বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২২ পি.এম
ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ মডেল গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।ঢাকার ইউনূস সেন্টারে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৃহস্পতিবার ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়েছে।ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আদিব ইউসুফ আল আমা, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি প্রোগ্রামস বিভাগের মহাপরিচালক আনাস আসিয়ামি এবং আইটিএফসির ট্রেড ফাইন্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আবদিহামিদ আবু।এই বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূসের দর্শন ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধিরা ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে অধ্যাপক ইউনূসের কাজ, সামাজিক ব্যবসার ধারণা এবং তার ‘তিন শূন্য’ ধারণা—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ—এর ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।ড. আল জাসের জানান, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক তার সদস্য দেশগুলোতে ক্ষুদ্রঋণ চালুর বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছে। অধ্যাপক ইউনূস এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামীণের কর্মসূচিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করতে একটি দল পাঠানোর অনুরোধ করেন, যাতে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক কিছু পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী হতে পারে তা চিহ্নিত করতে পারে।এ সময় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করায় ড. আল জাসেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এ চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে।ড. আল জাসের অধ্যাপক ইউনূসের কাজের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ তরুণের মধ্যে প্রচলিত চাকরিব্যবস্থা থেকে দূরে থাকার প্রবণতা রয়েছে, তারা আর নিজেদের শুধু চাকরিজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী নন।অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তরুণদের সৃজনশীলতাকে সমস্যা সমাধান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে—যে ধারণাটি শুরু থেকেই ক্ষুদ্রঋণের মূল ভিত্তিতে ছিল। তিনি গ্রামীণের নবীন উদ্যোক্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি বাংলাদেশে শুরু হয়ে পরবর্তীতে অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারিত হয়েছে।আলোচনায় গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাও উঠে আসে। এই বিশ্ববিদ্যালয় তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলায় নিবেদিত হবে। অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ এলাকাগুলোতে সামাজিক ব্যবসার নেটওয়ার্ক হিসেবে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, চক্ষুসেবা, নার্সিং কলেজ, হাসপাতাল চেইনসহ একাধিক উদ্যোগ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে জানান।অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান প্রজন্ম এ পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম, কারণ তারা ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ। তিনি বলেন, তারা শুধু চাকরি পাওয়াকে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে না; বরং মানবিক সমস্যার সমাধানে নিজেদের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোই তাদের মূল লক্ষ্য।তিনি তরুণদের সামাজিক সমস্যা সমাধান, মর্যাদাপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা করেন। বৈঠকে দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক উন্নয়নে উদ্ভাবনী ও টেকসই পদ্ধতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও অধ্যাপক ইউনূসের অভিন্ন আগ্রহের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন ইওপির মিডল অফিসের টেকনিক্যাল সাপোর্ট অফিসার মোহাম্মাদ জাফর আলমাশহারাউই, ইওপি’র ফ্রন্ট অফিস স্পেশালিস্ট ও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট আহমাদ শাওয়েশ, সিনিয়র এডিটোরিয়াল অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং স্পেশালিস্ট আবদিকাদির আবদি, ঢাকার রিজিওনাল হাবের ম্যানেজার আলী খান, ঢাকার রিজিওনাল হাবের অপারেশন্স টিম লিডার নাসের ইয়াকুবু, ঢাকার রিজিওনাল হাবের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট মাহবুব রব্বানি, আইটিএফসির ডিভিশন ম্যানেজার আবদুল আলিম এইচ মোহাম্মদ এবং আইটিএফসির সিনিয়র ম্যানেজার ইফতেখার আলম।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান, ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং গ্রামীণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসমিনা রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’-এর ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, এই ধারাটি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল, কারণ এটি রেজল্যুশন বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার আওতায় আসা ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার, সম্পদ ও দায়ের মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারত।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। এরপর বিলটি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’-এর ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’-এ এই বিধানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন ও অনুমোদনের সময় এটি যুক্ত করা হয়েছিল।
‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’ পাস হওয়ার পর ১৮(ক) ধারাটি বিতর্কের সৃষ্টি করে। সমালোচকদের মতে, এই বিধানটি রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অধীন ব্যাংকগুলোর সাবেক ও বিতর্কিত পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানায় ফিরে আসার পথ তৈরি করতে পারতো।
এই বিধানের আওতায়, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বে যেসব শেয়ারহোল্ডার ওই ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করতেন, তারা ব্যাংকটির শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারতেন। এছাড়া, এই বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও একই সুযোগ প্রদানের ক্ষমতা রাখতো।
পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়ার সময় এই বিধানটি বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কারণ ওই ব্যাংকগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সাবেক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সমালোচনার মুখে সরকার পরবর্তীতে এই বিধানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। সংশোধন বিলের সাথে সংযুক্ত ‘উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে’ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ধারায় বর্ণিত পূর্ণ শর্তাবলি মেনে আবেদন করেনি, তাই এই বিধানটি বাতিল করা যৌক্তিক।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন’ ২০০৯ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি ‘প্রাইভেট মেম্বারস বিল’ (সংসদ সদস্যের নিজস্ব বিল) উত্থাপনের অনুমতি চান। অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং ওই সংসদ সদস্যকে বিলটি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান।
তবে নাজিবুর রহমান বিলটি প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি সংসদে ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় সমর্থন লাভে ব্যর্থ হওয়ায় ওই সংসদ সদস্যকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক ও অবৈধ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কলম ধরাই যেন অপরাধ! সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম মীরসরাইয়ের সাংবাদিক কামরুল ইসলাম (৩০)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে করেরহাট বাজারের লক্ষ্মীছড়া ব্রিজ এলাকায় সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা তার ওপর এই হামলা চালায়।
নৃশংস এই হামলায় মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত পেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। কামরুল ইসলাম বেসরকারি টেলিভিশন 'মোহনা টিভি' মিরসরাই প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে সিলেট জেলা পুলিশের দায়িত্বে এবং চারজনকে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. মনজুরুল আলমকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে সিলেট জেলায় বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া, পুলিশ স্টাফ কলেজের সহকারী পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা ইভাকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। দিনাজপুরের হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহকে সহকারী পুলিশ সুপার (এসবি), ঢাকা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবু হাসান ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে এসবিতে বদলি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার সংকটের সমাধানে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা এই আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নির্বাচনের আগে বিএনপি সংস্কারের জন্য গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন না করে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।" দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জনদুর্ভোগ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রশাসনের সীমাহীন দলীয়করণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, "সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনগণের এসব সমস্যা সমাধানের দাবি বারবার জানানো হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি।" বরং গায়েরজোরে জনগণের অধিকার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বিভিন্ন আইন ও সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের একগুঁয়েমির কারণে সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রেখেও সমাধান না হওয়ায় বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে জনগণের ব্যাপক সাড়া ও অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে এসব দাবি কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; এগুলো জনগণের ন্যায্য দাবি।
১১ দলের নেতারা জানান, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিতব্য জনসভা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চ শুরু হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও জনগণের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ কর্মসূচি সমাপ্ত হবে ইনশাআল্লাহ।
লংমার্চে নেতৃত্ব দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বিরোধীদলীয় চীপ হুইপ ও এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান জনাব মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আবু জাফর কাসেমীসহ শীর্ষ নেতারা।লংমার্চে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পথসভাগুলোতেও ব্যাপক জনসমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উল্লেখ করেন, "এটি কোনো দলের একক দাবি নয়; জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের দাবিতেই এই লংমার্চ।" শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারকে কর্মসূচিতে সহযোগিতা কামনা করেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা জনগণকে প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়।
দলের নেতা-কর্মীদেরও ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখী লং মার্চ সফল করার জন্য সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ