বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৩ পি.এম
বরিশালের মুলাদীর এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যে তিনি প্রবাসী স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থে পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর সহকর্মী শিক্ষকের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। স্বামীর অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আদালত ওই শিক্ষিকা এবং তার কথিত প্রেমিককে কারাগারে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মনির হোসেন চৌধুরী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আসোলী সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১২ সালে তিনি মুলাদী উপজেলার ডিক্রীরচর গ্রামের নাসরিন সুলতানাকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, বিয়ের পর নাসরিনের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ দেখে মনির তাকে সহযোগিতা করেন। তিনি প্রবাসে থেকে স্ত্রীর পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ বহন করেন। পরে নাসরিন মুলাদীর কাজিরচর ইউনিয়নের বেগম সামছুন্নাহার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে নাসরিন বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামের তারিকুল ইসলামের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালে তারিকুলকে ভোলার একটি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে মনির অভিযোগ করেন। গত জুলাইয়ে নাসরিন মনিরকে তালাক দিয়ে তারিকুলকে বিয়ে করেন এবং এ সময় মনিরের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ২০ জুলাই মনির হোসেন বরিশালের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কাজিরহাট) আমলি আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা, তারিকুল ইসলাম এবং তাদের সহযোগী জাহেদুল ইসলামকে আসামি করা হয়।
মামলায় গত সোমবার (২ নভেম্বর) নাসরিন সুলতানা ও তারিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, তাদের কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক সুরাইয়া খানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নাসরিন সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মনির হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করেন, নাসরিন তার প্রবাসের উপার্জিত টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা আদালতে হাজির হয়েছিলেন। পরে তিনি কারাগারে যান। শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলার নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৭ই নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
এই ঐতিহাসিক দিনে দেশবাসীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
মোঃ আনহার মিয়া জার্মান যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রবাসে জাতীয়তাবাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলেও দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, আনুগত্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বিশ্বাস করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী চেতনা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের ৯ শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। এক মাস আগে স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওই ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি প্রদান করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক। এর মধ্যে ৭ জন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে স্কুল ছুটির পর বিভিন্ন শ্রেণির একদল শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকে। তারা ‘জয় বাংলা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ফলে শুরু হয় নানা প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
টিসি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নবম শ্রেণির মো. আলীরাজ, শাহজালাল মুন্সি, কাজী সাইদুল ইসলাম সাইদ, শ্রান্ত মজুমদার, শেখ আব্দুল্লাহ তাসীন, রাইয়ান খান ও রিয়াজুল মুন্সি রয়েছেন। এছাড়া অষ্টম শ্রেণির রেজাউল করীম এবং দশম শ্রেণির সাজিদ কাজীও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া সাংবাদিকদের জানান, শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনিক নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই তিনি বাস্তবায়ন করেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘যা কিছু হয়েছে, সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নেওয়া এ প্রশাসনিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে এমন বড় সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হবে, তা নিয়েও স্থানীয় মহলে চলছে নানা আলোচনা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের পশ্চিম কেশবকাঠী মো: শাহনাজ হাওলাদার এর ছেলে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মো: আসাদুজ্জামান সুজন(২৮) এর নারী কেলেঙ্কারিতে গণধোলাই ঘটনার পরে স্থানীয় হিন্দু পরিবারের জমি দখল নির্যাতন ও চাঁদার অভিযোগে গতকাল ৪ নভেম্বর উজিরপুর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেন। জানা যায় পশ্চিম কেশবকাঠী স্থানীয় সুভাস দাস (৪০) এর বাড়িতে গত ১৪ অক্টোবর বুধবার গভীর রাতে একই এলাকার স্থানীয় মোতাহার মল্লিক(৬২) এর পক্ষে ভাড়াটিয়া গুন্ডা হিসাবে সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে হামলা চালায় সাবেক ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান সুজন (২৮)। এব্যাপারে অসহায় হিন্দু পরিবারটি উজিরপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে, প্রাথমিক পর্যায়ের তদন্তে ঘটনার সত্যত্বা মিললে, অভিযোগটি এফ আই আর গ্রহণ করা হয়, এবং ভূমিদস্যু মোতাহার মল্লিক কে ঐ ঘটনায় তাৎক্ষণিক আটক করা হয় এবং আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে নির্দেশে ও বাদির বক্তব্য অনুযায়ী ৯জন জড়িতদের মধ্যে উল্লেখ আসাদুজ্জামান সুজন'কে গত ৪ নভেম্বর রাতে এই মামলার গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন।
কিছুদিন আগেও এই সাবেক ছাত্রদল নেতাকে নিয়ে ব্যাপক ঘটনা সমালোচিত নারী কেলেঙ্কারি কান্ডে গণধোলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, এব্যপারে জাতীয় ও স্থানীয় মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এব্যাপারে একের পর এক কেলেংকারী ও সন্ত্রাসী কান্ডে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপি'র ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে জানান বিএনপির উপজেলা পর্যায় নেত্রীবৃন্দ।
হিন্দু পরিবারের উপর নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কতিপয় নেতা জড়িতের ঘটনায় ওটরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাসুদ মোল্লা জানান, " বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি, শহীদ জিয়ার আর্দশ নিয়ে রাজনীতি করে, এখানে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কোন ছাড় নেই, যারা হিন্দু পরিবারের সাথে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে এব্যাপারে উজিরপুর - বানারীপাড়া বিএনপির অভিভাবক মাননীয় সাংসদ এস সরফদ্দিন আহম্মেদ সান্টু ভাইয়ের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে শাস্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এঘটনায় উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রকিবুল ইসলাম জানান, হিন্দু একটি পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি, প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে আটক করে আদালাতে প্ররণ করা হয়েছে। শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য উজিরপুর থানা পুলিশ অত্যন্ত সর্তক থেকে সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ