বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৪:৪৯ পি.এম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সমালোচকদের মতে, দলটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড কেবল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা নয়, বরং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐকমত্যের ওপর চাপ তৈরি করেও দ্রুত ক্ষমতার দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।
এমনটাই মনে করছেন তারা। এই আলোচনা মূলত উঠে এসেছে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যকে ঘিরে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, সংস্কার এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্যকে অনেকে গঠনমূলক রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখতে চান না; বরং এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর একটি নবগঠিত বা স্থিতিশীলতা পুনর্গঠনের পথে থাকা সরকারকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সমালোচকদের আরেকটি মত হলো—জামায়াত একদিকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা বলছে, কিন্তু অন্যদিকে সরকারের প্রতি পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তাদের মতে, এই দ্বৈত অবস্থান জাতীয় পুনর্মিলন এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের পরিবর্তে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত এবং চাপের সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে, যা দ্রুত রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতাকেই উৎসাহিত করে।
জামায়াতের অবস্থান নিয়ে আরও একটি প্রশ্ন উঠেছে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তাদের তুলনামূলক নীরবতা নিয়ে। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টানা হচ্ছে।
সমালোচকদের দাবি, জামায়াত নিজেদের জাতীয় স্বার্থ এবং ইসলামী সংহতির রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করলেও, এমন কিছু নীতিগত ইস্যুতে তাদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সংযত অথবা নীরব, যেখানে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতা বা শিল্পখাতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই ‘নির্বাচিত প্রতিক্রিয়া’ তাদের বক্তব্য এবং বাস্তব অবস্থানের মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি করছে বলে তারা মনে করেন।
আরেকটি সমালোচনা উঠে এসেছে নতুন রাজনৈতিক শক্তি এবং অ্যাক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে। বিরোধীদের অভিযোগ, এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশে দলটি সুবিধা পেয়েছে যেখানে ভিন্নমতকে প্রায়ই “ফ্যাসিস্ট” অথবা সংস্কারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাদের মতে, এই ধরনের লেবেলিংয়ের ফলে রাজনৈতিক বিতর্কের স্বাভাবিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে গঠনমূলক সমালোচনা যথাযথ আলোচনা ছাড়াই বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
কারো কারো মতে, জামায়াতের প্রভাব কেবল দলীয় কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামাজিক, শিক্ষাগত, ধর্মীয় এবং নাগরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয় সমমনা এবং সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমেও তা বিস্তৃত হচ্ছে। যদিও প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে তাদের দাবি অনুযায়ী এসব নেটওয়ার্কের সম্মিলিত প্রভাব নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে, যাদের অনেকেই জামায়াতের আদর্শিক অবস্থানের বিরোধী হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাও এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বাংলাদেশ এখনো ‘রাস্তার রাজনীতি’, জনচাপভিত্তিক আন্দোলন এবং ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দৃশ্যমান কিছু অনানুষ্ঠানিক রাজনৈতিক চাপের প্রবণতার প্রভাব মোকাবিলা করছে। ধারাবাহিক সরকারগুলো এসব প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বলেও তারা মনে করেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার সুযোগ করে দিচ্ছে।
এছাড়া, কিছু ক্ষেত্রে জামায়াতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। দলটি বিশ্বজুড়ে মুসলিম ইস্যুতে সরব থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত ভূমিকা অথবা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত—যা জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে—সেসব বিষয়ে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে সমালোচকদের দাবি। তাদের মতে, মুসলিম স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিক শক্তির ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে আরও ধারাবাহিক ও স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশিত।
তবে এই সমালোচনাগুলো সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্য নাকি রাজনৈতিক ব্যাখ্যার অংশ—তা একটি চলমান বিতর্কের বিষয়। তবুও উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয় হলো, জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক শক্তির বর্তমান কৌশল গণতান্ত্রিক চর্চা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্থিতিশীলতার পরিবর্তে দ্রুত ক্ষমতার প্রতিযোগিতার দিকে ঝুঁকছে কি না, সে প্রশ্ন।
একটি ভঙ্গুর রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত একটিই—দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে সংবিধান, প্রতিষ্ঠান এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কারণ রাজনৈতিক সংঘাত এবং অস্থিরতা বাড়লে তার চাপ পড়ে পুরো রাষ্ট্র কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক অর্জনের ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। দেশটির স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, বিকেল ৫টায় চীনের বেইজিংয়ের গ্রেট হলে দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানা যায়, বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাবিষয়ক ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। বৈঠকে গুরুত্ব পাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান।
আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আশা করি এসব চুক্তি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
এদিন চীনা বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের আলোচনায়।
শুধু চীনা প্রধানমন্ত্রী নয়, আজ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও আলাদা কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষে ওই দিনই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা সরকার প্রধানের।
এর আগে চীনের দালিয়ান প্রদেশে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের সম্মেলন শেষে গত বুধবার, ২৪ জুন, বিকেলে বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। দেয়া হয় লালগালিচা সংবর্ধনা, ছিল গার্ড অব অনারও।
বুধবার দিনভর দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যম অঙ্গনের ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সাইডলাইন বৈঠকে কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উচ্চ মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে ‘অগ্রাধিকার (থ্রাস্ট) খাত’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
আজ সংসদে ফেনী-২ আসনের বিএনপির সদস্য জয়নাল আবদিন-এর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কম শ্রম ব্যয়, দক্ষ জনশক্তি এবং মাঝারি আকারের জাহাজের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই ব্লু ইকোনমি ও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ খাতকে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত যৌক্তিক।
তিনি আরও জানান, জাহাজ নির্মাণ শিল্প একটি উচ্চ মূলধননির্ভর খাত। তাই এ শিল্পের বিকাশে বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধার প্রয়োজন রয়েছে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদে ঋণ, যেমন চার শতাংশ সুদে অর্থায়ন এবং রপ্তানি ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও শিপইয়ার্ডগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এ খাতের বিকাশে পশ্চাৎ-সংযোগ (ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ) শিল্পের উন্নয়নও জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে নির্মিত জাহাজে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন হয়। তবে মেরিন কেবল, মেরিন পেইন্ট, ফাইবারগ্লাস ও স্টিল প্লেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ দেশেই উৎপাদন করা গেলে, মূল্য সংযোজনের হার ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।
মন্ত্রী রপ্তানিমুখী শিপইয়ার্ডগুলোর জন্য শুল্ক প্রণোদনা ও কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ১২ হাজার টন ধারণক্ষমতা পর্যন্ত ছোট ও মাঝারি আকারের জাহাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
এছাড়া কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করলে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাতাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওয়েল্ডিং, জাহাজ নকশা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং নৌ-স্থাপত্য বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। এভাবে প্রতিবছর হাজার হাজার দক্ষ ও অর্ধদক্ষ তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী ইউরোপসহ বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব জাহাজের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং সবুজ প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে।
শেখ রবিউল আলম আশা প্রকাশ করেন যে, জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিসহ বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন ও প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা গেলে, এ খাত থেকে বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জন করতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানের লামা পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কোনো কর আরোপ ছাড়াই অবকাঠামো উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখে এই বাজেট উন্মোচন করা হলো। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন, ২০২৬) সকালে লামা পৌরসভা মিলনায়তনে ১১ কোটি ২৩ লাখ তিন হাজার ৬১৩ টাকার বাজেটটি ঘোষণা করা হয়।
বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন। ঘোষিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ দুই কোটি ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭২২ টাকা ধরা হয়েছে। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সমাপনী স্থিতি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭২২ টাকা।
এ খাতে উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের মধ্যে সাধারণ সংস্থাপন শাখার জন্য এক কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা, স্বাস্থ্য ও পয়ঃপ্রণালি খাতে ২৫ লাখ ২০ হাজার ও শিক্ষা খাতে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পানি সরবরাহ সহ প্রয়োজনীয় বরাদ্দও রাখা হয়েছে।
বাজেটের উন্নয়ন খাতে মোট আয় ও ব্যয় ধরা হয়েছে আট কোটি ৭০ লাখ টাকা। আয় বিবরণে সরকারের উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরি এক কোটি টাকা, কোভিড-১৯ রিকভারি প্রকল্প বাবদ তিন কোটি টাকা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মঞ্জুরি ৫০ লাখ টাকা পান লামা পৌরসভা।
এ ছাড়া সরকারের বিশেষ বরাদ্দ থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা, পৌরভবন সম্প্রসারণে ৫০ লাখ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে তিন কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
ব্যয় বিবরণে অবকাঠামো উন্নয়ন বাবদ পাঁচ কোটি ৪০ লাখ টাকা, পৌরভবন সম্প্রসারণ ও সংস্কার, স্টাফ ডরমেটরি নির্মাণ, পৌর ভবনের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং মার্কেট নির্মাণ বাবদ এক কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
বাজেট সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন পৌর প্রশাসকের কর্মসম্পাদনে সহায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কায়সার হামিদ, জেলা বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক ও লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন, লামা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব ও উপজেলা জামায়াতের আমির কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহীম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপসাগরীয় মিত্রদের সাথে আলোচনা করেন এবং বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রাখা হবে।
আঞ্চলিক অংশীদারদের কাছে এই সফরের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে প্রাথমিক চুক্তিটি গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করে। সফর শেষ করার সময় রুবিও এ কথা বলেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে বাহরাইনে উপসাগরীয় আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তার দীর্ঘদিনের শত্রু ইরানের সাথে একটি স্থায়ী শান্তির চেষ্টা করছে, যা তেলসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ণ করবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সংঘাত চলাকালে ইরান বিশ্বের দুইটি সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যা তেল প্রবাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বৃহত্তর অর্থনীতিকে সংকটাপন্ন করে।
রুবিও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর কোনো দেশেরই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের জন্য অর্থ আদায়ের অধিকার নেই। এবং এটি কোনো চুক্তিরই গ্রহণযোগ্য শর্ত হতে পারে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে মৌলিকভাবে স্পষ্ট।’
এদিকে, বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি, যিনি এই সমাবেশের সভাপতিত্ব করছেন, তিনি প্রণালীটির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ওমানের করিডোর ঘোষণার বিষয়টিকে স্বাগত জানান।
গত সপ্তাহে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে রুবিওর তিন দিনের উপসাগরীয় সফরটি প্রথম উচ্চ-পর্যায়ের কূটনৈতিক মিশন। এই সংঘাত শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে।
রুবিও তার মিশনের সংবেদনশীলতার কথা স্বীকার করেছেন এবং উপসাগরীয় আরব নেতাদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন, যারা শঙ্কিত যে অতিরিক্ত ছাড় তেহরানকে শক্তিশালী করতে পারে এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্য ও তেল প্রবাহের ধরন পরিবর্তন করতে পারে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে তার পূর্ববর্তী সফরগুলোতে রুবিও কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, প্রস্তাবিত চুক্তিটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত অনুকূল নয়। ইরান মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের সময় বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় রাষ্ট্রে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল।
রুবিও কুয়েতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এমন কিছুই করব না যা এই অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করে।’
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ