বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২১ পি.এম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, দেশের গুপ্ত বাহিনী শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রে সমর্থন দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পলাতক ফ্যাসিস্ট ভারতে অবস্থান করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। আর দেশের অভ্যন্তরে গুপ্ত এবং সুপ্তরা তাল পাতার পাখা দিয়ে বাতাস দিচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কর্তৃক আয়োজিত দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস এবং অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। কিউবায় ১০ থেকে ১৫ দিন বিদ্যুৎ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
রিজভী আরও বলেন, পৃথিবীর মোট যে তেলের জাহাজ এবং জ্বালানির জাহাজ রয়েছে, তার ৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। সেখানে কী ঘটছে? বিরোধী দলের বিষয়টি কি তারা দেখছেন না?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইরানের বিমান চলাচল খাতে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার ফলে বুধবার ইরানি এয়ারলাইনগুলো কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে, যা ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার একটি অংশ।
একটি ট্রাভেল এজেন্ট এএফপিকে জানায়, বাগদাদ, মাসকাট, কাতার, জর্জিয়া ও আজারবাইজানের ফ্লাইটগুলো স্থগিত করা হয়েছে। তবে চীনসহ কিছু গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার নতুন পদক্ষেপগুলোর ঘোষণা দেন, যা ইরানকে কাবু করার প্রচেষ্টার একটি অংশ। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
নতুন পদক্ষেপের পূর্ণ প্রভাব এবং অন্যান্য দেশ কতটা তা মেনে চলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বুধবার নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও ফ্লাইটরাডার২৪-এর উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরানের অন্যতম বৃহৎ বিমান পরিবহন সংস্থা মাহান এয়ার পরিচালিত তেহরান থেকে একটি ফ্লাইট চীনের গুয়াংজুতে অবতরণ করেছে।
চীন মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে এবং এগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, সাংহাইগামী একটি ফ্লাইটও বুধবার ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, তেহরানের ওই ট্রাভেল এজেন্ট এএফপিকে জানান, ইস্তাম্বুলগামী কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচি ছিল, যদিও অন্য কয়েকটি বাতিল করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এজেন্ট বলেন, ‘পরিস্থিতি অস্থিতিশীল এবং বাতিলের আশঙ্কায় আমরা আপাতত টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছি।’
কাবুল থেকে মাহান এয়ারের একটি ফ্লাইটও দুপুরের দিকে তেহরানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তেহরানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ছোট ইরানি এয়ারলাইনগুলোর মাধ্যমে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ায়ও কিছু ফ্লাইট চলাচল সম্ভব ছিল। এসব এয়ারলাইনের মধ্যে ভরেশও রয়েছে।
ইরাকের নাজাফ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইগামী ফ্লাইটের সময়সূচিও ছিল। সোমবার বেসেন্ট ইরানের বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে ‘বন্ধ করে দেওয়ার’ এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসা করা যে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
তিনি অন্যান্য দেশকে সতর্ক করে বলেন, ‘তারা অবতরণ করলে আপনারা তাদের জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবেন না, অবতরণসেবা দিতে পারবেন না, তাদের কাছে টিকিট বিক্রি করতে পারবেন না। তা করলে আপনাদের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হবে।’
নতুন বিধিনিষেধের ফলে ইরানিদের বিদেশ ভ্রমণ এবং নিজ দেশে ফিরে আসার সক্ষমতা আরও জটিল হয়ে পড়বে।
ইরানের গণমাধ্যমগুলোও ফ্লাইট বাতিলের খবর দিয়েছে। তাসনিম বার্তা সংস্থা মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, বাগদাদ ও মাসকাটের বিমানবন্দরগুলো ‘আর ইরানের ফ্লাইট গ্রহণ করবে না’।
তাসনিম জানায়, ‘ইস্তাম্বুলসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে চলবে এবং বর্তমানে এসব ফ্লাইটে কোনো সমস্যা নেই।’
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলো নাজাফে পুনর্নির্দেশ করার বিষয়ে আলোচনা করছে। নাজাফ ইরানি তীর্থযাত্রীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
ইরাকে সরকার প্রকাশ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা না করলেও একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাসহ কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বাগদাদ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মেনে চলবে।
দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনায় ইরাকের কিছু ট্রাভেল এজেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিয়া মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থানের শহর নাজাফে ট্রাভেল এজেন্ট হায়দার শামা বলেন, ‘শহরের অধিকাংশ ভ্রমণ কোম্পানি ইরানের বিমানবন্দরগামী ফ্লাইটের টিকিট বুকিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।’
বেশ কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি জানায়, উদ্বিগ্ন গ্রাহকেরা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য জানতে ফোন করছেন এবং স্থলপথে যাতায়াতের কথা ভাবছেন। এতে ভ্রমণে অনেক বেশি সময় লাগবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে পুনরায় খেলাধুলার জন্য উপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, নগরীর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম।
,
গতকাল বুধবার, স্টেডিয়াম দুটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ফতুল্লার শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে ক্রীড়া সচিব বলেন, স্টেডিয়ামটি একসময় আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৬ সাল পর্যন্ত এখানে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু পরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে মাঠটি ধীরে ধীরে নিচু হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার ফলে অন্যান্য অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামটি পরিদর্শন করেছে। তারা পুরো অবকাঠামো পর্যালোচনা করে মাঠটি পুনরায় খেলার উপযোগী করার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদ্যোগে স্টেডিয়ামের আউটডোর অংশে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে উল্লেখ করে মাহবুব উল আলম বলেন, আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব জমা হলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, “আশা করছি, স্টেডিয়ামটির পূর্বের যে ঐতিহ্য ছিল, সেটি আবার ফিরিয়ে আনতে পারব। জেলা প্রশাসন, বিসিবি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এর আগে, ক্রীড়া সচিব ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে এখানকার ক্রীড়া অবকাঠামোকে এখনো পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। মাহবুব উল আলম বলেন, “এটিকে কীভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা এটিকে একটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এনে পূর্ণাঙ্গ স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
প্রস্তাবিত স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ফুটবল, ক্রিকেট, ইনডোর গেমস ও ফুটসালসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ঢাকার কাছাকাছি অবস্থানের কারণে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ক্রীড়া সচিব বলেন, “আমরা এটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও জানান, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম তৈরির পাশাপাশি উপজেলা ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। মেধা অন্বেষণ ও ট্যালেন্ট হান্টিংয়ের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রমও চলছে। পরিদর্শনের সময় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষ রাজকীয় ক্ষমার আওতায় গৃহবন্দি থাকার অনুমতি দেওয়ার ফলে ৪৫০ কোটি ডলারের ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি নিয়ে মালয়েশিয়ায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সমালোচকরা দাবি করছেন, নাজিবের কারাগারে থাকার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, তার সমর্থকেরা সাবেক এই নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তরের জন্য জরিমানা পরিশোধে সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের প্রচারণা শুরু করেছেন।
২০২২ সালে রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল ওয়ানএমডিবি থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ৭৩ বছর বয়সী নাজিবকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওয়ানএমডিবির পূর্ণ নাম ১মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ।
কুয়ালালামপুর থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবার রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিবের ছয় বছরের কারাদণ্ডের বাকি সময় গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে, এর জন্য তাকে ৫ কোটি রিঙ্গিত (১ কোটি ২০ লাখ ডলার) জরিমানা দিতে হবে।
নাজিব ওয়ানএমডিবি-সংক্রান্ত আরেকটি মামলায় দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, ২০১০-এর দশকে রাষ্ট্রীয় ওই তহবিল থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই কেলেঙ্কারি ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)-এর পতনে ভূমিকা রেখেছে, যা ২০১৮ সালে দলটির ছয় দশকের ক্ষমতার অবসান ঘটায়।
তবে, নাজিব এখনও তার রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী এবং ইউএমএনওর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়।
৪৯ বছর বয়সী উদ্যোক্তা জেমস চাও বলেন, "আরও কয়েকটি মামলা বিচারের অপেক্ষায় থাকা একজন দোষী সাব্যস্ত অপরাধীকে কীভাবে গৃহবন্দি থাকার সুযোগ দেওয়া যায়?"
তিনি এএফপিকে বলেন, "এটি সময় ও অর্থের অপচয় এবং আইনের প্রতি উপহাস।"
একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ৫২ বছর বয়সী শ্যাম প্রিয়াহ বলেন, ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজার "সাংবিধানিক বিশেষাধিকারকে" তিনি সম্মান করেন।
তবে, নাজিবের জরিমানা পরিশোধে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি এএফপিকে বলেন, "একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ৫ কোটি রিঙ্গিতের জরিমানা পরিশোধে সাধারণ মালয়েশীয়দের ১০ রিঙ্গিত করে দিতে সংগঠিত হতে দেখে সমাজ হিসেবে আমাদের অগ্রাধিকার নিয়ে আমার মনে আরও বড় একটি প্রশ্ন তৈরি হয়।"
তিনি বলেন, "১০ রিঙ্গিত কোনো অসচ্ছল মানুষের এক বেলার খাবারের অর্থ হতে পারে।"
তবে, নাজিবের সমর্থকেরা রাজার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
৬৮ বছর বয়সী সমর্থক রাদিয়া রশিদ এএফপিকে বলেন, "নাজিবকে ভালোবাসেন এমন সমর্থকেরা তিনি কবে গৃহবন্দিত্বের সুযোগ পাবেন, সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায় ছিলেন।"
৪৩ বছর বয়সী সমর্থক সুজ্জালিনা আনুরা বলেন, "আমরা নাজিব রাজাককে মিস করি। তাকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত তিনি তাঁর পরিবার, নাতি-নাতনি ও সন্তানদের সঙ্গে বাড়িতে থাকতে পারবেন।"
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রচারণা শুরুর পর সোমবার পর্যন্ত অনুদানের পরিমাণ ১০ লাখ রিঙ্গিত ছাড়িয়ে গেছে। তবে কিছু সমালোচক প্রতিবাদ হিসেবে মাত্র এক সেন (০.০১ রিঙ্গিত) করে অনুদান দিয়েছেন।
২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে সাবেক নেতার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং কেলেঙ্কারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় ইউএমএনওর চলমান সংকটও এ ঘটনা সামনে এনেছে।
মালয়েশিয়ার নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশীয় রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রিজেট ওয়েলশ বলেন, ইউএমএনওর অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ দলটিকে "কঠিন অবস্থানে" ফেলেছে।
তিনি বলেন, একদিকে দলটিকে নাজিবের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং ঐতিহ্যগত সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে হবে। অন্যদিকে দুর্নীতির বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া তরুণ ভোটারদের কাছেও দলটিকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
তিনি এএফপিকে বলেন, "গৃহবন্দিত্ব দলের ঐক্য জোরদারে সহায়তা করছে। তবে এর ফলে দলটির জনসম্পৃক্ততার সুযোগ কমছে, কারণ এতে দলটির বহন করে চলা পুরোনো রাজনৈতিক বোঝা আবারও সামনে আসছে।"
তিনি বলেন, "কিছু ঐতিহ্যগত সমর্থকের কাছ থেকে" অর্থ সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ নাজিবের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ প্রচারণা তরুণ ভোটার এবং রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থী ভোটারদের দূরে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ওয়েলশ বলেন, "তরুণ ভোটার ও মধ্যপন্থীদের কাছে এটি বিচ্ছিন্নতামূলক। তাঁদের কাছে মনে হচ্ছে, দলটি নিজেদের ভুল স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের তিনটি রেস্তোরাঁকে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে, কারণ টয়লেটের ভেতরে মাংস ধোয়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং নিষিদ্ধ কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রৌশন আরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের ফলস্বরূপ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪২ ও ৪৩ ধারার অধীনে ঢাকা বিরিয়ানি হাউজকে ১ লাখ টাকা, হাজী নান্না বিরিয়ানি হাউজকে ২৫ হাজার টাকা এবং দ্বীন দুনিয়া রেস্তোরাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ঢাকা বিরিয়ানি হাউজের রান্নাঘরের পরিবেশ এবং খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে টয়লেটের মধ্যে মাংস ধোয়ার বিষয়টি চরম উদ্বেগের। এছাড়া খাবার তৈরিতে নিষিদ্ধ কেমিকেল ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকা বিরিয়ানি হাউজ কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে রান্নাঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রান্নাঘর স্থানান্তর না করলে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে, যেন তারা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি না করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ