ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

এমবাপে বিতর্ক সমাধানে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে লা লিগা প্রধানের বৈঠক


এমবাপে বিতর্ক সমাধানে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে লা লিগা প্রধানের বৈঠক

রিয়াল মাদ্রিদ-এর তারকা কিলিয়ান এমবাপে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি সমাধানের উদ্দেশ্যে লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এমবাপের মন্তব্য, যা চীনের গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুংকে নিয়ে একটি মিমের প্রসঙ্গে ছিল, এশীয় দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ইএফইর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি (সিসিটিভি) সন্ধ্যার লা লিগা ম্যাচ এবং এমবাপে অংশ নেওয়া সকল ম্যাচের সম্প্রচার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

আরও পড়ুন: এবার ইতিহাদে ব্রাইটনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারল সিটি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তেবাস লিখেছেন, “আজ আমি স্পেনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কিলিয়ান এমবাপের মন্তব্য থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এই ঘটনার সমাধানের উপায় খুঁজেছি।”

তিনি আরো বলেন, “গত কয়েক বছরে লা লিগা চীনের কর্তৃপক্ষ, ফুটবল সংগঠন, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। এর মাধ্যমে চীনে স্প্যানিশ ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের অভিজ্ঞতা ও সম্পদ ভাগ করে চীনা ফুটবলের উন্নয়নেও অবদান রেখেছে।”

চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লা লিগার একাধিক অংশীদারিত্ব চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে চাইনিজ প্রফেশনাল ফুটবল লিগ (সিএফএল)-এর সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-এর সঙ্গেও লা লিগার চুক্তি রয়েছে, যার লক্ষ্য চীনা ফুটবলের উন্নয়ন এবং দেশটির কোটি কোটি সমর্থকের আরও কাছে স্প্যানিশ প্রতিযোগিতাগুলোকে পৌঁছে দেওয়া।

আরও পড়ুন: দ. আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারিয়ে সিংহাসন হারাল অস্ট্রেলিয়া

তেবাস আশা প্রকাশ করেছেন যে, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যেন দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।

তার ভাষায়, “এই সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আমাদের এটি সংরক্ষণ ও আরও শক্তিশালী করতে হবে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেন একটি মাত্র ঘটনা অর্জিত অগ্রগতিকে নষ্ট না করে এবং আমাদের প্রতিযোগিতাগুলো অনুসরণ করা লাখো চীনা সমর্থকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। চীন লা লিগার জন্য একটি কৌশলগত অংশীদার ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

এমবাপের মন্তব্যের পর এখন পর্যন্ত অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠান তার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় এমবাপে চীনা জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, মাও সেতুংকে নিয়ে তার মন্তব্য ছিল ‘অবিবেচনাপ্রসূত’।

আরও পড়ুন: ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান জিতেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা

রিয়াল মাদ্রিদও নিজেদের খেলোয়াড়ের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে চীনা জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।

ক্লাবটির বিবৃতিতে বলা হয়, “সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপের মন্তব্যে যদি চীনা জনগণের কোনো ধরনের অস্বস্তি সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে রিয়াল মাদ্রিদ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “চীন, তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনগণের প্রতি এবং রিয়াল মাদ্রিদকে ভালোবাসা ও সমর্থন করা লাখো চীনা ভক্তের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।

আরও পড়ুন: ফখর জামানের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পাকিস্তানের শিরোপা জয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারাকান্দায় কাভার্ড ভ্যান চাপায় প্রাণ গেল ২ বোনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


তারাকান্দায় কাভার্ড ভ্যান চাপায় প্রাণ গেল ২ বোনের

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার সময় সড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত কাভার্ড ভ্যানের চাপায় দুই বোনের মৃত্যু ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট মহাসড়কের তালদিঘি পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলে দুই শিশু বোনের মৃত্যু ঘটে।

নিহত দুই বোন হলেন—তালদিঘি পশ্চিমপাড়ার মুখলেছুর রহমানের মেয়ে মোছা. আরপিয়া (৮) এবং রাবেয়া খাতুন (৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সকালে দুই বোন স্থানীয় মাদরাসা থেকে পড়াশোনা শেষ করে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। সড়ক পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত কাভার্ডভ্যান তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বোনের মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তারাকান্দা থানার এসআই জহিরুল হক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশু ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। কাভার্ডভ্যানটি শনাক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে। নিহত দুই শিশুর মরদেহ আইনানুসারে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সহিংসতাকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে: ফ্রান্সে নতুন আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


সহিংসতাকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে: ফ্রান্সে নতুন আইন

ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলাকালীন ভাঙচুর, লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধানকে আরো কঠোর করার উদ্দেশ্যে আইন প্রণেতারা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ লক্ষ্যে সিনেটে অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রস্তাবিত ‘কাস্যর-পেয়র’ বিলটি এখন কার্যকর হওয়ার পথে। প্রস্তাবিত বিধান অনুসারে, নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে সহিংস বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

ফরাসি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিলটির পক্ষে সিনেটে ২২৯টি ভোট পড়েছে এবং বিপক্ষে ১০৫ জন সদস্য ভোট দিয়েছেন। জনসমক্ষে সংঘটিত সহিংসতা ও ভাঙচুরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে, সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে বিলটি এখনই কার্যকর আইন হিসেবে গৃহীত হয়েছে। চূড়ান্ত সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এর আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে।

যৌথ দায়ের বিধান নিয়ে আলোচনা

বিলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সহিংস সমাবেশে ক্ষয়ক্ষতির জন্য শুধু সরাসরি ভাঙচুরে জড়িত ব্যক্তিদের নয়, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদেরও আর্থিকভাবে দায়ী করার সুযোগ রাখা। ফলে, কেউ যদি নিজ হাতে কোনো দোকান বা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর না করে, তবুও আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে, বিক্ষোভে উপস্থিত থাকা মাত্রই প্রত্যেক ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে—এমন প্রস্তাবিত ব্যবস্থা বিলটিতে নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা, সহিংস গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং প্রযোজ্য আইনি শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের পরিধি বাড়ানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সামাজিক সহায়তার অর্থ থেকে পাওনা আদায়ের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পাওনা আদায় সহজ হতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোগটির সমর্থকেরা।

ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য সরকারের যুক্তি

ফ্রান্সে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক আন্দোলন, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদে দোকানপাট, যানবাহন ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি, জনসাধারণের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রশ্ন উঠেছে।

বিলটির সমর্থকদের মতে, সহিংসতার কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা নিরুৎসাহিত করার জন্য কার্যকর আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাঁদের যুক্তি, ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণ ও অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী হলে জনসম্পদ রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণ সহজ হবে।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ

অন্যদিকে, বিলটির বিরোধিতাকারীদের আশঙ্কা, যৌথ আর্থিক দায়ের বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা না থাকলে সহিংসতায় সরাসরি জড়িত নন—এমন ব্যক্তিরাও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। বিশেষ করে বড় কোনো বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আইনগত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণের নীতি। কোনো সমাবেশে উপস্থিত থাকা এবং সেখানে সংঘটিত অপরাধে অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। ফলে, ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা ও দায় প্রমাণের যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

তাদের মতে, জনসম্পত্তি রক্ষা ও ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও, নতুন বিধানের প্রয়োগ যেন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

সিনেটে অনুমোদনের পর বিলটির পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদে আলোচনা ও অনুমোদনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনি ধাপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত বিধানগুলোকে কার্যকর আইন হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

বিলটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে ফ্রান্সে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে যৌথ দায় নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণ আদায়ের সীমা এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের অধিকার সুরক্ষার প্রশ্নও আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থরপারকার জেলার একটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে হাসপাতালের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকর্মীদের বরাতে জানা যায়, থরপারকারের নাগরপারকার উপজেলার দানো ধান্ধাল এলাকায় পিপলস প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইনিশিয়েটিভ (পিপিএইচআই) পরিচালিত একটি হাসপাতালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংযোগ দেওয়ার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এই দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে সাতজন মারা যান। গুরুতর দগ্ধ পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য মিঠিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণই আগুনের সূত্রপাতের কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ও আহতদের মধ্যে রোগী এবং হাসপাতালের কর্মীরা রয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা নিহত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করেছেন। তারা হলেন জাসওয়ান্ত, অ্যাম্বুলেন্সচালক ইসহাক থেবো এবং পান্ধি রাজর। বাকি নিহতদের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, থরপারকারে পিপিএইচআই পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, হাসপাতালগুলোর সীমিত সুযোগ-সুবিধাও এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিষয়টি ছাড়াও দুর্ঘটনার অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিকে ৯৩% ও মাধ্যমিকে ৫৭% বই ছাপা সম্পন্ন, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


প্রাথমিকে ৯৩% ও মাধ্যমিকে ৫৭% বই ছাপা সম্পন্ন, নভেম্বরে শতভাগ সরবরাহের লক্ষ্য

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর পূর্বে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সকল শ্রেণির মানসম্মত ও আকর্ষণীয় বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তদারকি অব্যাহত রেখেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "উপজেলা পর্যায়ে কোনো নিম্নমানের কাগজের বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। সরকার বাজারদর যাচাই করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে। যাতে কেউ কম মূল্যের অজুহাতে নিম্নমানের বই তৈরির সুযোগ না পায়। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে এবার কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"

এনসিটিবির সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণ এবং বাঁধাইয়ের অগ্রগতি শতভাগের কাছাকাছি অর্জিত হয়েছে। ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তরে ছাপার অগ্রগতি ৫৭ শতাংশের বেশি দাঁড়িয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই মুদ্রণের কার্যক্রম কিছু প্রেসে শুরু হলেও বেশিরভাগ প্রেসে এখনও শুরু হয়নি।

এনসিটিবি জানায়, যেসব প্রেস প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের বই ছাপার কাজ পেয়েছে; প্রাথমিকের বই ছাপা শেষে সেসব প্রেসগুলোতে মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ি, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই বেশি। পাশাপাশি কিছু ছাপাখানায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের ফর্মা ছাপার কাজ চলমান রয়েছে।

এনসিটিবি জানায়, সারা দেশে মোট ৬২৩টি লটে ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান এবার পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজ পেয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক (ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি) স্তরে মোট ৩০ কোটি ৭৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে। এবারের বইয়ের মুদ্রণ কাজ গত বছরের তুলনায় এক মাস আগে শুরু হয়েছে।

স্তরভিত্তিক বই মুদ্রণের চিত্র

এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণের চিত্র প্রায় শতভাগ, চুক্তি অনুযায়ী তা সন্তোষজনক। প্রাক-প্রাথমিকের মোট ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি (৯৮.২১ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। এ স্তরে প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) হয়েছে ৫০ লাখ ৭০ হাজার ২৪০টি (৮৮.৪৮ শতাংশ) বই।

অন্যদিকে প্রাথমিক (১ম-৫ম) স্তরে মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি (৮৭.৬৭ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ৫ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯টি (৭৭.৭৯ শতাংশ) বই। অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক মিলে গড়ে ৯২.৯৪ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরের সাথে ইবতেদায়ি বইয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইবতেদায়ি (১ম-৫ম) স্তরে মোট ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি (৬৪.১৫ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪২২টি (৫১.১১ শতাংশ) বই।

অন্যদিকে মাধ্যমিক (ষষ্ঠ-দশম) স্তরে মোট ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি (৫১.১৮ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫টি (৩৭.০৫ শতাংশ) বই। ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক মিলে গড়ে ৫৭.৬৬ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে; যা বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বইয়ের মান ও ছাপার কাজ তদারকি করছে এনসিটিবি।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, "প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ইবতেদায়ি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কাজও অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির কাজের গতি কিছুটা কম থাকায় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এ স্তরের কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় কিছুটা ধীরগতি হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "কাজের গতি কম থাকায় ৩২টি প্রেসকে কারণ দর্শানো হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোর কাজ বাতিল করে অন্য প্রেসগুলোকে দায়িত্ব দিয়ে কাজ সমন্বয় করা হবে। বইয়ের মান ও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।"

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এনসিটিবি জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিকের সব ও মাধ্যমিক স্তরের ৫০ শতাংশ বই এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছানোর কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত বই সরবরাহ নিশ্চিত করা।

নিম্নমানের ফর্মা-বই বাতিল, মান রক্ষায় নজরদারি

মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বইয়ের মান বজায় রাখতে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রেসে মুদ্রণকৃত বইয়ের গুণগত মান যাচাইয়ে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মোট ৫৩টি মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রেসের নিম্নমানের ফর্মা ও বই বাতিল করা হয়েছে।

এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেসে মানদণ্ড অনুযায়ী নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ ফর্মা, বই এবং কভার বিনাশ (ডিস্ট্রয়) করা হয়েছে। মোট ৩৬টি প্রেসের ৯ লাখ ফর্মা এবং ১২ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, "এবার বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় আমরা সাড়ে ৯ লাখ নিম্নমানের ফর্মা ও ১২ হাজারের মতো বই বাতিল করেছি। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত বই উপজেলায় পৌঁছাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের (অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণি) বই মুদ্রণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি কম। চুক্তি অনুযায়ী ৩ নভেম্বরের মধ্যে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের কথা থাকলেও ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, "শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ এ মাসের মধ্যেই ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হবে। আর মাধ্যমিকের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি পৌঁছে যাবে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় মাঠপর্যায়ে বই সরবরাহের কোনো জটিলতা তৈরি হবে না।"

তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রেস ও মাঠপর্যায়ে অনিয়মের সুযোগ থাকলেও এবার বই গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সরাসরি মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিসিভ করার পর বইয়ের মানে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে গ্রহিতা কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। সূত্র বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%