ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাশিয়ায় চাকরির স্বপ্নে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে রাজু মাতুব্বরের মৃত্যু, পরিবারে শোক


রাশিয়ায় চাকরির স্বপ্নে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে রাজু মাতুব্বরের মৃত্যু, পরিবারে শোক

ফরিদপুরের নগরকান্দার রাজু মাতুব্বর (২৮) রাশিয়ায় ভালো চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাজু নগরকান্দা উপজেলার মাঝিকান্দা গ্রামের নান্নু মাতুব্বরের সন্তান। গত ৮ মে রাশিয়ায় যাওয়ার পর থেকে তার পরিবারের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে। আড়াই বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রী শারমিন আক্তার। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা নান্নু মাতুব্বর ও মা রাজিয়া বেগম।

পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কফাইবালিয়া গ্রামের প্রিন্স মাতুব্বর ও তার ছোট ভাই রানার মাধ্যমে সাড়ে ১৪ লাখ টাকায় রাজুকে রাশিয়ায় পাঠানোর চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। বাকি ১০ লাখ টাকা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দেয়ার কথা ছিল। তবে সেখানে গিয়ে রাজু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি।

আরও পড়ুন: নিম্নতম মজুরি বোর্ড অচিরেই গঠন হবে: শ্রমমন্ত্রী

পরিবারের দাবি, রাজুকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রিন্স ও রানাকে দায়ী করছেন স্বজনেরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতুল নামের এক যুবকের ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওতে রাজুর মৃত্যুর দাবি করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজুর পরিবারের সদস্যরা রাতুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাজুর ছোট ভাই রাজন মাতুব্বর জানান, রাতুলও তার ভাইয়ের মৃত্যুর কথা বলেছেন। তবে কখন, কোথায় ও কীভাবে রাজুর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি।

রাজুর বাবা নান্নু মাতুব্বর জানান, ছেলেকে ভালো চাকরির আশায় বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন তার মৃত্যুর খবর শুনছেন, কিন্তু প্রকৃত ঘটনা জানতে পারছেন না। তিনি ছেলের সন্ধান ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

রাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এই নারী স্বামীর প্রকৃত অবস্থা জানতে চান। রাজু জীবিত থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার এবং মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

তবে অভিযুক্ত প্রিন্স মাতুব্বরের ছোট ভাই রানা পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, রাশিয়ায় যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে রাজুকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। রাজু নিজেই রাশিয়ায় অবস্থানরত প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যান। তাকে প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রিন্স মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ জানিয়েছেন, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। রাজুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে রাজুর প্রকৃত অবস্থান ও মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। তাদের দাবি, রাজু জীবিত থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। আর মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনেও নিশ্চিত হতে পারছেন না বাবা-মা। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় স্ত্রী। রাজু বেঁচে আছেন, নাকি যুদ্ধক্ষেত্রেই শেষ হয়েছে তার জীবন, এখন সেই উত্তরই খুঁজছে পুরো পরিবার।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনে ময়লা, রোগী ও পথচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


বাকেরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনে ময়লা, রোগী ও পথচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল বর্জ্যসহ ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্ধারিত ডাস্টবিনটি নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে উপচে পড়ে চারদিকে ময়লা ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন পথচারী এবং হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা।

হাসপাতাল ভবনটির ঠিক উল্টো দিকে নার্সিং কোয়ার্টারের সামনে অবস্থিত নির্ধারিত ডাস্টবিনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না হওয়ার কারণে উপচে চারদিকে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ডাস্টবিনটিতে মেডিকেল বর্জ্যের মতো ভয়াবহ বিষাক্ত বর্জ্য জমা হয়ে থাকায় এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সীমানার ভেতরে নির্ধারিত ডাস্টবিনটিতে নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নানা রকমের ময়লা-আবর্জনা। ডাস্টবিন উপচে পড়া বর্জ্য কুকুর, বিড়াল ও কাকের মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন ও পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সুস্থতার জন্য রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু এখানকার নোংরা পরিবেশ দেখে মনে হয়, সুস্থ মানুষও এখানে এলে অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে।"

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ডাস্টবিনের জমানো বর্জ্য দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, এগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপসারণ করা হয়নি। রোগী ও স্থানীয়দের মতে, ডাস্টবিন পরিষ্কারের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে নতুন যোগদানকৃত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, "পৌরসভার রুটিনমাফিক ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করার কথা। এক্ষেত্রে মেডিকেল বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পৌরসভাকে নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধ করা হয়।"

বিষয়টি নিয়ে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্রজ্যোতি বড়ালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং মেডিকেল বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট পৌর ক্লিনারদের নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব তাঁদের হলেও জমানো বর্জ্য অপসারণ বা ডাম্পিংয়ের মূল দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। পৌরসভা থেকে ময়লার গাড়ি না আসায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপে জামায়াতের উদ্বেগ ও নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপে জামায়াতের উদ্বেগ ও নিন্দা

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা এবং এর ফলে দুইজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগের কথা জানান।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে ককটেল নিক্ষেপের এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। গণমাধ্যমের কার্যালয় ও সংবাদপত্রের ছাপাখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন সহিংস হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় হুমকি। এ ঘটনায় প্রেসের নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন এবং সামনের পানের দোকানি রিনা খানম আহত হয়েছেন। তিনি তাদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা বা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার যে কোনো চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। হামলার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দৈনিক আমার দেশ-এর প্রেসসহ দেশের সকল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে আমার দেশ-এর প্রেসের সামনে একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি এসে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং লালটেপ মোড়ানো আরেকটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। ককটেলের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে এবং পরে সেখানে লোকজন জড়ো হয়।

খবর পেয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ দুর্বৃত্তদের ধরতে আশপাশের এলাকায় রেকি করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার ধামরাইয়ে ভ্যাট ফাঁকিতে অভিযুক্ত কারখানায় আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


ঢাকার ধামরাইয়ে ভ্যাট ফাঁকিতে অভিযুক্ত কারখানায় আগুন

ঢাকার ধামরাইয়ে সেপ্টেম্বর মাসে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে অভিযুক্ত জিনলিয়ান ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি বাংলাদেশ লিমিটেডের কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের নবগ্রাম এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় কারখানার একজন চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন, তবে প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১০টা ৩০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ১১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণরূপে নেভানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে, তবে বিপরীতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে।

কারখানাটি লিথিয়াম ব্যাটারি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (পশ্চিম) প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্‌ঘাটনের কথা জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এনবিআরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানের সময় কারখানায় তৈরি ব্যাটারির পাশাপাশি ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম এবং আমদানি করা মোবাইল চার্জার, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হেডফোন ও ব্লুটুথ হেডফোন পাওয়া যায়। ভ্যাট ফাঁকির সন্দেহ হওয়ায় অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির দলিলপত্র জব্দ করা হয়।

জব্দ করা দলিলপত্র পর্যালোচনা করে এনবিআর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ১৮ হাজার ৫০৭ টাকার বিক্রির তথ্য গোপন করেছে। এতে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯২ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ১৫ কোটি ২২ লাখ ৮ হাজার ৭৭৫ টাকার পণ্য ও কাঁচামাল কেনার তথ্য গোপন করায় আরও ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৭ হাজার ১৬১ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৮ লাখ ২৩ হাজার ৫৩ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের কথা জানায় এনবিআর।

তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এক দশক ধরে ঝুলে, পর্যটন ও বিনিয়োগ ব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এক দশক ধরে ঝুলে, পর্যটন ও বিনিয়োগ ব্যাহত

পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সার্বিক ও পরিকল্পিত উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত মাস্টারপ্ল্যানের প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এক দশকেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

মাস্টারপ্ল্যানের এই দীর্ঘ অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে কুয়াকাটায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন ও হোটেল-মোটেল। অন্যদিকে, সৈকত ও দর্শনীয় স্থানগুলো অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নতুন বিনিয়োগে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে বিশ্বমানের পর্যটন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিত নগরায়ণ ও দূরদর্শী পরিকল্পনার অভাবে ব্যবস্থাপনাগত সংকট ক্রমাগত বাড়ছে। বিচের পাড়সহ দর্শনীয় বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ দখলদারদের কার্যক্রম ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সাইমুন ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। সড়ক, পর্যটন স্পট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা দরকার।’

মাদারীপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক শায়লা আক্তার তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে বেড়াতে এলে যাতায়াত, নিরাপদ পরিবেশ ও মানসম্মত আবাসনের সংকট চোখে পড়ে। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকর্ষণীয় হলেও পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল। এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারতেন।’

এদিকে, মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্থানীয় ও বহিরাগত বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, জমি কেনাবেচা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে প্রশাসনিক অনুমতি নেয়ার বিধান থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। বিশেষ করে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অনুমতি পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়, যা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুয়াকাটা প্রেসিডেন্ট পার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মালিক মো. কাজী ফারুক এ বিষয়ে বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের এই অনিশ্চয়তা কুয়াকাটার পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা। জমি কেনাবেচা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করে ভূমির ব্যবহার, ভবন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত নির্দেশিকা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এটি করা গেলে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা কমবে এবং একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরী গড়ে উঠবে।’

পর্যটন খাতের বর্তমান চিত্র নিয়ে সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম বলেন, “কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা অফুরন্ত। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কুয়াকাটার টেকসই উন্নয়নে ‘কুয়াকাটা টুরিজম সেন্টার’ (কেটিসি) গড়ে তোলার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটি কেবল কাগজে-কলমেই থেকে গেছে। ফলে বাস্তবমুখী উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

কুয়াকাটায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রশাসনিক স্থবিরতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘কুয়াকাটার আসল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রথমেই অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ করতে হবে এবং সমন্বিত উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়নে নামতে হবে। মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে কোথায় কী ধরনের স্থাপনা হবে, পরিবেশের সুরক্ষা কীভাবে হবে এবং পর্যটকদের অবকাঠামোগত সুবিধা কী থাকবে। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।’

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, কুয়াকাটার পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টারপ্ল্যান সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। পর্যটন কেন্দ্রটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভূমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%