১১:৪৮ এম
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র গরমের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি খরা, অতিবৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। একটি নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনকে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নেতৃত্বে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় তৈরি ল্যানসেট কাউন্টডাউন প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ৩০টির বেশি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ১৪৬ জন গবেষক এতে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তীব্র গরমের সঙ্গে বছরে গড়ে ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর ৬৮ শতাংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। ২০২৩ সালে তীব্র গরমের কারণে প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৭১ শতাংশের বেশি মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যায় ডেঙ্গুর ৭২ রোগী ভর্তি
গবেষকেরা জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাদের মতে, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার গতি মোকাবিলার উদ্যোগের চেয়ে দ্রুততর হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তীব্র গরমের কারণে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য আয়হানি ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। টানা তৃতীয় বছরের মতো এই ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
এছাড়া, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আগের দশকের তুলনায় চরম খরার কবলে পড়া স্থলভাগের বিস্তারের গতি প্রায় ৭০০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি স্থলভাগ অন্তত এক মাস চরম খরার শিকার হবে। অন্যদিকে, অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কবলে পড়া স্থলভাগের হার ২০০৬–২০১৫ সালের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬–২০২৫ সালে ১৭ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে রেকর্ড ২ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই বিনিয়োগ জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগের তুলনায় ৮২ শতাংশ বেশি।
আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুবদল প্রায় ৫০০ মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে
২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গৃহীত হওয়ার সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, "আমাদের এই একমাত্র গ্রহটিকে রক্ষার জন্য এ চুক্তিই এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় সুযোগ।"
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার ২০১৬ সালের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। পরিচ্ছন্ন বায়ুর কারণে বিভিন্ন দেশে বছরে আনুমানিক ৩ লাখ ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তবে অন্য অঞ্চলে বায়ুদূষণ বাড়ায় বিশ্বজুড়ে এই সুফলের পুরোটা পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে মোট জ্বালানি সরবরাহের ৮০ শতাংশের বেশি এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। এর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণে বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় ২৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
গবেষকেরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত ও ন্যায্যভাবে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর, স্বাস্থ্যকে জলবায়ু নীতির মূল লক্ষ্য করার, জলবায়ু ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি এবং উন্নত দেশগুলোর অনুদান ও স্বল্প সুদের ঋণ বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের টেন্ডারে দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত
সূত্র: এবিসি নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন