মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৮ পি.এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদীর মুড়িয়ার ঘাট থেকে বাঁশের তৈরি ভেলায় চড়ে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন খাজা বাবার স্থানীয় ভক্তরা। ইঞ্জিনবিহীন বাঁশের ভেলায় নদীপথে দীর্ঘ যাত্রা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, খাজা বাবার দরবারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় কয়েকজন ভক্ত বাঁশের তৈরি ভেলায় চড়ে দুধকুমার নদী পাড়ি দিয়ে ফরিদপুরের পথে যাত্রা শুরু করেন। নদীর স্রোতের সঙ্গে ভেসে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার এই ব্যতিক্রমী যাত্রা দেখতে নদীর তীরে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।
ভক্তদের ভেলায় চড়ে নদীপথে যাত্রার দৃশ্য অনেকেই মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। ব্যতিক্রমী এ নদীযাত্রা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছরই খাজা বাবার ভক্তদের এমন ঐতিহ্যবাহী নদীযাত্রা এলাকায় আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। বাঁশের ভেলায় চড়ে নদী পাড়ি দেওয়ার এ দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে নদীর তীরে আসেন।
তবে ভক্তদের ভেলায় নদী পাড়ি দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের মুসলিম সমাজে দলীয় আনুগত্য ও পীর-মুরিদকেন্দ্রিক বিভাজন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
পোস্টে মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি বলেন, “দল পূজা আর পীর পূজা এদেশের মুসলমানদের মধ্যে এত ঘৃণা তৈরি করেছে, যা অমুসলিমরাও তৈরি করতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষেত্রবিশেষে এমনও দেখেছি, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের চেয়েও নেতা ও পীরের হুকুমকে বেশি মান্য করে।”
তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যকে মুসলিম সমাজের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও অন্ধ আনুগত্যের সমালোচনা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বক্তব্যটির বিভিন্ন দিক নিয়ে ভিন্নমতও প্রকাশ করছেন।
তবে মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমির বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য তার মূল পোস্টের বিস্তারিত বক্তব্যের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, গ্রাহক সমাবেশ, পুরস্কার বিতরণ ও রিভিউ মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বেস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স PLC-এর ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আলফাডাঙ্গা মডেল মসজিদ অডিটোরিয়ামে প্রতিষ্ঠানটির আলফাডাঙ্গা জোনাল অফিসের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। র্যালিতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। গ্রাহকদের বীমা সম্পর্কে সচেতন করা, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন ছিল আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আলফাডাঙ্গা জোনাল অফিসের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসাইন। অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।
গ্রাহক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বেস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স PLC-এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমনা পারভীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর বিভাগীয় প্রধান ও অফিস ইনচার্জ মো. সাজিদ মাতুব্বর এবং প্রধান প্রশিক্ষক ও সেন্ট্রাল ট্রেনার জামিল উদ্দিন মিন্টু।
বক্তারা বীমার গুরুত্ব, গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বীমা খাতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠিত বিশেষ রিভিউ মিটিংয়ে ব্যবসায়িক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন ও কর্মীদের কার্যক্রম নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা হয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে উড়োজাহাজের অভাব রয়েছে, যা উল্লেখ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে উড়োজাহাজ কেনার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন এবং এয়ারবাস কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, হাই লেভেল নেগোশিয়েশন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
সাক্ষাতে বিমানের কার্গো পরিবহনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ ঝুঁকির পণ্য ও ডাক (হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল বা এইচআরসিএম) মর্যাদা নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের ওপর এই মর্যাদা আরোপ করে, যার ফলে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে সময় ও খরচ দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই মর্যাদা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান। এ জন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সন্তোষজনক রেটিং পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, এসব অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে এইচআরসিএম মর্যাদা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে বলে সরকার আশা করছে।
সারাহ কুক বলেন, বাংলাদেশের হসপিটালিটি খাতের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেও যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
এ সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে মেনজিস এভিয়েশনের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কন্যা মাহনূর সাফদারের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি জাব্বার খালিদের পুত্র আজান জাব্বারের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিসরে নিকাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাহোরের শরিফ পরিবারের বাসভবন জাতি উমরায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য এবং কিছু অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
মাহনূর, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নাতনি। তার বিয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর কেবল বর-কনের সম্পর্ক নয়, বরং দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও আলোচনায় এসেছে। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্ধুত্বের মাধ্যমে গড়ে ওঠা পারিবারিক সম্পর্ক
মাহনূর ও শানজেহ আলি রোহালের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তারা একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন এবং তাদের বন্ধুত্ব পরবর্তীতে আরো গভীর হয়েছে। শানজেহর দাদা এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের সাবেক নেতা শেখ রোহালে আসগরও এই বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি জানান, মাহনূর ও শানজেহ প্রায়ই একে অপরের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এই বন্ধুত্বের মাধ্যমেই দুই পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এর পর মাহনূরের ভাই এবং মরিয়ম নওয়াজের পুত্র জুনায়েদ সাফদারের সঙ্গে শানজেহর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের বিয়ে হয়, যা লাহোরে একাধিক আয়োজনে জমকালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এবার কয়েক মাস পর মাহনূর নিজেই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন।
আজানের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিসরে বিয়ে
মাহনূর ও আজানের নিকাহ জুনায়েদ ও শানজেহর বিয়ের তুলনায় অনেকটাই ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতি উমরায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওয়াজ শরিফ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং শরিফ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আজান জাব্বার, শিল্পপতি জাব্বার খালিদের পুত্র। তার পরিবারের ব্যবসা মূলত আটা ও ময়দা উৎপাদন খাতের সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে, মাহনূর বরাবরই পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের তুলনায় ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রেখেছেন। সম্প্রতি তিনি লন্ডনের এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। বিয়ের কিছুদিন আগে তার সমাবর্তনেও মরিয়ম নওয়াজ উপস্থিত ছিলেন।
বিয়ের সাজেও ছিল আভিজাত্যের ছাপ
ঘরোয়া আয়োজনের মধ্যে হলেও মাহনূরের সাজ-সজ্জা সকলের নজর কাড়ে। পাকিস্তানি ডিজাইনার নিদা আজওয়ারের তৈরি পোশাক পরিধান করেছিলেন তিনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছবিতে মাহনূরকে আইভরি, সোনালি, গোলাপি ও ফিরোজা রঙের কারুকাজ করা ব্রাইডাল পোশাকে দেখা গেছে। তার সঙ্গে ছিল হীরার গয়না এবং চুলের সাজ ছিল তুলনামূলক সাদামাটা।
শরিফ পরিবারের অনেক জমকালো বিয়ের আয়োজনের তুলনায় মাহনূরের বিয়ের আয়োজন ছিল অনেকটাই সংযত। তবে সেই সরলতার মধ্যে তার বিয়ের পোশাক ও সাজে আভিজাত্যের ছাপ ছিল।
সব মিলিয়ে, মাহনূর সাফদারের বিয়ের গল্পে পাকিস্তানের একটি প্রভাবশালী পরিবারের নতুন অধ্যায় রয়েছে, পাশাপাশি দুই তরুণীর বন্ধুত্ব থেকে গড়ে ওঠা দুই পরিবারের সম্পর্কের কাহিনীও বিদ্যমান। যে বন্ধুত্ব একসময় জুনায়েদ ও শানজেহর বিয়ের পথ তৈরি করেছিল, এবার সেই বন্ধুত্বের মানুষটিই নতুন দাম্পত্য জীবন শুরু করলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ