সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৯ পি.এম
বলিউডে নারীপ্রধান চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, একটি ছবির বক্স অফিসে সফল হওয়ার জন্য ভালো গল্প, চিত্রনাট্য অথবা অভিনয় থাকলেই যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে যখন ছবির কেন্দ্রে নারী অভিনয়শিল্পী থাকেন, তখন সাফল্যের সম্ভাবনা আরো জটিল হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে আলিয়া ভাট এবং দীপিকা পাড়ুকোনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
সম্প্রতি এক সংবাদ সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে রাধিকা বলিউডে পুরুষ অভিনেতাদের আধিপত্য, নারীপ্রধান ছবির চ্যালেঞ্জ এবং বক্স অফিসের অনিশ্চয়তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
রাধিকার মতে, তিনি কোনো ছবির মুক্তির মাধ্যম—প্রেক্ষাগৃহে হবে কিনা, নাকি ওটিটিতে—এসব বিষয় বিবেচনা করে কাজ বেছে নেন না। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কাজটি যেন দর্শকের কাছে পৌঁছায়। তবে মুক্তির মাধ্যম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাণিজ্যিক হিসাব কাজ করে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
বলিউডে বাণিজ্যিক সাফল্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে গিয়ে রাধিকা মনে করেন, পুরুষ চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তার মতে, ভালো ছবি তৈরি করলেও সেটি কতটা ব্যবসা করবে, তা আগে থেকেই অনুমান করা কঠিন। বিশেষ করে নারীপ্রধান ছবির ক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ প্রসঙ্গে রাধিকা বলেন, ‘গত কয়েক বছরে প্রেক্ষাগৃহ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির তালিকা দেখলেই বোঝা যাবে, কোন ছবি চলবে আর কোন ছবি চলবে না, তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। খুব ভালো কোনো ছবিতে আমি মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করলেই যে সফল হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
এরপর রাধিকা বলিউডের শীর্ষ দুই অভিনেত্রী আলিয়া ভাট ও দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে নিজের তুলনা টেনে বলেন, ‘আমি আলিয়া বা দীপিকা নই যে, মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্তত বক্সঅফিসে বিপুল আয় করা শুরু করবে। সেজন্যই পুরুষ চরিত্র প্রাধান্য পাচ্ছে, এ রকম ছবিতেই আমাকে কাজ করতে হবে।’
‘স্যাক্রেড গেমস’, ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ এবং ‘মোনিকা ও মাই ডার্লিং’-এর মতো একাধিক কাজের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন রাধিকা আপ্তে। তিনি প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি ওটিটি মাধ্যমেও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সামনে নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘আক্কা’তে দেখা যাবে এই অভিনেত্রীকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কার্যকরী হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটি দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। ইউক্রেনের মতে, ভারতের এই উদ্যোগটি বিবেচনায় থাকা চারটি প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত।
ভারতের প্রস্তাবে তিনটি মূল বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করা, কৃষ্ণসাগরের বন্দর দিয়ে শস্য ও জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করা। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলাকালীন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন।
ইউক্রেন ভারতের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা মন্তব্য করেছেন, বর্তমানে আলোচনায় থাকা চারটি উদ্যোগের মধ্যে ভারতের প্রস্তাব সবচেয়ে বিস্তৃত। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কিয়েভ জ্বালানি স্থাপনা ও কৃষ্ণসাগরকে ঘিরে একটি যৌথ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করছে।
তবে, ভারতের প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়া ভারতের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ক্রেমলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, যেকোনো সমঝোতার লক্ষ্য হতে হবে একটি ‘টেকসই ও ন্যায্য শান্তি’। মস্কো মনে করছে, অল্প সময়ের জন্য যুদ্ধ বন্ধ করাকে যথেষ্ট মনে করা হচ্ছে না।
রাশিয়ার কর্মকর্তারা পূর্বে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর সুযোগ পাবে। ভারতের এই উদ্যোগের পেছনে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি ছাড়াও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম, খাদ্য সরবরাহ এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কৃষ্ণসাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শস্য পরিবহনপথ। এই পথে বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। অপরদিকে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে তেল ও অন্যান্য জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
ভারত একটি দ্রুত বর্ধনশীল বড় অর্থনীতি হিসেবে, জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটলে দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। তাই জ্বালানি ও বাণিজ্যব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের এই উদ্যোগের সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যের সম্পর্কও রয়েছে। রাশিয়া এখনো ভারতের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিশোধিত জ্বালানির জন্য দেশটির আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ভারত থেকেও রাশিয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
এতে দুই দেশের জ্বালানি খাতে পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়ছে। যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা কমানো তাই ভারতের জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও মিসরও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে, দেশগুলোর স্বার্থ এক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরো বেড়ে যাওয়া ঠেকানো। তুরস্ক চায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্য চালু থাকুক। এতে শস্য পরিবহনসহ আঞ্চলিক বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, মিসরের প্রধান উদ্বেগ খাদ্যনিরাপত্তা। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বড় শস্য আমদানিকারক। তাই ইউক্রেন থেকে নিয়মিত শস্য আমদানি চালু রাখা মিসরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রস্তাবে এসব বিষয়ের পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ, জ্বালানি বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজেদের ভূমিকা বাড়ানোর সুযোগও দেখছে ভারত। রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ বজায় রেখে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় দেশটি।
তবে, ভারতের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা রয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন—কোনো পক্ষই মনে করছে না যে তারা নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করেছে। দুই দেশই সামরিক চাপ বজায় রেখে আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়।
এ কারণে যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষকে রাজি করানো কঠিন হতে পারে। ভারতের প্রস্তাবে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও তা রাশিয়া ও ইউক্রেনের সামরিক হিসাব-নিকাশ বদলাতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
তবুও, ভারতের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করে সীমিত সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে যুদ্ধের বাইরেও বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, রাশিয়া ও ইউক্রেন নিজেদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে এসব অর্থনৈতিক সুবিধাকে বেশি গুরুত্ব দিতে রাজি হবে কি না। দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া ভারতের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে খেলাধুলার সময় ডোবার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই দুই শিশু চাচাতো ও জ্যাঠাতো ভাই-বোন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুল্লাহ আল আরাফ (২) এবং আশরাফুল ইসলামের মেয়ে মিফতাহুল জান্নাত (২)।
স্থানীয়রা এবং পুলিশ জানায়, পরিবারের অজান্তে খেলতে গিয়ে দুই শিশু বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে পড়ে যায়। পরে তাদের খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ডোবা থেকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার অভিযোগে চার নারীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
এ দণ্ড সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নারীরা হলেন, মর্তুজা বেগম, রুনা বেগম, শাহনাজ বেগম এবং বুশরা বেগম। মর্তুজা বেগম হবিগঞ্জের মাধবপুরের বাসিন্দা। অন্য তিনজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বাসিন্দা। তারা দীর্ঘ সময় ধরে রূপসী এলাকার একটি পরিত্যক্ত স্থানে বসবাস করছিলেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের নাদিম জানিয়েছেন, হাসপাতালটিতে আসা রোগীদের টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। সোমবার সকালে রোগীদের কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার সময় ওই চার নারীকে স্বজনেরা হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নারীরা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত নারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। পরে তাদের নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে বর্ণাঢ্য র্যালি এবং বিস্তৃত কর্মসূচির ঘোষণা করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানান, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতারা। এছাড়া আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো।
কর্মসূচি সম্পর্কে রিজভী বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচির খসড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও র্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অঙ্গসংগঠনগুলো পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে এবং ছাত্রদল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, সম্ভাব্য ৬ নভেম্বর একটি আলোচনা সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়া গেলে ওই দিন সভা অনুষ্ঠিত হবে, অন্যথায় তিনি যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেদিনই সভা হবে।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনের চেতনা হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার চেতনা। ১৯৭৫ সালের আগের রাজনৈতিক সংঘাত ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতেই ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান সংকটময় সময়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তেমনি ৭ নভেম্বরের পর তিনি জাতীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন। এরপর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে অন্যগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বহু সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক দলগুলো আবার মুক্তভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পায়।
এরপর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ছাত্র-জনতার বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ছাত্র-জনতার ‘জুলাই আন্দোলন’কেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেখানে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশ নেন; যার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্রের পথ আবারও উন্মুক্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সব মতের অধিকার রক্ষায় ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে এই ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ