মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
০৪:৪৮ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বন্ধ হয়েছে ৮ম শ্রেণির এক কিশোরী ছাত্রীর বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ লঙ্ঘনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কনের পিতাকে নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৩ টার দিকে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করেন কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের মৃত মো. গাজীউর রহমানের ছেলে সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান (৪৭) ও মোছা. নাসিমা বেগম (৪০) দম্পতির ১৩ বছর বয়সী মেয়ে স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ইসরাতুল জান্নাতের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া (ছোট গজারিয়া) গ্রামের মো. মাহফুজ আহমেদ অন্তরের (২২) বিবাহের প্রস্তুতি চলছিল। বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙিয়ে অতিথিদের আপ্যায়নের কাজ চলছিল এবং সবাই বরযাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন।
সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হন। জিজ্ঞাসাবাদে কনের বাবা-মা স্বীকার করেন যে, তাদের ১৩ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে তার খালাতো ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
কনের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় এটি ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিভাবক কর্তৃক অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের বিবাহ আয়োজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ (তিন) মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। একই সাথে কনে ১৮ বছর বয়সে পদার্পণ না করা পর্যন্ত বিবাহ দেবেন না মর্মে অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা আদায় করা হয়।
এসময় কুলিয়ারচর থানার কর্তব্যরত এসআই অর্পণ বিশ্বাস, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ফেসকার মো. ওবায়দুল্লাহ, সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, মো. আলী সোহেল ও লোকমান হোসাইন সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অতিথিবৃন্দ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার জানান, বাল্যবিবাহ সামাজিক ব্যাধি এবং এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষায় এবং আইন প্রয়োগে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওমানের উপকূলের কাছে একটি ট্যাংকার ‘অজ্ঞাত কোনো বস্তুর’ আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই তথ্যটি যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক সংস্থা শনিবার প্রকাশ করেছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণের স্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলমান রয়েছে।
খবর, বার্তা সংস্থা এএফপি সূত্রে জানায়।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, একটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ট্যাংকারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন কক্ষে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ঘটনাটি ঘটে ওমানের লিমা উপকূল থেকে প্রায় ১২ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে। তবে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা রিপোর্ট হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল পরিদর্শন করেছেন রাজধানীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক, প্রসিকিউশন টিম ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।
বেলা ১১টার কিছু পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার এবং অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীসহ টিএফআই সেল পরিদর্শনে ঢুকেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এসময়, তারা টিএফআই সেলের ২৯টি গোপন কক্ষ ঘুরে দেখেন। আজকের এই পরিদর্শনে গাজী এমএইচ তামিম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলাম, আসামিপক্ষের আইনজীবী, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলামকে তুলি (এমপি), মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন এবং সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। গত ১৮ দিনের মধ্যে তিনটি জাহাজে হানা দিয়ে তারা মোট ১০ কোটি টাকার মালপত্র লুট করেছে। এর ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বন্দর ব্যবহারকারীরা এবং আমদানিকারকরা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ইমেজ সংকটে পড়ারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম চেম্বার দস্যুতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
গত ১৬ জুলাই ভোরে চার্লি অ্যাঙ্করেজে নোঙর করা সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘তাই শুয়েন’-এ জলদস্যুরা হামলা চালায়। ওই জাহাজটি হংকং থেকে সীতাকুণ্ডে জনতা স্টিলের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য আনা হয়েছিল। প্রায় ২০ জন সশস্ত্র দস্যু পাঁচটি কাঠের নৌকায় এসে হামলা চালায়।
শিপিং এজেন্ট বেন লাইনের মালিক মোশাররফ হোসেন বলেন, নোঙর নিক্ষেপের সময় হামলাকারীদের একটি দল নাবিকদের ব্যস্ত রাখে এবং অন্য একটি দল ডেক থেকে নোঙরের দড়ি, ব্যাটারি ও অন্যান্য মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে। জাহাজের ক্যাপ্টেন তাৎক্ষণিকভাবে বন্দর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে রেডিও বার্তা পাঠালেও কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দস্যুরা পালিয়ে যায়।
এর আগে ২৯ জুন চার্লি অ্যাঙ্করেজে ডায়নামিক শিপ রিসাইক্লিংয়ের আমদানি করা ‘এমভি হাই জু’ জাহাজে ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র ডাকাত উঠে নাবিকদের জিম্মি করে প্রায় এক কোটি টাকার যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যায়। এর পরদিন যমুনা শিপ ব্রেকার্সের আমদানি করা ‘এমটি আইআরওএস’ জাহাজ থেকে কয়েক কোটি টাকার সরঞ্জাম চুরি হয়। পরে নৌ পুলিশ রাজধানীর বাংলাবাজার এলাকা থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার চোরাই মালপত্র উদ্ধার করে।
প্রতিটি ঘটনায় কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, তবে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে তারা তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রোবেরি এগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়া (রিক্যাপ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) কোনো ধরনের দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু হঠাৎ করে একের পর এক ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর এবং বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংস্থা।
চট্টগ্রাম বন্দরে আসা পণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ খালাস হয় বহির্নোঙরে। নাব্য সংকটের কারণে জাহাজগুলো সরাসরি জেটিতে নোঙর করতে পারে না। ছোট আকারের (লাইটার) জাহাজে বেশির ভাগ আমদানি পণ্য খালাস করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি বড় পণ্যবাহী জাহাজ সেখানে নোঙর করে। এসব জাহাজ থেকে গড়ে দৈনিক দেড় লাখ টন পণ্য খালাস করা হয় লাইটার জাহাজে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানির ৯২ ভাগ পরিচালিত হয়। যদি বহির্নোঙরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় তবে জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতির মুখে পড়বে। বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে ঝুঁকির আশঙ্কা বাড়বে, বীমা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের খরচও বাড়বে। তাই আমরা জরুরি পদক্ষেপ নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।
বহির্নোঙরে জাহাজে জলদস্যুতা প্রতিরোধে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জলদস্যুতার ঘটনায় অন্তত ১০ কোটি টাকার মালপত্র, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে। এছাড়া জাহাজের নিরাপত্তা ও নাবিকদের জীবনও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর বহির্নোঙরে বড় জাহাজের পণ্য খালাসের দায়িত্ব পালন করে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা। বাংলাদেশ বার্থ অপারেটর অ্যান্ড শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সরওয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রথম চার মাসে কোনো দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু হঠাৎ করে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে বহির্নোঙরে।
লাইটার জাহাজ পরিচালনা করে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল। এই সংগঠনের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, ছোট নৌকায় করে দস্যুরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে বড় জাহাজে হামলা চালায়। চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে বন্দর ও কোস্টগার্ডকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বহির্নোঙরে জাহাজে চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং কোস্টগার্ড। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এ পর্যন্ত বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন), বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডারের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর্যালোচনা, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে চুরি প্রতিরোধের করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সাথে সমন্বয় করে বহির্নেঙরে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োগ নিশ্চিত করা, জাহাজের আগমনের তথ্য বাধ্যতামূলক সরবরাহ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামীম বলেন, বহির্নেঙরে চুরি বন্ধে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। কোস্টগার্ড টানা অভিযান চালাচ্ছে এবং চুরির সাথে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর মনোহরদীতে জমির সীমানায় নারিকেল গাছ কাটার বিষয়কে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতার ছেলে জীবন মিয়ার (৩০) লাঠির আঘাতে মিজান মিয়া (৪৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরের সময়ে উপজেলার বড়চাপা বড়চাপা পূর্বপাড়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।
নিহত মিজান মিয়া বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড়চাপা পূর্বপাড়ার সফুর উদ্দিনের সন্তান। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। অপরদিকে অভিযুক্ত হত্যাকারী শহীদুল্লাহ, যিনি একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সহসভাপতির ছেলে, তাঁর সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
নিহতের আত্মীয়স্বজনরা জানান, নিহত মিজান এবং তাঁর চাচা শহীদুল্লাহর মধ্যে বাড়ির পাশের একটি রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিষয়ে একাধিকবার সংঘটিত সালিশ বক্সে শহীদুল্লাহ বিষয়টি মেনে নেননি। শনিবার দুপুরে মিজান রাস্তার উপর একটি গাছ কাটতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। সেই সময় শহীদুল্লাহর ছেলে জীবন কুড়াল দিয়ে মিজানের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁকে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. খন্দকার আনিসুর রহমান জানান, দুপুরের সময় মিজানকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর জানানো হবে।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, চাচা ভাতিজার জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ সুরতহাল সম্পন্ন করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ