বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৩ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনের সাথে সাথে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দ্বারা শুরু হওয়া যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। লড়াইটি শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এক ধরনের স্থবিরতায় পরিণত হয়েছে। তবে বর্তমানে যা প্রকাশিত হচ্ছে তা একেবারেই নতুন, এবং এই পরিস্থিতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে- তা একটি বড় অজানা প্রশ্ন।
আমাদের পশ্চিমে একটি বিশাল শক্তির উত্থান ঘটছে। বহু দশক ধরে নিষেধাজ্ঞায় বন্দি থাকা এবং ক্রমাগত যুদ্ধের হুমকিতে থাকা ইরান ১৯৭৯ সালের পর থেকে বৈশ্বিক ব্যবস্থার বাইরে চলে গিয়েছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আমেরিকা তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যখন নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করেছে, তখন নিষেধাজ্ঞার দেয়ালের পেছনে বন্দী থাকা সেই দেশটি এখন এই অঞ্চলের একটি উদীয়মান পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
এই দিক থেকে চিন্তা করলে, ইরানের বর্তমান অবস্থা মার্কিন-চীন শীতল যুদ্ধকালীন উত্তেজনা শিথিলের পর (ডিটাঁত) চীনের সাথে যা ঘটেছিল তার মতো। ১৯৪৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে চীনকেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এভাবে কোণঠাসা ও বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। 'ডিটাঁত' ছিল বিশ্ব রাজনীতিতে তাদের সমঝোতামূলক পুনর্বাসনের সূচনা, এবং এর পর থেকে নেওয়া অভ্যন্তরীণ সংস্কারগুলোই চীনকে আজকের বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত করেছে।
তবে দুটি প্রধান জায়গায় ইরানের গল্পটি চীনের চেয়ে আলাদা। প্রথমত, ইরান কোনো বৈশ্বিক পরাশক্তি হতে যাচ্ছে না; তবে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে সে নিশ্চিতভাবেই আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক সম্প্রদায়ে ইরানের পুনঃপ্রবেশ চীনের চেয়ে অনেক বেশি বিশৃঙ্খল হবে, কারণ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর যে নির্বাসনে তাকে পাঠানো হয়েছিল, সেখান থেকে তাকে লড়াই করেই বেরিয়ে আসতে হয়েছে।
অবকাঠামো ধ্বংসের মতো মারাত্মক কোনো চেষ্টা ছাড়া অঞ্চলে পরাশক্তি হিসেবে ইরানের এই উত্থান ঠেকানো এখন অসম্ভব।
তবে এই উত্থান প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে, যা একটি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল এবং সম্ভবত সহিংস রূপ নিতে পারে। এখন অনেক কিছুই নির্ভর করছে ইরানের ভেতরের কোন গোষ্ঠীটি ক্ষমতার শীর্ষে ওঠে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের রাশ টেনে ধরে তার ওপর। চীনের ক্ষেত্রে, ডেন জিয়াওপিংয়ের মতো সংস্কারমুখী গোষ্ঠী নেতৃত্ব হাতে নেওয়ার আগেই কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরে এক বড় ধরনের বোঝাপড়া ও রাজনৈতিক লড়াই ঘটেছিল। ১৯৬৬ সালে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও ডেন জিয়াওপিংয়ের বহিষ্কার, ১৯৭১ সালে লিন বিয়াওর ব্যর্থ অভ্যুত্থান ও মঙ্গোলিয়ায় বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু, চৌ এনলাইয়ের উত্থান এবং তার বিপক্ষে 'গ্যাং অব ফোর'-এর অবস্থান, চৌ এনলাইয়ের মৃত্যুর পর ডেনের দ্বিতীয়বার বহিষ্কার এবং পরিশেষে ১৯৭৬ সালে মাও সেতুংয়ের মৃত্যুর পর ডেনের চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন—এসব মিলিয়ে চীনের সেই পথটি ছিল চরম সংকটময়।
ঠিক তখনই চীন দৃঢ়তার সাথে সংস্কারের পথে হেঁটে মাওয়ের মতাদর্শের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর তারা ধীরে ধীরে এবং সতর্কতার সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতিকে বহির্বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়। সেই পথ ধরেই কয়েক দশক পর চীন বৈশ্বিক পরাশক্তি হয়ে ওঠে।
ইরান এখন তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের ঠিক একই রকম একটি মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। সুপ্রিম লিডার আলী খামেনির মৃত্যু এবং জিয়োনিস্ট মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের বিরুদ্ধে জয়ের পর ইরানকে এখন অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দলের মুখোমুখি হতে হবে। তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- তারা কি অতীতে আঁকড়ে থাকবে নাকি নতুন কোনো ভবিষ্যতের দিকে যাবে? এই প্রক্রিয়াটি উন্মোচিত হতে বহু বছর সময় লাগবে। তবে চীনের সাথে ইরানের মূল পার্থক্য হলো—ইরানের এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি ঘটছে একটি যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপটে।
এটা স্পষ্ট যে ইরানের ভেতরে একটি প্রাগমেটিক বা বাস্তববাদী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা চায় যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটুক এবং দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু হোক। কিন্তু অন্যদিকে আরেকটি শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে, যারা যুদ্ধ চালিয়ে গিয়ে আক্রমণকারীদের এক অপমানজনক পরাজয় উপহার দিতে চায়। তারা আফগানিস্তানে তালেবানরা যেভাবে মার্কিনিদের তাড়িয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যেও সেভাবে মার্কিন বাহিনীকে তড়িঘড়ি ও বিশৃঙ্খলভাবে পালানোর পথ নিশ্চিত করতে চায়।
প্রকৃত খেলা শুরু হবে ঠিক এর পর। মার্কিনিরা এ অঞ্চল ছেড়ে চলে গেলে ইরানি সামরিক মেশিন তাদের নজর ঘোরাবে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর দিকে। সেখানে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয় আসবে। যুদ্ধের বিল তো ইতিমধ্যেই পেশ করা হয়ে গেছে! ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি 'ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস'-কে বলেছিলেন, জুন মাসের যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক আলোচনায় ফেরার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমেরিকা তখন সেই দাবিকে হেসে উড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর ২০২৬ সালের মার্চে আমেরিকার কাছে দেওয়া নিজেদের পাল্টা প্রস্তাবে ইরান আবারও একই দাবি তোলে। এপ্রিলে তারা ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে ২৭০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের জুনের মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকে বেড়ে ৩০০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
এখন আর কারো এই দাবিকে হেসে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। হরমুজের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি ইরান আগামী দিনগুলোতে এই দাবি আরও জোরদার করবে। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন দেখবে এই সংঘাত তাদের কোনো স্বার্থ পূরণ করছে না, তখন তারা সরে যাবে এবং এই বিপুল বিল পরিশোধের ভার এসে পড়বে উপসাগরীয় রাজাদের কাঁধেই। আর তারা যখন এই অঙ্ক মিটিয়ে দেবে, তখন আবার নতুন দাবি আসবে, তারপর আরও একটি।
জিয়োনিস্ট জোট যদি পুরো দেশের অবকাঠামো ধূলিসাৎ করে দেওয়ার মতো কোনো ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ না চালায়, তবে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে ইরানের উত্থান এখন ঠেকানো অসম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরণের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের সম্ভাবনা কম হলেও একে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পরাশক্তি হওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চলমান। হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার পর, তারা এবার উপসাগরীয় রাজাদের অপরিসীম ধন-সম্পদের দিকে নজর দেবে-যে সম্পদ এখন চরম ঝুঁকিতে।
চীনের গল্পটি এখানে শিক্ষণীয়, কারণ এটি আমাদের দেখায় কীভাবে একটি বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্র বিশ্ববাণিজ্য, অর্থায়ন এবং কূটনীতিতে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করতে পারে। ইরান কি এই মুহূর্তটিকে একইভাবে কাজে লাগাবে, নাকি নিজেদের সামরিক সুবিধাকে শেষ সীমা পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার চেয়ে অতীত প্রতিশোধেই মগ্ন থাকবে- সেটিই এখনকার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
নিবন্ধের লেখক খুররাম হুসেইন, অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা প্রদান করেনি। বুধবার একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি পৃথক বিবৃতিতে আব্বাসের নাম উল্লেখ না করে জানায়, ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর সদস্য এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হবে না।
বার্তা সংস্থা এএফপি ওয়াশিংটন থেকে এ খবর প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতির বিপরীতে সংস্কার করতে ব্যর্থ হওয়া এবং শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলমান কর্মকাণ্ডের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি এএফপিকে নিশ্চিত করেছে যে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট আব্বাসও এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন।
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনও একই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। এর ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী ফিলিস্তিনি নেতা ভিডিওর মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে ভাষণ দিতে বাধ্য হন।
বুধবারের বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পিএলও এবং পিএ ‘আবারও তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।’
দপ্তরটি আরও জানায়, এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া ও সমর্থন করা, যা তাদের আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে ক্ষুণ্ন ও বিরোধিতা করে।
ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে যে, পিএলও এবং পিএ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তারা একতরফা স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, সন্ত্রাসীদের ভাতা দেওয়া এবং প্রকাশ্য বিবৃতি ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসীদের প্রশংসা অব্যাহত রেখেছে।
এই পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। গত বছর এসব দেশ জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।
ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানবিষয়ক সম্মেলনের পর জাতিসংঘের মোট ১৪২টি সদস্যরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা আরও বেড়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা বা বসতিস্থাপনকারীদের হাতে অন্তত ১ হাজার ১০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক উভয়েই রয়েছেন। ওই দিন হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
এরপর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী গাজায় লাগাতার হামলা চালায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এসব হামলায় ৭৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়টি হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন, তবে জাতিসংঘের কাছে এর দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পশ্চিম তীরে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে বেশিরভাগ সময় নীরব রয়েছে। ওয়াশিংটন শুধু জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের যেকোনো ধরণের সংযুক্তির বিরোধিতা করে মার্কিন সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বুধবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রায় এক ডজন ‘শক্তিশালী’ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পেছনে রয়েছে কর্তৃপক্ষের সতর্কতা, যা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কারণে জারি করা হয়েছিল, এএফপির একজন সাংবাদিক জানিয়েছেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরস্পরের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে হামলার জন্য দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে।
এ খবর কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশ করেছে।
কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাদের টেলিগ্রামে উল্লেখ করেছে, ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির কারণে কিয়েভে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আমরা বাসিন্দাদের নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, রাজধানীর দিনিপ্রোভস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবন এবং একটি অফিস ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওদেসায়ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৯ তলা একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভবনটির কয়েকটি তলা ধ্বংস হয়েছে, বলে ওদেসা সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তাদের টেলিগ্রামে জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায় এবং রেঞ্জ ও ডিআইজি পদে ব্যাপক রদবদল ঘটানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১১ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া ছয় কর্মকর্তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) মো. সায়েদুর রহমানকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ অধিদপ্তরে নিয়োগ করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশের বর্তমান দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসানকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), সারদা, রাজশাহীর প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেনকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ অধিদপ্তরে নিয়োগ করা হয়েছে।
পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. কামরুল আহসানকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসবির অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিনকে পুলিশ অধিদপ্তরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অপর একটি প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি পর্যায়ের পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিটের (মেট্রোরেল) ডিআইজি সিদ্দিকী তানজিলুর রহমানকে এসবির ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনে ৬০ কার্যদিবসে অধিবেশন পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০৩ কোটি টাকা। প্রতি মিনিট অধিবেশন চললে সরকারের ব্যয় গড়ে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা। এই হিসেবে প্রতি সেকেন্ডে খরচ প্রায় পাঁচ হাজার ৯৪৭ টাকা।
অথচ সংসদের মূল কাজ আইন প্রণয়নে সময় ব্যয়ের চিত্র ভিন্ন। প্রথম তিন অধিবেশনে বিভিন্ন বিল পাস, প্রশ্নোত্তর ও অন্যান্য কার্যক্রম চললেও আইন প্রণয়নের কাজে তুলনামূলক কম সময় ব্যয় হয়েছে। এর বিপরীতে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা, বাজেটের সাধারণ আলোচনা এবং নানা বিতর্কে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে প্রতিদিনের বাংলাদেশ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘পার্লামেন্ট ওয়াচ’ গবেষণায় একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ২২টি অধিবেশনের হিসাবে প্রতি মিনিটে গড় পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয় করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা। সে হিসাবে বর্তমানে সংসদে প্রতি সেকেন্ডে ব্যয় হয় ৫ হাজার ৯৪৭ টাকা।
৬০ দিনে ৭০৩ কোটি টাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ এবং শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। এতে ২৫ কার্যদিবস সংসদ বসে। দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন চলে ৭ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ২৬ কার্যদিবস। তৃতীয় অধিবেশন ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে শেষ হয় ১০ সেপ্টেম্বর; এতে কার্যদিবস ছিল নয়টি। সব মিলিয়ে প্রথম তিন অধিবেশনে সংসদ বসেছে ৬০ কার্যদিবস।
সংদর সচিবালয়ে অধিবেশন কত ঘণ্টা চলেছে তার সম্মিলিত হিসাব না থাকলেও অধিবেশন শুরু ও শেষের তথ্য এবং বিভিন্ন বিরতির সময় বিবেচনায় গড় মেয়াদ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট। সে হিসাবে প্রথম তিন অধিবেশনে মোট ৩২৮ ঘণ্টা ২০ মিনিট বা ১৯ হাজার ৭০০ মিনিট অধিবেশন চলেছে। প্রতি মিনিটে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৮২৫ টাকা হিসাবে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭০২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে খরচ ৮৬ কোটি
চলতি বছরের ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বর্ষ শুরুর ভাষণের ওপর আলোচনা হয়েছে ৪০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট। এতে অংশ নেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য। প্রতি মিনিটের ব্যয়ের হিসাবে শুধু এই আলোচনাতেই সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা সংসদে বিক্ষোভ করে ভাষণ বর্জন করেন। পরে তার ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দের প্রস্তাবও তাদের পক্ষ থেকে আসে।
বাজেট আলোচনায় শতকোটি
দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট। এতে অংশ নেন ৩১৬ জন সংসদ সদস্য। মোট দুই হাজার ৯৩১ মিনিটের এ আলোচনায় সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। তবে সংসদের সব ব্যয়কে অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না। প্রশ্নোত্তর, আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কাজ, নোটিশের নিষ্পত্তি, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংসদ রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখে। কিন্তু একই সঙ্গে দীর্ঘ বিতর্ক, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণ, অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রমেও সময় ব্যয় হয়।
আইন প্রণয়নে সময় কম
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রীকে করা ৯৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টির উত্তর দেওয়া হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের জন্য পাওয়া দুই হাজার ৫০৯টি প্রশ্নের মধ্যে এক হাজার ৭৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়।
বাজেট অধিবেশনে ১০টি সরকারি বিল পাস হয়। তৃতীয় অধিবেশনের নয় কার্যদিবসে পাস হয়েছে ছয়টি বিল। একই অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়। তবে তৃতীয় অধিবেশনে মাত্র ৯ কার্যদিবসে ছয়টি বিল উত্থাপন ও পাসের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও বিল দ্রুত সংসদে পাঠানোর বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদ সদস্যদের বিল ভালোভাবে পড়ার সুযোগ দিতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।
ব্যয় বাড়ছে
সময়ের সঙ্গে সংসদ পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। টিআইবির বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, অষ্টম জাতীয় সংসদে প্রতি মিনিটে ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। নবম সংসদের আটটি অধিবেশনে তা বেড়ে হয় প্রায় ৭৮ হাজার টাকা। দশম সংসদের ১৪তম থেকে ১৮তম অধিবেশনে প্রতি মিনিটে গড় ব্যয় দাঁড়ায় এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৮৬ টাকা। একাদশ সংসদের প্রথম ২২ অধিবেশনে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মোট প্রস্তাবিত বাজেট ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিচালন খাতে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৭০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
রক্ষণাবেক্ষণেও বড় ব্যয়
বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নির্মিত জাতীয় সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণেও প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। বিশেষ প্রকল্পসহ কোনো কোনো বছর ভবনের ভৌত ও ইলেকট্রোমেকানিক্যাল রক্ষণাবেক্ষণে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। এর সঙ্গে নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, অগ্নিনিরাপত্তা, সম্প্রচার, গণপূর্তের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব ও ওভারটাইমসহ নানা ব্যয় যুক্ত হয়।
সংসদ বিষয়ক গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলেন, আইন প্রণয়নে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। বিলের প্রতিটি ধারা ভালোভাবে পর্যালোচনা এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকলে আরো কার্যকর ও টেকসই আইন প্রণয়ন সম্ভব।
জাতীয় সংসদের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, সংসদের বার্ষিক বাজেটকে শুধু অধিবেশনভিত্তিক ব্যয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, সম্প্রচার, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে কোন দপ্তরে কত টাকা এবং কোন অধিবেশনে কত ব্যয় হচ্ছে, তার সমন্বিত হিসাব এখনো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ