বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২১ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্টের করা দাবি যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেল ও জাহাজ চলাচল করছে, তা সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি নৌবাহিনীর উপ-রাজনৈতিক কমান্ডার আলী মোহাম্মদী যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে তেলের বাজারের পরিস্থিতিকে তাদের দাবির মিথ্যাচারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
আলী মোহাম্মদী ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রশাসনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে তেল ও জাহাজ চলাচল করে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না কেন? বিশ্ববাজার খুব ভালো করেই বোঝে যে মার্কিন দাবিগুলো বাস্তবে মিথ্যা।”
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি যে আইআরজিসি নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, তা চ্যালেঞ্জ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইআরজিসি নৌবাহিনী যদি ধ্বংসই হয়ে গিয়ে থাকে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী কেন হরমুজ প্রণালির দিকে না এসে ৬০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার (প্রায় ৩৭০ থেকে ৪৩৫ মাইল) নিরাপদে দূরে অবস্থান করছে?”
আলী মোহাম্মদী জোর দিয়ে জানান, পারস্য উপসাগর, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরের আকাশ ও জলসীমায় নৌযান চলাচলের ওপর আইআরজিসি নৌবাহিনীর পূর্ণ সামরিক নজরদারি এবং শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি চাকরিজীবীরা আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। আগামী ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ছুটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অফিস খোলা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্গাপূজার ছুটি ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে। এর পরের দুই দিন, অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। তবে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অফিস খোলা থাকবে। এছাড়া, ছুটি শুরুর আগের দুই দিন, রবি ও সোমবার এবং মঙ্গলবার (১৮ ও ১৯ অক্টোবর) ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে। এইভাবে, ছুটি নিলে মোট সাত দিন পাওয়া যাবে।
৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার ২৩তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে সাধারণ ছুটি থাকবে।
এছাড়া, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এদিন ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল শীতের আগমনী বার্তা জানিয়ে দিচ্ছে। ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটে ভোর থেকেই চারপাশ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে। ফসলের মাঠ, গাছপালা এবং গ্রামীণ জনপদ কুয়াশার আবরণে আবছা ও মনোরম হয়ে উঠেছে।
কুয়াশার ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে উঁকি দিচ্ছে সকালের সূর্য। শিশিরভেজা সবুজ ফসলের মাঠে সূর্যের মৃদু আলো পড়ার ফলে প্রকৃতিতে স্নিগ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দূরের গাছপালা ও ঘরবাড়িও কুয়াশার কারণে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না।
ভোরে কাজে বের হওয়া মানুষের মধ্যেও শীতের হালকা আমেজ অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশায় ঢাকা মাঠ-ঘাট, শিশিরভেজা ফসল এবং নীরব গ্রামীণ পরিবেশ যেন জানান দিচ্ছে- শীতের আগমন আর বেশি দূরে নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের অন্যতম প্রাচীন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার প্রিন্সিপাল, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও আরবি ভাষাবিশেষজ্ঞ মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্ন ইলাইহি রজিউন। বুধবার (৮ অক্টোবর) ৯২ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন।
দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসক ও গবেষক—বিভিন্ন ভূমিকায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই বরেণ্য আলেম।
নাদওয়াতুল উলামার পাশাপাশি, লখনৌর ইন্টিগ্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে একজন এবং প্রথম চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আরবি সাহিত্যে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৪ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
১৯৩৪ সালে ভারতের মৌতে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি। উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে লখনৌর দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন। প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ আলেমদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের পর সেখানেই শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে আরবি বিভাগের প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরবি ভাষা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। নাদওয়াতুল উলামা থেকে প্রকাশিত আরবি মাসিক ‘আল-বাসুল ইসলামি’-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭৯ সাল থেকে পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তা ছাড়া ‘আর-রায়িদ’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে দীর্ঘ সময় যুক্ত ছিলেন তিনি।
শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। ২০১৩ সালে নিউ দিল্লির ইনস্টিটিউট অব অবজেক্টিভ স্টাডিজ তাকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। ২০১৯ সালে লখনৌর খাজা মইনুদ্দিন চিশতি ল্যাঙ্গুয়েজ ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি সম্মানসূচক ডকটর অব লেটার্স (ডি. লিট) ডিগ্রি লাভ করেন।
ভারতে বসবাসকারী মুসলমানদের ধর্মীয় আইন নিয়ে কাজ করা প্রাচীনত সংগঠন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন সাঈদুর রহমান আজমি নদভি। তিনি এই সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।
মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমী নাদভী ছিলেন একজন বহুমাত্রিক লেখক। আরবি ও উর্দু ভাষায় তিনি বহু গ্রন্থ ও গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে— আরবি শব্দরূপতত্ত্ব বা সরফ বিষয়ে লেখা ‘ইলমুত তাসরিফ’, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ নিয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘উসওয়ায়ে হাসানা কে আইনে মে’, ইসলামী সংস্কৃতি ও নাদওয়াতুল উলামার অবদান নিয়ে লেখা গ্রন্থ ‘ইসলামী সাকাফাত আওর নাদওয়াতুল উলামা’, ইসলাম ও পাশ্চাত্য নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ ‘ইসলাম আওর মাগরিব’ এবং জীবনীমূলক স্মারকগ্রন্থ ‘তাজকেরা মাওলানা হাকিম আজিজুর রহমান আজমী’।
জ্ঞানচর্চা, ইসলামী শিক্ষা, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায় দীর্ঘ কর্মজীবনে মাওলানা সাঈদুর রহমান আজমি নদভি যে অবদান রেখে গেছেন, তা ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল সরকার বুধবার নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত ঘোষণা করার জন্য বিদ্যমান আইনের সংশোধনের উদ্দেশ্যে একটি অধ্যাদেশ জারির সুপারিশ করেছে। সিংহ দরবারে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুর্যোগ–সম্পর্কিত কিছু আইন সংশোধন এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত ঘোষণা করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা দূর করতে নতুন বিধান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী অসমিত পোখরেল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করতে হলে তাকে ১২ বছর ধরে নিখোঁজ থাকতে হয়। ভোতেকোশি বন্যার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সময় ৪৫ দিনে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
গত ২৬ আগস্ট নেপালে একটি ‘হিমালয়ান সুনামি’ আঘাত হানে। পাথর ও বরফ ধসে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এখনও ৬ হাজারের বেশি মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারের কাজ চলছে। বন্যার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। আগস্টের বন্যায় তিব্বতের সীমান্তবর্তী উঁচু পাহাড়ি ঢালের বসতিগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হঠাৎ হিমবাহের পানি বেরিয়ে আসার পর বন্যার স্রোত আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ওই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বসতি তিমুরে ও সিয়াফ্রু বেসি আকস্মিক বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
অবকাঠামো পুনর্গঠনে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কাজ শেষ হতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগতে পারে। গত ২৬ আগস্ট সকালে রাসুয়া জেলার নদীর তীরবর্তী বসতিগুলোতে বন্যা আঘাত হানে। পরে দ্রুত আশপাশের নুয়াকোট ও ধাদিংসহ অন্যান্য এলাকাতেও বন্যা ছড়িয়ে পড়ে।
বন্যায় অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চালু থাকা আটটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ মেগাওয়াট, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণাধীন আরো চারটি প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩৮৮ মেগাওয়াট। ফলে মোট ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাহত হয়েছে। গালছি-বেত্রাবতী-রাসুওয়াগাধি সড়ক এবং পৃথ্বী মহাসড়কের বড় অংশ ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪৮টি ঝুলন্ত সেতু এবং যান চলাচলের উপযোগী ৩১টি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ