সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:১৭ এম
জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দিয়ে অনেকে এক টুকরো জমি ক্রয় করেন। কিন্তু জাল দলিল, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা নকল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ফাঁদে পড়ে সেই স্বপ্নটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা বা দেখভালের অভাব রয়েছে এমন জমির ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকি বেশি থাকে। সুতরাং, জমি কেনার পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, জমি কেনার আগে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন ক্রেতা। জমি কেনাবেচায় জালিয়াতি এড়াতে এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
নিরাপদ জমি ক্রয়ের ৯টি কার্যকর কৌশল
ভলিউম-রেজিস্ট্রি নম্বর যাচাই: সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মূল রেকর্ডের সঙ্গে দলিলের সাল, ভলিউম ও রেজিস্ট্রি নম্বর সঠিক আছে কিনা তা মিলিয়ে দেখা উচিত। প্রয়োজনে লিখিত দরখাস্ত প্রদান করুন।
সিল ও স্বাক্ষর চেক করুন: দলিলের সরকারি সিল এবং স্বাক্ষর স্বাভাবিক কিনা তা পরীক্ষা করুন। যদি অস্বাভাবিক কিছু মনে হয় অথবা সরকারি ছুটির দিনে রেজিস্ট্রি করা দলিল দেখেন, তাহলে সতর্ক থাকুন।
প্রকৃত মালিক চিনুন: স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরনো খতিয়ান যাচাই করে আসল মালিককে শনাক্ত করুন। একই জমিতে একাধিক মালিকের দাবি থাকলে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করুন।
নামজারি ও খতিয়ান পরীক্ষা: স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে গিয়ে খতিয়ান, নামজারি, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং সীমানা সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখুন।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যাচাই: আমমোক্তারনামার ক্ষেত্রে দলিলটিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের ছবি সংযুক্ত আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। ছবি না থাকলে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
দখল ও তারিখের মিল: দলিলের তারিখের সঙ্গে বাস্তবে জমি বুঝিয়ে পাওয়ার সময় বা ঘটনার মিল আছে কিনা তা যাচাই করুন।
দলিল লেখকের খোঁজ নিন: দলিলটি কে তৈরি করেছেন (লেখক) তা জানুন এবং প্রয়োজনে সরেজমিন গিয়ে তথ্য যাচাই করুন।
ভায়া দলিল ও উত্তরাধিকার যাচাই: পুরনো ভায়া দলিল, উত্তরাধিকার সনদ এবং কর পরিশোধের রশিদ বিক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যাচাই করুন।
স্ট্যাম্পের উৎস ও সিরিয়াল: ব্যবহৃত স্ট্যাম্পগুলো কোথা থেকে কেনা হয়েছে এবং এর সিরিয়াল নম্বর সঠিক কিনা তা খতিয়ে দেখুন।
পরিশেষে, একাধিক স্তরে যাচাই-বাছাই না করে কখনোই জমি কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না। একটুখানি সতর্কতা ও সঠিক প্রস্তুতি আপনার কষ্টের জমানো টাকা এবং অমূল্য বিনিয়োগকে নিরাপদ রাখতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কোনো আইনজীবী বা স্থানীয় ভূমি অফিসের সহায়তা গ্রহণ করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাংবাদিক ও পরিচিত অভিনেতা সিকদার মোহাম্মাদ আলমাসের পিতা মো. হাফেজ সিকদার আর নেই। রবিবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুম মো. হাফেজ সিকদার পটুয়াখালীর কুয়াকাটার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনেরা। একজন মানুষের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। মরহুমের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন।
সিকদার মোহাম্মাদ আলমাস সাংবাদিকতার পাশাপাশি অভিনয় জগতেও পরিচিত মুখ। পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিকতা ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে পরিচিতি অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি বরিশাল পোস্টের কুয়াকাটা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পিতার মৃত্যুর খবর সহকর্মী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি করেছে।
আলমাসের পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বরিশাল পোস্টের সম্পাদক মজিবর রহমান নাহিদসহ প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা। এক শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাঁদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।
মরহুম মো. হাফেজ সিকদারের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁরা মরহুমের আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি প্রার্থনা করেছেন।
তালাশ বিডি পরিবারের পক্ষ থেকেও সাংবাদিক ও অভিনেতা সিকদার মোহাম্মাদ আলমাসের পিতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানো হচ্ছে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মহান আল্লাহ মরহুম মো. হাফেজ সিকদারকে ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে শান্তিময় করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৫৫ বছর বয়সী এক নারীকে মারধর করে তাঁর দুটি দাঁত ভেঙে দেওয়া এবং কানের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী মোসা. হালিমা বেগম (৫৫) বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর ভরপাশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেজুরা ভরপাশা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. কবির বিশ্বাসের স্ত্রী এবং মৃত কলমদার আলী খানের মেয়ে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে হালিমা বেগম নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মো. সুজন বিশ্বাস (৩০), মো. সুমন বিশ্বাস (৩৪) ও মোসা. সাথী আক্তার (৩৮) তাঁর ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় হালিমা বেগমের মুখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তাঁর দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এ সময় তাঁর কানে থাকা আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের কানবালা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তাঁরা বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। এ ছাড়া অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি। তবে টাকা দাবির অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগের নিরপেক্ষ যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তাঁরা দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ৯৫ শতাংশের বেশি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর আনাদোলুর।
রোববার এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ‘অযৌক্তিক আগ্রাসন’ সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ৯৫ শতাংশের বেশি জাহাজ নিরাপদে যাতায়াত করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত গ্রীষ্ম থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলোকে ১৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে মার্কিন সেনারা।
হরমুজ প্রণালি পরিদর্শনের সময় সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, উপসাগরীয় অংশীদার ও নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, গত ছয় মাসে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে চলাচলে ৩ হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে সহায়তা করেছে মার্কিন বাহিনী। আন্তর্জাতিক নৌপথে আইআরজিসির পেতে রাখা নৌ-মাইন অপসারণের পর এ কার্যক্রম আরও গতি পেয়েছে বলেও জানায় তারা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধবিরতি এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও সংঘাতের স্থায়ী নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোববার পুনরায় চালু করা হয়েছে, যদিও ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীদের হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। বিমানবন্দরটি গত ১০ অক্টোবর থেকে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বন্ধ ছিল। ১০ অক্টোবর হুথিদের ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানে, যার ফলে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। চলতি মাসে বিমানবন্দরটিতে হুথিদের চালানো অন্তত তিনটি প্রাণঘাতী হামলার মধ্যে এটি অন্যতম। হুথিরা প্রায় প্রতিদিনই রিয়াদে হামলা চালাচ্ছে।
শনিবার রাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার থেকে ফ্লাইট চলাচল আবার শুরু হবে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে টিকিট ও ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে রাজধানীর বাসিন্দাদের কাছে সম্ভাব্য ‘আকাশপথের হুমকি’ সম্পর্কে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েকটি বিকট শব্দ শোনার কথা জানান। সৌদি কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, রিয়াদ লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন, "এটি একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু।" তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ফলে যে পরিণতি হবে, তার দায়ভার সৌদি সরকারকেই বহন করতে হবে। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
চার বছর মোটামুটি শান্ত থাকার পর, এ মাসের শুরুর দিকে হুথি ও সৌদি আরব একে অপরের ওপর পুনরায় হামলা শুরু করেছে। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ইরান—যারা হুথিদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক—তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বৃহত্তর সংঘাত চলছে। হুথিরা তাদের হামলাগুলোকে ইয়েমেনে সৌদি আরবের প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইয়াহইয়া সারি দাবি করেন যে, তাদের গোষ্ঠী বিমানবন্দরটিতে একটি অভিযান চালিয়েছে। তিনি দেশের অন্যান্য স্থানে হামলার কথাও উল্লেখ করেন, তবে ঠিক কখন এসব হামলা হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। রোববার রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে কতটি ফ্লাইট ছেড়েছে বা সেখানে অবতরণ করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দা থেকে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ রোববার বিকেলে রিয়াদে অবতরণ করে, তবে রিয়াদ থেকে আসা-যাওয়া করা কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল।
এক দশক আগে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন বোমা হামলা অভিযান শুরু হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল এই মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে পরাজিত করা এবং সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানো। বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়, যার ফলে ইয়েমেনে সহিংসতা, ক্ষুধা ও রোগের কারণে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। ২০২২ সালের একটি যুদ্ধবিরতির ফলে ভঙ্গুর শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।
ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে হামলার পর উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে, যা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। জুলাই মাসে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে, তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে, যাতে ইরানের একটি বিমান সেখানে অবতরণ করতে না পারে। পরবর্তী সময়ে হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে অবরোধ ঘোষণার পাশাপাশি দেশটির বিমানবন্দরগুলোকে ‘সামরিক অভিযানের ক্ষেত্র’ বানানোর হুমকি দেয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে পুরোদমে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে, হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে শুরু করে।
সম্প্রতি রিয়াদকে কেন্দ্র করে নতুন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা চালু করেছে সৌদি আরব। সোমবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল দেশটির বার্ষিক বিনিয়োগ সম্মেলন, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনকুবের, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সম্মেলনটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।
এর আগে হুথিদের হুমকি সত্ত্বেও সৌদি কর্মকর্তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। দুটি প্রাণঘাতী হামলার পরও কর্তৃপক্ষ রিয়াদ বিমানবন্দর খোলা রেখেছিল; তবে ১ অক্টোবরের বড় ধরনের হতাহতের ঘটনার পর তারা বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেয়। সব মিলিয়ে, বিমানবন্দর চালুর মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোর চেষ্টা করলেও রিয়াদের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
চার বছরের বিরতির পর ফের সংঘাত
সৌদির অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ
এমএমআর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ