ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয়ের আহ্বান


দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয়ের আহ্বান

দণ্ডিত আসামির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার না করার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) তাদের পক্ষ থেকে এক তথ্য বিবরণীতে এই আহ্বান জানানো হয়।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার আসামি, ক্ষমতাচ্যুত এবং পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

আইসিটির এই নিষেধাজ্ঞা জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করার বিষয়টি সামনে রেখে এবং দণ্ডিত আসামির পূর্ববর্তী সকল বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সরাতে এবং বন্ধ করতে, সেইসাথে প্রচার ও প্রকাশ না করার উদ্দেশ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে একটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (এনসিএসএ) দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিষয়ে আইনের যথাযথ ধারা উল্লেখ করে দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ করেছে।

তবে দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, গণমাধ্যমের একটি অংশ জুলাইয়ের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে আদালতের নির্দেশনা মানলেও কিছু গণমাধ্যম এখনো দণ্ডিত আসামির বক্তব্য প্রচার করে চলেছে। এ ধরনের কার্যক্রমে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে। যারা পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত রয়েছেন, তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।

সরকার আশা করে যে, জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ধরে রাখতে এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা সমুন্নত রাখতে দেশের সকল প্রকার গণমাধ্যম (টেলিভিশন, সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়া) পলাতক শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বক্তব্য কিংবা বিবৃতি প্রচার না করার বিষয়ে আবারও বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

জাতীয় ঐক্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষায় দেশের সকল গণমাধ্যম পূর্বের মতোই ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে, এ ব্যাপারে সরকার আশাবাদী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরিণাকুন্ডুতে মোবাইল কোর্ট: সনদবিহীন গরু জবাই ও মাংস বিক্রির দায়ে জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, (ঝিনাইদহ)

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


হরিণাকুন্ডুতে মোবাইল কোর্ট: সনদবিহীন গরু জবাই ও মাংস বিক্রির দায়ে জরিমানা

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার শাখারীদহ বাজারে প্রাণিস্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ছাড়া গরু জবাই ও মাংস বিক্রির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে এ অভিযোগের ভিত্তিতে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৫(২) ধারা, ১৪(১) ও ১৪(২) ধারা অনুসারে এ অভিযান পরিচালনা করেন হরিণাকুন্ডু উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দজাদী মাহাবুবা মৌনা।

অভিযানে শাখারীদহ বাজারের মাংস বিক্রেতার সহযোগী মো. বাবুলকে প্রাণিস্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ছাড়া গরু জবাইয়ের অভিযোগে এবং বিধি লঙ্ঘন করে মাংস বিপণনের দায়ে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সময় প্রায় ৬.৫ কেজি ভক্ষণ-অনুপযোগী মাংস জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়।

প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি: অ্যাটর্নি জেনারেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩৪ পি.এম


স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি: অ্যাটর্নি জেনারেল

বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশের যে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বিদ্যমান, সেটি মূলত বেগম খালেদা জিয়ারই অবদান।

মঙ্গলবার বিকেলে নবনিযুক্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের সঙ্গে নিয়ে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব বক্তব্য প্রদান করেন।

শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে উপস্থিত হয়ে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক এবং নবনিযুক্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দুইজন ব্যক্তিত্ব, যাদের পরিচয় আর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর জিয়াউর রহমান দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রচলন এবং সংবাদপত্রের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করেছিলেন। অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারই হবে আমাদের মূলমন্ত্র। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি সাধারণ নিপীড়িত মানুষ যেন আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, অপতথ্য বা খণ্ডিত তথ্য দিয়ে যেন দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একসঙ্গে তিনি নবনিযুক্ত আইন কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ৩০ জুলাই আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ পৃথক দু'টি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মাধ্যমে পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত সব ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ৮৬ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেয় সরকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট, সন্দেহভাজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ পি.এম


টেকনাফে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট, সন্দেহভাজন আটক

কক্সবাজারের টেকনাফে বিকাশের ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. আক্তার হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ আগস্ট) অভিযানের মাধ্যমে তাঁকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া আক্তার হোসেন হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ক্যাম্পসংলগ্ন নুরালীপাড়া এলাকার অধিবাসী। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় আক্তার হোসেনের সাথে আরো কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হ'ল হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম লেদা এলাকার আক্তারের ভাই ইমান হোসেন, ভাগিনা কামাল হোসেন, আজিজুর রহমানওরফে গুরাইয়া, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ আলম, মো. রাসেলওরফে আব্বুয়া এবং আব্দুল খালেকের নাম।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা এবং ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এর আগে, ২ আগস্ট বিকালে টেকনাফ বন্দরসংলগ্ন ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কে একটি বাস থামিয়ে বিকাশের ৫৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় বিকাশ এজেন্টের কর্মচারী একরামকে ছুরিকাঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।

টেকনাফ বিকাশ এজেন্টের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম জানান, এ ঘটনার জন্য আহত একরাম বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

একই সাথে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘সড়কে বাস থামিয়ে টাকা লুটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ টিকিয়ে রাখতে পারবে পাকিস্তান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ টিকিয়ে রাখতে পারবে পাকিস্তান?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ভেঙে পড়া শান্তি উদ্যোগের মধ্যে পাকিস্তান আবারও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সক্রিয় হয়েছে। ইসলামাবাদ এবার ইরানের দুই শীর্ষ নেতাকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের এই সময়ে পাকিস্তান কি সত্যিই শান্তি আলোচনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে?

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার টেলিফোনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে ‘সুবিধাজনক সময়ে যত দ্রুত সম্ভব পাকিস্তান সফরের’ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

কিন্তু রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুই ইরানি কর্মকর্তা কবে পাকিস্তান সফরে যাবেন, সে বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এদিকে পাকিস্তানের এ কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও শান্তি আলোচনা নিয়ে ‘প্রতারণামূলক আচরণের’ অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “তারা বৈঠকের অনুরোধ করে, কেউ কেউ বলবে অনুনয় করে। আলোচনা শুরু হয়, এবং আবারও বৈঠকের সময় নির্ধারিত হয়। এরপর তারা প্রকাশ্যে বলে, কোনও আলোচনা চলছে না।”

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরানকে আবারও ‘শেষ সুযোগ’ দিতে বলেন। তিনি বলেন, একটি ‘ভালো চুক্তিতে’ সই না করলে তেহরানকে ‘শিরশ্ছেদমূলক হামলার’ মুখোমুখি হতে হবে। একই সাথে তিনি আগের মতোই ‘চুক্তি অথবা সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’—এই দুই বিকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনও সরাসরি আলোচনা চলছে না।

তিনি বলেন, কেবল ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু করার প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বাঘাই আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের ক্ষেত্রে পাকিস্তানই এখন প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। প্রয়োজন হলে কাতারও সহযোগিতা করবে।

সাম্প্রতিক ঘটনাবলী উল্লেখ করে বলা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

এ বছরের চলতি মাসের এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের আয়োজন করে পাকিস্তান। পরে জুন মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক সই হয়।

কিন্তু সেই সমঝোতার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। পরে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে সমঝোতা স্মারকও কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়।

তবুও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, ওই সমঝোতাই এখনও শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি বলেছেন, ইসলামাবাদ সমঝোতাই ভবিষ্যতে ইরানের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “শত্রুপক্ষকে তাদের স্বাক্ষরিত অঙ্গীকার মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। এই সমঝোতা আমাদের দেশ, অঞ্চল এবং মিত্রদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে।”

কিন্তু বিশ্লেষকরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। পাকিস্তানে সাবেক ইরানি রাষ্ট্রদূত আসিফ দুররানি মনে করছেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা এখনও কার্যকর একটি ভিত্তিপ্রস্তর।

আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, “পাকিস্তান কেবল মধ্যস্থতার সুযোগ করে দিতে পারে এবং তারা আন্তরিকভাবেই সেটি করেছে। আন্তর্জাতিক মহলও সেই আন্তরিকতার স্বীকৃতি দিয়েছে।”

অন্যদিকে জার্মান মার্শাল ফান্ডের জ্যেষ্ঠ গবেষক গ্রেস ওয়ারমেনবোলের মতে, বারবার যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়া প্রমাণ করে যে, উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় আস্থার ঘাটতি রয়েই গেছে।

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহরান কামরাভা মনে করেন, সমস্যার মূল কারণ পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট কৌশলের অভাব।

তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রের কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই, যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে তারও স্পষ্ট ধারণা নেই। তারা বারবার লক্ষ্য পরিবর্তন করছে।”

অন্যদিকে, তেহরানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ মোজতবা জালালজাদেহ বলছেন, বারবার ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তানের ভূমিকা এখন ‘সমাধানকারী মধ্যস্থতাকারী’ থেকে ‘যোগাযোগ সহজকারী’ পর্যায়ে নেমে এসেছে।

তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, “পাকিস্তান যদি নিজের সক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তার কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এছাড়া, বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সংকট নিরসনে পাকিস্তান একা কাজ করছে না।

হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমান পৃথকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইতিমধ্যেই সতর্ক করে বলেছেন, এমন কোনও সমঝোতা করা উচিত নয়, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দায়িত্ব বণ্টনেরই অংশ।

হরমুজ প্রণালির প্রযুক্তিগত ও সামুদ্রিক বিষয়গুলো ওমান ও ইরান দেখছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ও কাতার যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো- তারা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে পারে, চুক্তি করাতে পারে; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সেই চুক্তি বাস্তবায়নে বাধ্য করার ক্ষমতা তাদের নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নিয়েও মতভেদ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

কেউ মনে করেন, এটি দরকষাকষির কৌশল; আবার কেউ বলছেন, এটি সুস্পষ্ট কৌশলের অভাবের প্রতিফলন।

গ্রেস ওয়ারমেনবোলের মতে, ট্রাম্প একই সঙ্গে সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ অনুসরণ করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাননি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ জনপ্রিয় নয়। পাশাপাশি যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয়ও বাড়ছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন এখন সংঘাতের প্রকৃত চিত্র আড়াল করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত হলো, এমন বাস্তবতায় পাকিস্তানের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শান্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তবে অবিশ্বাস দূর না হলে স্থায়ী সমাধান এখনও অনেক দূরের পথ হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%