ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া


মা হারালেন চিত্রনায়িকা পপি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া

ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা সাদিকা পারভীন পপির মা, মরিয়ম বেগম, মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর মগবাজারের একটি হাসপাতালে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

চলচ্চিত্র পরিচালক বদিউল আলম খোকন এই দুঃখজনক খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরিয়ম বেগমের প্রথম জানাজা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ খুলনায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

মরিয়ম বেগম দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগ ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে গুলশানের নিকেতনের বাসায় স্ট্রোক হলে রাত পৌনে ২টার দিকে তাকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন: জাফর পানাহির ৫ বছরের কারাদণ্ড, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিদেশযাত্রা নিষিদ্ধ

মঙ্গলবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

একসময় ঢাকাই সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করেছেন পপি। বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি অভিনয় ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মায়ের মৃত্যুর খবরটি চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার ১২৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২৭ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের মধ্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য যে, সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবছর সরকার বাজেট ঘোষণা করে, যেখানে বড় অঙ্কের ঘাটতি থাকে। এই ঘাটতি মেটাতে মূলত দুটি উৎস—অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাতের ওপর নির্ভর করা হয়। বৈদেশিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না পাওয়া গেলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং সঞ্চয়পত্র খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যাংক খাত সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্থবছরের জুলাই থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে নিট ২৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২৫ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণের স্থিতি ৭ লাখ ১৩ হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ৯৮ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার যে বাজেট ঘোষণা করছে, তাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সেই অনুপাতে রাজস্ব আয় হচ্ছে না। ফলে প্রতি বছরই ঘাটতি বাজেট দিতে হচ্ছে। এই ঘাটতি মেটাতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। এর ফলে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সুদের বোঝাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের বড় ব্যয়ের খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ। এমনকি পুরোনো ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে।

দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য চলতি অর্থবছরে এক লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৩.৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের মূল বাজেটে সুদ ব্যয় ধরা হয়েছিল এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত জুলাই ও আগস্টে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রার ৬৮.৫৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে এনবিআর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অপর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতে সরকারের ঋণের স্থিতি ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র খাতে ঋণের স্থিতি ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, সরকারের ব্যয়ের বোঝা বিভিন্ন কারণে ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে, অদূর ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই। এমনকি আগের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং ব্যয়ে সাশ্রয়ী হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তাহলে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে বাসের আঘাতে তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। হতাহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে পীরগঞ্জের বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী খান পরিবহনের একটি বাস ওই এলাকায় পৌঁছানোর পর দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটি আইল্যান্ডে গিয়ে আবার ধাক্কা লেগে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আরও দুজন মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত ১০-১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাস ও ট্রাককে আটক করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশকে চীনে ছয়টি বিশেষ সুবিধা, রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


বাংলাদেশকে চীনে ছয়টি বিশেষ সুবিধা, রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও সম্প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে চীনের বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে দেশীয় সম্ভাবনা তুলে ধরার জন্য ছয়টি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। ইউনানে বিনামূল্যে ২,০০০ বর্গমিটারের প্রদর্শনী স্টলসহ এই সুবিধাগুলো দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে বলে ব্যবসায়ী নেতাদের বিশ্বাস। একইসঙ্গে, উদ্যোগটি অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করছেন দেশি উদ্যোক্তারা।

জানা গেছে, ‘থ্রি ফ্রি’ ও ‘থ্রি ফেসিলিটেশন’—এই দুই নীতিমালার আওতায় চীনে ছয়টি বাণিজ্য সুবিধা পাবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। সম্প্রতি চীনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব সুবিধার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সরকারের অংশ হিসেবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সঙ্গে কাজ করছে চীন।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আমার দেশকে জানায়, চীনের ‘থ্রি ফ্রি’ নীতির আওতায় বিনামূল্যে ইউনান প্রদেশে ২,০০০ বর্গমিটার ওয়্যারহাউস সুবিধা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর ফলে এক দিনে যেমন চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য সরবরাহ দ্রুত হবে, তেমনি দেশের উদ্যোক্তাদের পরিচালন ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে বিনামূল্যে ২,০০০ বর্গমিটারের অফলাইন প্রদর্শনী হল দেবে চীন। এটি দেশের বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যের সুযোগ ও ক্রয়াদেশ বাড়াতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে দেশের উন্নয়ন অর্জন, সম্পদের সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে আরো বেশি মানুষ জানার সুযোগ পাবে।

এ ছাড়া চীনের অনলাইন কমোডিটি মলে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। এই অনলাইন কমোডিটি মলে যুক্ত হয়ে এবং সমন্বিত বিপণন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন পণ্য বিশ্বজুড়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন বাজারের সুযোগ তৈরির বিষয়টি আরো সহজ হয়ে ওঠার পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে উঠবে এবং দেশের পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব আরো বাড়বে বলে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে ‘থ্রি ফেসিলিটেশন’ নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিপণ্য রপ্তানি সহজ করতে তিন বিশেষ লজিস্টিক সহায়তা পাবে বাংলাদেশ। এর আওতায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চীনের বাজারে প্রবেশ সহজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট লজিস্টিকস ও পরিবহন ফি মওকুফের সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের শাকসবজি, ফলমূলসহ পচনশীল কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য দ্রুত চীনের বাজারে পৌঁছানোর জন্য বিশেষ কাস্টমস ছাড় ও দ্রুত ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। এর ফলে দেশের কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠী তাদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ পাবে।

‘থ্রি ফেসিলিটেশনের’ একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—অংশীদার দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক মালবাহী ট্রেন ‘লানছাং-মেকং এক্সপ্রেস+’-এর মাধ্যমে পরিবহনে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা দেওয়া। এর ফলে একদিকে যেমন বাণিজ্য প্রক্রিয়ার প্রতিবন্ধকতা কার্যকরভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা আরো সহজ ও সুশৃঙ্খল হবে; অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সামগ্রিক দক্ষতা বেড়ে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর লজিস্টিকস ব্যয় কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, চীনের মতো বিশাল বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের এমন শুল্কমুক্ত ও সহজ প্রবেশাধিকার দেশের রপ্তানি ঝুড়িকে বহুমুখী করার বড় একটি সুযোগ। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন আমার দেশকে বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিলে দেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও হস্তশিল্পের রপ্তানি বহুগুণ বাড়বে। একইসঙ্গে এই যুগান্তকারী লজিস্টিক ও নীতিগত সহায়তা কার্যকর হলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি পর্যায়ক্রমে একটি টেকসই ও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণের পর চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি খোরশেদ আলম। সেখানে দেশের ব্যবসায়িক উন্নয়নের জন্য ছয়টি দাবি তুলে ধরে বিসিসিসিআই। এর মধ্যে ছিল দীর্ঘদিনের দাবির অন্যতম বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের শাখা খোলা, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগে ম্যানমেইড ফাইবারের (এমএমএফ) কারখানা স্থাপন করা, পুঁজিবাজারে চীনের বিনিয়োগ, ইপিজেড বা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ, চীনে রপ্তানি বাড়াতে তাদের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শনীর জন্য বিনামূল্যে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও গুদাম স্থাপন করে দেওয়া এবং চীনের উদ্যোগে বাংলাদেশে ২০টি পলিটেকনিক স্কুল করে এখানকার ছেলেমেয়েদের হাতে-কলমে প্রযুক্তি শিক্ষা দেওয়া। তবে সম্প্রতি চীনের এমন সুবিধার ঘোষণা দেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় এক নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মনে করেন দেশি উদ্যোক্তারা।

এ বিষয়ে বিসিসিসিআই সভাপতি ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খোরশেদ আলম আমার দেশকে বলেন, আমরা গত বছরের অক্টোবরে ছয়টি প্রস্তাব বা দাবি জানিয়েছিলাম চীনের কাছে। সম্প্রতি এসব উদ্যোগ নিয়ে কাজ এগিয়েছে। এর মধ্যে রপ্তানি সহজীকরণ, প্রদর্শনী ও পণ্য উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি এবং পলিটেকনিক্যাল স্কুল প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়ও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইপিবি কাজ করছে। চুক্তির বিষয়গুলো মূলত সরকার-টু-সরকার পর্যায়ে সম্পাদিত হয়। আমার জানামতে, ইপিবি ও চীন সরকারের মধ্যেও এ-সংক্রান্ত আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে।

বিসিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘আমরা মনে করি বিনা ভাড়ায় এ জায়গা পাওয়া গেলে বাংলাদেশের জন্য তা বড় একটি সুযোগ হবে। সেখানে বাংলাদেশি ও চীনা কর্মী রেখে পণ্য প্রদর্শন, বিক্রি এবং বাজারের চাহিদা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোন কোন পণ্য নিয়ে চীনের বাজারে আরো বড় পরিসরে প্রবেশ করা যায়—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও এটি সহায়ক হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য এ উদ্যোগের মাধ্যমে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং বছরে অন্তত এক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি করা। তবে সেটি বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত পণ্য নির্বাচন, বাজার যাচাই এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোশাক রপ্তানিতে ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির উৎস তিন প্রধান পণ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫১ এম


পোশাক রপ্তানিতে ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির উৎস তিন প্রধান পণ্য

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় ৬.১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে ১০ হাজার ৫৭৮.৫৬ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯ হাজার ৯৭০.৪২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ৬০৮.১৪ মিলিয়ন ডলার। তবে, এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে তিনটি প্রচলিত পণ্য—ট্রাউজার, শর্টস ও স্কার্ট, সোয়েটার এবং টি-শার্ট থেকে। অন্যদিকে, উচ্চমূল্যের পোশাকের কয়েকটি শ্রেণিতে রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে মোট আয়ে এসব পণ্যের অংশও সংকুচিত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আলোচ্য সময়ে বেসিক বা মৌলিক পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮ হাজার ২৫৭.৪২ মিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৬৮৪.৭৩ মিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি ৭.৪৫ শতাংশ হয়েছে, আর আয় বেড়েছে ৫৭২.৬৯ মিলিয়ন ডলার। মোট পোশাক রপ্তানিতে এই শ্রেণির অবদান ৭৭.০৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮.০৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মৌলিক পোশাকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে ট্রাউজার, শর্টস ও স্কার্ট থেকে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এসব পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫.৫৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩ হাজার ৮৪.৪৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৬.৫২ শতাংশ বেশি। এ খাতে আয় বেড়েছে ২০১.১১ মিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোয়েটার ও কার্ডিগান। এ শ্রেণিতে রপ্তানি আয় ১ হাজার ৮৭০.১৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৮.২৯ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৯.৫২ শতাংশ, আর অতিরিক্ত আয় ১৭৮.১১ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে টি-শার্ট ও ভেস্ট রপ্তানি থেকে এসেছে ১ হাজার ৫৮১.৮০ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১ হাজার ৪৭৭.৫৭ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৭.০৫ শতাংশ বেশি। এই তিন শ্রেণির পণ্য মিলিয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪৮৩.৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা মোট পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮০ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক আয় বৃদ্ধিতে প্রচলিত পণ্যগুলোর প্রভাবই সবচেয়ে বেশি।

এ ছাড়া, আন্ডারওয়্যার, স্লিপওয়্যার ও অন্যান্য অন্তর্বাসজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯৭২.১৬ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের ৯১৪.৭৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৬.২৮ শতাংশ হয়েছে। শিশুদের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০.১৯ শতাংশ, যা মৌলিক শ্রেণির মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। এ খাতে আয় ৩০০.৩৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে, ছোটখাটো আনুষঙ্গিক পণ্য, গ্লাভস ও হোসিয়ারি রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে মাত্র ৩৮.৬৩ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৩.২৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, সেমি-বেসিক বা আধা-মৌলিক পোশাকের মধ্যে শার্ট ও ব্লাউজ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৪১.৭৩ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের ৮২৭.০৬ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রবৃদ্ধি মাত্র ১.৭৭ শতাংশ। মোট রপ্তানিতে এ শ্রেণির অংশ ৮.৩০ শতাংশ থেকে কমে ৭.৯৬ শতাংশে নেমেছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল আমার দেশকে বলেন, "বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়লেও প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে রয়েছে প্রচলিত পণ্য। মৌলিক পোশাকের হিস্যা বাড়ার বিপরীতে উন্নত শ্রেণির অংশ কমে যাওয়ায় পণ্য বৈচিত্র্য ও উচ্চমূল্যের বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার চ্যালেঞ্জটি আরো স্পষ্ট হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আয় বাড়াতে প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পোশাকের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"

উচ্চমূল্য সংযোজনের সম্ভাবনাময় অ্যাডভান্সড বা উন্নত শ্রেণির পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি আরো ধীর। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৭৯.৪১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১ হাজার ৪৫৮.৬৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় মাত্র ১.৪২ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, অতিরিক্ত আয় এসেছে ২০.৭৭ মিলিয়ন ডলার। মোট পোশাক রপ্তানিতে এ শ্রেণির হিস্যা ১৪.৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৩.৯৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

উচ্চমূল্যের পণ্যের মধ্যে জ্যাকেট ও কোটসহ আউটারওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৯৯১.৬৯ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯ শতাংশ। টেকনিক্যাল ওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৮.০৭ শতাংশ, আয় দাঁড়িয়েছে ২৪৬.৮৬ মিলিয়ন ডলারে। তবে, পোশাকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ড্রেস রপ্তানি আয় ১০.৬৬ শতাংশ কমে ১২৪.৬৫ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। স্পোর্টসওয়্যার ও অ্যাকটিভওয়্যার থেকে আয় কমেছে ১১.২৪ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ৮০.৪৪ মিলিয়ন ডলারে। স্যুট ও এনসেম্বল রপ্তানি কমেছে ১৪.৪৮ শতাংশ, আয় হয়েছে ৩৫.৭৮ মিলিয়ন ডলার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%