বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১০ পি.এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ প্রদান করেছেন। এই ৩৮ মিনিটের ভাষণে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন ট্রাম্পের ভাষণে উল্লেখিত কিছু অতিরঞ্জন এবং অসত্য দাবির বিষয়ে আলোকপাত করেছে। যদিও ট্রাম্প জাতিসংঘে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছিলেন।
জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প তার একটি প্রায়শই করা মিথ্যা দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আটটি যুদ্ধের সমাধান করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয় ছিল।’
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, কসোভো ও সার্বিয়া, রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ভারত ও পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান এবং গাজার যুদ্ধের কথা বলছেন। তিনি পূর্বে দাবি করেছিলেন যে তাঁর অবসান ঘটানো অন্য দুটি যুদ্ধ ছিল— গত বছরের ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘাত এবং মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার একটি কথিত যুদ্ধ।
ট্রাম্পের এই ৮টি যুদ্ধ থামানোর দাবি স্পষ্টতই একটি অতিরঞ্জন। তার তালিকায় এমন দুটি পরিস্থিতির কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা তার কার্যকালে আসলে কখনোই যুদ্ধ ছিল না। মিশর ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার পরিস্থিতিটি ছিল একটি ইথিওপিয়ান বাঁধ প্রকল্প নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ, এটি কোনো যুদ্ধ নয়। সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে যে রহস্যময় কথিত সমস্যার তিনি সমাধান করেছেন বলে দাবি করছেন, সেটিও কোনো যুদ্ধ ছিল না। তাছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার যুদ্ধটি এখনও শেষ হয়নি। ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ থামানোর দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও ইসরাইল সেই ভূখণ্ডে ঘন ঘন হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে।
ট্রাম্প অবশ্য ২০২৫ সালে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ত সংঘাতটির অবসান ঘটাতে সাহায্য করেছিলেন, যদিও পরবর্তীতে ২০২৬ সালে ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটি নতুন যুদ্ধ শুরু করতে ইসরাইল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দেয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপর আক্রমণ করতে পারে বা মানুষকে মেরে ফেলতে পারে—এমন মারাত্মক সতর্কবাণীগুলোকে ট্রাম্প তার ভাষণে উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, এই সতর্কবাণীগুলো আসছে “ঠিক সেইসব মানুষের কাছ থেকে যারা বলেছিল যে আমরা সবাই ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের’ কারণে ১২ বছরের মধ্যে মারা যাব। যে শব্দটির নাম পরবর্তীতে বদলে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ রাখা হয়েছিল। কারণ গ্রহটি শীতল হচ্ছিল, উষ্ণ নয় এবং কেউই মারা যায়নি।”
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সম্পর্কে তার এই একটিমাত্র বাক্যের মধ্যে অন্তত চারটি বড় ভুল রয়েছে। প্রথমত, ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দগুচ্ছটি প্রচলিত হলেও ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়ন’ শব্দগুচ্ছটির ব্যাপক ব্যবহার এখনও বজায় রয়েছে। এই দুটি শব্দের অর্থ সম্পুর্ণ আলাদা। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা দুটি শব্দই ব্যবহার করেন; সাধারণত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা বোঝাতে তারা ’বৈশ্বিক উষ্ণায়ন’ ব্যবহার করেন, আর সেই প্রবণতার কারণে পৃথিবী জুড়ে যে বহুবিধ প্রভাব দেখা দিচ্ছে তা বোঝাতে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দটি ব্যবহার করেন। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেলের ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ’ক্লাইমেট চেঞ্জ ২০২৩: সিন্থেসিস রিপোর্ট’। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, প্রধানত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাধ্যমে, সুনিশ্চিতভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটিয়েছে; যার ফলে ২০১১-২০২০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১৮৫০-১৯০০ সালের তুলনায় ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।’
দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প ঠিক কোন সময়ের কথা বলছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে না জানালেও, তিনি এই বাস্তব সত্যটি স্বীকার করেননি যে পৃথিবী ক্রমাগত উষ্ণ হচ্ছে, শীতল নয়। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা গত জানুয়ারিতে জানিয়েছে যে, ‘রেকর্ড অনুযায়ী বিগত ১১ বছর ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম ১১টি বছর; যার মধ্যে ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সাল ছিল ইতিহাসের তিনটি সবচেয়ে বেশি উষ্ণ বছর; যা নাসার গবেষণাতেও উঠে এসেছে। যদিও ২০২৫ সাল ২০২৪ সালের মতো অতটা উত্তপ্ত ছিল না।
তৃতীয়ত, উষ্ণায়নের এই নানা প্রভাবের কারণে ‘কেউই মারা যায়নি’; ট্রাম্পের এমন দাবির সাথে বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেন। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা অসম্ভব হলেও, কিছু হিসাব অনুযায়ী এই সংখ্যা কোটিতে পৌঁছাতে পারে। আর এই মৃত্যুর ধারা চলতেই থাকবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ’২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া এবং অতিরিক্ত গরমের কারণেই প্রতি বছর আনুমানিক আরও আড়াই লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।’
চতুর্থত, কোনো ব্যক্তি হয়তো কোথাও বলে থাকতে পারেন যে ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আমরা সবাই ১২ বছরের মধ্যে মারা যাব’। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের কোনো প্রতিবেদনে বিষয়টিকে এভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ২০১৮ সালে জলবায়ু বিজ্ঞানীদের বহুল আলোচিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, প্রাক-শিল্পায়নের যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হলে আগামী ১২ বছরের মধ্যে কার্বন নির্গমন মারাত্মকভাবে কমিয়ে আনতে হবে। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন যে এই সীমা পার হয়ে গেলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য মারাত্মক ও প্রাণঘাতী প্রভাবগুলো আরও প্রকট হবে। যদিও ২০১৮ সালের প্রতিবেদনটিকে রাজনীতিবিদরা প্রায়শই অতি-সরলীকরণ করেছিলেন, তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি কখনোই এটি ছিল না যে ‘আমরা সবাই ১২ বছরের মধ্যে মারা যাব’। তাদের মূল বক্তব্য ছিল যে ভবিষ্যৎ ভালো রাখার জন্য আগামী ১২ বছরের মধ্যে বড় ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের জোয়ার বইছে; তার নিজের এই পূর্ববর্তী ভুল দাবির একটি কিছুটা সতর্ক সংস্করণ এবার ট্রাম্প পেশ করেছেন। জাতিসংঘে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা সারা বিশ্ব থেকে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করেছি। ‘তাঁর এই 'প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত' করার নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়ার পরেও এই সংখ্যাটির কোনো দৃশ্যমান ভিত্তি নেই। হোয়াইট হাউস কখনোই এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট যখন জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ওয়েবসাইটেই দাবি করা হয়েছিল যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ‘১১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের’ প্রধান বিনিয়োগ ঘোষণা এসেছে, যা প্রেসিডেন্টের উল্লেখ করা ‘২১ ট্রিলিয়ন ডলারের’ প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম। তাছাড়া, ২০২৫ সালে একটি বিশদ পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, হোয়াইট হাউসের তৈরি করা সেই তালিকায় ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের অস্পষ্ট বিনিয়োগের অঙ্গীকার বা ওয়াদাকে গণনা করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল মূলত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বা অর্থনৈতিক আদান-প্রদান সম্পর্কিত, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি কোনো বিনিয়োগের বিষয় নয়। এমনকি সেখানে এমন কিছু অস্পষ্ট বিবৃতিও যুক্ত করা হয়েছিল যা সাধারণ অঙ্গীকারের পর্যায়েও পড়ে না।
হোয়াইট হাউসের এই হিসাবের মধ্যে যেমন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার রয়েছে, তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির অঙ্গীকারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ফেডারেল তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী দেখা যায়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত নতুন প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩২ বিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্প তার ভাষণে ইরানের সাথে যুদ্ধের পক্ষে দীর্ঘক্ষণ সাফাই গেয়েছেন। এবং তিনি দাবি করেছেন, ‘কাপুরুষ ও দেশদ্রোহীরা বলতে পছন্দ করবে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু তা সত্যি নয়। আমাদের কাছে এত বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, যা আমরা কখনো ব্যবহার করার কথা ভাবতেও পারি না এবং আমরা এমন স্তরে এগুলো তৈরি করছি যা আমরা আগে কখনো করিনি।’
মার্কিন গোলাবারুদের মজুদের বর্তমান সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কিত গোপন তথ্যে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নেই এবং ট্রাম্প কাদের ‘কাপুরুষ ও দেশদ্রোহী’ বলছেন তাও স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের সাথে যুদ্ধ যে মার্কিন গোলাবারুদের অন্তত কিছু স্তরের মজুদ কমিয়েছে; তা কেবল গণমাধ্যমই রিপোর্ট করেনি; প্রতিরক্ষা বিভাগ তদারকি করা ফেডারেল ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং ফেডারেল কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসও গত সপ্তাহে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে মূলত একই কথা বলেছে।
ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি অ্যাকুইজিশন অফিস জানিয়েছে যে, ‘এই (যুদ্ধে) গোলাবারুদ ব্যয়ের ফলে কৌশলগত ইনভেন্টরিতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং গোলাবারুদ পুনরায় সরবরাহের ক্ষেত্রে শিল্প ভিত্তির বাধাগুলোকে উন্মোচন করেছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাকুইজিশন অফিস আরো উল্লেখ করেছে যে পেন্টাগন প্রশমন কৌশলগুলো বাস্তবায়ন শুরু করলেও, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তির উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন। প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বাধাগুলো রয়ে গেছে সলিড রকেট মোটর উৎপাদন, উচ্চ-মানের বিস্ফোরক ও প্রোপেল্যান্টের প্রাপ্যতা এবং দক্ষ উৎপাদন শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে।’
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ‘মিসাইল ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি রয়েছে এবং এই যুদ্ধ কয়েক বছরের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইন্টারসেপ্টরের একটি হ্রাসপ্রাপ্ত মজুদের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাতের সময় ইসরাইল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ করার আগেও প্রতিরক্ষা বিভাগের কাছে ইন্টারসেপ্টরের মজুদ সীমিত ছিল। বাজেট অফিসের গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ২০২৫ সালের জুন থেকে এই গোলাবারুদগুলোর ইনভেন্টরির অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রতিরক্ষা বিভাগ সম্প্রতি যে পরিমাণ মিসাইল ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, সেগুলোর বর্তমান কম উৎপাদন হার এবং ঐতিহাসিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির জটিলতা বিবেচনা করলে, প্রতিরক্ষা বিভাগের ইন্টারসেপ্টরের মজুদ পুনর্গঠন করতে সম্ভবত অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে; এমনকি উৎপাদন বাড়ানো হলেও।’
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অপরাধের হার কমার যে চিত্র, তা আবারও বাড়িয়ে উপস্থাপন করেছেন। তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘গত বছরের ২০ জানুয়ারি আমি যখন ওয়াশিংটন, ডিসি-তে এসেছিলাম, তখন এটি অপরাধে জর্জরিত ছিল এবং এখন অপরাধের হার ৮৭ ভাগ কমে গেছে এবং আমরা এটিকে শতভাগে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’ এই ৮৭ ভাগ কমার দাবিটি মোটেও সঠিক নয়।
যদিও এই বছর ওয়াশিংটনে সামগ্রিক অপরাধের হার প্রকৃতপক্ষে কমেছে। তবুও স্থানীয় পুলিশ বিভাগ গত সোমবার পর্যন্ত মোট ১৫ হাজারেরও বেশি অপরাধ রেকর্ড করেছে এবং তা প্রকাশ্য নথিতে জানিয়েছে। ২০২৪ সালের একই তারিখের তুলনায় এটি প্রায় ২৩ ভাগ কমেছে। কিন্তু ট্রাম্প বারবার যে ৮০ শতাংশের বেশি কমার দাবি করছেন, তা কোনোভাবেই নয়।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট গত আগস্ট মাসে এক প্রতিবেদনে জানায় যে, দেশের রাজধানীতে অপরাধের হার ৮১ ভাগ, ৮৮ ভাগ বা ৯২ ভাগ কমে গেছে বলে ট্রাম্প যে দাবিগুলো করেছেন, হোয়াইট হাউস তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। আগামীতে স্থানীয় সরকারের সকল স্তরের নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সাধারণ সদস্য এবং সাধারণ সদস্য আসনের জন্য প্রতীক বরাদ্দ করেছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। তবে আজ বুধবার সেই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানদের জন্য ২০টি, সংরক্ষিত আসনে ১০টি এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থীদের জন্য ১২টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কোন পদে থাকছে কী প্রতীক
চেয়ারম্যান পদের জন্য বরাদ্দকৃত ২০টি প্রতীক হলো: কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা এবং হাঁস।
সাধারণ আসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১২টি প্রতীক হলো: উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব এবং মোরগ।
সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বরাদ্দকৃত ১০টি প্রতীক হলো: আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ এবং হেলিকপ্টার।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দেশের ও বিদেশের প্রার্থীর নিজস্ব এবং নির্ভরশীলদের সম্পদের হিসাবও দিতে হবে।
বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়ে যাবে।
এদিকে, চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যয়ের সীমা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য পদপ্রার্থীর ব্যয় ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেতা গোবিন্দাকে কেন্দ্র করে আবারও পরকীয়া নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তার কন্যার বয়সী সহ-অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে চলছে বিভিন্ন আলোচনা। এর মধ্যে মুম্বাইয়ের লালবাগচা রাজা দর্শনে দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে। স্বামীকে ঘিরে এই গুঞ্জনের মাঝে নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন গোবিন্দার স্ত্রী সুনীতা আহুজা।
এক কাল্পনিক পরিস্থিতিতে ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’-এর জন্য বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খানকে বেছে নিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, সুযোগ পেলে শাহরুখের সঙ্গে এক রাত কাটাতে চান গোবিন্দার স্ত্রী। ‘লক আপ ২’-এর মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসার পর সম্প্রতি ‘হোয়াই নট উইথ এমএনএল’ সিজন ৩-এ অতিথি হয়ে হাজির হন সুনীতা। অনুষ্ঠানের দ্রুত প্রশ্নোত্তর পর্বে তাকে শাহরুখ খান, শহিদ কাপুর ও হর্ষবর্ধন রানের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে বলা হয়।
কোনো দ্বিধা না করেই সুনীতা শাহরুখ খানের নাম নেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এমন কাল্পনিক পরিস্থিতিতে তার প্রথম পছন্দ শাহরুখ খান। এদিকে, গোবিন্দাকে ঘিরে অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে স্বামীর অন্য নারীদের প্রতি আকর্ষণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সুনীতা। তবে সাম্প্রতিক গুঞ্জন নিয়ে তার কোনো ক্ষোভ নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। এমনকি গোবিন্দাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।
নিজের স্বাধীনতা ও জীবনযাপন প্রসঙ্গে সুনীতা বলেন, ‘আমি চাই সবাই নিজের মতো জীবনযাপন করুক এবং অন্যকেও বাঁচতে দিক। ও ওর মতো জীবন কাটাচ্ছে, আর আমিও আমার মতো করে নিজের জীবন গুছিয়ে নিচ্ছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তারা বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। তাদের এই ধরনের অরাজকতা, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস করতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘একদিকে রাজনৈতিকভাবে আমরা মোকাবিলা করব। অন্যদিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা সজাগ ও সতর্ক থাকবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আজকের সভাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কোথায় চুরি, কোথায় রাহাজানি, কোথায় ডাকাতি, কোথায় ছিনতাই, কোথায় অবৈধ অস্ত্র, কোথায় মাদক—এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রশাসন ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা বিশদ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী দিনে এই জেলাকে সুন্দরভাবে সমন্বিত রাখতে হবে।’
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে কিছু কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে। জনস্বার্থে, জনগণের প্রয়োজনে উল্লেখযোগ্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নির্মূল, পাহাড় কাটা সংক্রান্ত, বালু উত্তোলনসহ বিশেষ কিছু কাজ রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, এসব কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। সেই বিষয়েও আমরা বিশদ আলোচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’
চট্টগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরে এ্যানি বলেন, ‘সব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি সুন্দর চট্টগ্রাম নগরী এবং চট্টগ্রাম জেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে। এই জেলা ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সিটি।’
আগামী দিনে চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামকে গুরুত্ব দিয়ে যেসব উন্নয়ন কাজ সমন্বয় করা প্রয়োজন, সেই দিকে বিশেষ নজর দেব—এটি আমাদের প্রত্যাশা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সব পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং বিশেষ করে এই চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের স্বার্থে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইনশাআল্লাহ, এই এলাকার মানুষ সেখান থেকে ফলাফল পাবেন।’
এর আগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্ল্যাহ, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ সিভিল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের গুপ্ত বাহিনী শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে সমর্থন দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পলাতক ফ্যাসিস্ট ভারতে অবস্থান করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। আর দেশের অভ্যন্তরে গুপ্ত এবং সুপ্তরা তাল পাতার পাখা দিয়ে বাতাস দিচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কর্তৃক আয়োজিত দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কিউবায় ১০ থেকে ১৫ দিন বিদ্যুৎ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
রিজভী আরও বলেন, পৃথিবীর মোট যে তেলের জাহাজ এবং জ্বালানির জাহাজ রয়েছে, তার ৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। সেখানে কী ঘটছে? বিরোধী দলের বিষয়টি কি তারা দেখছেন না?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ