ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শীতের আগমনে কেশবপুরসহ আশপাশের এলাকায় ঘন কুয়াশা পড়া শুরু


শীতের আগমনে কেশবপুরসহ আশপাশের এলাকায় ঘন কুয়াশা পড়া শুরু

শরতের শেষের দিকে কেশবপুর এবং এর আশপাশের এলাকায় ঘন কুয়াশার আগমন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে এখানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে দেখা যাচ্ছে। বেলা হওয়ার পরও অনেক সময় কুয়াশার আবরণ দৃশ্যমান হচ্ছে।

অসময়ে কুয়াশা পড়ার কারণে আগাম চাষ করা শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন চাষিরা। স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কেশবপুর উপজেলায় চলতি বছরে ৭৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির চাষাবাদ হয়েছে।

অন্যদিকে, আগাম শীতের আবহাওয়া আসার ফলে উপজেলা জুড়ে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কেশবপুর হাসপাতালে রোগীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: মানবসেবাই আসল ধর্ম: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য

বর্তমানে কেশবপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সব সময় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডে জায়গার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মেঝেতে চরম কষ্টে থাকতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজন হলে মন্ত্রিসভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সাংবাদিকরা জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যদি তাদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে ভালো সাংবাদিকরা কাজের আগ্রহ হারাতে পারেন এবং নতুন ভালো সাংবাদিক তৈরি হবে না।

তিনি আরও বলেন, ওয়েজবোর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি অচলাবস্থা বিরাজ করছে। নবম ওয়েজবোর্ড যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। দশম ওয়েজবোর্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের দাবির পাশাপাশি নবম ওয়েজবোর্ডের বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং এ উদ্যোগকে আরও জোরদার করা হবে।

ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, মিডিয়া হাউসের মালিকদেরও সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। সরকার কোনো ঘোষণা দিলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা বাস্তবায়ন না করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা করে আসা পেশাদার সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা হুমকির মুখে পড়ছেন। এ কারণে জনগণ ও গণতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই আইন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ বা সাংবাদিকদের লেখালেখি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। জনগণকে নিরাপদ রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়রানি, অসত্য তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে ক্ষতির মুখে ফেলার ঘটনা মোকাবিলায় সাইবার নিরাপত্তার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকের প্রকাশিত সংবাদ ভুলবশত আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এসেছে, সরকার তা বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় শব্দচয়ন ও বিধান কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। গণমাধ্যম কীভাবে চলবে সে বিষয়ে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে দেওয়ার আহ্বান জানান। লিখিত প্রস্তাব পেলে সেগুলো বাস্তবায়ন ও পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণে সরকারের জন্য সুবিধা হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনগণের সামনে দেশের খবর তুলে ধরেন। অনেক সময় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েও দায়িত্ব পালন করেন। অথচ তারা ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া উচিত নয়। ফেসবুক পেজ খুলে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন।

ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার বলেন, দীর্ঘদিন ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাংবাদিকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করার দাবি জানান। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করা পত্রিকা ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বিজ্ঞাপন এবং ক্রোড়পত্র না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ডিইউজের সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, দপ্তর সম্পাদক ইকবাল মজুমদার তৌহিদ, কল্যাণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন রাজ্জাক, প্রচার সম্পাদক আবুল কালাম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিক লিটন, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ গাজী আনোয়ার, তালুকদার এ এইচ এম নুরুল মোমেন প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি রফিক মোহাম্মদ, নির্বাহী সদস্য এম. মোশররফ হোসাইন, আবদুল্লাহ মজুমদার, ফখরুল ইসলামসহ অন্যরা।

সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, কল্যাণ, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


আলফাডাঙ্গায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দূর্জয় রহমান অনিক (২৬)। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবিতে রোববার (২ অক্টোবর) বিকেলে পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে অনিক বলেন, নওয়াপাড়া গ্রামের রবি ঘোষের মাদক ব্যবসার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেন তিনি। পরে আদালত রবি ঘোষকে ৯ মাসের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এরপর থেকে রবি ঘোষের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত রাসেল মিয়া ও তার সৌদি প্রবাসী ভাই সোহেল মিয়া তাকে ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন অনিক।
তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লবণ আমদানির অনুমতিতে চাষিদের উদ্বেগ, নতুন মৌসুমে চাষে অনাগ্রহের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


লবণ আমদানির অনুমতিতে চাষিদের উদ্বেগ, নতুন মৌসুমে চাষে অনাগ্রহের আশঙ্কা

দেশে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ লবণ অবিক্রীত অবস্থায় থাকায় কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণচাষিরা বর্তমানে লোকসানে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে দেড় লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়ার ফলে চাষিদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চাষিরা আশঙ্কা করছেন, আমদানিকৃত লবণ বাজারে প্রবেশ করলে দেশীয় লবণের দাম ও চাহিদা আরও কমে যাবে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার কারণে আগামী মৌসুমে অনেক চাষি লবণ উৎপাদন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।

বিশেষ করে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও বাঁশখালীর লবণচাষিরা এ বিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, নতুন করে লবণ আমদানির আগে দেশের বাজারে বিদ্যমান মৌজুদ, স্থানীয় উৎপাদন, চাহিদা, বাজারদর ও উৎপাদন খরচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবিক্রীত দেশীয় লবণ বাজারজাতের ব্যবস্থা করে চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

লবণচাষিরা অভিযোগ করেছেন, গত মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হয়েছে। বাজারে প্রত্যাশিত দামও পাওয়া যায়নি। এর ফলে একদিকে উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত লবণের চাপ।

বিসিক কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে কক্সবাজারের ৯টি উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মোট ৬৭ হাজার ৭৫৭ একর জমিতে লবণ চাষ হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ লাখ ৭৫ হাজার টন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৯ লাখ ৩৫ হাজার টন। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উৎপাদন কম হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টন।

এছাড়া মাঠ ও বিভিন্ন সংরক্ষণস্থানে প্রায় ৪ লাখ টন লবণ অবিক্রীত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নতুন মৌসুম শুরুর আগে এই বিপুল পরিমাণ লবণ কীভাবে বাজারজাত হবে—তা নিয়ে চাষিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক ইদ্রিস মিয়া জানিয়েছেন, মাঠে প্রায় ৪ লাখ টন লবণ অবিক্রীত রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে গত মৌসুমে চাষিদের নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৫ দিন আগেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। এতে উৎপাদন কমে যায়। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কক্সবাজারের মাতামুহুরী এলাকার পশ্চিম বড়ভেওলার চাষি হারুনুর রশিদ গত মৌসুমে প্রায় ৬০ একর জমিতে লবণ উৎপাদন করেন। তিনি চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার হিসাবে, লবণ উৎপাদনে প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হলেও বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ৪০ লাখ টাকা। এতে তার প্রায় ৩০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

হারুনুর রশিদ বলেন, "গত মৌসুমে প্রতি ৮০ কেজির বস্তা লবণ ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় প্রায় ১৫০ টাকা পরিবহন খরচ যুক্ত হয়েছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম হওয়ায় চাষিদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে। লবণ চাষে এর আগে এত বড় লোকসানের মুখে পড়েননি।"

একই এলাকার রামপুরের চাষি নজরুল ইসলামের প্রায় ৫০ টন লবণ এখনো অবিক্রীত রয়েছে। খুটাখালী ইউনিয়নের বহলতলী মৌজার চাষি মিজানুর রহমান চৌধুরীর জমিতেও গত তিন মৌসুমের প্রায় ৫০ টন লবণ পড়ে আছে। তিনি প্রায় ১০০ একর জমিতে লবণ উৎপাদন করেছেন।

মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের চাষি নুরুন নবী প্রায় ৩০০ একর জমিতে লবণ উৎপাদনে নিজস্ব পুঁজির পাশাপাশি ব্যাংকঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন। লোকসানের কারণে এখনো ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। তার দাবি, লবণ উৎপাদনে প্রায় ৮০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি

বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আমদানির তদবিরের পর বিসিক চলতি বছরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে লবণ আমদানির সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

অনুমোদনের আওতায় ২৪৪টি লবণ মিলকে ৫৪৩ টন করে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টন এবং ভ্যাকুয়াম পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনকারী ৭টি প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৫০০ টন করে মোট ১৭ হাজার ৫০০ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আমদানির অনুমোদিত পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টন।

চাষিদের প্রশ্ন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যখন বিপুল পরিমাণ মাঠে উৎপাদিত লবণ অবিক্রীত রয়েছে এবং উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে চাষিরা লোকসান গুনছেন, তখন কোন কল্পিত ঘাটতির ভিত্তিতে নতুন করে আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো?

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী (প্রকাশ খোকন মিয়া) বলেন, "মাঠের প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই লবণ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে লবণচাষি এবং এ খাতের ওপর নির্ভরশীল বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আগামী নভেম্বর থেকে অনেক চাষি লবণ উৎপাদনে নামবেন না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।"

মাতামুহুরীর চাষি শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ ও রামপুরের চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, "গত জুনে মাতামুহুরী উপজেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু চাষিরা এখনো নিজেদের উৎপাদিত লবণ বিক্রি করতে পারছেন না। তাদের প্রশ্ন, দেশের মাঠে উৎপাদিত লবণ বিক্রির ব্যবস্থা না করে লবণ ঘাটতির আশঙ্কায় আমদানির অনুমতি দেওয়া আত্মঘাতি।"

মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, "গত বছর অনেক চাষি উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি। এরপরও পৈতৃক পেশা ধরে রাখতে আগামী মৌসুমে লবণ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। কিন্তু আমদানির খবরে চাষিদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।"

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক শিল্প

লবণ শুধুমাত্র একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য নয়; দেশের শিল্প ও খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দিনমজুর থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ প্রতিদিনের খাবারে লবণ ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিল্পকারখানায়ও বিপুল পরিমাণ লবণ ব্যবহৃত হয়।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের জীবিকা লবণ চাষ, পরিবহন, বিপণন, মজুত ও ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এ খাতের সঙ্গে কমপক্ষে ১৫ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। ফলে লবণের বাজারে অস্থিরতা শুধু চাষিদের নয়, এর সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী ও অন্যান্য পেশাজীবীর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

চাষিদের আশঙ্কা, অবিক্রীত দেশীয় লবণের বড় মৌজুদ থাকা অবস্থায় আমদানিকৃত লবণ বাজারে ঢুকলে বাজারদরের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। এতে আগামী মৌসুমে চাষাবাদে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

লবণচাষিদের দাবি, আমদানির আগে দেশের প্রকৃত মৌজুদ, উৎপাদন, বাজারের চাহিদা, বর্তমান দর ও উৎপাদন ব্যয় সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা করা হোক। একই সঙ্গে অবিক্রীত দেশীয় লবণ দ্রুত বাজারজাত এবং উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, মাঠে লবণ উৎপাদন চাষিরা নিরুৎসাহিত হলে ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানি কমলেও তীব্র স্রোতের কারণে পদ্মার ভাঙন অব্যাহত, হুমকিতে বিভিন্ন স্থাপনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


পানি কমলেও তীব্র স্রোতের কারণে পদ্মার ভাঙন অব্যাহত, হুমকিতে বিভিন্ন স্থাপনা

পদ্মা নদীর সদরপুর অংশে পানি কমে গেলেও তীব্র স্রোতের কারণে নদীভাঙন থামছে না। নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি, যা স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীপারে গড়ে ওঠা ২০০ বছরের পুরনো পিঁয়াজখালীর হাট, ঘাট, বাজার, আশ্রয়ণ প্রকল্প ভবন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, পদ্মার সদরপুর অংশে এর আগে কখনো এমন তীব্র স্রোত দেখা যায়নি। তারা জানান, বাগড়া ঘাট থেকে দিয়ারা ও চরনাসিরপুর ঝাউকান্দা হয়ে পদ্মা নদী শাসনের মাত্র ১৭ কিলোমিটার কাজ হওয়ার পর তা স্থগিত থাকায় নদীর মূল প্রবাহ সদরপুরের দিকে ঘুরে গেছে। পদ্মাতীরের সদরপুর অংশে এখনই টেকসই বাঁধ বা স্থায়ী সমাধান না মিললে, তীব্র স্রোতের কারণে সৃষ্ট এই ভাঙনে অচিরেই গ্রাস হয়ে যাবে একটি স্বাবলম্বী ও প্রাণবন্ত বিশাল জনপদ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট ও মুন্সীরচর এবং পার্শ্ববর্তী চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বাবুরালি মোল্যার কান্দি, শিমুলতলী, নাজির শিকদার কান্দি, মনিরদ্দিন ফকির কান্দি, কাজি কান্দি ও শিকদার কান্দিসহ মাইলের পর মাইল নদীপাড় একযোগে ভেঙে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। নদীপাড়ের বাসিন্দারা তাদের বসতি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিলেও রোপিত ফসলসহ জমিগুলো ভাঙনের কবলে রয়েছে। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী কৃষকেরা আধাপাকা বা কাঁচা ধান গোখাদ্য হিসেবে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে চরনাসিরপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প ভবন, ঢেউখালীর শতবর্ষী পিঁয়াজখালী হাট, জনসংঘ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, চরনাসির উচ্চবিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ছোট-বড় বাজার ও লোকালয়। এতে চরম আতঙ্ক দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

শয়তানখালী ঘাটের ইজারাদার মানিক ব্যাপারী জানান, "যে হারে নদী ভাঙছে, তাতে আগামী বছর পিঁয়াজখালী হাট বলে আর কিছু থাকবে না।" জনৈক সুমন বলেন, “শুনেছি উজানে নদী শাসনের কাজ বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে বিশাল বালুর স্তূপ জমে আছে, যার ফলে নদীর স্রোতের গতিও পরিবর্তন হতে পারে।"

জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী বলেন, "নদীর ভাঙন অত্যন্ত তীব্র এবং প্রতিদিনই ভাঙন বাড়ছে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। কখনো ভাবিনি এত অল্প সময়ের মধ্যে নদী আমাদের এতটা কাছাকাছি চলে আসবে।" নদীভাঙনের মুখে পড়া চরনাসিরপুরের কৃষক জয়নাল আধাপাকা ধান কাটতে কাটতে বলেন, "আর কিছুদিন থাকলেই ধান ঘরে তুলতে পারতাম। এখন বাধ্য হয়ে তা গরুর খাদ্য হিসেবে কেটে নিয়ে যাচ্ছি।"

চরনাসিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রোকন উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবনটিও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এই ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, "আমার জীবনে এত তীব্র ভাঙন দেখিনি। চোখের সামনে মাত্র ২০ মিনিটে ৫০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট প্রস্থের এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গেল। অথচ কয়েক বছর আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল না। ভাঙনের গতি ভয়াবহ, তাই সরকারের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থায়ী বাঁধ বা নদী শাসন কাজ বাস্তবায়ন করা।"

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, "এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার অবগত রয়েছে। পদ্মা নদী শাসনের বিষয়টি প্রকল্প আকারে একনেকে (ECNEC) তোলা হয়েছে এবং তা বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে কাজ করছেন, আশা করি খুব শীঘ্রই একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%