০৫:২৩ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হল ও অ্যাকাডেমিক ভবনগুলোর জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'HEAT' প্রজেক্টের আওতায় ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাকসুর এজিএস এস এম সালমান সাব্বির।
জানা গেছে, ইন্টারনেট সমস্যা সমাধানে রাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে BDRen-এর মাধ্যমে একটি সার্ভে পরিচালনা করা হয়, যেখানে তারা প্রায় ১৩ কোটি টাকার বাজেটের একটি প্রাক্কলন (Estimation) দেয়। সেই বাজেটের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার HEAT প্রকল্পের আওতায় একটি প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন।
আরও পড়ুন: জাল সনদ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা চায় এপিইউবি
আবেদনকৃত প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে, প্রায় ১৩ কোটি ২০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট সংযোগ এবং নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, আগামী আগস্টের মধ্যে HEAT-এর কর্মকর্তারা রাবি আইসিটি সেন্টারের সঙ্গে কো-অর্ডিনেশনের মাধ্যমে পূর্বে প্রদত্ত চাহিদাগুলো অনুসরণ করে প্রকল্পের একটি বিস্তারিত কারিগরি স্পেসিফিকেশন তৈরি করবেন। সে স্পেসিফিকেশন অনুমোদন (রুটিন জব) শেষে ই-জিপি পোর্টালে (অনলাইন টেন্ডার পোর্টাল) ডাকযোগে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরপর প্রকিউরমেন্টের বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে কোম্পানি বা ভেন্ডর নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যা তিন মাস সময় নিবে।
যদি সকল প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তাহলে চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে ক্যাম্পাসে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। পুরো কাজের উপর নজরদারি এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে বিডিআরইএন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের ওপর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক এসএম সালমান সাব্বির বলেন, 'HEAT প্রজেক্টের আওতায় আমাদের ইন্টারনেটের এই প্রকল্পটি ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল, অবশেষে কোনো ধরনের আর্থিক পরিবর্তন ছাড়াই অনুমোদন পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। এখন টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন প্রস্তুত, ই-জিপিতে টেন্ডার আহ্বান, ভেন্ডর নির্বাচনসহ বেশ কিছু নিয়মিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।'
আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
তিনি আরও বলেন, 'সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এবং রি-টেন্ডারের প্রয়োজন না হলে, এ বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরুতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, ইনশাআল্লাহ। ততদিন পর্যন্ত আবাসিক হল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ভবনের ইন্টারনেট স্পিড যতটা সম্ভব অপ্টিমাইজড রাখা যায়, সে লক্ষ্যে আইসিটি সেন্টারে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি আমরা। দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট অবকাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছি।'
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট অবকাঠামোর স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রতিটি হলে রাউটারের বদলে মানসম্মত এক্সেস পয়েন্ট বসানো জরুরি।'
তিনি উল্লেখ করেন, 'আমরা গত ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রয়োজনীয় জরিপ ও রিপোর্ট সম্পন্ন করে উপাচার্যের অনুমোদনে ইউজিসিতে জমা দিয়েছিলাম। 'হিট' প্রজেক্টের আওতায় বিডিরেন-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কাজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন