১০:৫৮ পি.এম
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় গরু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন তিনটি গ্রাম থেকে অন্তত পাঁচটি গরু চুরি হয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় কৃষক ও খামারিরা আতঙ্কে রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও চোর চক্রকে ধরতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১০ জুলাই দিবাগত রাতে উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভী ও একটি বাছুরসহ মোট তিনটি গরু চুরি হয়েছে। একই রাতে মেগুরখির্দা গ্রাম থেকেও আরও একটি গরু চুরি হয়েছে। এর আগে ৯ জুলাই, ইশ্বরবা গ্রামের আইয়ুব হোসেনের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরি হয়েছে। এই সব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চলাচলের দৃশ্য পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রবিউল ইসলাম বলেছেন, "তিনটি গরুই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। দুধ বিক্রি করেই সংসার চলতো। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল।" আইয়ুব হোসেন বলেন, "অনেক কষ্ট করে গরু পালন করি। কিন্তু এক রাতে চোরেরা সব চুরি করে নিয়ে গেছে। এমন চলতে থাকলে গরু পালন ছেড়ে দিতে হবে।" স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে চোরচক্রটি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার জন্য অনেক এলাকায় গ্রামবাসী রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না সৌমিকের, দুই বাড়িতে শোকের মাতম
এর আগে, গত ১৫ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০টি গরু চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জুন দিবাগত রাতে আগমুন্দিয়া গ্রামের সৈয়দ আলীর বাড়ি থেকে পাঁচটি গরু, ২০ জুন ভাদঘারা গ্রামের আব্দুস ছালামের বাড়ি থেকে একটি ষাঁড় গরু এবং ১৫ জুন একই গ্রামের নায়েব আলীর তিনটি গরু চুরি হয়েছে। ২৫ জুন রাতে ভাদঘারা গ্রামের বাসিন্দারা গরু চোর সন্দেহে তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে গরু চুরির কোনো আলামত না পাওয়ায় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে পাঠায়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, গরু চুরির ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে এবং এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন