শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:১২ পি.এম
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র, নির্মাণাধীন ভবন, কারখানা, রেস্তোরাঁ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে আটক হচ্ছেন বিদেশি নাগরিকরা।
গ্রেফতার ও দেশে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন অনেক কর্মী, যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা কাজের অনুমতির শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। যারা পরিবারকে ভরণপোষণ করছেন, ঋণের বোঝা বহন করছেন এবং দেশে স্বজনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, তাদের জীবনে এখন অনিশ্চয়তার ছায়া পড়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজার ১১০টি অভিযানে ৬৫ হাজার ৬৯৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৫৩ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৯৬৬ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৫ হাজার ৫৯৭ জন বিদেশিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
যদিও এই পরিসংখ্যান মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের ব্যাপকতা তুলে ধরছে, তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে কতজন আটক ও প্রত্যাবাসিত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের পরিসংখ্যান থেকে অভিযানের তীব্রতা বোঝা যায়। ১২ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিনে ২৫২টি অভিযান পরিচালনা করে ৪ হাজার ৯০৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এ সময় ২ হাজার ১৫৬ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫১ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানাচ্ছে, বৈধ ভ্রমণ নথি বা অবস্থানের অনুমতি না থাকা, ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করা এবং অনুমোদিত শর্তের বাইরে কাজ করা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অন্যতম কারণ। সামাজিক ভ্রমণ ভিসায় প্রবেশ করে বৈধ কর্মানুমতি ছাড়া কাজ করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এ কারণে শুধু অবৈধভাবে প্রবেশ করলেই নয়, বৈধভাবে প্রবেশের পর ভিসা বা কর্মানুমতির শর্ত ভঙ্গ করলেও আটক হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অভিযানের জালে বাংলাদেশিরাও
মালয়েশিয়ায় পূর্ববর্তী অভিযানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি আটক হয়েছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের লেবুহ পুদু এলাকায় পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করে ৪৭২ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৬৪ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
এছাড়া ৮ অক্টোবর সেলাঙ্গরের সেরি কেম্বাঙ্গান ও বান্দার বারু ক্লাং এলাকায় অভিযানে ৩০৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করে ১৭৪ জন বিদেশিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ছিলেন। ওই অভিযানে ছয়জন স্থানীয় নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।
নিয়োগকর্তাদেরও ছাড় নেই
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বিদেশি কর্মীদের আটক করার পাশাপাশি তাদের নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে। ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে ১ হাজার ৯৬৬ জন নিয়োগকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ৪ কোটি ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫০ রিঙ্গিত জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সময়ে বিদেশি অভিবাসীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ৭১ লাখ ২৩ হাজার ৪২০ রিঙ্গিত।
এদিকে মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সুযোগ দিতে পরিচালিত ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০’-এর আওতায় ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ১২ হাজার ১৪৬ জন নিবন্ধন করেছেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৪০ রিঙ্গিত।
কিন্তু কর্মসূচিতে নিবন্ধনের সংখ্যা মানেই সবাই দেশে ফিরে গেছেন, এমন নয়। নিবন্ধন, জরিমানা পরিশোধ এবং প্রকৃত প্রত্যাবাসনের হিসাব আলাদা। তাই কর্মসূচির আওতায় কতজন বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছেন এবং কতজন দেশে ফিরেছেন, তা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অবৈধতার দায় কার?
বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব, দালাল ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়া এবং কর্মানুমতির জটিলতা অনেককে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। কিছু কর্মী মধ্যস্থতাকারীদের আশ্বাসে বিদেশে গিয়ে প্রতিশ্রুত কাজ, বেতন কিংবা বৈধ কাগজপত্র পান না। কারও নিয়োগকর্তা কর্মানুমতি নবায়নে গড়িমসি করেন, আবার কেউ কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে ফেরার খরচ জোগাড় করতে না পেরে অনিশ্চিত অবস্থায় থেকে যান।
তবে এসব কারণের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পৃথক যাচাই প্রয়োজন; সব কর্মীর পরিস্থিতি এক নয়।
একইভাবে আটক হওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশিকে একই অর্থে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করাও ঠিক নয়। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হতে পারে, কারও নথিপত্রে ত্রুটি থাকতে পারে, আবার কারও বিরুদ্ধে অনুমতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকতে পারে। অভিযোগের ধরন ও ব্যক্তির নথি যাচাই করে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
কর্মী নিয়োগের আগে বৈধ কর্মানুমতি যাচাই, অনুমোদিত শর্ত মেনে কাজ করানো এবং আইনগত দায়িত্ব পালন করা নিয়োগকর্তারও কর্তব্য। অবৈধ নিয়োগে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও প্রতারণাকারী মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান কঠিন।
বৈধতা যাচাইয়ে অবহেলা নয়
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের নিজেদের পাসপোর্ট, ভিসা ও কর্মানুমতির মেয়াদ নিয়মিত যাচাই করতে হবে। নিয়োগকর্তা বা মধ্যস্থতাকারীর আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি। কাগজপত্রের সমস্যা দেখা দিলে দালালের কাছে নতুন করে অর্থ না দিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
যাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, তাদেরও সব নথির মেয়াদ ও অনুমোদিত কাজের শর্ত পরীক্ষা করতে হবে। আর যারা অনিয়মিত অবস্থায় পড়ে গেছেন, তাদের জন্য প্রযোজ্য প্রত্যাবাসন কর্মসূচির শর্ত, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেউ হয়রানির শিকার হলে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী কমিউনিটি নেতা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সচল থাকে দেশের বহু পরিবারের জীবন-জীবিকা। অথচ বিদেশে এসে কেউ যদি প্রতারণা, অনিয়মিত নিয়োগ কিংবা কাগজপত্রের জটিলতায় পড়েন, তার দায় শুধু ওই কর্মীর ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার মূল কারণ আড়ালেই থেকে যায়।
এ পরিস্থিতিতে বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধ নিয়োগপত্র, ভিসা ও কর্মানুমতি যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদার করা, প্রতারণাকারী দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংকটে পড়া কর্মীদের জন্য দ্রুত আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে মালয়েশিয়ার আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় প্রতারণার শিকার কর্মী, বৈধ কাগজপত্রধারী শ্রমিক এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় এখন প্রয়োজন শুধু অভিযান নয়, বরং অবৈধতার উৎস বন্ধ করা এবং বৈধ অভিবাসনের পথ আরও নিরাপদ করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলনের ফলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে আগমনকে কেন্দ্র করে বরগুনার বামনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় গাজীরপুল এলাকা থেকে রাফান জোমাদ্দার আকাশ নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বামনা-পাথরঘাটা সড়কের চাড়াখালী এলাকায় বামনা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই ঝটিকা মিছিল বের হয়। মিছিল চলাকালীন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।
মিছিলের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ব্যানার নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসিবুর রহমানের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে।
মিছিলের খবর পেয়ে বামনা থানা-পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ধাওয়া করে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাফান জোমাদ্দার আকাশকে আটক করে।
এ বিষয়ে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন খাঁন বলেন, "মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করলে ঝটিকা মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ধাওয়া করে গাজীরপুল এলাকা থেকে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রাফান জোমাদ্দার আকাশকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভের কারণে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এবং লিওঁর মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে লিওঁর বিরুদ্ধে মাঠে নামার কথা ছিল পিএসজির। তবে ফরাসি পুলিশ নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় লিগ দে ফুটবল প্রফেশনাল (এলএফপি) শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক বিবৃতির মাধ্যমে ম্যাচটি পেছানোর ঘোষণা দেয়।
শনিবারের জন্য পরিকল্পিত বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষার মানের অবনতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গত শনিবার প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, যা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের পর আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রধান শহরে ছাত্র সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থনে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কিছু স্থানে সহিংসতা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
রোববার স্তাদ দ্য ফ্রান্সে পিটসবার্গ স্টিলার্স এবং নিউ অরলিন্স সেইন্টসের মধ্যে এনএফএল (এনএফএল) ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজন হবে।
এই ডাবল সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জের কারণে ফ্রান্সে ঘরোয়া ফুটবলের সূচি ইতোমধ্যেই ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনিক নিরাপত্তার কারণে শনিবারের তুলুজ এবং ট্রয়েসের ম্যাচটি পিছিয়ে রোববারে অনুষ্ঠিত হবে।
ফরাসি এবং ইউরোপীয় ফুটবলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি লিগে ৭ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, সমান পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে লিওঁ।
সূচি পরিবর্তনের ফলে ম্যাচটি এখন লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ব্যালন ডি’অর প্রদান অনুষ্ঠানের দিনেই হবে। চোটে থাকা পিএসজি জুটি উসমান দেম্বেলে এবং খিচা কাভারাস্কেইয়া এবারের ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মনোনীতদের তালিকায় রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘পাঁচ দিন আগে আমার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে। আসামিরা আমার সামনে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে। অথচ জড়িতরা এখনো গ্রেপ্তার হচ্ছে না।’ নিহত শিক্ষার্থী তারেক রহমানের মা নাসিমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বিচার চেয়ে কথা বলছিলেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নরসিংদীর রায়পুরা থানা প্রাঙ্গণে তারেক রহমান হত্যার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসিমা আক্তার আরও বলেন, ‘আমার সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানাচ্ছি।’
দুপুরে থানা প্রাঙ্গণে শত শত নারী-পুরুষ অবস্থান নিয়ে তারেক হত্যার বিচার দাবি করেন। এসময় তারা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ ও ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই’ সহ নানা স্লোগান দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে নিহত তারেক রহমানের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। পরে রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টিএম ফরিদুল আলম জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
জানা যায়, নিহত তারেক রহমান রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর এলাকার মালয়েশিয়াপ্রবাসী জিয়াউর রহমানের ছেলে। গত ১৫ অক্টোবর বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের চার দিন পর, ১৯ অক্টোবর ভেলুয়ারচরের একটি খালের পাড় থেকে তারেকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে মানববন্ধনসহ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টিএম ফরিদুল আলম জানান, ‘তারেক হত্যার ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মহাসড়কে ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং’ মোডে থাকা একটি টেসলা গাড়ির ধাক্কায় ৭১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি ঘণ্টায় ১১২ কিলোমিটার গতিতে চলছিল এবং চালক দাবি করেছেন যে, গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স মোডে ছিল। বৃদ্ধ ব্যক্তি ভালেহো এলাকার ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি ইন্টারচেঞ্জের কাছে গাড়িটি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এনডিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী সান ফ্রান্সিসকোর এক বাসিন্দা টেসলা গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। পথচারী বৃদ্ধ রাস্তার ডান পাশ থেকে সেন্ট্রাল ডিভাইডারের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় সরাসরি টেসলা গাড়িটির সামনে চলে আসেন। নিউইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর রাস্তায় নিথরভাবে পড়ে থাকা ওই বৃদ্ধকে আরেকটি গাড়িও এসে চাপা দিয়ে চলে যায়।
স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ২টা ৩৪ মিনিটে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে দুর্ঘটনার পর কেবল টেসলা গাড়ির চালকই সেখানে থেমেছিলেন। মাঝরাতে ওই বৃদ্ধ কেন এত ব্যস্ত একটি মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ভিডিওতে দেখা গেছে যে পথচারীকে বাঁচানোর জন্য টেসলা গাড়িটি বাম দিকে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করে এবং ব্রেক চেপে ধরে। তবে এই এড়ানোর চেষ্টার পরেও টেসলার সামনের ডান পাশের অংশটি ওই ব্যক্তির গায়ে আঘাত করে।’
ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম ব্যবহার করা হলেও, গাড়িটি নিরাপদে পরিচালনা করার মূল দায়িত্ব চালকের ওপরই বর্তায়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টেসলা গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত জুন মাসে টেক্সাসে স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভার-অ্যাসিস্ট্যান্স মোডে থাকা একটি টেসলা গাড়ি ৭৬ বছর বয়সী মার্থা আভিলা নামের এক বৃদ্ধার বাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে। চালক মাইকেল বাটলার একটি ‘টেসলা মডেল ৩’ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টিতে হুস্টন থেকে প্রায় ৩০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত কেটি এলাকায় স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যখন তাঁর গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়িটির ভেতরে ঢুকে পড়ে।
টেসলা গাড়িটি বাড়ির ইটের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সরাসরি আভিলাকে আঘাত করে। পরবর্তীতে তাঁকে একটি মেডিক্যাল হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গাড়িটি যখন বাড়িতে ঢুকে পড়ে, তখন আভিলা ঘরের সামনের রুমে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অন্যদিকে, চালক বাটলারের মধ্যে মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত থাকার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি এবং তদন্তের সময় তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছিলেন।
যদিও ‘টেসলা অটোক্যাপ্টেন’ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ড্রাইভার-অ্যাসিস্ট্যান্স ফিচার, তবে বছরের পর বছর ধরে এটি বারবার বিভিন্ন পারফরম্যান্সজনিত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এই ধরনের ঝুঁকি এড়াতে টেসলার নির্দেশিকায় চালকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে, যেন তাঁরা সবসময় স্টিয়ারিং হুইলে হাত রাখেন এবং যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত থাকেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ