশি তি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ