ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আইএফআইসি ব্যাংক যোগ দিল ২ হাজার কোটি টাকার হিমায়িত খাদ্য তহবিলে


আইএফআইসি ব্যাংক যোগ দিল ২ হাজার কোটি টাকার হিমায়িত খাদ্য তহবিলে

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গঠিত ২ হাজার কোটি টাকার প্রাক্-অর্থায়ন তহবিলে অংশগ্রহণের জন্য আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির সাথে চুক্তি সম্পাদন করেছে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য খাতে অর্থায়ন সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ চুক্তির স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়।

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ-২-এর পরিচালক এ কে এম সাইদুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। আইএফআইসি ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করেন ব্যাংকটির চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস হেলাল আহমেদ এবং হেড অব এসএমই অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিংয়ের (চলতি দায়িত্ব) ফারিহা হায়দার।

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্সে ১৪.৭% বৃদ্ধি, চার মাসে এসেছে ১১,৬৮৭ মিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংক এই তহবিল গঠন করেছে রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য খাতের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে। তহবিলের আওতায় অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পেলে দেশের হিমায়িত খাদ্য খাতের উন্নতির পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইএফআইসি ব্যাংক জানায়, তাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা ও উপশাখা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংকিং ও অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তহবিলে অংশগ্রহণের ফলে রপ্তানিমুখী হিমায়িত খাদ্য খাতে ব্যাংকটির অর্থায়নের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকটির অবদান আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষ ও সভাপতির অপসারণ দাবি করে কলেজে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ এম


নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষ ও সভাপতির অপসারণ দাবি করে কলেজে বিক্ষোভ

কলেজের ল্যাব সহকারীসহ চারটি পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে, কলেজের অধ্যক্ষ এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে। এই বিক্ষোভের স্থান ছিল কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা কলেজ।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে কচাকাটা হাইস্কুল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কচাকাটা বাজার ঘুরে কলেজের গেটে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

এ সময় পুলিশি পাহারায় কলেজের গেট তালাবদ্ধ থাকলে, বিক্ষোভকারীরা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে, কলেজ সভাপতি ডা. মো. ইউনুস আলী এবং কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জুয়েলের ছবি ও কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়ে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কলেজের গেট খুলে দেওয়ার পর মাঠে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে নিয়োগবঞ্চিতরা অভিযোগ করেন যে, মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের বাদ দিয়ে, পরীক্ষার চার দিন পর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কলেজ কমিটির সভাপতি ডা. ইউনুস আলী এবং অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম কম মেধাবীদের নিয়োগ প্রদান করেছেন। তারা নিয়োগকে অবৈধ উল্লেখ করে, নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগের দাবি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় কচাকাটা কলেজের কম্পিউটার কাম-অফিস সহকারী, ল্যাব সহকারী, নৈশপ্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এসব পদে ৪৫ জন চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেছিলেন। ওই দিন যথাসময়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে সবাই উপস্থিত ছিলেন, তবে পরীক্ষা নেওয়া হয় দুপুরের পর। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করে, সবার ভাইভা নেওয়া হয়। ভাইভা শেষে পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করে, চার দিন পর ফল প্রকাশের কথা বললে নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা তোপের মুখে পড়েন। পরে কচাকাটা থানা পুলিশের সহায়তায় অধ্যক্ষসহ অন্যরা কলেজ ত্যাগ করেন।

চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন যে, মেধাক্রম অনুসরণ করে ফল ঘোষণা করে ভাইভা পরীক্ষা নেওয়া হয়। চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না করে রাত ৮টার দিকে কলেজ ছাড়েন পরীক্ষক ও কলেজ সংশ্লিষ্টরা। পরে ২৭ তারিখ সকালে পরীক্ষার ফলাফল কলেজের নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দেন অধ্যক্ষ। তবে ফলাফলপত্রে ২৪ অক্টোবর তারিখে স্বাক্ষর দেখা যায়। লিখিত পরীক্ষার মেধাক্রমে ওপরে থাকা প্রার্থীরা চাকরি পাননি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বঞ্চিত নিয়োগ প্রার্থী ও স্থানীয়রা।

এ সময় বক্তব্যে আনিছুর রহমান তোলা ব্যাপারী বলেন, কলেজটিকে মেধাশূন্য করার পাঁয়তারা চলছে। তিনি অবৈধ নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের দাবি জানান।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. ইউনুস আলী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিপক্ষ একটি রাজনৈতিক চক্র উসকানি দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জুয়েলের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয়, এটি অপপ্রচার। নিয়োগ পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ডিজির প্রতিনিধি, ডিসির প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে গ্রীষ্মে ২,৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব: আইইইএফএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ এম


বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ফ্যান ব্যবহারে গ্রীষ্মে ২,৫৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব: আইইইএফএ

গরমের সময় বাসাবাড়িতে ফ্যানের ব্যবহার বিদ্যুতের চাহিদাকে ৫ হাজার ২১২ মেগাওয়াটে নিয়ে যায়। যদি সাধারণ ফ্যানের পরিবর্তে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বিএলডিসি ফ্যান ব্যবহার করা হয়, তাহলে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ২ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এর ফলে বছরে ৬ হাজার ৯১৩ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে, যা আর্থিকভাবে ৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার সমান। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এড়ানো সম্ভব হবে।

এই তথ্যগুলো ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) একটি গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত ‘হাউসহোল্ড স্পেস কুলিং ইন বাংলাদেশ: রোল অব এনার্জি-এফিশিয়েন্ট ফ্যানস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি আইইইএফএর বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। গবেষণাটি দেশের ২৬ জেলার ৪৩৫টি পরিবারের ওপর পরিচালিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ব্যবহৃত মোট ফ্যানের মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ বিএলডিসি প্রযুক্তির। এই ফ্যানগুলো চালাতে ৩৫ ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়, যেখানে সাধারণ ফ্যানের জন্য ৭০ ওয়াট বা তার বেশি বিদ্যুৎ লাগে। গ্রীষ্মকালে রাত ৯টার দিকে বাসাবাড়িতে ফ্যানের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়, যা বিদ্যুতের চাহিদার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।

শফিকুল আলম মন্তব্য করেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) জন্য বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে এবং বিপিডিবির ওপর চাপও হ্রাস পাবে।

তবে, এসব ফ্যানের দাম বেশি হওয়ায় তাদের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে না। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ পরিবার জানে না যে বাজারে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যান পাওয়া যায়। অথচ, এসব ফ্যানের সুবিধা জানার পর ৯৬ শতাংশ পরিবার তা ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি সাধারণ ফ্যানের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা, যেখানে বিএলডিসি ফ্যানের দাম ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে।

দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ পরিবারের মাসিক আয় ২৫ হাজার টাকা বা তার কম। এসব পরিবারের গ্রীষ্মকালীন গড় মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৬৬৩ টাকা। আর্থিক সহায়তা ছাড়া বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় করে ফ্যানের বাড়তি দাম পুষিয়ে নিতে ৭ দশমিক ৭ থেকে ৯ দশমিক ৬ বছর লাগতে পারে। তবে, বড় পরিসরে একসঙ্গে ফ্যান কেনা এবং কার্বন ক্রেডিট বিক্রির অর্থ কাজে লাগালে এ সময় কমে ৪ দশমিক ৮ বছরে আসবে।

এই পরিস্থিতিতে, আইইইএফএ বিএলডিসি ফ্যানের দাম কমানোর জন্য সরকারের কাছে বড় পরিসরে একসঙ্গে ফ্যান কেনার উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য বিশেষ অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে কিস্তিতে ফ্যানের দাম পরিশোধের সুযোগ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফ্যানের মান নির্ধারণ ও বিদ্যুৎ খরচের তথ্যসংবলিত লেবেলিং ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে হবে। এই দায়িত্ব পালন করতে পারে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)। পাশাপাশি, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের সুবিধা সম্পর্কে প্রচার চালানোর প্রয়োজন রয়েছে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত জ্বালানি সেবা প্রতিষ্ঠান (সুপার ইএসসিও) গঠন এবং ফ্যানের মান নিয়ন্ত্রণ ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

শফিকুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতের সংকটের মধ্যে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ফ্যানের ব্যবহার বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। এসব ফ্যান ব্যবহারের শুরুতেই বিদ্যুতের চাহিদা কমতে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবি পার্টি: সরকারের ব্যর্থতা অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ এম


এবি পার্টি: সরকারের ব্যর্থতা অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করেছে

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু মন্তব্য করেছেন যে, সরকারের ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি; এই সব মিলিয়ে সরকার দেশকে কঠিন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সোমবার রাজধানীর বিজয়নগরে অনুষ্ঠিত এবি পার্টির সম্পাদকীয় কমিটির বিশেষ সভায় সভাপতির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে এখনো দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। তৈরি পোশাকশিল্প এবং জনশক্তি রপ্তানি খাতেও নতুন সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গার্মেন্টসে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা অন্যান্য পেশার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধের প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। বিরোধী দলকে সংসদ ও রাজনৈতিক পরিসরে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জন্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়া, এবিএম খালিদ হাসান, আমিনুল ইসলাম, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ের বৈধতা নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ এম


সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ের বৈধতা নিয়ে আলোচনা

মেয়ের বিয়ে একটি মা-বাবার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রত্যেক অভিভাবক চান, তাদের মেয়ের স্বামী যেন দ্বীনদার, সৎ, দায়িত্বশীল এবং উত্তম চরিত্রের অধিকারী হন। কারণ বিয়ে শুধুমাত্র দুটি মানুষের সম্পর্ক নয়; বরং এটি একটি নতুন পরিবার, নতুন জীবন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত।

কিন্তু যখন কোনো পাত্রের উপার্জনের সঙ্গে সুদ বা হারাম লেনদেন জড়িত থাকে, তখন অভিভাবকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এমন ব্যক্তির কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কি শরিয়তসম্মত হবে? তার উপার্জন হারাম হলে সংসারজীবনে কী প্রভাব পড়বে? আর পাত্র ভালো চরিত্রের হলেও যদি সে সুদি কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে করণীয় কী?

ইসলামের আলোকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কুরআন ও হাদিসের আলোকে জেনে নেওয়া যাক এর বিধান।

১. সুদ ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম

ইসলাম সুদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সুদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا

‘আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৫)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ

‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং এর দুই সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন। আর বলেছেন, তারা সবাই (গুনাহের ক্ষেত্রে) সমান।’ (মুসলিম ১৫৯৮)

অতএব, সুদি কারবারকে সাধারণ কোনো ব্যবসা বা পেশা মনে করার সুযোগ নেই। এটি ইসলামে গুরুতর কবিরা গুনাহ।

২. সুদি কারবারির সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে কি?

এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি বিষয় বুঝতে হবে—কোনো ব্যক্তির সুদি কারবারে জড়িত থাকা এবং তার সঙ্গে বিয়ের বৈধতা এক বিষয় নয়।

শরিয়তের দৃষ্টিতে শুধু সুদের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার সঙ্গে বিবাহবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না। তবে সে যদি জেনেশুনে সুদের কাজে লিপ্ত থাকে এবং তওবা না করে, তাহলে তার দ্বীনদারি ও চরিত্র নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।

এমন পাত্রের ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে সে যদি সুদকে হারাম মনে করেও তা থেকে বিরত না হয়, তাহলে তাকে পাত্র হিসেবে গ্রহণ না করাই উত্তম।

শাইখ ইবনে বায (রহ.)-এর কাছে এমন একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল—একজন পাত্র সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরি করেন। তাকে চাকরি ছাড়তে বলার পরও তিনি বিকল্প চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকতে চান। এমন পাত্রের কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া যাবে কি?

জবাবে তিনি বলেন, পাত্রের অবস্থা যদি এমনই হয়, তাহলে সে ওই চাকরিতে থাকা অবস্থায় তার কাছে মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সুতরাং অভিভাবকদের উচিত পাত্রের সুদি কারবারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা এবং তাকে হালাল উপার্জনের পথে আসতে উৎসাহিত করা।

৩. বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রের দ্বীনদারি ও চরিত্রকে প্রাধান্য দিন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِذَا خَطَبَ إِلَيْكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَزَوِّجُوهُ

‘তোমাদের কাছে এমন কেউ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলে, যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তাহলে তার সঙ্গে বিয়ে দাও।’ (তিরমিজি ১০৮৪)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে দ্বীনদারি ও উত্তম চরিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই শুধু অর্থ-সম্পদ, চাকরি, বাড়ি-গাড়ি কিংবা সামাজিক মর্যাদা দেখে মেয়ের বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। বরং পাত্রের নামাজ, ধর্মীয় অনুশীলন, সততা, দায়িত্ববোধ, হালাল-হারামের প্রতি সচেতনতা এবং পারিবারিক আচরণ যাচাই করা জরুরি।

৪. পাত্রের উপার্জন হারাম হলে সংসারে কী প্রভাব পড়বে?

হারাম উপার্জন মানুষের জীবনে বরকতহীনতা ও আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। তাই একজন মুসলিমের উচিত নিজের উপার্জনকে হালাল রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম ১০১৫)

তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্বামীর উপার্জনে হারাম অংশ থাকলেই স্ত্রীর প্রতিটি খাবার বা সংসারের প্রতিটি সম্পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারাম হয়ে যায়—এমন সাধারণ সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। উপার্জনের ধরন, অর্থের উৎস এবং স্ত্রীর জানা-অজানা ও ভূমিকার ওপর বিধান নির্ভর করতে পারে। তাই বিয়ের আগেই পাত্রকে হালাল উপার্জনের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলা উচিত।

৫. পাত্র সুদি কারবার ছেড়ে তওবা করলে কী করবেন?

কোনো ব্যক্তি আগে সুদের সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরে যদি আন্তরিকভাবে তাওবা করে, সুদি কারবার ছেড়ে দেয় এবং হালাল উপার্জনের চেষ্টা শুরু করে, তাহলে তার অতীতের কারণে তাকে চিরদিনের জন্য অযোগ্য মনে করা উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا

‘বলুন, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আয-যুমার: আয়াত ৫৩)

সুতরাং পাত্রের মধ্যে তওবার আন্তরিকতা, হালাল উপার্জনের চেষ্টা এবং দ্বীনের প্রতি দায়িত্ববোধ দেখা গেলে তার বিয়ের প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে।

৬. মেয়ের সম্মতি নেওয়াও জরুরি

বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়ের মতামত ও সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অভিভাবকদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মেয়েকে বিয়েতে বাধ্য করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ

‘বিধবা বা পূর্বে বিবাহিত নারীকে তার পরামর্শ ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ (বুখারি ৫১৩৬, মুসলিম ১৪১৯)

তাহলে পাত্রের দ্বীনদারি ও চরিত্র যাচাই করার পাশাপাশি মেয়ের মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

মেয়ের বিয়ে শুধুমাত্র একজন উপার্জনক্ষম পুরুষের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয় নয়; বরং এমন একজন জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার বিষয়, যার সঙ্গে আপনার মেয়ে দ্বীনের পথে চলতে পারবে এবং নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সংসার গড়ে তুলতে পারবে।

সুদি কারবারে জড়িত ব্যক্তির কাছে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ নয়। তবে সুদ যে মারাত্মক হারাম, তা জানা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি সুদি কারবারে লিপ্ত থাকে এবং তাওবা করতে আগ্রহী নয়, তাকে পাত্র হিসেবে গ্রহণ না করাই বিচক্ষণতা।

অন্যদিকে, কেউ যদি সুদ থেকে আন্তরিকভাবে তওবা করে, হালাল উপার্জনের পথে ফিরে আসে এবং তার দ্বীনদারি ও চরিত্র সন্তোষজনক হয়, তাহলে তাকে বিয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে।

মনে রাখবেন, মেয়ের জন্য ধনসম্পদশালী স্বামীর চেয়ে দ্বীনদার, সৎ, দায়িত্বশীল ও হালাল উপার্জনে আগ্রহী স্বামী নির্বাচন করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সন্তানদের জন্য নেককার জীবনসঙ্গী নির্বাচন করার তৌফিক দান করুন এবং সব ধরনের হারাম উপার্জন ও সুদি লেনদেন থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%