বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪২ পি.এম
ভারতে অভ্যন্তরীণ চাহিদার বৃদ্ধির কারণে নতুন ব্যবসার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলস্বরূপ, দেশটির সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি অক্টোবরে গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে বিদেশি অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি কিছুটা ধীর হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত একটি জরিপে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এইচএসবিসির প্রকাশিত ভারতের সেবা খাতের ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক (পিএমআই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সূচকের মান ছিল ৫৫ দশমিক ২। অক্টোবরে তা বেড়ে ৫৫ দশমিক ৮ হয়েছে। তবে প্রাথমিক হিসাবে সূচকটি ৫৬ দশমিক ২ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পিএমআই সূচকের মান ৫০-এর বেশি হলে প্রবৃদ্ধি এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন হয়েছে বলে ধরা হয়।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, নতুন ব্যবসার পরিমাণ জুনের পর অক্টোবরে সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেশের ভেতরে অর্ডারের বৃদ্ধি চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বিদেশি বাজারে চাহিদা খুব একটা বাড়েনি। নতুন রপ্তানি অর্ডারের প্রবৃদ্ধি গত ৪৫ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল। এদিকে, সেবা খাতে নতুন কর্মী নিয়োগের গতিও কমেছে। অক্টোবরে কর্মী নিয়োগের হার ছিল গত জুনের মতোই। গত ১০ মাসের মধ্যে এটিই ছিল সর্বনিম্ন নিয়োগের হার।
অন্যদিকে, পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার চাপ কিছুটা কমেছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া দাম গত চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম হারে বেড়েছে। এছাড়া, উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির হার গত ছয় বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
তবে বিদ্যুৎ, শ্রমিক, কাঁচামাল ও পরিবহন খরচ বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে। ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থাও সেপ্টেম্বরে তুলনায় কমেছে। এই ক্ষেত্রে সূচকটি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের নিচে রয়েছে। ফলে বোঝা যায়, ভবিষ্যৎ ব্যবসা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আশাবাদী থাকলেও সতর্ক রয়েছে।
এদিকে, উৎপাদন ও সেবা—দুই খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া পিএমআই সূচকও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এই সূচকের মান ছিল ৫৫ দশমিক ৯। অক্টোবরে তা বেড়ে ৫৬ দশমিক ২ হয়েছে। গত চার মাসের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ অবস্থান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব রাখার লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশ অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অভিযানে অংশগ্রহণ করেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক), স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ধূমকেতু, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী এবং ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।
সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তা ছড়িয়ে দেন আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকরা। এ সময় জিরো পয়েন্টে পরিচ্ছন্নতা-সচেতনতামূলক স্লোগানসংবলিত সাইনবোর্ড ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক, টোয়াকের সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ, উপরা’র আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু, কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদার এবং কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামিম রেজা।
কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদার মন্তব্য করেন, পরিচ্ছন্ন কুয়াকাটা গড়ে তুলতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, "শুধু এক দিনের অভিযান নয়, নিয়মিত সৈকত পরিষ্কার রাখা এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এ কাজে তারা সব সময় সহযোগিতা করতে চান।"
টোয়াকের সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, "কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত। সৈকত অপরিচ্ছন্ন থাকলে পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যায়। তাই পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি পর্যটকদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান।
পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, "কুয়াকাটাকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ কাজে শুধু পৌরসভার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই পরিচ্ছন্ন কুয়াকাটা গড়ে তোলা সম্ভব।"
পরিবেশ অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক লোভানা জামিল বলেন, "কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকতে রূপান্তর করতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন সৈকত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।" তিনি জানান, সেই লক্ষ্যেই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি জিরো পয়েন্টে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরে নাশকতার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাস্তার পাশে ২০টি ককটেল, ৪১টি মশাল লাঠি ও ২ লিটার কেরোসিন তেল উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। উদ্ধার করা ককটেলগুলো পরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুর-১ এর পাইকপাড়া আনছার ক্যাম্প এলাকার তানিম ভবনের সামনে ককটেল ও মশাল পড়ে থাকার তথ্য পান রাত্রীকালীন ডিউটিতে থাকা এসআই মো. ইমরান হোসেন। খবর পেয়ে মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ডিএমপির স্পেশাল রেসপন্স ইউনিটকে (এসআরইউ) অবহিত করে।
পরবর্তীতে রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তিনটি কাগজের ব্যাগ ও রাস্তা থেকে মোট ২০টি ককটেল, দুই লিটার কেরোসিন তেল, ৪১টি মশাল লাঠি ও ককশিট উদ্ধার করা হয়। এরপর রাত ২টা ২০ মিনিটে কল্যাণপুর হাক্কানী গলি সংলগ্ন নির্মাণাধীন ভবনের খোলা মাঠে গর্ত খুঁড়ে দুই দফায় ককটেলগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে পুলিশ।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পলাতক ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরতে সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস প্রদান করা হবে না, এমন তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে (শেখ হাসিনা) দিল্লি থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর পর গণমাধ্যমের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, চীন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে নিয়ে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় করিডোর বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি প্রধান বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হবে। তিনি আরও জানান, যদিও ঢাকার এই আঞ্চলিক করিডরে যুক্ত হতে আগ্রহ রয়েছে, তবে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন আগে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মাধ্যমে আগামী দিনে চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী ব্যস্ততম উখিয়ার আরাকান সড়ক বর্তমানে অবৈধ পার্কিং এবং ঝুপড়ি দোকানের দখলে চলে গেছে। কুতুপালং এলাকার সড়কের দুই পাশে অবৈধ বাজার, স্থাপনা ও পার্কিং গড়ে উঠেছে। এর ফলে এক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে ঘণ্টারও বেশি সময়। তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলায় ভোগান্তিতে পড়ছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত শত শত যানবাহনের চালক, ভিআইপিদের বহনকারী যানবাহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ বাজার ও পার্কিং থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
কুতুপালং বাজারের অনিয়ম প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় সরকারের নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণেরও বেশি দামে বাজার ইজারা নেওয়া এবং ইজারার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার পেছনে অভিযোগ রয়েছে হেলাল উদ্দিন মেম্বারের পরিবারের বিরুদ্ধে। তবে সর্বশেষ সরাসরি ২ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বাজারটি ইজারা নিয়েছেন বোরহান উদ্দিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুতুপালং সড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে অবৈধ বাজার বসানো হয়েছে এবং পার্ক করে রাখা হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন। অন্যদিকে, সড়কের পশ্চিম পাশে গড়ে তোলা হয়েছে ঝুপড়ি দোকান। ফলে বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
শুধু কুতুপালং নয়, কোটবাজার, মরিচ্যা বাজার, বালুখালী, থাইংখালী ও পালংখালী বাজারের চিত্রও প্রায় একই রকম। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট সড়ক দখল করে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং প্রতিটি গাড়ি পার্কিংয়ের বিপরীতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে দখল ও অবৈধ বাজারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, এসব অবৈধ দখলের ঘটনা চোখের সামনে ঘটলেও ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও সরকারি গাড়িতে চলাচলের সময় তাঁরা এ দুর্ভোগ উপলব্ধি করছেন না বলে স্থানীয়দের দাবি।
কুতুপালং এলাকার আমিন নামের এক পথচারী বলেন, "বাজারে একটু যাওয়া মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকা। জরুরি রোগী নিয়েও অনেক সময় বিপাকে পড়তে হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এক পাশে সিএনজি, অন্য পাশে ঝুপড়ি দোকান—সব মিলিয়ে সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক।"
সড়কের ওপর অবৈধভাবে জাম্বুরা বিক্রি করা সৈয়দুর রহমান বলেন, "বাজারে জায়গা দিতে না পেরে আমাকে এখানে বসানো হয়েছে। আমি ২৫০ টাকা হাসিল (টোল) দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এখানে আমার কোনো দোষ নেই।"
কুতুপালং উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে তাদের দেরি হয়ে যায়। বাড়ি থেকে পৌঁছাতে যেখানে পাঁচ মিনিট লাগার কথা, সেখানে কোটবাজারের যানজটের কারণে হাতে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে বের হতে হয়। সকালে রাস্তায় গাড়ি একেবারেই এগোতে চায় না। এসব দেখভালের দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ থাকা আর না-থাকা সমান।
কুতুপালং বাজার এলাকার জাবেদ নামের এক চাকরিজীবী বলেন, "সকালে অফিসে যাওয়ার সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা হাতে নিয়ে বের হতে হয়। কারণ, কুতুপালং বাজারের যানজটে অফিসে পৌঁছাতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। এই বাজারের রাস্তা এখন ব্যবসায়ী ও পার্কিংয়ের দখলে চলে যাওয়ায় আমাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।"
কোটবাজারে সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী এক দোকানদার বলেন, "আমরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এই দোকান করি। আমরা কেন শৌখিনভাবে সড়ক দখল করব? টাকার বিনিময়ে এখানে বাজার বসিয়েছি। প্রতিদিন প্রতি দোকান থেকে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে এক ভাই সংগ্রহ করেন। টাকা দিয়েই আমরা নিরাপদে ব্যবসা করছি।"
গাড়ি পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা এক লাইনম্যান জানান, "এই পার্কিংয়ের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আমাদের দিতে হয়। কারা এই টাকা নেয়, তা আমরা জানি না। আমরা শুধু ওপরের নির্দেশ পালন করি। টাকা না দিলে এখানে পার্কিং করতে দেওয়া হয় না। আমাদের পার্কিং বন্ধ করতে হলে আগে নিরাপদ পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে।"
কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল বলেন, "আমরা চাই, অবৈধ দোকানগুলো দ্রুত উচ্ছেদ করা হোক। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন সকাল-বিকেল যানজট থাকলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হলে বাজার ইজারাদারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যথায় যানজট লেগেই থাকবে।"
শাহপরী হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হক জানান, "কুতুপালং বাজারে যানজট নিরসনে বাজার সমিতি, ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতায় শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোটবাজারের যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে এবং নিয়মিত অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। তবে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট সমন্বয় ছাড়া এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, "এ বিষয়ে আমরা শিগগিরই যৌথ অভিযান পরিচালনা করব। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সড়ক দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ ঝুপড়ি দোকান ও পার্কিং উচ্ছেদের জন্য ইতিমধ্যে কাজ চলছে। যারা কুতুপালং সড়ক দখল করে বাজার বসিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী, ইজারা দেওয়ার শুরুতেই বাজারের মূল্যতালিকা প্রকাশ ও টাঙাতে হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা করা হয়নি। আমি যোগদানের পরপরই বাজারের মূল্যতালিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য কক্সবাজারে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেয়ে এলে শিগগিরই তা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ