০৬:৩৭ পি.এম
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু দুপুর একটা বাজতেই শ্রেণিকক্ষের দরজায় তালা ঝুলছে, এবং জাতীয় পতাকাও নেই। কলেজের ভবন সংলগ্ন জায়গায় অসংখ্য বাঁশের খুঁটিতে বাঁধা রয়েছে ছোট-বড় গরু ও ছাগল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে চলছে বেচাকেনা। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রেখে এভাবে নিয়মিত পশুর হাট বসানো হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী এই নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ে বর্তমানে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রায় ৯৮ জন শিক্ষার্থী এবং অন্তত ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত কোরবানির ঈদ উপলক্ষে প্রশাসন এই মাঠে তিন মাসের জন্য অস্থায়ী পশুহাটের অনুমোদন দিয়েছিল। গত ৩ আগস্ট সেই হাটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও অবৈধভাবে তা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি রোববার কলেজ মাঠে সাপ্তাহিক পেঁয়াজের হাট এবং মঙ্গলবার পশুর হাট বসে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান চললেও এই দুই দিন চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম অঘোষিতভাবে বন্ধ থাকে। শুধু তাই নয়, কলেজ মাঠে স্থায়ীভাবে বাঁশ-খুঁটি পোঁতা থাকায় গত প্রায় সাত মাস ধরে স্থানীয় যুবসমাজের ফুটবল ও ক্রিকেটসহ সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজটির অধ্যক্ষ লাল মোহাম্মদ জানান, রোববার পেঁয়াজের হাটের কারণে ওই দিনের বদলে শনিবার কলেজ খোলা রাখা হয়। আর মঙ্গলবার দুপুর একটা পর্যন্ত ক্লাস চলার পর পশুহাট শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলেজ খোলা রাখার সরকারি নিয়ম থাকলেও হাটের কারণে তা মানা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি স্বীকার করেন এবং সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
আরও পড়ুন: চুরির বিরোধে কৃষককে পিটিয়ে হত্যা
অন্যদিকে, চৌরঙ্গী পশুহাটের সাধারণ সম্পাদক আলম বিশ্বাসের দাবি, দুপুর একটার পর কলেজের ক্লাস হয় না। হাটের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তারা আবেদন করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, হাটের জন্য কলেজের পাশেই নতুন জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং খুব দ্রুতই হাটটি কলেজ মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
তবে বিকেল চারটার আগে কলেজ বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ বলে জানিয়ে ছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ লিখিত অভিযোগ করলে বা সরেজমিনে গিয়ে এমন অনিয়মের প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নজরে আসার পর কুমারখালী উপজেলার সদ্য যোগদানকৃত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলামও আশ্বাস দিয়েছেন, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবিলম্বে এই অবৈধ হাট উচ্ছেদ করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও খেলার মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন