ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চাঁদপুরের কচুয়া-গৌরীপুর সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে ঝোপঝাড় পরিষ্কারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ


চাঁদপুরের কচুয়া-গৌরীপুর সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে ঝোপঝাড় পরিষ্কারে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

চাঁদপুরের কচুয়া-গৌরীপুর সড়কে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কারের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিতারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শাহিন পাটোয়ারীর নেতৃত্বে শিমুলতলী-বাতাপুকুরিয়া সড়কের দুই পাশে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়।

এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম। উদ্বোধনের সময় তিনি নিজেও ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন। এ ছাড়া ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিয়োজিত শ্রমিকরাও এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা ঝোপঝাড় ও আগাছার কারণে বিভিন্ন স্থানে আড়ালের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক, যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সড়কের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ সংঘটনের সুযোগ কমাতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি

উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন পাটোয়ারী বলেন, "সড়কে চলাচলকারী যাত্রী, পথচারী ও যানবাহনের চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অতীতে বিভিন্ন স্থানে সড়ককেন্দ্রিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কারের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

কচুয়া থানার ওসি মো. আজিজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "শাহিন পাটোয়ারীর এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও ব্যতিক্রমী। সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় থাকলে অনেক সময় আড়ালের সৃষ্টি হয়, যা অপরাধ সংঘটনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হলে সড়কে দৃশ্যমানতা বাড়বে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সড়ক নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।"

এদিকে, সড়কের দুই পাশের ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কারের এই উদ্যোগকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও যানবাহনের চালকেরা স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সড়কে নিরাপদে চলাচলের পরিবেশ তৈরি হবে এবং ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন: ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগের পর ৮০% শিশু অসুস্থ, ৪৯% স্কুল বন্ধ: সেভ দ্য চিলড্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


দুর্যোগের পর ৮০% শিশু অসুস্থ, ৪৯% স্কুল বন্ধ: সেভ দ্য চিলড্রেন

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয় শিশুরা, অথচ তাদেরই সবচেয়ে কঠিন মূল্য দিতে হচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগ শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। গত দুই বছরে বাংলাদেশের ৩৮ জেলার ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি দুর্যোগের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। দুর্যোগ বা তাপপ্রবাহের পর অসুস্থ হয়েছে ৮০ শতাংশ শিশু। আবহাওয়াজনিত কারণে গত এক বছরে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৪৯ শতাংশ শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল। এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের এক জরিপে।

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (কপ৩১)। এই সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের তথ্য তুলে ধরে সেভ দ্য চিলড্রেন। একই সঙ্গে জলবায়ু আলোচনায় শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছে পৌঁছায় এমন অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতা ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জরিপটি পরিচালিত হয় গত ৯ থেকে ১৭ অক্টোবর। এতে ৩৮টি জেলার জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ হাজার ৩৭৫ শিশুর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। জরিপ পরিচালনায় অংশ নেয় ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) ১৭২ জন শিশু গবেষক। জরিপের আওতায় ছিল উপকূলীয় গ্রাম, নদীবেষ্টিত চর, হাওর, পার্বত্য অঞ্চল, চা-বাগান ও শহরের বস্তি।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে অংশগ্রহণকারী ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি শিশুর অভিজ্ঞতায় এসেছে তীব্র তাপপ্রবাহ, যার হার ৫৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে বন্যা, ৪২ শতাংশ।

জলবায়ু দুর্যোগের প্রভাব শিশুদের শিক্ষাজীবনেও পড়ছে। গত এক বছরে দুর্যোগ বা আবহাওয়াজনিত কারণে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৪৯ শতাংশ শিশুর স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল। অনুপস্থিতির হিসাব দেওয়া ৬১৭ শিশু মোট ৭ হাজার ৫৬৭ শিক্ষাদিবস হারিয়েছে। অর্থাৎ দুর্যোগের কারণে শুধু বিদ্যালয় বন্ধ থাকছে না, দীর্ঘ হচ্ছে শিশুদের শিক্ষার ক্ষতিও। অথচ মাত্র ৩৫ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, তাদের বিদ্যালয়ে দুর্যোগের সময় কী করণীয়, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ বা শিক্ষা দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দুর্যোগ বা তাপপ্রবাহের পর তারা অসুস্থ হয়েছে। এ ছাড়া ৫৩ শতাংশ শিশু নিরাপদ পানীয় জল পেতে সমস্যার মুখে পড়েছে। অর্থাৎ দুর্যোগের অভিঘাত কাটার পরও বিশুদ্ধ পানির অভাব ও অসুস্থতা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সতর্কবার্তা পৌঁছায় না শিশুদের কাছে

দুর্যোগ মোকাবেলায় আগাম সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অধিকাংশ শিশুর কাছে তা পৌঁছাচ্ছে না। জরিপে দেখা গেছে, সর্বশেষ দুর্যোগের আগে মাত্র ২৫ শতাংশ শিশু আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছে এবং তা বুঝতে পেরেছে। বিপরীতে ৪৮ শতাংশ শিশু কোনো সতর্কবার্তাই পায়নি। ফলে দুর্যোগের আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু।

দুর্যোগের প্রভাব শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি করছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৭ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দুর্যোগের পর তাদের এলাকায় বাল্যবিবাহ বেড়েছে। উপকূলীয় এলাকায় এ হার ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবহার করা ৫৬১ শিশুর মধ্যে ৬৩ শতাংশ জানিয়েছে, সেখানে মেয়েদের জন্য আলাদা শৌচাগার বা নিরাপদ স্থান ছিল না।

জলবায়ু পরিবর্তনের মানসিক প্রভাবও উঠে এসেছে জরিপে। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা ভাবলে তারা ভয় পায়। বিপরীতে মাত্র ৪ শতাংশ শিশু আশাবাদী বোধ করে। অথচ বিদ্যালয় বা স্থানীয় সরকার কখনো দুর্যোগ পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত জানতে চায়নি, এমন শিশুর হার ৮১ শতাংশ। একই সঙ্গে ৮১ শতাংশ শিশু জলবায়ু কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজেদের কাছে অর্থায়ন পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছে।

ঝুঁকিতে পিছিয়ে থাকা শিশুরা

জরিপে দেখা গেছে, জলবায়ু সংকটের প্রভাব সব শিশুর ওপর সমানভাবে পড়ছে না। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় ৮৩ শতাংশ শিশু জানিয়েছে, দুর্যোগের পর তাদের পরিবারের আয় কমে গেছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাজীবন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও অন্য শিশুদের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। জরিপে প্রতিবন্ধী শিশুদের ৫৪ শতাংশের শিক্ষা বন্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সব শিশুর ক্ষেত্রে এ হার ২৫ শতাংশ।

সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, শিশুরা জলবায়ু সংকট তৈরি করেনি, কিন্তু এর প্রভাব মোকাবেলার জন্য তাদেরই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। নিরাপদ বিদ্যালয়, বিশুদ্ধ পানি, শিশুদের বোধগম্য আগাম সতর্কবার্তা, অসুস্থ হলে চিকিৎসা এবং নিজেদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে মতামত দেওয়ার সুযোগ তাদের প্রধান চাহিদা।

কপ৩১-এ পাঁচ দফা দাবি

আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ৩১ সম্মেলনে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ফলাফল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ুবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশুদের অধিকার, চাহিদা ও মতামত অন্তর্ভুক্ত করে স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণ; স্বাস্থ্য, পানি, পুষ্টি, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় শিশু-কেন্দ্রিক অভিযোজন কার্যক্রম; জলবায়ু-সহনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা; দুর্যোগে শিশুদের শিক্ষাজীবন, বাস্তুচ্যুতি, বাল্যবিবাহ ও মানসিক ক্ষতিকে লস অ্যান্ড ড্যামেজের আওতায় স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিশুদের কাছে পৌঁছানো জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানো।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রধান বহুপক্ষীয় জলবায়ু তহবিলগুলোর মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থায়ন শিশু-সংবেদনশীল উদ্যোগে সহায়তা করেছে। এ অর্থায়ন অন্তত দ্বিগুণ করা এবং শিশু ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের জন্য বিশেষ অর্থায়নের সুযোগ তৈরির আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ৫ প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দাবির পাশাপাশি দেশের ভেতরেও পাঁচটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এগুলো হলো তীব্র তাপপ্রবাহকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে দুর্যোগবিষয়ক স্থায়ী আদেশে অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু-সহনশীল বিদ্যালয় গড়ে তোলা, দুর্যোগের পর শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দুর্যোগের আগে ও পরে শিশুদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং জলবায়ুবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশুদের অংশগ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

সংস্থাটির প্রস্তাব অনুযায়ী, তাপপ্রবাহের সতর্কতা ও বিদ্যালয়ের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি শিশুদের বোধগম্য ভাষায় আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে হবে। দুর্যোগে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে শিক্ষার ক্ষতি পূরণে অর্থায়ন করতে হবে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে মেয়েদের জন্য পৃথক শৌচাগার ও নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আগাম সতর্কবার্তার সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম যুক্ত করে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুসন্তান রয়েছে এমন পরিবারকে সাত দিনের মধ্যে নগদ অর্থ বা খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের শিশুরা এই সংকট সৃষ্টির জন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়, অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি ভুগছে। জরিপে তাদের সুনির্দিষ্ট চাহিদাগুলো উঠে এসেছে; এসব চাহিদা ও সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।’

তিনি বলেন, গত দুই বছরে ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একটি দুর্যোগের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। শুধু এই পরিসংখ্যানই পদক্ষেপ নেওয়ার জরুরি আহ্বান জানায়। কপ৩১ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে জাতীয় প্রেক্ষাপটগুলো বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো কিভাবে বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হতে পারে, তা দেখতে হবে। যাতে জলবায়ু ও অর্থায়নবিষয়ক সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে শিশুদের কাছে পৌঁছায়।

সুমন সেনগুপ্ত আরো বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ম্যাচে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ম্যাচে উত্তেজনা

চীরবৈরি দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির একটি দৃশ্য ফুটে উঠেছিল। ম্যাচের শুরুতে ভারত ও পাকিস্তানের ফুটবলাররা একে অপরের সাথে হাত মেলান। মাঠের লড়াইয়ে পাকিস্তান প্রথমে প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম হচ্ছিল না। প্রথমার্ধেই ভারত, যারা দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলছিল, তিন গোলে এগিয়ে যায়। যদিও যোগ করা সময়ে পাকিস্তান দুই গোল করে ম্যাচে রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে শেষ পর্যন্ত তারা জয়ী হতে পারেনি।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চাদশ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে বৃহস্পতিবার ভারত পাকিস্তানকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে।

বিস্তারিত আসছে …

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা, তবে ধর্মের কারণে নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা, তবে ধর্মের কারণে নয়

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে আবদুল এল-সাইয়েদের বিজয়, ব্যাপক ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণ সত্ত্বেও, দেশের মুসলিমদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ভোটাররা ইলিনয়, মিশিগান ও ওয়াশিংটন ডিসিতে এল-সায়েদকে সমর্থন করেছেন মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েলকে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতির কারণে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় এল-সায়েদ আমেরিকায় ধর্মীয় চরমপন্থা বিষয়ক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানান, তিনি রক্ষণশীল খ্রিস্টান আইনপ্রণেতাদের সেই সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করেন, যার লক্ষ্য হলো গির্জা ও রাষ্ট্রের মধ্যকার বিভাজনকে ভেঙে ফেলা। দুই সপ্তাহ আগে এক জনসভায় এক তরুণ তাঁকে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মকা-কে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। এল-সায়েদ তা করেন।

এরপর নিজেকে খ্রিষ্টান পরিচয় দেওয়া ওই তরুণকে এল সায়েদ প্রশ্ন করেন, দেশের আইন অনুযায়ী একই ভাবে খ্রিস্টান ধর্মীয় মতবাদ অন্তর্ভুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে তিনি প্রত্যাখ্যান করবেন কিনা? রক্ষণশীল রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলির সাবেক কর্মী ওই তরুণ তাতে অস্বীকৃতি জানান। জবাবে এল-সায়েদ বলেন, “আমার নয়, বরং আপনারই সংবিধান সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।”

‘ইউনিটি অ্যান্ড জাস্টিস ফান্ড’-এর বাসিম এলকাররা জানান, মুসলিম বিদ্ধেষী এসব আক্রমণ ভোটারদের সংগঠিত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাদের সংগঠন ডেট্রয়েটের মুসলিম ও মধ্যপ্রাচ্যীয় বংশোদ্ভূতদের এলাকায় ১ লাখ ৩৫ হাজার দরজায় কড়া নেড়ে প্রচার চালিয়েছিল। এলকাররা বলেন, “এসব আক্রমণ আমাদের কমিউনিটিকে এমন ভাবে সংগঠিত করতে সাহায্য করেছে, যা আগে কখনো হয়নি।”

তার এই নির্বাচনী প্রচারণার ঘটনাটি ঘটে নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির নির্বাচিত হওয়ার পরপরই। সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক রজার্স এল-সায়েদের মায়ের সঙ্গে আল-কায়েদার যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তোলেন; প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে “নিষ্ঠুর, সহিংস জিহাদি” বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন যে, তিনি খ্রিস্টান ও বড়দিনের জন্য হুমকি।

বর্তমানে ইসলাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ১১ সেপ্টেম্বরের পরবর্তী সময়ের চেয়েও বেশি নেতিবাচক ও বিভক্ত। টেক্সাসের রিপাবলিকান গ্রেগ অ্যাবট এবং কেন প্যাক্সটন, যারা উভয়ই মঙ্গলবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তদন্ত চালিয়েছিলেন, ইসলামি আচার-অনুষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে ছিলেন এবং স্কুলগুলোতে বাইবেল পাঠ বাধ্যতামূলক করেছিলেন।

এল-সায়েদ একসময় ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে তিনি তার অবস্থানে কিছুটা নমনীয় হন। তার এই সমালোচনা মুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেলেও ইহুদি ভোটারদের তা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তবে, ইলিনয় স্কুল বোর্ডের সদস্য ২৮ বছর বয়সী বুশরা আমিওয়ালা প্রজনন অধিকার এবং স্কুল ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন, যেখানে সায়েদের মূল বার্তা ছিল: “রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব দূর করা, মানুষের পকেটে অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।”

পিউ-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ হলো মুসলিম, এবং তারা একটি ক্রমবর্ধমান পরিবর্তনশীল ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠছে। ইসরায়েল বিষয়ে বাইডেনের নীতির কারণে আরব আমেরিকানদের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, তা ২০২৪ সালের নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যকে ট্রাম্পের পক্ষে নিয়ে যেতে ভূমিকা রেখেছে।

ভোটাররা এবার এর পাশাপাশি মুসলিমবিদ্বেষ, ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতার মতো বিষয়গুলোকেও উল্লেখ করেছেন। মুসলিম প্রার্থী অ্যাডাম হামাউই এবং দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে আসন জিতেছেন। ৬৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি আমেরিকান ওয়াফিক ফাউর বলেন, “ইসলাম আমাদের শেখায় নিজের প্রতি যেভাবে তাকাই, প্রতিবেশীর প্রতিও সেভাবেই তাকাতে এবং অন্যদের সাহায্য করতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসী স্বামীর টাকায় পড়াশোনা করে সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষিকা কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


প্রবাসী স্বামীর টাকায় পড়াশোনা করে সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষিকা কারাগারে

বরিশালের মুলাদীর এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, যে তিনি প্রবাসী স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থে পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি পাওয়ার পর সহকর্মী শিক্ষকের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। স্বামীর অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আদালত ওই শিক্ষিকা এবং তার কথিত প্রেমিককে কারাগারে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মনির হোসেন চৌধুরী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আসোলী সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১২ সালে তিনি মুলাদী উপজেলার ডিক্রীরচর গ্রামের নাসরিন সুলতানাকে বিয়ে করেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, বিয়ের পর নাসরিনের উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ দেখে মনির তাকে সহযোগিতা করেন। তিনি প্রবাসে থেকে স্ত্রীর পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ বহন করেন। পরে নাসরিন মুলাদীর কাজিরচর ইউনিয়নের বেগম সামছুন্নাহার শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি পান।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে নাসরিন বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামের তারিকুল ইসলামের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালে তারিকুলকে ভোলার একটি শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে মনির অভিযোগ করেন। গত জুলাইয়ে নাসরিন মনিরকে তালাক দিয়ে তারিকুলকে বিয়ে করেন এবং এ সময় মনিরের টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ২০ জুলাই মনির হোসেন বরিশালের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কাজিরহাট) আমলি আদালতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা, তারিকুল ইসলাম এবং তাদের সহযোগী জাহেদুল ইসলামকে আসামি করা হয়।

মামলায় গত সোমবার (২ নভেম্বর) নাসরিন সুলতানা ও তারিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, তাদের কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক সুরাইয়া খানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নাসরিন সুলতানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

মনির হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করেন, নাসরিন তার প্রবাসের উপার্জিত টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে সহকারী শিক্ষক নাসরিন সুলতানা আদালতে হাজির হয়েছিলেন। পরে তিনি কারাগারে যান। শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলার নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%