বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪২ পি.এম
মানুষের আগ্রহ কখনোই শেষ হয় না নায়ক-নায়িকা কিংবা সেলিব্রেটিদের নিয়ে। তাদের অভিনয়, পোশাক, সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিগত জীবন-সবকিছু নিয়েই ভক্তদের কৌতূহল থাকে। কখনো কখনো এই ভালো লাগা অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়। নায়িকার গোসলের পানি দিয়ে তৈরি সাবান এর একটি অদ্ভুত উদাহরণ।
এটি শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ২০২৫ সালে বাজারে আসা একটি সাবান সত্যিই এমনই ছিল। হলিউডের অভিনেত্রী সিডনি সুইনির গোসলের পানি ব্যবহার করে সেই সাবান তৈরি করা হয়েছিল। তবে প্রশ্ন উঠছে, কেন তৈরি হলো এই সাবান? সিডনি সুইনি কে? এবং একজন তারকার ব্যবহৃত গোসলের পানি পেতে ভক্তদের এই আগ্রহের পেছনে কি কোনো মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা কাজ করছে?
সিডনি সুইনি মার্কিন অভিনেত্রী। তিনি ১৯৯৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়স থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে তার জনপ্রিয়তা বাড়ে এইচবিওর আলোচিত সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’তে ক্যাসি হাওয়ার্ড চরিত্রে অভিনয়ের পর।
‘দ্য হোয়াইট লোটাস’, ‘অ্যানিওয়ান বাট ইউ’সহ বেশ কিছু কাজের মাধ্যমে হলিউডে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সিডনির সৌন্দর্য ও শারীরিক গঠন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়। কখনো প্রশংসা, কখনো অশালীন মন্তব্য তারকার ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে শারীরিক উপস্থিতিই যেন অনেকের কাছে বড় হয়ে ওঠে। এ নিয়ে সিডনি নিজেও বিভিন্ন সময়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন।
কিন্তু গোসলের পানি দিয়ে সাবান তৈরির ভাবনা কিভাবে এলো? ঘটনাটি শুরু হয় ২০২৪ সালে। পুরুষদের পরিচর্যাপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড. স্কোয়াচ-এর একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নেন সিডনি। বিজ্ঞাপনে তাকে বাথটাবে বসে সংস্থার বডি ওয়াশের প্রচার করতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের উপস্থাপনা ছিল কিছুটা ইঙ্গিতপূর্ণ ও রসিকতাপূর্ণ। সেখানে সিডনিকে ‘বডি ওয়াশ জিনি’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে অনেক ভক্ত মজা করে তার গোসলের পানি চেয়ে মন্তব্য করতে থাকেন। প্রথমে বিষয়টি ছিল ইন্টারনেটের রসিকতা। কিন্তু সেই রসিকতাকেই বিপণনের সুযোগ হিসেবে দেখল সংস্থাটি। ২০২৫ সালের মে মাসে ঘোষণা করা হয়, সিডনির গোসলের পানির সামান্য অংশ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে বিশেষ সাবান।
সাবানটির নাম দেওয়া হয় ‘সিডনিস বাথওয়াটার ব্লিস’। সিডনি নিজেই জানিয়েছেন, বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময় তিনি বাথটাবে গোসল করেছিলেন এবং সেখানকার পানি সংগ্রহ করা হয়েছিল। অর্থাৎ সাবানটি শুধুমাত্র প্রচারণার জন্য দেওয়া কোনো কাল্পনিক নাম ছিল না; এতে সত্যিই তার গোসলের পানির কিছু ফোঁটা ব্যবহার করা হয়েছিল।
সাবানটিতে গোসলের পানির পাশাপাশি ছিল বালুকণার মতো এক্সফোলিয়েটিং উপাদান ও পাইন বার্ক এক্সট্র্যাক্ট। এর সুগন্ধে রাখা হয়েছিল পাইন, ডগলাস ফার ও মাটির সোঁদা ঘ্রাণ। সিডনির বেড়ে ওঠার অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রকৃতির ঘ্রাণ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রে সাবানটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রতিটির দাম ছিল ৮ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ হাজার টাকার মতো। তৈরি হয়েছিল মাত্র ৫ হাজার সাবান। সীমিত সংস্করণের এই পণ্য দ্রুত আলোচনায় আসে এবং বিক্রির পরপরই শেষ হয়ে যায় বলে প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর রিসেল মার্কেটে এই সাবান বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ টাকায়।
সূত্র: গলফ নিউজ, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের পর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "শুধু ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং সেই ক্ষমতা জনগণের স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা ভোটারদের জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে দলটিকে। মামদানি বলেন, "শুধু ক্ষমতা জয় করাই যথেষ্ট নয়, সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।"
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতাদের উদ্দেশ্যে মামদানি আরও বলেন, "এখন আমাদের কাজ করে দেখানোর সময়। বন্ধুরা, আমেরিকায় আবারও নতুন সকাল এসেছে।"
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নির্বাচনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হন ৩৫ বছর বয়সী মামদানি। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম মেয়র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং সাধারণ জনগণ একত্রিত হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। তাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে তৎকালীন ষড়যন্ত্র ও সংকট মোকাবিলার একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সংঘটিত পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশে যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা সেই পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগানে মুখরিত জনতার অংশগ্রহণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয়কে আরও দৃঢ় করে।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সময়েও দেশ ও জাতি বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক এবং জাতীয় সংকটের সম্মুখীন।
গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র এবং অপতৎপরতা প্রতিহত করতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসন ও স্বৈরাচারী প্রবণতার দিকে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।’
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করার জন্য দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক দল, সরকার এবং সামরিক বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন শফিকুর রহমান।
সবশেষে বিবৃতিতে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা ও দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন নাসার তিন মহাকাশচারী। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থান করেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের বিষয়টি আবারও প্রমাণিত হলো। অনিল মেনন, জেসিকা ওয়াটকিন্স এবং লুক ডিলানি এই ভোটিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
মহাকাশচারী অনিল মেনন মার্কিন সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে তিনি মহাকাশ স্টেশনের ভেতরে নিজের শোবার কুঠরি বা স্লিপিং কম্পার্টমেন্টকে একটি অস্থায়ী 'ভোটকেন্দ্র' হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সেই কুঠরির ভেতরের কম্পিউটার ব্যবহার করে তিনি ভোটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
অনিল মেনন তার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, "হ্যাঁ, আপনি মহাকাশ থেকেও ভোট দিতে পারেন! মহাকাশ স্টেশন থেকে ভোট দেওয়ার সৌভাগ্য আমাদের তিন মার্কিন ক্রু সদস্যেরই হয়েছে। আমরা ইলেকট্রনিক ব্যালট পূরণ করে নিরাপদে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছি।"
নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশচারীরা প্রথমে অ্যাবসেন্টি ব্যালটের জন্য আবেদন করেন। এরপর মহাকাশ স্টেশনে বসেই তারা ইলেকট্রনিক ব্যালট পূরণ করেন এবং নাসার নিজস্ব যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তা পৃথিবীতে পাঠান। এই ব্যালটটি ট্র্যাকিং অ্যান্ড ডেটা রিলে স্যাটেলাইট সিস্টেমের মাধ্যমে নিউ মেক্সিকোতে নাসার হোয়াইট স্যান্ডস টেস্ট ফ্যাসিলিটির গ্রাউন্ড অ্যান্টেনায় পৌঁছায়। সেখান থেকে তা হিউস্টনে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টার হয়ে টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তার দপ্তরে পৌঁছায়। গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যালটটি পুরোপুরি এনক্রিপ্ট করা থাকে, যা কেবল সংশ্লিষ্ট মহাকাশচারী এবং কাউন্টি ক্লার্কই খুলতে পারেন।
১৯৯৭ সালে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে পাশ হওয়া একটি আইনের কল্যাণে প্রথমবার মহাকাশ থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান মার্কিন নভোচারীরা। এর ধারাবাহিকতায় মীর মহাকাশ স্টেশন থেকে ডেভিড উলফ প্রথম মার্কিন হিসেবে মহাশূন্য থেকে ভোট দিয়েছিলেন। বর্তমান মিশনের তিন মহাকাশচারী—অনিল মেনন, জেসিকা ওয়াটকিন্স এবং লুক ডিলানি—এবার সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেই মহাকাশ থেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন। সূত্র: ইউরোনিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ