ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাং কাওকে মার্কিন নৌমন্ত্রী করার পরিকল্পনা ট্রাম্পের


হাং কাওকে মার্কিন নৌমন্ত্রী করার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

মঙ্গলবার, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তিনি হাং কাওকে পরবর্তী মার্কিন নৌপরিবহনমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উল্লেখ করেছেন, "সিনেটকে যত দ্রুত সম্ভব এই যোদ্ধাকে অনুমোদন দিতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "তাহলে তিনি চার মাস ধরে যে দারুণ কাজ করে আসছেন, তা চালিয়ে যেতে পারবেন।"

আরও পড়ুন: সৌদিতে চারটি ড্রোন ভূপাতিত, সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবছে মিসর

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে রাশিয়া : পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৭ পি.এম


ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে রাশিয়া : পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন যে চলমান যুদ্ধে রাশিয়া জয়ী হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনের নেতৃত্বকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের সঙ্গে মস্কোর পক্ষে আলোচনা করা সম্ভব নয়।

 

মঙ্গলবার কিরগিজস্তানে একটি সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এসব মন্তব্য করেন। যুদ্ধের বিষয়ে এটিই তার সবচেয়ে বিস্তারিত বক্তব্য, যা তিনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দিয়েছেন। পুতিন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে এবং তিনি দাবি করেন যে ইউক্রেনের সেনারা শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়বে।

 

পুতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ভেঙে পড়বে—এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’ তবে তিনি কখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা জানাননি। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার জন্য একটি বিশেষ ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

 

তবে এসব হামলার পরও যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেন পুতিন। তিনি আরও বলেন, রাশিয়াকে আবারও বড় আকারে সেনা সমাবেশের নির্দেশ দিতে হতে পারে—এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দেন। পুতিন এই ধরনের আলোচনা ‘পুরোপুরি অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, আগস্ট মাসেই রুশ সেনারা পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে। এছাড়া তিনি বলেন, ইউক্রেনের বিপুলসংখ্যক সেনা রুশ বাহিনীর ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়েছে।

 

তবে পুতিনের এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তার দেশের সেনারা স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্ক শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই দুই শহরই দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া বলেও জানান তিনি। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। জেলেনস্কির এই হুঁশিয়ারিকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের’ মতো বলে মন্তব্য করেন পুতিন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটলে মস্কো তার জবাব দেওয়ার উপায় খুঁজে নেবে।

পুতিন ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করলেও সংঘাতের সমাধানে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তিনি বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে নতুন গতি আনা গেলে মস্কো ‘সুনির্দিষ্ট’ আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। অর্থাৎ ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বকে নিয়ে আপত্তি থাকলেও সংঘাতের সমাধানের জন্য আলোচনার একটি পথ খোলা রাখতে চাইছে রাশিয়া- পুতিনের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্ত্রাসবাদ কারো ‘কৌশলগত সম্পদ’ হতে পারে না : মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১০ পি.এম


সন্ত্রাসবাদ কারো ‘কৌশলগত সম্পদ’ হতে পারে না : মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার

(এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে

দেওয়া ভাষণে এই বক্তব্য রাখেন।

মোদি উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসবাদ বর্তমানে মানবতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি। এটি কোনো দেশের জন্য ‘কৌশলগত সম্পদ’ হতে পারে না।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংসহ জোটভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে মোদি বলেন, সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন, নিয়োগ, উগ্রপন্থা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলের নেটওয়ার্ককে একত্রে ভেঙে ফেলতে হবে। সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাত বা সংকটের সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভব নয়; বরং শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।

 

মোদি সংঘাতের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল বা ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলোর ওপর। চীনের বিতর্কিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের পরোক্ষ সমালোচনা করে মোদি স্পষ্টভাবে জানান, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে কোনো প্রকল্পের নামে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।

শীর্ষ সম্মেলনের শেষে গৃহীত যৌথ ‘বিশকেক ঘোষণাপত্রে’ সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সামরিক হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।

 

সদস্য রাষ্ট্রগুলো একমত পোষণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসন করা।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় মেয়াদে জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন হিচিলেমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


দ্বিতীয় মেয়াদে জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন হিচিলেমা

প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা দ্বিতীয়বারের জন্য পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার, বিতর্কিত নির্বাচনে বিশাল জয়ের পর তিনি শপথ নেন।

 

নির্বাচনের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। হিচিলেমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান মুন্দুবিলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এরই মধ্যে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে, সরকারি ফলাফল অনুযায়ী, হিচিলেমা ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।

 

দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্দুবিলে ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সুযোগ তিনি পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ, আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর শেষ দিন গত সপ্তাহে আদালতগুলো বন্ধ ছিল।

 

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের দিন বেশিরভাগ সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। তবে ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, অনেক ভোট গণনাকেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে গণনার কাগজে লিখে রাখা হয়নি। একই সঙ্গে, ডিজিটাল তথ্যের সঙ্গে কাগজের নথির মিল যাচাইয়ের ব্যবস্থাও দুর্বল ছিল। পর্যবেক্ষকরা আরো জানিয়েছেন, অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সদর দপ্তর থেকে নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিলেন।

 

নির্বাচনের পরদিন রাজধানী লুসাকার একটি সম্পত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। ওই সম্পত্তিটির সঙ্গে মুন্দুবিলের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় সাবেক এক মন্ত্রিসভা সদস্য নিহত হন। বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন রাজনীতিককেও গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ বিরোধীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের পরিকল্পনার অভিযোগ আনে, তবে বিরোধীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুন্দুবিলে ও তার নির্বাচনী সহযোগী মেকেবি জুলু পরে আত্মগোপনে চলে যান। গত সপ্তাহে পুলিশ তাদের আটক করে এবং সপ্তাহান্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানে হিচিলেমা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর গ্রেপ্তার সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য সহিংসতার পথ বেছে না নেওয়ার আহ্বান জানান। হিচিলেমা বলেন, জাম্বিয়ায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিনিময়ে কখনোই রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রে সব বিষয়ে একমত হওয়া জরুরি নয়, মতভেদ থাকলেও একে অপরের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন। বিরোধীদের তার সরকারের সঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, বিরোধীদের যদি ভালো কোনো ধারণা থাকে, তবে তার সরকার তা শুনবে।

রাজধানীর ন্যাশনাল হিরোস স্টেডিয়ামে শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয়। সেখানে হাজারো সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন হিচিলেমা। তার নির্বাচনী সহযোগী মুতালে নালুমাঙ্গোও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে কেনিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া ও তানজানিয়ার প্রেসিডেন্টরা ছিলেন। ২০২১ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন হিচিলেমা। সেই সময় জাম্বিয়া তামা উৎপাদনে সমৃদ্ধ হলেও অর্থনৈতিক সংকটে ছিল। দেশটি আন্তর্জাতিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছিল এবং বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ২৪ শতাংশের বেশি ছিল।

নির্বাচনের আগে রাজধানী লুসাকায় বিবিসিকে হিচিলেমা বলেছিলেন, তার সরকার একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতি পেয়েছিল এবং অর্থনীতি নিচের দিকে যাচ্ছিল। ক্ষমতায় এসে সাবেক এই ব্যবসায়ী দেশের ঋণ পুনর্গঠনের জন্য আলোচনা শুরু করেন। বিদেশি ঋণদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। এর ফলে মূল্যস্ফীতি কমেছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। পণ্যের দাম বাড়ছে এবং জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ সামলাতে অনেক মানুষকে এখনো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে হিচিলেমা গত পাঁচ বছরে তৈরি করা অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর আরো কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শপথ গ্রহণের ভাষণে তিনি বলেন, জাম্বিয়া এখন স্থিতিশীলতা থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম মেয়াদে তার সরকার কঠিন কাজগুলো সম্পন্ন করেছে। আগামী পাঁচ বছর দেশের সব মানুষের প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করার সময়। জাম্বিয়ার অর্থনীতিতে তামা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং মোট রপ্তানি আয়ের ৭০ শতাংশের বেশি আসে তামা থেকে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম বেড়েছে। এতে জাম্বিয়ার অর্থনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামার দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা এখনো জাম্বিয়ার বাজার নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও অন্যান্য সমস্যাগুলোও তারা আপাতত উপেক্ষা করতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেউতায় অভিবাসী ঢলের পর ২৩ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৫ পি.এম


সেউতায় অভিবাসী ঢলের পর ২৩ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় অভিবাসীদের প্রবেশের পর যৌন নিপীড়নের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে অভিবাসীদের ঢল নামার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৩টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

 

এই ঘটনার মধ্যে ৯ জন শিশু শিকার হয়েছে। সেউতার প্রধান প্রসিকিউটর সিলভিয়া রোহাস এই তথ্য জানিয়েছেন।

তার হিসাব অনুযায়ী, অভিবাসীদের ব্যাপক প্রবেশের পর থেকে প্রায় প্রতিদিন একটি করে যৌন নিপীড়নের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। সংবাদপত্র এল পাইসকে রোহাস বলেছেন, সেউতায় অভিবাসী নারী ও মেয়েরা বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

কারণ, তাদের অবস্থান অনিয়মিত হওয়ায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ জানাতে বা আইনি সহায়তা নিতে ভয় পেতে পারেন। গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো থেকে অন্তত ৭২ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই পরে সেউতা থেকে ফিরে গেলেও প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখনো সেখানে অবস্থান করছে।

এই বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রবেশের ফলে উত্তর আফ্রিকার এই স্প্যানিশ শহরে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিবাসীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখানে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। সেউতার প্রধান প্রসিকিউটর রোহাসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শহরটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার অভিবাসীর মধ্যে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ জন শিশু রয়েছে।

এফে সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সন্দেহভাজনদের মধ্যে চারজন মরক্কোর নাগরিক, তিনজন স্পেনের নাগরিক এবং একজন বেলজিয়ামের নাগরিক রয়েছেন। রোহাস বলেন, অভিবাসীদের প্রবেশের পর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ কয়েক গুণ বেড়েছে।

 

তবে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ, অনেক ভুক্তভোগী ভয় বা সেউতায় তাদের বর্তমান অবস্থার কারণে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেননি। সেউতার বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে যৌন নিপীড়নের শিকার কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুসানা আসকাসো গত মাসে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ১০ বছর বয়সী এক শিশুও ছিল।

মরক্কোর ২৪ বছর বয়সী এক নারী বিবিসিকে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেউতায় পৌঁছাতে তিনি নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন। কিন্তু সেখানে একদল নারী ও পুরুষের সঙ্গে ঘুমানোর সময় তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন। ওই নারী বলেন, ঘটনার পর তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। আগে থেকে এমন পরিস্থিতির কথা জানলে তিনি সেউতায় আসতেন না বলেও জানান। স্পেনের এপিডেমিওলজি সোসাইটি বলেছে, সীমান্তে তৈরি হওয়া এই সংকট অভিবাসী নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শনাক্ত করা এবং তা মোকাবেলার কঠিন বিষয়টি সামনে এনেছে।

সংকট মোকাবেলায় স্পেন সরকার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করেছে। অর্থমন্ত্রী কার্লোস কুয়েরপো জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভা কয়েক মিলিয়ন ইউরোর একটি সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এই অর্থ জরুরি সেবা দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকহীন শিশুদের দেখভালের খরচ মেটাতে ব্যবহার করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এদিকে সেউতার মেয়র হুয়ান হেসুস ভিভাস বুধবার স্পেনের মূল ভূখণ্ডের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য দেশটির নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন। সেউতার বার্ষিক ছুটির দিনে এসব বিক্ষোভ হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে সেউতার প্রতি সমর্থন জানানো হবে।

অভিবাসী সংকট মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টি অভিযোগ করেছে, সানচেজ সেউতার নিয়ন্ত্রণ হারাননি, বরং তিনি শহরটিকে অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সেউতা নিয়োগকর্তা কনফেডারেশনের সভাপতি আরান্তসা কাম্পোস বিবিসিকে বলেন, অভিবাসীরা সেউতা থেকে চলে না গেলে শহরটি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি সেখানে থাকা সবাইকে যাচাই করার কাজ কবে শেষ হবে, সেটিও তারা জানেন না।

সংকটের মধ্যে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে সেউতা সফর করতে পারেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানচেজ। সোমবার তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুমতি দিলেই রাজা সেখানে যাবেন। এমন সফর হলে সেউতার ওপর স্পেনের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বের বিষয়টি আবারও স্পষ্টভাবে সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেউতা ও পাশের স্বায়ত্তশাসিত শহর মেলিলার ওপর দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে মরক্কো। ২০০৭ সালে সর্বশেষ কোনো স্প্যানিশ রাষ্ট্রপ্রধান সেউতা সফর করেছিলেন। সে সময় তৎকালীন রাজা হুয়ান কার্লোস সেখানে গিয়েছিলেন। ওই সফরের পর মাদ্রিদ থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছিল মরক্কোর রাজধানী রাবাত। ফলে আবার কোনো রাজকীয় সফর হলে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

স্পেনের রেডিও চ্যানেল কাদেনা সেরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সানচেজ বলেন, রাজা প্রায় ২০ বছর ধরে সেউতায় যাননি। তবে ষষ্ঠ ফেলিপে নিজে মাত্র ১২ বছর ধরে সিংহাসনে রয়েছেন। সানচেজ আরো বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সেউতায় সরকারি সফর করা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী তিনি। সংকট শুরুর সময় ৩১ জুলাই তিনি নিজেই সেউতায় গিয়েছিলেন। তবে স্পেনের কয়েকজন ভাষ্যকার মনে করছেন, সানচেজের এই মন্তব্যে রাজার সমালোচনার ইঙ্গিত ছিল। অবশ্য ওই দিন পরে তিনি রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অভিবাসীদের এই ঢলের জন্য মরক্কোকে সরাসরি দায়ী করতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন সানচেজ। সোমবার তিনি বলেন, মরক্কোর কর্তৃপক্ষ কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল—এমন কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদন তার কাছে নেই। এর পরিবর্তে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্যের বিষয়টি সামনে আনেন। সানচেজের অভিযোগ, এসব অপতথ্যের সঙ্গে রাশিয়া, ইসরায়েল এবং একটি আন্তর্জাতিক কট্টর ডানপন্থী আন্দোলনের যোগ থাকতে পারে। তার মতে, এই আন্দোলন অভিবাসন ইস্যুকে ব্যবহার করে শুধু স্পেন নয়, পুরো ইউরোপকে বিভক্ত ও মেরুকরণের চেষ্টা করছে। তবে সানচেজ স্পষ্ট করে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে অপতথ্যগুলো অবশ্যই কোনো রাষ্ট্রীয় পক্ষ থেকে এসেছে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অভিবাসীরা সেউতায় প্রবেশ করার পর পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়ে থাকতে পারে।

পরে সরকারের মুখপাত্র এলমা সাইসও এই অভিযোগের কথা জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইউরোপকে বিভক্ত ও মেরুকরণের উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে আরো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে। তবে রাশিয়া ও ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’আর সানচেজকে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সানচেজের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দাবি করেছেন। আগস্টে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টে মরক্কো ও সেউতার মধ্যকার সীমান্ত বেড়াকে সহজে পার হওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখানো হয়।

সেউতার মেয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সীমান্ত বেড়া এড়িয়ে সাঁতরে সেউতায় যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ১০০ জন মারা গেছেন। স্পেনের তথ্য যাচাইকারী ওয়েবসাইট মালদিতা জানিয়েছে, ৩০ জুলাই অভিবাসীদের ঢল শুরুর আগেই মরক্কোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সীমান্ত পার হওয়ার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করে বিভিন্ন বার্তা ছড়ানো হয়েছিল।

মালদিতার তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের জুন মাসের একটি রায়ের পর এসব বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে বিরোধী পিপলস পার্টি প্রধানমন্ত্রী সানচেজের সমালোচনা করে বলেছে, তিনি মরক্কোকে ‘দায়মুক্তি’ দিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন। দলটির মুখপাত্র বোরহা সেম্পের বলেন, মরক্কোর কর্তৃপক্ষের অজান্তে কয়েক হাজার মানুষ একসঙ্গে সেউতার সীমান্তের দিকে যেতে পারে না। তবে মরক্কো বিপুলসংখ্যক মানুষের সেউতায় প্রবেশের ঘটনা পরিকল্পিত ছিল বা এতে দেশটির কর্তৃপক্ষ জড়িত ছিল- এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%