সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৫ পি.এম
ভোলায় কোস্ট গার্ডের একটি অভিযানে ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য প্রকাশ করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন নোয়াখালী সদর উপজেলার মো. নুরনবীর ছেলে মো. নুর ইসলাম (৩১) এবং একই এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো. রাসেল (১৯)।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিতভাবে তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত রবিবার বিকেল ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলার সদর উপজেলার ইলিশার ৬নম্বর ওয়ার্ডের বাঘার হাওলাসংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড ভোলা বেইস কর্তৃক একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় সন্দেহজনক একটি সিএনজি তল্লাশি করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। জব্দকৃত গাঁজা এবং আটককৃত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সরকারি ও বেসরকারি সকল ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের দায়দায়িত্ব এবং কর্মমূল্যায়ন (কেপিআই) নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নীতিমালায় এমডিদের কাজের মূল্যায়নের জন্য ১০০ নম্বরের একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কাঠামোয় খারাপ ঋণ নিয়ন্ত্রণ, মূলধনভিত্তিক সক্ষমতা, সুশাসন, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১০০ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে এমডি ও সিইওদের মূল্যায়ন করা হবে। যদি কোনো শীর্ষ নির্বাহীর ধারাবাহিকভাবে খারাপ পারফরম্যান্স দেখা যায়, তবে তার মেয়াদ বৃদ্ধি নাও হতে পারে। খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে এমডি অপসারণের জন্য পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। ব্যাংকের পর্ষদকে আগামী এক মাসের মধ্যে এমডি ও সিইওদের জন্য কেপিআই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা তিন বছর বা এমডির অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্ধারিত হবে। প্রতি ছয় মাস পরপর এসব লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে এবং পরে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এমডি ও সিইওদের বেতন-ভাতা, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণে স্কোরকার্ড ব্যবহার করতে হবে। প্রধান পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে এই স্কোরকার্ড যাচাই করা হবে। স্কোরকার্ডে সূচকগুলোর মধ্যে তহবিল সুরক্ষা ও তারল্য পরিস্থিতির জন্য ২৫ নম্বর, সম্পদের গুণগত মানের জন্য ২৫ নম্বর, সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ২৫ নম্বর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তকরণ, গ্রাহকসেবা ও বাজার আচরণের জন্য ১৫ নম্বর এবং মুনাফা অর্জনের ওপর ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে।
এই পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে এমডি বা সিইও কেপিআই মূল্যায়ন করতে হবে। ১০০ নম্বরের মধ্যে কোনো এমডি ৭৫ বা তার বেশি নম্বর পেলে সেটি হবে মানসম্মত রেটিং। ৬৫ থেকে ৭৫ নম্বর পেলে ‘এভারেজ’ বা উন্নতি প্রয়োজন রেটিং পাবে এমডিরা। ৬৫-এর নিচে নম্বর পেলে ‘বিলো এভারেজ’ বা অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এমডিকে নোটিশ দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক এমডিদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে ন্যূনতম ৩০টি কেপিআই নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রধান কেপিআই অর্জনে ব্যর্থতার জন্য নম্বর কর্তনের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো কেপিআইয়ের নির্ধারিত টার্গেটের অন্তত ৫০ শতাংশ অর্জিত হলেই নম্বর পাওয়া যাবে। ৫০ শতাংশের কম অর্জন হলে ওই কেপিআইয়ে নম্বর মিলবে শূন্য (০)। তবে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অর্জিত হলে আনুপাতিক হারে নম্বর যোগ হবে এবং শতভাগ অর্জিত হলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যাবে।
আমানত-ঋণ অনুপাত, মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত, প্রকৃত খেলাপি ঋণের অনুপাত, বড় ঋণ ও শীর্ষ ঋণগ্রহীতার কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি, খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়, সিএমএসএমই, কৃষি, গ্রিন ফাইন্যান্স ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার—এই ছয়টি ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স ৫০ শতাংশের কম হলে বা শূন্য পেলে নম্বর কেটে নেওয়া হবে। এই নীতিমালার আওতায় খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা এমডিদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হামলার শিকার হন। তিনি দাবি করেন, রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে গিয়ে মেস্ত্রে শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে সহকর্মীদের নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন বাঁধন। হামলার কারণে সেখানে থাকা তার সিনেমার টিম তথা দলের সদস্যরা নাকি তাকে একরকম বর্জন করেছে।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সহকর্মীদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার কথা জানিয়ে বাঁধন বলেন, “কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (disown) করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে আমার কো-অ্যাক্টরদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন।”
হামলার পর ভেনিসে সহায়তার কথা জানিয়ে বাঁধন বলেন, “ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।”
হামলার পর রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে পাওয়া নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, “আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। ঘটনার দিন রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ভাইয়া প্রচণ্ড সাপোর্টিভ ছিলেন। ইতালি সরকার, ওখানকার কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা প্রোটেকশন দিয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর লিডোতেই আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।”
দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনের কথা স্মরণ করে বাঁধন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দেশের মানুষ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিরোধী ও সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাঙালিরা যে সাপোর্ট দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না। এত কষ্ট করে এই গরমে যারা আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বাঁধনকে, যার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা দায়ের করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মানিক সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের ছোট চর কয়ারিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কালকিনি থানার এসআই (নিঃ) দেবব্রত চিন্তাপাত্রের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ছোট চর কয়ারিয়া এলাকায় মানিক সরদারের বসতবাড়ির উঠানে অভিযান চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মানিক সরদার ছোট চর কয়ারিয়া গ্রামের মৃত মোতালেব সরদারের ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কালকিনি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার মানিক সরদারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমিকম্পের ঝুঁকির তথ্য বিকৃত করার অভিযোগের কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন জাপানের ‘চুবু ইলেকট্রিক পাওয়ার’ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা। দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামাওকা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান কিঙ্গো হায়াশি এবং চেয়ারম্যান সাতোরু কাৎসুনো পদত্যাগ করবেন। একইসাথে, কেন্দ্রটির দুটি রিয়্যাক্টর পুনরায় চালু করার পরিকল্পনাও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি স্বাধীন প্যানেলের ২৫০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, স্থগিত থাকা পারমাণবিক কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করার জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ কর্মীদের ওপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। এই চাপের প্রভাবে কর্মচারীরা ভূমিকম্পের ডাটা জালিয়াতি করতে বাধ্য হন। ২০২৪ সালের শুরুতে কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী সংস্থা নিয়ন্ত্রকদের কাছে ভুয়া তথ্য জমা দেয়, যেখানে সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে অনেকটাই কমিয়ে দেখানো হয়েছিল। পরে একজন তথ্য প্রকাশকারীর (হোইসলব্লোয়ার) মাধ্যমে এই জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসলে পারমাণবিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ এনআরএ কেন্দ্রটির সব ধরনের নিরাপত্তা পর্যালোচনা স্থগিত করে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর ফুকুশিমা বিপর্যয়ের কারণে জাপান তাদের পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশটি পুনরায় পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে মনোযোগ দিচ্ছিল। হামাওকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি রিয়্যাক্টর চালুর আবেদন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের ফলে জাপানের পারমাণবিক শক্তি পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ