০৪:২১ পি.এম
রাঙ্গামাটি, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলায় সার্বজনীন দূর্গোৎসবে শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে পাহাড়ী জনগোষ্ঠির ধর্মীয় বৈচিত্র্য তুলে ধরেছে রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকার গীতাশ্রম মন্দির।
এটি যেন পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের সহাবস্থান, সম্প্রীতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের রেইনবো নেশনের বার্তা প্রদান করছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরার উপলক্ষও। এই প্রেক্ষাপটে, রাঙ্গামাটির শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দিরে শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে মণ্ডপে ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী।
আরও পড়ুন: নাসিরনগরে নিখোঁজের চার দিন পর পুকুরে মিলল গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা মরদেহ
গীতাশ্রম মন্দিরে বর্ণিল সাজে সজ্জিত মণ্ডপ, সারি সারি শত প্রতিমা। প্রতিটি প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে পাহাড়ের মানুষের জীবন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের নানা দিক।
রাঙ্গামাটির শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দিরে এবারের দুর্গাপূজার আয়োজন, অন্য মণ্ডপের তুলনায় আলাদা মাত্রা পেয়েছে।
মন্দিরে আসা মনু মারমা বাসস’কে জানান, এবারের দুর্গোৎসবে রাঙ্গামাটির সবচেয়ে আকর্ষণ হলো গীতাশ্রম মন্দিরে দুর্গাপূজায় পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা। তিনি বলেন, "এ ধরনের আয়োজন আমাদের সকলের মাঝে সম্প্রীতি ও ভাতৃত্ববোধ আরো শক্তিশালী করবে।"
শারদীয় দুর্গোৎসবে গীতাশ্রম মন্দিরে সাজানো শত প্রতিমাগুলোর মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা দেখতে পাচ্ছেন সমতল ও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের নানা দিক। এর মধ্যে শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দিরের শতাধিক প্রতিমার আয়োজন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
আরও পড়ুন: সিংড়ায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তার নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে
আয়োজকদের এই উদ্যোগে গুরুত্ব পেয়েছে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরার বিষয়টি। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরার এই প্রয়াস এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করছে এই মণ্ডপ।
গীতাশ্রম মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শংকর হোড় বাসস’কে জানান, দুর্গোৎসবের আনন্দের সঙ্গে পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে শক্তিশালী করার বার্তা দেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "এমন উদ্যোগ পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যকে নতুন করে জানার সুযোগ করে দিচ্ছে।"
এই উদ্যোগ দুর্গোৎসবের পাশাপাশি সংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপস্থাপনার এক অনন্য ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
গীতাশ্রম মন্দির ছাড়াও জেলা-উপজেলার প্রতিটি মন্ডপে এবার আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
আরও পড়ুন: কৃষকের দুই পায়ের রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
এবার রাঙ্গামাটি জেলাজুড়ে ৪৭টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার প্রতিটি পূজা মন্ডপে শান্তিপুর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপুজা পালনের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার পক্ষ থেকে নানা রকম উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিটি পুজা মন্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন