বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩১ পি.এম
ধরলা নদীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নৌকাবাইচ। বিকেলের সময় হলেই ধ্বনি তুলে জলের ওপর ছুটে চলে বাইচের নৌকা। বাইচ দেখতে নদীর দুই পারে মানুষের ভিড় জমে উঠেছে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ উপস্থিত রয়েছে। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ নৌকায় কিংবা আশপাশের উঁচু স্থানে। সবার মুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ দেখা যাচ্ছে।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচ চলমান রয়েছে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে। স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত বাইচের উদ্বোধন করা হয় ২৬ আগস্ট। উদ্বোধনী দিন থেকে দূর-দূরান্তের ১২টি বড় নৌকা নিয়ে বাইচে অংশ নিচ্ছেন প্রতিযোগীরা।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এই সেমিফাইনালে বিজয়ী হয় উলিপুর থেকে আসা তামিম বাংলা এবং হক বাজার এলাকার দাদাভাই নামে দুটি নৌকা।
রবি, সোম ও মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইচ দেখতে ধরলা নদীর দুই পাড়ে মানুষের ঢল। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি আয়োজনকে উৎসবে পরিণত করেছে। বাইচ শুরু হলে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। প্রতিযোগী নৌকাগুলো বৈঠায় জল কেটে দ্রুতগতিতে ছুটছে। তাদের উৎসাহ দিতে দর্শকদের তুমুল করতালি চলছে; চিৎকার করে উচ্ছ্বাসপূর্ণ ধ্বনি ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
নদীমাতৃক এই দেশের বিভিন্ন এলাকায় একসময় নিয়মিত নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে এমন আয়োজন অনেক কমে গেছে। তাই ধরলা নদীতে এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এবং মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে, নৌকাবাইচের সাথে সাথে ধরলা নদীর পারে বসেছে মেলা। সড়ক থেকে ধরলা সেতু পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে।
নৌকাবাইচ দেখতে আসা অসীম কুমার রায়, ববিতা খাতুন ও রুবিন খাতুন জানান, তারা প্রত্যেকেই প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে বাইচ দেখতে এসেছেন।
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, "গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটি সত্যিই আনন্দদায়ক। খেলা দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় দেখে আমি মুগ্ধ। নদীর ঢেউয়ের মতো এ বাইচ মানুষের মনকে নির্মল আনন্দের স্রোতে ভাসিয়ে নেয়। আমাদের লোকজ সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যবাহী ধারা ধরে রাখার এ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।"
নৌকাবাইচ দেখতে আসা কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, "আমাদের ইউনিয়নে তেমন কোনো জলাশয় না থাকায় নৌকাবাইচ দেখার সুযোগ খুব একটা হয় না। তাই এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আমার অত্যন্ত প্রিয়। প্রতিবছর ধরলাপারে টানা কয়েকদিনের বাইচ উপভোগ করি।"
নৌকাবাইচ কমিটির উপদেষ্টা ও খেলা পরিচালনাকারী শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম সোহেল এবং উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সামছুজ্জামান হাসু বলেন, "নৌকা বাইচ গ্রামবাংলার একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। এ ধরনের আয়োজন দেশের প্রত্যেক এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হলে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।"
আয়োজকরা জানান, দু-এক দিনের মধ্যে বাইচের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছর ধরলা নদীর তীরে নিয়মিত নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, নারীর প্রতি সহিংসতা, অশ্লীল ভাষার ব্যবহার, বুলিং এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধের জন্য একটি যুগোপযোগী সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সাইবার জগৎ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে যে ধরনের কার্যক্রম চলছে, সেখান থেকে দেশের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই আইনটি হতে হবে যুগোপযোগী এবং মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপযোগী।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভার উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। শামা ওবায়েদ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, তথ্য এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি সঠিক এবং কার্যকর সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দেশের জনগণকে সাইবার জগতের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষা দিতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে একটি যুগোপযোগী সাইবার সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের ইসলামপুরে চার্জে থাকা অটোরিকশা বের করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাঞ্চন মিয়া (৪৫) নামের এক চালকের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনার সময় বাবাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার মেয়ে আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের বলিয়াদহ আমলতী বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। কাঞ্চন মিয়া ওই এলাকার মৃত হোসেন আলীর পুত্র ছিলেন। আহত মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তবে তার নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাঞ্চন মিয়া ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকটি চার্জে দেন। সকালে বাইকটি বের করার সময় সেটিতে হাত দিলে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মেয়ে একইভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা বাবা-মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কাঞ্চন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মেয়ের চিকিৎসা হাসপাতালে চলমান রয়েছে。
আরো পড়ুন
ধানমণ্ডির এপেক্স ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
ইসলামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘চার্জে থাকা ইজি বাইক বের করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাঞ্চন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রাসেল বেপারী এবং জুয়েল বেপারী নামের দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে রূপগঞ্জ থানার পুলিশ। তাদের কাছে দুটি দেশি পাইপগান এবং ধারালো অস্ত্র পাওয়া গেছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মৃত জহির আলী ব্যাপারীর ছেলে রাসেল বেপারী এবং রাসেল ব্যাপারীর ছেলে জুয়েল বেপারী।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার পরিকল্পনা করছে বলে পুলিশকে তথ্য দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, ডিউটি করাকালে রূপগঞ্জ থানার একটি পুলিশ দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রাসেল বেপারী ও জুয়েল বেপারীকে দুটি দেশি তৈরি পাইপগান, দুটি চাপাতি এবং একটি রামদা সহ গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানসিক স্বাস্থ্যসংকটের মোকাবিলায় জরুরি সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি কার্যকর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ক্রাইসিস রেসপন্স সিস্টেম গড়ে তোলার দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তারা উল্লেখ করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্য এখন আর একটি ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এটি জাতীয় জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সংকটের সময় দ্রুত সহায়তা না পাওয়ার কারণে অনেক মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি ও মানববন্ধনের সময় এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, সমাজে এখনো অনেকেই মানসিক সমস্যার কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। সাহায্য নেওয়াকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার প্রবণতাও বিদ্যমান।
রাজনীতিবিদ বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সংকটের মুহূর্তে দ্রুত সহায়তার জন্য সরকারি পর্যায়ে কার্যকর জাতীয় ক্রাইসিস লাইন নেই। সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়ে কিছু স্বেচ্ছাসেবী হেল্পলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, দেশের বিশাল জনগণের জন্য তা যথেষ্ট নয়। তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ড. হুমায়রা ইসলাম বলেন, গবেষণা এবং দীর্ঘদিনের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসংকট আর বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। এটি এখন জাতীয় বাস্তবতা।
মনোবিজ্ঞানী তানজীম জামান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা থাকা বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন। প্রাথমিক ও কমিউনিটি পর্যায়েও পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাই জরুরি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শুধুমাত্র বড় শহর বা হাসপাতালকেন্দ্রিক না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ