বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৫৮ পি.এম
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় চলমান দুর্যোগপূর্ণ বৈরী আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেকোনো স্বাস্থ্যগত সংকট মোকাবেলায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
এছাড়া, পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে অধিকতর জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল টিমের টিম লিডারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব এসব তথ্য তুলে ধরেন। একই দিন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা, পানিবাহিত রোগ, সাপের কামড়, ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দি, চর্মরোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
এসব পরিস্থিতি মাথায় রেখে, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রাখা হয়েছে।
এছাড়া, দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়। দুর্যোগ পরিস্থিতির মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত সাড়া দিতে একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও সক্রিয় রাখা হয়েছে। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কন্ট্রোল রুমের নম্বর: ০১৭৩০-৩২৪৪৫১। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বা তথ্যের প্রয়োজন হলে, সংশ্লিষ্টদের এ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সহায়তা, রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা—এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে, আশ্রয়কেন্দ্র ও প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতে মেডিকেল টিমগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, ‘চলমান বৈরী আবহাওয়ায় পটিয়া উপজেলার কোথাও যেন স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম চালু রেখে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। জরুরি ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘দুর্যোগের সময় সাধারণত ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ, জ্বর, চর্মরোগ ও সাপের কামড়ের ঘটনা বাড়ে। তাই আমরা মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে রেখেছি। কোথাও স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা তৈরি হলে, দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনের বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য, যারা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। এই আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া, তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে 'অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন' এবং 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড' নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার সময় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায়, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। কোস্ট গার্ড জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি, তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী তিন সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাহিনীটি আরও জানিয়েছে, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যুদের অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কার কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটক ও হাউসবোট মালিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনামগঞ্জ জেলা ও ভারতের মেঘালয়ে ভারি বর্ষণের ফলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটাসহ জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের জন্য হাওরে নৌযান চলাচল বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ।
তাহলে, এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের হাওরে যাত্রা না করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া, অতিরিক্ত যাত্রী পরিহার করা, হাউসবোটে মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়, রিং-এর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথ নির্দেশনা মেনে চলার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অবশেষে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে হাউসবোট পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশনা আসলে তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রশাসন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দুস্থ ও অসহায় ৬০টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ারসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের উপকারভোগীদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন, কীটনাশক ছিটানোর স্প্রে মেশিন, আলমারি ও বাইসাইকেল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে এগিয়ে আসেন বিআরডিবি কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবীর উদ্দিন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহাগ খান। এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে সহায়তা করতেই সরকারের এ উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে বিতরণ করা উপকরণ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে উপকারভোগী পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে টানা পাঁচ দিনের ভারি বৃষ্টির ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বেশিরভাগ উপজেলা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সরকারি সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করে উদ্ধার ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘দুর্যোগের এই সময়ে মানুষের জীবন রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ তিনি অকপটে জানিয়ে দেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জীবন। কোনো প্রাণ যেন সামান্য অসচতনতার কারণেও ঝরে না পড়ে। সবাইকে অনুরোধ করব, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন।’
তিনি আরো জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হচ্ছে, এবং সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রমের প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। প্রথম দফার বরাদ্দ ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে এবং নতুন বরাদ্দও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খাদ্যসংকটে না পড়েন।’
উদ্ধার কার্যক্রমকে দ্রুততর করার জন্য জেলা প্রশাসক সাতকানিয়ার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোটের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করা হয়েছে। স্পিডবোট পাওয়া গেলে পানিবন্দি মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ আরো কার্যকর হবে, আপাতত নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চলছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, রেড ক্রিসেন্ট, ইফসা, আনসার বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে পৃথক বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল যেকোনো দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জেলা প্রশাসক পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে নিজের উপস্থিতি বজায় রাখার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘লালখান বাজার, পোড়া পাহাড় ও ১ নম্বর ঝিল সহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেসব এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।’
বর্তমানে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য চিড়া, মুড়ি, গুড়, শিশুদের জন্য মাফিন, কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো মানুষ অভুক্ত না থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতির শ্রেষ্ঠ উদাহরণ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং জেলা প্রশাসনের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’
শেষে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাবিত জনপদের বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ, মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ