বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১২ পি.এম
> জাতীয়
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে র্যাবের আদলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রস্তাবিত বিলটি সংসদে উত্থাপনের অনুমতি না দেওয়া উচিত।
নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘যদি র্যাব বিলুপ্ত করে এর বর্তমান জনবল দিয়ে নতুন নামে এসআরবি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে এটি মূলত নতুন মোড়কে র্যাবকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হবে। এটি আসলে র্যাবের পুনর্গঠনেরই একটি রূপান্তর।’বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আহ্বান জানান।তিনি বলেন, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে যে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অনুরোধ থাকবে, এই বিলটি উত্থাপনের অনুমতি যেন না দেওয়া হয়। আমরা এর উত্থাপনের বিরুদ্ধে জোরালো বিরোধিতা জানাচ্ছি।’
র্যাবের অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘র্যাব নামক প্রতিষ্ঠানটি বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গোপন বন্দিশালা তথা আয়নাঘরের কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত হয়েছে।’
তিনি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের প্রতিশ্রুতি ছিল র্যাব বিলুপ্ত করা। নির্বাচনের সময় বিএনপি প্রেস ব্রিফিং করে র্যাব বিলুপ্ত করার কথা বলেছিল। কিন্তু তখন র্যাব বিলুপ্ত করে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়নি।’
রাজনৈতিকবিশ্লেষণ পরিষেবা
র্যাবের কাঠামো ও কার্যক্রমের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরও এই বাহিনীতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সামরিক বাহিনী ও পুলিশকে রাজনৈতিকীকরণ করে নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে।’
পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের কোনো বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজন আছে কি না এবং তার রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে সংসদে ও বাইরে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত।’ র্যাবকে ফ্যাসিবাদী আমলের দাগ, ক্ষতচিহ্ন ও আতঙ্ক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘আগে র্যাবকে সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করতে হবে; এরপর নতুন কোনো বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজন হলে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে বিল আনতে হবে।’বক্তব্যের শেষে তিনি পুনরায় স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনার কাছে অনুরোধ থাকবে, এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করার অনুমতি আপনি দেবেন না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরোধী দলের তীব্র বিরোধিতার মধ্যে সংসদে এসআরবি বিল উত্থাপনবিরোধী দল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে বিরোধী দলের এই প্রতিবাদ সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্তির মাধ্যমে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন, তার নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে আনীত একটি বিল—স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬ মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপন করছি।’
বিলটি উত্থাপনের আগে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি স্পিকারের কাছে প্রস্তাবিত এই বিলটি সংসদে উত্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার জন্য আবেদন জানান।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘র্যাব বিলুপ্ত করে এর বর্তমান জনবল দিয়েই নতুন নামে এসআরবি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা মূলত নতুন মোড়কে র্যাবকে ফিরিয়ে আনা ছাড়া আর কিছু হবে না। এটি মূলত র্যাবের পুনর্গঠনেরই নামান্তর।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
র্যাব বিলুপ্তির প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন জানান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে, নতুন কোনো এলিট ফোর্স বা বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের আগে আরো আলোচনা ও পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সাইবার সিকিউরিটি ফোর্স গঠনের প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে র্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তাই র্যাব বিলুপ্তির যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, সেটিকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করেন এবং এই প্রস্তাব আনার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।র্যাবের বিকল্প বা নতুন বাহিনী গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এলিট ফোর্সের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে অথবা নতুন করে যেটাই হোক, এটা গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে। তবে, এর আগে আরও আলোচনা ও পর্যালোচনা প্রয়োজন।’সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাইবার স্পেসে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের শিকার সরকারি দল, বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষ। তাই এ ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘হয়তোবা একটা সাইবার সিকিউরিটি ফোর্স আমাদের বিল্ড আপ করা লাগতে পারে। সেরকম ভালো কিছু করলে আমরা অবশ্যই সমর্থন দেব।’নতুন বাহিনী যেন কোনোভাবেই দমন-পীড়নের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, এটি যেন রিপ্রেশনের উদ্দেশ্যে না হয়ে মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নতুন বাহিনী গঠনের বিষয়টি নিয়ে আরও চিন্তাভাবনা ও প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘উনারাও আরেকটু চিন্তা করুন, আমরাও একটু চিন্তা করি, আর একটু হোমওয়ার্ক করি।’জনগণের মনে যাতে কোনো নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, নতুন কোনো বাহিনী গঠন করা হলে জনগণের মধ্যে যেন এমন ধারণা তৈরি না হয় যে কেবল পদ্ধতি বা মোড়ক পরিবর্তন করে একই ধরনের প্রতিষ্ঠান আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার টোটাল কনসেপ্ট যে পরিবর্তিত হয়েছে, সেই নিশ্চয়তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ‘আমি এটার পক্ষে, কিন্তু সবাই মিলে আমরা করি, কনভিন্স হয়ে করি, আরও একটু হোমওয়ার্ক করে করি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ মডেল গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।ঢাকার ইউনূস সেন্টারে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে।ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদিব ইউসুফ আল আমা, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি প্রোগ্রামস বিভাগের মহাপরিচালক আনাস আসিয়ামি এবং আইটিএফসির ট্রেড ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবদিহামিদ আবু।এই বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূসের দর্শন ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধিরা ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে অধ্যাপক ইউনূসের কাজ, সামাজিক ব্যবসার ধারণা এবং তার ‘তিন শূন্য’ ধারণা—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—এর ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।ড. আল জাসের জানান, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক তার সদস্য দেশগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ চালুর বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছে। অধ্যাপক ইউনূস এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামীণের কর্মসূচিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে একটি দল পাঠানোর অনুরোধ করেন, যাতে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক কিছু পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী হতে পারে তা চিহ্নিত করতে পারে।এ সময় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করায় ড. আল জাসেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এ চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে।ড. আল জাসের অধ্যাপক ইউনূসের কাজের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ তরুণের মধ্যে প্রচলিত চাকরিব্যবস্থা থেকে দূরে থাকার প্রবণতা রয়েছে, তারা আর নিজেদের শুধু চাকরিজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী নন।অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তরুণদের সৃজনশীলতাকে সমস্যা সমাধান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে—যে ধারণাটি শুরু থেকেই ক্ষুদ্রঋণের মূল ভিত্তিতে ছিল। তিনি গ্রামীণের নবীন উদ্যোক্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি বাংলাদেশে শুরু হয়ে পরবর্তীতে অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারিত হয়েছে।আলোচনায় গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাও উঠে আসে। এই বিশ্ববিদ্যালয় তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলায় নিবেদিত হবে। অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সামাজিক ব্যবসার নেটওয়ার্ক হিসেবে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, চক্ষুসেবা, নার্সিং কলেজ, হাসপাতাল চেইনসহ একাধিক উদ্যোগ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে জানান।অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান প্রজন্ম এ পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম, কারণ তারা ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ। তিনি বলেন, তারা শুধু চাকরি পাওয়াকে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে না; বরং মানবিক সমস্যার সমাধানে নিজেদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোই তাদের মূল লক্ষ্য।তিনি তরুণদের সামাজিক সমস্যা সমাধান, মর্যাদাপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা করেন। বৈঠকে দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নে উদ্ভাবনী ও টেকসই পদ্ধতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও অধ্যাপক ইউনূসের অভিন্ন আগ্রহের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন ইওপির মিডল অফিসের টেকনিক্যাল সাপোর্ট অফিসার মোহাম্মাদ জাফর আলমাশহারাউই, ইওপি’র ফ্রন্ট অফিস স্পেশালিস্ট ও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট আহমাদ শাওয়েশ, সিনিয়র এডিটোরিয়াল অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং স্পেশালিস্ট আবদিকাদির আবদি, ঢাকার রিজিওনাল হাবের ম্যানেজার আলী খান, ঢাকার রিজিওনাল হাবের অপারেশন্স টিম লিডার নাসের ইয়াকুবু, ঢাকার রিজিওনাল হাবের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট মাহবুব রব্বানি, আইটিএফসির ডিভিশন ম্যানেজার আবদুল আলিম এইচ মোহাম্মদ এবং আইটিএফসির সিনিয়র ম্যানেজার ইফতেখার আলম।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান, ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং গ্রামীণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসমিনা রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’-এর ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই ধারাটি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল, কারণ এটি রেজল্যুশন বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার আওতায় আসা ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার, সম্পদ ও দায়ের মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারত।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। এরপর বিলটি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’-এর ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’-এ এই বিধানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন ও অনুমোদনের সময় এটি যুক্ত করা হয়েছিল।
‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’ পাস হওয়ার পর ১৮(ক) ধারাটি বিতর্কের সৃষ্টি করে। সমালোচকদের মতে, এই বিধানটি রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অধীন ব্যাংকগুলোর সাবেক ও বিতর্কিত পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানায় ফিরে আসার পথ তৈরি করতে পারতো।
এই বিধানের আওতায়, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বে যেসব শেয়ারহোল্ডার ওই ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করতেন, তারা ব্যাংকটির শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারতেন। এছাড়া, এই বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও একই সুযোগ প্রদানের ক্ষমতা রাখতো।
পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়ার সময় এই বিধানটি বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কারণ ওই ব্যাংকগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সাবেক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সমালোচনার মুখে সরকার পরবর্তীতে এই বিধানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। সংশোধন বিলের সাথে সংযুক্ত ‘উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে’ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ধারায় বর্ণিত পূর্ণ শর্তাবলি মেনে আবেদন করেনি, তাই এই বিধানটি বাতিল করা যৌক্তিক।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন’ ২০০৯ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি ‘প্রাইভেট মেম্বারস বিল’ (সংসদ সদস্যের নিজস্ব বিল) উত্থাপনের অনুমতি চান। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং ওই সংসদ সদস্যকে বিলটি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান।
তবে নাজিবুর রহমান বিলটি প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি সংসদে ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় সমর্থন লাভে ব্যর্থ হওয়ায় ওই সংসদ সদস্যকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ