০৯:০৫ এম
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের পানি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে এ বছর হাওরে আগাম ধান রোপণের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের উদ্বেগ, যদি মৌসুমের আগেই বোরো ধান রোপণ করা হয়, তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলহানির ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং ধান উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলেন।
কৃষকরা জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ১৫ নভেম্বরের পর হাওরে বীজ ধান বপন করা হতো। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাওরের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ১৫ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলার সবকটি হাওরে বীজ ধান বপন সম্পন্ন হয়ে যাবে। রোপণ কাজও আগেই শুরু হবে। সময়ের আগে রোপণ করলে শীতের কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি, আগাম পাহাড়ি ঢলসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
এই অবস্থায় মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটি উদ্যোগ গ্রহণ করে। কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের নিয়ে মাটিয়ান হাওরের নান্দিয়া খালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর খালের মুখে বাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়।
আরও পড়ুন: জোয়ারের নোনা পানিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীতে বাড়ছে লবণাক্ততা, কৃষি হুমকিতে
পরিদর্শনের পর বাঁধ নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ বা বস্তা দিয়ে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে হাওরের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও মাটিয়ান হাওরের পাশের বড়দল গ্রামের বাসিন্দা সামায়ুন কবির বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনিসহ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল মিয়া, বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ তিনজনকে দায়িত্ব দিয়ে দেড় লাখ টাকা ও প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ নিয়ে শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করেছেন। ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের খালটিতে তারা দুই দিনে ৩০০টি বাঁশের খুঁটি গেড়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে তাদের আরও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অর্থাৎ মোট দুই লাখ টাকা খরচ হবে। এই অতিরিক্ত অর্থের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বাঁধটি সম্পন্ন হলে হাওরের পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং কৃষকরা সঠিক সময়ে ধান রোপণ করতে পারবেন।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাটিয়ান হাওরের নান্দিয়া বাঁধটি গত বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের খাল হয়ে যায়। এর ফলে হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। যদি হাওরে আগাম ধান রোপণ করা হয়, তাহলে কৃষকরা ফসলহানির বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হতে পারেন।
আরও পড়ুন: পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী
কমিটির ওই নেতা জানান, হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরলে ইউএনও নান্দিয়া খালের মুখটি বেঁধে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাঁধটি দ্রুত সম্পন্ন হলে এ বছর তারা নিরাপদে ও সঠিক সময়ে বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এতে ফসলহানির ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে। হাওরের হাজারো কৃষক পরিবার এখন এই বাঁধের দিকে তাকিয়ে আছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, মাটিয়ান হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। এ মৌসুমে হাওরের পানি ধরে রাখতে উপজেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে খালটি বেঁধে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থে হাওরের পানি ধরে রাখা জরুরি। সঠিক সময়ে ধান রোপণ করা গেলে উৎপাদন ভালো হবে। প্রশাসন কৃষকদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও হাওর রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: আখ চাষে কৃষকদের তিক্ততা, গুড় উৎপাদনে ঝুঁকছেন তারা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন