বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫০ এম
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর পূর্বে দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সকল শ্রেণির মানসম্মত ও আকর্ষণীয় বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তদারকি অব্যাহত রেখেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "উপজেলা পর্যায়ে কোনো নিম্নমানের কাগজের বই সরবরাহ বরদাশত করা হবে না। সরকার বাজারদর যাচাই করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে। যাতে কেউ কম মূল্যের অজুহাতে নিম্নমানের বই তৈরির সুযোগ না পায়। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে এবার কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
এনসিটিবির সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণ এবং বাঁধাইয়ের অগ্রগতি শতভাগের কাছাকাছি অর্জিত হয়েছে। ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক স্তরে ছাপার অগ্রগতি ৫৭ শতাংশের বেশি দাঁড়িয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বই মুদ্রণের কার্যক্রম কিছু প্রেসে শুরু হলেও বেশিরভাগ প্রেসে এখনও শুরু হয়নি।
এনসিটিবি জানায়, যেসব প্রেস প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের বই ছাপার কাজ পেয়েছে; প্রাথমিকের বই ছাপা শেষে সেসব প্রেসগুলোতে মাধ্যমিকের বই ছাপার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ইবতেদায়ি, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই বেশি। পাশাপাশি কিছু ছাপাখানায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের ফর্মা ছাপার কাজ চলমান রয়েছে।
এনসিটিবি জানায়, সারা দেশে মোট ৬২৩টি লটে ১১৩টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান এবার পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের কাজ পেয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক (ইবতেদায়ি, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি) স্তরে মোট ৩০ কোটি ৭৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১টি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে। এবারের বইয়ের মুদ্রণ কাজ গত বছরের তুলনায় এক মাস আগে শুরু হয়েছে।
স্তরভিত্তিক বই মুদ্রণের চিত্র
এনসিটিবির ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বই মুদ্রণের চিত্র প্রায় শতভাগ, চুক্তি অনুযায়ী তা সন্তোষজনক। প্রাক-প্রাথমিকের মোট ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ১৫৩টি (৯৮.২১ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। এ স্তরে প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) হয়েছে ৫০ লাখ ৭০ হাজার ২৪০টি (৮৮.৪৮ শতাংশ) বই।
অন্যদিকে প্রাথমিক (১ম-৫ম) স্তরে মোট ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭৩টি (৮৭.৬৭ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ৫ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৯টি (৭৭.৭৯ শতাংশ) বই। অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক মিলে গড়ে ৯২.৯৪ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরের সাথে ইবতেদায়ি বইয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইবতেদায়ি (১ম-৫ম) স্তরে মোট ৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৫৭৪টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৮৪টি (৬৪.১৫ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ২ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪২২টি (৫১.১১ শতাংশ) বই।
অন্যদিকে মাধ্যমিক (ষষ্ঠ-দশম) স্তরে মোট ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৪৩ হাজার ১৮টি বইয়ের মধ্যে ৯ কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৫৬টি (৫১.১৮ শতাংশ) ছাপানো হয়েছে। বিপরীতে পিডিআই হয়েছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫টি (৩৭.০৫ শতাংশ) বই। ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিক মিলে গড়ে ৫৭.৬৬ শতাংশ বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে; যা বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বইয়ের মান ও ছাপার কাজ তদারকি করছে এনসিটিবি।
এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, "প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের বই ছাপার কাজ ৯০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। ইবতেদায়ি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কাজও অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। তবে অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির কাজের গতি কিছুটা কম থাকায় মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এ স্তরের কয়েকটি লটে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় কিছুটা ধীরগতি হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "কাজের গতি কম থাকায় ৩২টি প্রেসকে কারণ দর্শানো হয়েছে। প্রয়োজনে পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোর কাজ বাতিল করে অন্য প্রেসগুলোকে দায়িত্ব দিয়ে কাজ সমন্বয় করা হবে। বইয়ের মান ও লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।"
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এনসিটিবি জানিয়েছে, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিকের সব ও মাধ্যমিক স্তরের ৫০ শতাংশ বই এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছানোর কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ মানসম্মত বই সরবরাহ নিশ্চিত করা।
নিম্নমানের ফর্মা-বই বাতিল, মান রক্ষায় নজরদারি
মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বইয়ের মান বজায় রাখতে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা প্রশাসন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রেসে মুদ্রণকৃত বইয়ের গুণগত মান যাচাইয়ে এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মোট ৫৩টি মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রেসের নিম্নমানের ফর্মা ও বই বাতিল করা হয়েছে।
এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রিন্টিং প্রেসে মানদণ্ড অনুযায়ী নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ ফর্মা, বই এবং কভার বিনাশ (ডিস্ট্রয়) করা হয়েছে। মোট ৩৬টি প্রেসের ৯ লাখ ফর্মা এবং ১২ হাজার নিম্নমানের ছাপানো বই বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, "এবার বইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় আমরা সাড়ে ৯ লাখ নিম্নমানের ফর্মা ও ১২ হাজারের মতো বই বাতিল করেছি। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত বই উপজেলায় পৌঁছাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
এনসিটিবির মনিটরিং প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক স্তরের (অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণি) বই মুদ্রণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কাজের অগ্রগতি কম। চুক্তি অনুযায়ী ৩ নভেম্বরের মধ্যে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহের কথা থাকলেও ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। পিছিয়ে থাকা প্রেসগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের গতি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, "শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের কাজ এ মাসের মধ্যেই ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হবে। আর মাধ্যমিকের বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি পৌঁছে যাবে। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় মাঠপর্যায়ে বই সরবরাহের কোনো জটিলতা তৈরি হবে না।"
তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রেস ও মাঠপর্যায়ে অনিয়মের সুযোগ থাকলেও এবার বই গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সরাসরি মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিসিভ করার পর বইয়ের মানে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে গ্রহিতা কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। সূত্র বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পাওয়ার লক্ষণ দেখা গেলেও, তেহরান সংঘাতের সমাপ্তির জন্য তার শর্তগুলো শিথিল করবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি।
মঙ্গলবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে, খামেনি যুদ্ধের অবসানে ইরানের শর্ত পূরণের পাশাপাশি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ এই পরিস্থিতির অবসানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইরান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ইংরেজি ভাষার সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
বৈঠকের সময়, খামেনি ইরানের জনগণ ও তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা করেন খামেনি এবং রেজাই। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
বুধবার প্রেস টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে এবং এতে দেশের কৌশলগত দিকনির্দেশনা পরিষ্কার হয়েছে।
তিনি বলেন, খামেনির নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে তার সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে, বাড়ির সামনে, বাজারের দোকানে কিংবা ব্যস্ত সড়কে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাদের মধ্যে ২০ জন রাজনৈতিক বিরোধের শিকার।
বিএনপির দুই নেতা সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধের পাশাপাশি বালু-মাটির ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগ রয়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং সংঘাতের কারণে রক্তপাত থামছে না।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘাত শুরু হয়। নিহতদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ১০ জন এবং গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী পাঁচজন রয়েছেন।
আমার দেশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ নিয়ে অনুসন্ধান করেছে। এতে রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালু-মাটির ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং দখলদারত্বের নিয়ন্ত্রণের তথ্য পাওয়া গেছে। উপজেলায় বর্তমানে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একটি শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান আলম গ্রুপ এবং অন্যটি আজিজ বসের অনুসারী ডাকাত আলম গ্রুপ। অভিযোগ রয়েছে, উভয় গ্রুপই রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মূলত মেজর ইকবাল গ্রুপটি গোলাম আকবর খন্দকারের নিয়ন্ত্রণে এবং রায়হান গ্রুপটি গিয়াস কাদের চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে। তবে দুজনই এসব গ্রুপ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মান্নান হত্যার মাধ্যমে ৫ আগস্ট-পরবর্তী ধারাবাহিক প্রাণহানির সূচনা ঘটে। রাউজান পৌরসভার চারা বটতল বাজারে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর নিখোঁজের চার দিন পর উরকিরচরের মইশকরম এলাকায় আজম খানের লাশ পাওয়া যায়। ১১ নভেম্বর নিখোঁজের তিন দিনের মাথায় উদ্ধার করা হয় হাফেজ মাওলানা আবু তাহেরের রক্তাক্ত লাশ।
২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জুমার নামাজে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘর থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় যুবলীগ কর্মী মুহাম্মদ হাসানকে। ১৫ মার্চ হলদিয়া ইউনিয়নের আমিরহাট বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির কার্যালয়ে ব্যানার সরানো নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী যুবদল কর্মী কমর উদ্দিন (জিতু)।
এরপর ২১ মার্চ পূর্ব গুজরায় রুবেল, ৪ এপ্রিল হলদিয়ায় নূর আলম বকুল, ১৯ এপ্রিল বাগোয়ানে প্রবাসফেরত যুবদল কর্মী মানিক আবদুল্লাহ এবং ২২ এপ্রিল গাজীপাড়ায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ ইব্রাহিম খুন হন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইব্রাহিমকে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তিনটি অটোরিকশায় আসা একদল যুবক গুলি করে হত্যা করে।
৬ জুলাই কদলপুরের ঈশান ভট্টের হাটে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদলের সদস্যসচিব মো. সেলিমকে। হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে রায়হানের নাম আলোচনায় আসে। এর দুদিন পর তার বন্ধু দিদারুল আলমের লাশ উদ্ধার করা হয় রাঙামাটির কাউখালীর পাহাড়ি এলাকা থেকে।
ব্যবসার নিয়ন্ত্রণেও বিরোধ
২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর হাটহাজারীর মদুনাঘাট সেতুর কাছে গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম। তার পরিবারের দাবি, তিনি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। কর্ণফুলীকেন্দ্রিক বালুমহাল ও নির্মাণসামগ্রীর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কথাও সামনে আসে। এ ঘটনায় হাজি মুহাম্মদ জসিমের নাম আলোচনায় আসার পর তিনি দেশ ছাড়েন।
২৫ অক্টোবর চারা বটতল এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদল কর্মী আলমগীর আলমকে। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পূর্ব গুজরায় খুন হন যুবদলের সাবেক নেতা জানে আলম সিকদার। ২৫ ফেব্রুয়ারি অলিমিয়াহাট বাজারে নিহত হন যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আবদুল মজিদ। ২৬ এপ্রিল একই এলাকায় খুন হন যুবদল কর্মী নাসির উদ্দিন। পরে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় নাসির হত্যা মামলার আসামি মোহাম্মদ হাসান ওরফে রাজুও গুলিতে নিহত হন।
১৩ জুন পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে। পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ধারণা, রাজনৈতিক আধিপত্যের পাশাপাশি বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধও এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর উরকিরচরের কেরানীহাট বাজারে খুন হন মোহাম্মদ করিম।
দুই নেতার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
স্থানীয়দের মতে, রাউজানে রাজনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রভাব বাড়ে। তার বিরুদ্ধে বিরোধী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করা এবং রাজনীতি ও ব্যবসায় একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ ছিল। সরকার পতনের পর সেই নিয়ন্ত্রণ ভেঙে গেলে স্থানীয় রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্তৃত্ব নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, সাংগঠনিক পদ-পদবি, স্থানীয় নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়েও দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অভিযোগ, গোলাম আকবর খন্দকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। তবে গোলাম আকবর খন্দকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, বালু-মাটির ব্যবসা, খালের বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ, ইটভাটা, ঠিকাদারি কাজের কমিশন ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। তিনি আমার দেশকে বলেন, "অপরাধী (গিয়াস কাদের) কখনো অপরাধ স্বীকার করে না। কোনো দাগি অপরাধীকে অপরাধ স্বীকার করতে দেখা যায় না।"
সংঘর্ষের পর কমিটি বিলুপ্ত, পদ স্থগিত
গত বছরের ২৯ জুলাই সত্তারহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। গোলাম আকবরের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগও ওঠে এবং তিনি নিজেও ছররা গুলিতে আহত হন। ঘটনার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে এবং গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দলীয় পদ স্থগিত করে। আরো কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবর রহমান শামিম বলেন, "দলে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের স্থান নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, "পুলিশের কাছে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়। সব হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে। রায়হানসহ অন্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আবদুল এল-সাইদকে সন্ত্রাসবাদ, ইসলামপন্থা ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের বিরুদ্ধে উঠেছে।
একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এসব সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত শিরোনামগুলোতে এল-সাইদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ধরা হলেও, অভিযোগগুলোর পক্ষে প্রমাণ নেই—এমন তথ্য খুব কমই জানানো হয়েছে।
নিউজকর্ডের সাংবাদিক নিমা আকরামের তৈরি বিশ্লেষণটি ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। বিশ্লেষণে ১৪১টি সংবাদমাধ্যমে এল-সাইদকে নিয়ে প্রকাশিত ৯২০টি শিরোনাম এবং সংরক্ষিত ৭৪০টি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষণের সময়সীমা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-সাইদকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি শিরোনাম প্রকাশ করেছে ফক্স নিউজ—১৮১টি। নিউইয়র্ক পোস্ট এ সংখ্যা ১০৮টি। নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনামের সংখ্যা ৫১।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, এল-সাইদকে সন্ত্রাসবাদ, ইসলামপন্থা কিংবা মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করে ৬৮টি শিরোনাম প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি এসেছে ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্ট থেকে। অথচ এল-সাইদকে নিয়ে প্রকাশিত মোট শিরোনামের এক-তৃতীয়াংশেরও কম ছিল এই দুই সংবাদমাধ্যমের।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২৪টি শিরোনামে কোনো অভিযোগকারীর বক্তব্য উদ্ধৃত না করেই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ভাষায় এল-সাইদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ বা ইসলামপন্থার সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি শিরোনাম ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের।
অন্যদিকে, ৪৫টি শিরোনামে অভিযোগগুলোকে মুসলিমবিদ্বেষী বা ভিত্তিহীন বলা হয়েছে কিংবা এল-সাইদের পাল্টা বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের কোনো শিরোনামই এই শ্রেণিতে পড়েনি।
অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ নেই—এ তথ্যও প্রকাশ করেছে ফক্স। মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা ফক্স নিউজের ২৬টি প্রতিবেদনের মধ্যে মাত্র দুটিতে সংবাদমাধ্যমটি নিজস্ব ভাষায় জানিয়েছে, অভিযোগটির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। নিউইয়র্ক পোস্টের এ ধরনের ১৭টি প্রতিবেদনের কোনোটিতেই এমন মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি। অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোর ৭৬টি প্রতিবেদনের মধ্যে ২৯টিতে অভিযোগটির পক্ষে প্রমাণের অভাব তুলে ধরা হয়েছে।
ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্ট প্রায় তিন মাস ধরে এল-সাইদ ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ও ইসলামপন্থার সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। কিন্তু অভিযোগগুলোর ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন বা প্রমাণের অভাব সম্পর্কে পাঠকদের খুব কমই জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সাইদকে ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের লোক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান পলিটিফ্যাক্ট ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘প্যান্টস অন ফায়ার’ বা সম্পূর্ণ মিথ্যা হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ‘জিহাদি’ মন্তব্য নিয়ে নীরবতার অভিযোগ। ২৫ অক্টোবর মিশিগানে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এল-সাইদকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দেন। এ সময় তিনি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গও তোলেন এবং বলেন, এল-সাইদের সিনেটে প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত।
এর পরবর্তী তিন দিনে ৩৪টি সংবাদমাধ্যম এ ঘটনা নিয়ে ৩৮টি শিরোনাম প্রকাশ করে। এনপিআর শিরোনামে ট্রাম্পের বক্তব্যকে এল-সাইদের বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী আক্রমণ হিসেবে তুলে ধরে। সিবিএস নিউজও তার ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের আক্রমণের বিষয়টি উল্লেখ করে।
তবে এল-সাইদকে নিয়ে ১৮১টি শিরোনাম প্রকাশ করা ফক্স নিউজ এ ঘটনাকে একটি সংবাদ-সংকলনে সংক্ষেপে উল্লেখ করে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক পোস্ট এ নিয়ে কোনো শিরোনাম প্রকাশ করেনি। একই দুই দিনে এল-সাইদকে সমর্থনকারী একটি বিজ্ঞাপনে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য ইসরাইলকে দায়ী করার বিষয়টি নিয়ে পাঁচটি শিরোনাম প্রকাশ করেছিল পত্রিকাটি।
মুসলিম প্রার্থীকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করে তিন মাস ধরে সংবাদ প্রকাশ করা এই দুই সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের সরাসরি আক্রমণের সময় বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।
এল-সাইদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ। এল-সাইদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পর্কের অভিযোগের ক্ষেত্রে তার পরিবারের সদস্যদের কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
১৫ অক্টোবর ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এল-সাইদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। ফক্সের ওই প্রতিবেদনে অভিযোগের পক্ষে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল, তা মূলত এল-সাইদের বৈমাত্রেয় বোনের ২০১২ সালের দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট। পোস্টগুলোতে ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে মিসরে তাঁদের মায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ ছিল।
এল-সাইদের জন্ম ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে। ফলে তার জন্মেরও এক দশকের বেশি আগে তার মায়ের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাকে যুক্ত করার বিষয়টি প্রতিবেদনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
ফক্স নিউজের ৩০৫ শব্দের ওই প্রতিবেদনের মধ্যে ১৯৯ শব্দে ট্রাম্পের অভিযোগ ও এল-সাইদের মাকে নিয়ে পোস্টের কথা তুলে ধরা হয়। এল-সাইদের অস্বীকৃতির জন্য রাখা হয় ৯৫ শব্দ। তার প্রচারশিবিরের মন্তব্য চাওয়ার কথা জানাতে ব্যয় হয় ১১ শব্দ। কিন্তু তার মায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে এল-সাইদের ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় না—এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে কোনো শব্দ ব্যয় করা হয়নি বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরদিন অন্য সংবাদমাধ্যমগুলো কেন খবরটি প্রকাশ করেনি, তা নিয়ে ফক্স নিউজ প্রশ্ন তোলে। ওই প্রতিবেদনে সিএনএনের সাংবাদিক অ্যাবি ফিলিপের বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়। তিনি বলেন, এল-সাইদ তার জৈবিক মায়ের কাছে বড় হননি; তার বয়স যখন তিন বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। ফলে মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভিত্তিতে তাকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ যাচাই করা হয়নি এবং তার মিশিগানে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
অভিযোগের জবাব দেওয়াকে ‘উত্তেজিত আচরণ’ হিসেবে তুলে ধরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগের জবাব দেওয়ার সময় এল-সায়েদের প্রতিক্রিয়াকেও কিছু সংবাদমাধ্যম নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে।
১৫ অক্টোবর ফক্স নিউজের এক শিরোনামে বলা হয়, পরিবারের মুসলিম ব্রাদারহুড-সম্পর্কিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের মুখে এল-সাইদ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একই দিনে নিউইয়র্ক পোস্ট তার প্রতিক্রিয়াকে ‘ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা’ হিসেবে তুলে ধরে। ডেইলি মেইলও ২২ অক্টোবরের এক শিরোনামে তাকে ‘নিয়ন্ত্রণ হারানো’ ধরনের ভাষায় বর্ণনা করে।
অথচ এল-সাইদ প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, তিনি ১৯৮৪ সালে মিশিগানে জন্মেছেন, সেখানেই বড় হয়েছেন এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার জন্মেরও আগে মিসরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে তাকে কেন জবাব দিতে হবে।
নিজের জন্মের অনেক আগের পারিবারিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এল-সায়েদ প্রশ্নটির যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তার প্রতিক্রিয়াকে উত্তেজিত বা আক্রমণাত্মক আচরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তথ্য যাচাইকারী সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন
এল-সাইদের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি সমর্থন জানানোর অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও তথ্য যাচাইকারী সংস্থা অনুসন্ধান করেছে।
ব্রিজ মিশিগান এল-সাইদ মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন—এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি। ১৯ অক্টোবর পলিটিফ্যাক্ট রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সের এই দাবি মিথ্যা বলে মূল্যায়ন করে যে, এল-সাইদ মুসলিম ব্রাদারহুডের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
২৭ অক্টোবর ট্রাম্পের এল-সাইদকে ‘জিহাদি’ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলার দাবিকেও পলিটিফ্যাক্ট সম্পূর্ণ মিথ্যা হিসেবে মূল্যায়ন করে। এ ছাড়া, রজার্সের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের একটি শিরোনাম সংশোধন করে।
তবে ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা ৪৩টি প্রতিবেদনের কোনোটিতেই এসব তথ্য যাচাইয়ের ফলাফল উদ্ধৃত করা হয়নি।
বিশ্লেষণের সীমাবদ্ধতা
নিউজকর্ডের বিশ্লেষণ সংবাদমাধ্যমটির নিজস্ব আর্কাইভে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪১টি সংবাদমাধ্যমের ৯২০টি শিরোনাম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষিত ৭৪০টি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আর্কাইভে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত সব খবর নেই। ফলে বিশ্লেষণটি তাদের সব সংবাদ বা সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। তবু সংরক্ষিত শিরোনাম ও প্রতিবেদনের তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এল-সাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরার ক্ষেত্রে ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের শিরোনাম এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণের অভাব সম্পর্কে তাদের প্রতিবেদনের ভাষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান ছিল।
সূত্র: নিউজকর্ডের বিশ্লেষণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকতা বজায় রেখে নেয়া হবে।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার ইস্কাটনে ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি ও সরকারি এলপিজির মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এ মন্তব্য করেন।
গণশুনানিতে সরকারের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৩২ টাকা।
বিইআরসি প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ ও যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে দাম সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ