০৫:৪০ পি.এম
সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার আগামী ১ সেপ্টেম্বর খুলে দেওয়া হবে, যা দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে, ওই দিন থেকেই জেলে ও পর্যটকরা সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ সকলকে নির্দেশিত নিয়ম-কানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্যের আধার নয়, এটি মৎস্যসম্পদেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস।" ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে ও পর্যটকদের সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট ফরেস্ট স্টেশনগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উপহার দিলেন এমপি জামাল
এর আগে, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় বন বিভাগ তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এই সময়ের মধ্যে জেলেদের মাছ-কাঁকড়া আহরণ, বাওয়ালীদের গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ, এমনকি পর্যটকদের বনে প্রবেশও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ছিল।
এদিকে, দীর্ঘ তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পেরে বনজীবীরা ঋণ করে সংসার চালাতে বাধ্য হয়েছেন। জেলে আয়ুব আলী, ইসমাইল হোসেন, সুবোল মুন্ডা সহ কয়েকজন জানান, "সুদে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে।"
"আবার এখন সুদ করেই নৌকা, জাল সারাই করছি। বনে গিয়ে মাছ-কাঁকড়া ধরে ঋণ শোধের পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখা, বাবা-মায়ের ওষুধ ও সংসারের খরচ জোগাতে হবে।" শুধুমাত্র জেলেরা নয়, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে যাদের অন্য ধরনের জীবিকা রয়েছে, তারাও তিন মাসের ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছেন।
নীলডুমুর ট্রলার মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, "পর্যটকের ওপর নির্ভর করে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় পাঁচ শতাধিক ট্রলার চলে।" সুন্দরবনে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত মাছ ও কাঁকড়া ধরা বন্ধ রাখার পাশাপাশি পর্যটক ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি
এই সময়ে ট্রলারচালক ও শ্রমিকরা বেকার জীবনযাপন করেন। তাদের সংসার খুব কষ্টে ধারদেনা করে চলে।
একাধিক জেলে জানান, সুন্দরবনের প্রায় ৭০ ভাগ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সবসময়ই বন্ধ থাকে। জেলেদের দাবি, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে অসাধু জেলেরা অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরা এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। কারণ, অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ও হরিণ শিকার করতে অসাধু চক্রের সুবিধা হয়।
স্থানীয় জেলেদের দাবি, সুন্দরবনের ৬০ ভাগ মাছ-কাঁকড়া আহরণের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। এতে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার কমবে।
আরও পড়ুন: লংমার্চ থেকে ফেরার পথে বাস খাদে পড়ে নিহত ১, আহত ১০
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন