মোঃ উজ্জ্বল মিয়া , নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৬ পি.এম
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা দুই পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—মদন উপজেলার ৩ নং মদন ইউনিয়নের বারবুড়ী গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে মোশাহিদ (২৮) এবং কুলিয়াটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত হেলিম ভূইয়ার ছেলে মো. জামাল ভূইয়া ওরফে জাপান (২৮)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোশাহিদের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে মদন থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে আটকে রাখা, গুরুতর জখম, হত্যাচেষ্টা, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর তিনি জিআর পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিলেন। পরে পুলিশের অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, মো. জামাল ভূইয়া ওরফে জাপানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ৫ জুন রাত ১২টা ১০ মিনিটে মদন থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, বলপ্রয়োগ করে গুরুতর আহত করা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায়ও তিনি জিআর পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দীন করিম বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদালতের পরোয়ানা তামিলের অংশ হিসেবে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও জিআর পরোয়ানার ভিত্তিতে দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে নেত্রকোনা জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের পালবাড়ী (মধু পালবাড়ী) এলাকায় আরিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও গাছ কাটাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মধু পালবাড়ী এলাকার মৃত শাহ আলীর ছেলে আরিফের বিরুদ্ধে প্রতিবেশীদের জমি দখলের চেষ্টা ও বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় রইচ উদ্দিন মেকারের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, জীবিত অবস্থায় রইচ উদ্দিন তার স্ত্রীকে ৫ শতাংশ এবং একমাত্র মেয়ে রোমানাকে ৮ শতাংশ জমি লিখে দেন। পরে রইচ উদ্দিন মারা গেলে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। মেয়ে রোমানা চিকিৎসার জন্য মাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যান। এ সুযোগে বাড়িতে কেউ না থাকায় পার্শ্ববর্তী আরিফ তাদের বসতঘর দখলের চেষ্টা করেন এবং জমিতে থাকা একটি কাঁঠালগাছ কেটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
খবর পেয়ে রোমানা বাড়িতে গিয়ে তার জায়গায় ঘর নির্মাণের কাজ দেখতে পান। এ সময় আরিফের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ওই জায়গা নিজের বলে দাবি করেন বলে রোমানার অভিযোগ। এ নিয়ে রোমানা ও তার স্বামী এরশাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আরিফের লোকজন এরশাদকে মারধর করে এবং সেখানে আর না আসার জন্য হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। এঘটনায় এরশাদ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে রোমানা প্রতিবেশী নজরুলের কাছে জমি বিক্রির জন্য বায়না করে টাকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। নজরুলের অভিযোগ, জমি কেনার জন্য তিনি বায়নাপত্র করলেও আরিফ তাকে জমি না কেনার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তার নামেও থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন তিনি।
নজরুল বলেন, তিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল মিস্ত্রি। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। জমি কেনার জন্য বৈধভাবে বায়না করলেও তাকে ওই জমি না কেনার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রইচ উদ্দিনের বাড়ির সঙ্গে তার প্রায় ১০ শতাংশ জমিও আরিফ দখল করে রেখেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধেও মারামারির অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। জমি দখলের প্রতিবাদ করায় উল্টো আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’’
অন্যদিকে, আরিফের বিরুদ্ধে মাজহারুল ইসলামের কাছ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। মাজহারুলের দাবি, জমি কেনার কথা বলে আরিফ তার কাছ থেকে ওই টাকা ধার নেন এবং তিন মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর টাকা ফেরত না দিয়ে আরিফ একটি চেক দেন বলে অভিযোগ করেন মাজহারুল।
মাজহারুল জানান, তিনি ব্যাংকে চেক জমা দিলে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে ব্যাংক থেকে লিখিত প্রমাণ পাওয়ার পর তিনি আদালতে চেকসংক্রান্ত মামলা করেন। মামলা করার পর সেটি প্রত্যাহারের জন্য আরিফ ও তার লোকজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর মধুপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মাজহারুল। পরবর্তী সময়েও মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, আরিফ এলাকায় মাদক সহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদক, জমি নিয়ে বিরোধ, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে কারও জমি জবরদখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরিফের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এবং পালবাড়ী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাঁশ-কাঠ-টিনের বেড়া দিয়ে ৩ পরিবারকে ‘অবরুদ্ধ’ রাখার অভিযোগ; ঘরের চাল ও টয়লেট ভাঙচুরের দাবিও
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বাঁশ, কাঠ ও টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া এবং বসতঘরের চালের টিন ও টয়লেট ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চণ্ডিবের এলাকার হাজী আব্দুর রহিম, মাহমুদুল হাসান রনি ও শফিফুল ইসলাম গংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মিন্নত আলী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ভৈরব প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মিন্নত আলী ও তাঁর পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিন্নত আলী বলেন, ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। ওই সম্পত্তি এখনো ভাই-বোনদের মধ্যে বণ্টননামার মাধ্যমে ভাগ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে তাঁদের কাছ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে মাহমুদুল হাসান রনি ওই সম্পত্তির জমি কিনে নেন।
মিন্নত আলীর দাবি, জমি কেনার পর থেকেই তাঁর ও তাঁর বড় ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে হাজী আব্দুর রহিম, মাহমুদুল হাসান রনি ও শফিফুল ইসলাম গংয়ের বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা বাঁশ, কাঠ ও টিনের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে তিনি, তাঁর বড় ভাইসহ তিনটি পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কেউ অসুস্থ হলে কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
মিন্নত আলী আরও অভিযোগ করেন, রাস্তা বন্ধের ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরিদর্শন করে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, এরপর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর বসতঘরে ভাঙচুর চালায়। ঘরের চালের টিন খুলে ফেলা এবং টয়লেট ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ও তাঁর বড় ভাইয়ের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে না দিয়েই এসব করা হয়েছে বলেও দাবি করেন মিন্নত আলী।
তিনি আরও দাবি করেন, আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বসতঘর ও স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে ওই আদালতের রায়ের বিস্তারিত বিষয় বা নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভাঙচুরের পর তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মিন্নত আলী। তাঁর দাবি, থানায় অভিযোগ করার পর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। বর্তমানে তিনি, তাঁর বড় ভাইসহ তিনটি পরিবার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে জানান।
মিন্নত আলী বলেন, “আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এরপরও যদি বাড়ির রাস্তা বন্ধ থাকে এবং বসতঘর ভাঙচুর করা হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? বর্তমানে আমি, আমার বড় ভাই ও আমাদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে মিন্নত আলী পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের আইনগত ও সুষ্ঠু সমাধান, বন্ধ করে দেওয়া চলাচলের রাস্তা দ্রুত উন্মুক্ত করা, বসতঘর ও স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি পৈতৃক সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা ও অংশীদারত্ব আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করে তাঁদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লোকসংগীত, জারি-সারি আর বৈঠার ছন্দে মুখর হয়ে উঠেছিল মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পাখুল্লা এলাকার বাঘিয়ার বিল। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে সেখানে বসেছিল প্রাণের উৎসব। বাচাড়ী নৌকার তীব্র প্রতিযোগিতা আর হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো বিলপাড়।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাখুল্লা-সিরাজকাঠি যুবসমাজের উদ্যোগে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার শুরুতে ভাসমান নৌকায় হারমোনিয়াম ও ঢোলের তালে লোকসংগীত ও জারি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজৈরের আমগ্রাম ইউনিয়নের পাখুল্লা এলাকার বাঘিয়ার বিলে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১০টির বেশি দল। নৌকা ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে বৈঠার ছন্দে জমে ওঠে প্রতিযোগিতা। বিলের দুই পাড়ে এবং ছোট ছোট নৌকায় অবস্থান নেওয়া নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শক করতালি ও উচ্ছ্বাসে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেন।
আয়োজকরা জানান, প্রায় চারশ বছরের পুরোনো গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরতেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে নৌকা বাইচ আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের হাতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি ফ্রিজ তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া পরবর্তী স্থান অর্জনকারী দলগুলোর মধ্যে পাঁচটি এলইডি টিভি ও পাঁচটি মোবাইল ফোন পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা থেকে বিভাগীয় শহর বরিশালে সরাসরি কোনো বাস সার্ভিস চালু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো সাধারণ যাত্রী। প্রতিদিন দাপ্তরিক কাজ, উন্নত চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কাউখালী থেকে বরিশালে যাতায়াত করেন অসংখ্য মানুষ। তবে সরাসরি বাস না থাকায় তাদের একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
স্থানীয়রা জানান, কাউখালী থেকে বরিশালের দূরত্ব তুলনামূলক কম হলেও সরাসরি গণপরিবহন না থাকায় যাত্রীদের প্রথমে অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহনে করে নৈকাঠি কিংবা রাজাপুর যেতে হয়। এরপর সেখান থেকে বরিশালের বাসে উঠতে হয়। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কাউখালী উত্তর বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী মোঃ শহিদুল বলেন, ব্যবসায়িক মালামাল কেনা এবং ব্যাংকসহ বিভিন্ন কাজে তাকে সপ্তাহে দুই-তিন দিন বরিশালে যেতে হয়। কিন্তু সরাসরি বাস না থাকায় প্রথমে অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে নৈকাঠী কিংবা রাজাপুর যেতে হয়। পরে সেখান থেকে বরিশালের বাস ধরতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি খরচ হচ্ছে। মালামাল নিয়ে একাধিকবার গাড়ি পরিবর্তন করতে গিয়ে বাড়তি ভোগান্তিও পোহাতে হয়। দ্রুত কাউখালী-বরিশাল সরাসরি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানান তিনি।
নিয়মিত যাতায়াতকারী চাকরিজীবী মাইনুল হুদা বলেন, তার বৃদ্ধ বাবাকে প্রায়ই চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিতে হয়। সরাসরি বাস না থাকায় অসুস্থ রোগীকে নিয়ে বারবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এতে রোগীর শারীরিক কষ্ট আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভোগের। একটি সরাসরি বাস সার্ভিস চালু হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের কাউখালীর শিক্ষার্থী নাঈম ও ফেরদৌসী বলেন, কাউখালী থেকে অনেক শিক্ষার্থী বরিশালের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। সকালবেলার ক্লাস ও পরীক্ষা ধরতে তাদের ভোরেই বাড়ি থেকে বের হতে হয়। কিন্তু সরাসরি বাস না থাকায় পথে গাড়ি পরিবর্তন করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়। পাশাপাশি যাতায়াত খরচও বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য অন্তত সকাল ও বিকেলে নিয়মিত সরাসরি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কাউখালী থেকে ঢাকা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন রুটে যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকলেও বিভাগীয় শহর বরিশালের সঙ্গে সরাসরি গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কাজে বরিশালমুখী মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কাউখালী-বরিশাল সরাসরি বাস সার্ভিস চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে। একই সঙ্গে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি চিকিৎসাপ্রার্থী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিও কমবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক সমিতি ও প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ