মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৮ পি.এম
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে মেয়র প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত এর সাথে শেখর চন্দ্র দাস একান্ত মিটিংয়ে উপস্থিত।
বরিশাল নগরজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী, বেপরোয়া চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক ক্ষমতার চরম অপব্যবহার, করোনা সহায়তার নামে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ এবং জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি হামলা ও অগ্নিসংযোগের একাধিক মামলার প্রধান অভিযুক্ত শেখর চন্দ্র দাসকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বরিশাল মহানগরীর নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য এবং সেই অবৈধ কালো টাকায় কুয়াকাটায় গড়ে তোলা আলিশান পাঁচতলা হোটেলের খবর এখন পুরো দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা দুঃশাসন, রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার এবং কীভাবে সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া হয়েছিল, শেখর চন্দ্র দাসের এই পুরো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তারই এক নগ্ন ও বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।
করোনা মহামারির দুর্যোগে মানুষকে সরকারি অর্থ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ পার্থ লোপাট করে। করোনাভাইরাস মহামারির মতো একটি বৈশ্বিক ও জাতীয় সংকটকালীন সময়েও শেখর চন্দ্র দাস নিজের লোভ ও পৈশাচিক মানসিকতা সংবরণ করতে পারেননি। মহামারির কারণে যখন সারা দেশের মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিল, তখন সরকার থেকে পাঠানো আর্থিক সহায়তা বা ত্রাণের চাল অসহায় মানুষের মাঝে পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তিনি প্রতারণার জাল বিছানেন। সহায়তার প্রত্যাশায় থাকা দিনমজুর, গরিব ও দুস্থ মানুষের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। সংকটের দিনে সাধারণ মানুষের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়ানোর বদলে তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অর্থ আত্মসাতের এই লোমহর্ষক ঘটনাটি সেই সময়ে এলাকায় চরম জনরোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
মহসিন মার্কেট থেকে শুরু করে পানির দোকান—বাদ যায়নি কিছুই স্থানীয় সচেতন মহল, ব্যবসায়ী সমাজ এবং প্রাপ্ত বিভিন্ন অভিযোগের গভীরে গেলে দেখা যায়, বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন শেখর চন্দ্র দাস দলীয় পদ ও বড় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে নগরীর প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকাগুলোতে একচ্ছত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। নগরীর অত্যন্ত ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মহসিন মার্কেটে তাঁর নির্দেশে চলত ব্যাপক ও নিয়মিত চাঁদাবাজি। এছাড়া স্টিমার ঘাট এলাকা, কাঁচাবাজার, বাটার খাল এলাকা থেকে শুরু করে নগরীর অলিগলির ছোট্ট একটি পানির দোকান পর্যন্ত তাঁর চাঁদাবাজির রোশনল থেকে রেহাই পায়নি। প্রতিটি দোকানদারকে তাঁর নির্ধারিত চাঁদা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, অন্যথায় দোকান ভাঙচুর কিংবা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতো। একাধিক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আতঙ্কিত হয়ে আজও মুখ খুলতে না পারলেও তাঁর এই চাঁদাবাজির ভয়ংকর ইতিহাস সবারই জানা।
পবিত্র রমজানেও হকারদের ছাড় দেননি এই চাঁদাবাজ শেখর চন্দ্র দাসের চাঁদাবাজির নির্মমতার মাত্রা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে, পবিত্র রমজান মাসের মতো সংযমের সময়েও তিনি সাধারণ হকারদের ছাড়েননি। ইফতার ও সেহরির জোগাড় করতে যখন ফুটপাথের গরিব হকারা একটু বাড়তি আয়ের আশায় বসেছিলেন, তখন তাঁদের ওপরও নিয়মিত চাঁদার দাবি চাপিয়ে দেওয়া হতো। রমজানের পবিত্রতাকে তোয়াক্কা না করে হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হতো। ফুটপাথে ছোট ব্যবসা পরিচালনা করা এসব অসহায় মানুষ টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
সিটি করপোরেশন এলাকাসহ প্রধান সড়কগুলোতে হকারদের ওপর প্রতিদিনের জুলুম বরিশাল সিটি করপোরেশনের সামনের প্রধান সড়ক, হকারদের বসার নির্দিষ্ট স্থান এবং আশেপাশের জনবহুল ফুটপাথগুলো থেকে প্রতিদিন নিয়মিত নগদ চাঁদা আদায় করা হতো শেখর চন্দ্র দাসের ইশারায়। দিনভর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে হকাররা যা আয় করতেন, তার একটি বড় অংশ চলে যেত এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের পকেটে। প্রতিবাদ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ ছিল না, কারণ প্রতিবাদ করলেই হকারদের উচ্ছেদ করা হতো এবং মারধর করা হতো।
বহিষ্কারের পরও থামেনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও নতুন বলয় তৈরি চাঁদাবাজির এই লাগামহীন দৌরাত্ম্য ও সীমাহীন অপরাধের মাত্রা যখন সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন বাধ্য হয়ে তৎকালীন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তাঁকে দলীয় পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার মোহে অন্ধ শেখর চন্দ্র দাস দমে যাননি। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও তিনি থেমে থাকেননি; বরং রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য তিনি পরবর্তীতে খোকন সেরনিয়াবাতের রাজনৈতিক বলয়ে ভিড়ে যান এবং নিজের প্রভাব ধরে রাখতে নতুন করে সিন্ডিকেট তৈরি করেন। পরবর্তীতে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে সরাসরি পেশিশক্তি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার এবং ভোটের বাক্সে নানা অনিয়ম ও কারচুপির সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং একের পর এক গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পরও রাজনৈতিক আশীর্বাদের জোরে তিনি সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছিলেন।
চাঁদাবাজির টাকায় কুয়াকাটায় পাঁচতলা হোটেল ও বর্তমান নিরাপদ আশ্রয়স্থল অনুসন্ধানে আরও সুনির্দিষ্ট ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিগত বছরগুলোতে নগরীর রাজপথ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া কোটি কোটি টাকার একটি বিশাল অংশ অবৈধ উপায়ে পাচার করা হয় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকায়। সেখানে ‘হোটেল সি-গাল’ নামে একটি আলিশান পাঁচতলা ভবন বা আবাসিক হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে, যার প্রকৃত মালিক শেখর চন্দ্র দাস ও তাঁর পরিবার। সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এই দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণের মূল উৎসই হলো বরিশালের সাধারণ মানুষের পকেট কাটা কালো টাকা। বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে থাকা শেখর চন্দ্র দাস সেই পাঁচতলা হোটেলকেই নিজের অত্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়ে সেখানে আরাম-আয়েশে বসবাস করছেন। শুধু তাই নয়, কুয়াকাটার এই বিলাসবহুল হোটেলে বসেই তিনি নিজের ফেসবুক আইডি এবং বেনামি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারবিরোধী ও নানা উসকানিমূলক রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছেন। বরিশাল নগরীতে হঠাৎ করে ঝটিকা মিছিল বের করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পর যেসব ক্যাডাররা পালিয়ে বেড়ায়, তাদের অনেকে কুয়াকাটার এই হোটেলেই নিরাপদ আশ্রয় নেয়। দলীয় কার্যক্রমে প্রকাশ্যে রাজপথে দেখা না গেলেও পর্দার আড়ালে থেকে শেখর চন্দ্র দাস এসব বিশৃঙ্খল কার্যক্রমে গোপনে বিপুল অঙ্কের অর্থ জোগান দিয়ে আসছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
জুলাই-আগস্টের সহিংসতা ও মামলার কঠোর আইনি অবস্থান আইনি ও প্রশাসনিক দিক থেকেও শেখর চন্দ্র দাস একজন চিহ্নিত ও মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক ও রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলন দমাতে চালানো হামলা এবং রাজনৈতিক সহিংসতায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার জোরালো প্রমাণ মিলেছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বরিশাল টাউন হল এলাকার বিএনপি কার্যালয়ে সরাসরি অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও নজিরবিহীন তাণ্ডব চালানোর মূল হোতাদের একজন ছিলেন তিনি। এই সুনির্দিষ্ট ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ কিছু কুচক্রী মহল আইনি মারপ্যাঁচ, প্রশাসনিক নথি বা আদালতের রায়ের দীর্ঘসূত্রতার অজুহাত দেখিয়ে এই সমস্ত অপরাধ ও অবৈধ সম্পদের পাহাড়কে আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু কুয়াকাটায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ওই পাঁচতলা বহুতল ভবনটিই হলো শেখর চন্দ্র দাসের বহু বছরের জুলুম, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির সবচেয়ে বড় জীবন্ত ও দৃশ্যমান প্রমাণ। কাগজের নথির বাহানা দিয়ে জুলাই-আগস্টের গণহত্যাকারী ও চাঁদাবাজদের বাঁচানোর এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয় অভিযুক্ত শেখর চন্দ্র দাসের সাথে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি তাঁর অফিশিয়াল বা ব্যক্তিগত মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া বা জবাব পাওয়া যায়নি।
তবে এই বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম তালাশ বিডিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শেখর চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে এবং তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বাত্মক অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্ডেনের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার স্কুল মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৃসার পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আমিনুল ইসলাম খোকন।
স্কুল প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ও কামাল হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি খোরশিদুল আলম মজিব, সহকারী শিক্ষক রুবেল আহমেদ, অভিভাবক সদস্য হুমায়ূন কবির প্রমূখ। পরে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিথিরা ট্রাস্ট নগদ অর্থ সার্টিফিকেট প্রদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নতুন একটি গাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। অগ্রণী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সৌজন্যে গাড়িটি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবার কাছে গাড়ির চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।
এ সময় ডিআইজি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণকে দ্রুত পুলিশি সেবা দিতে ময়মনসিংহ রেঞ্জ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। নতুন গাড়ি যুক্ত হওয়ায় শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ও পূর্বধলা থানার জরুরি সাড়া প্রদান, রাতের টহল এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে।
তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মতিউর রহমান, নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. সেন্টু মিয়াসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বেনামি ঠিকাদারি ব্যবসা,জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের নিকট সচেতন নাগরিকের পক্ষে আবেদন করেছেন সাকিল আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তি।
তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) শাখা'র নির্বাহী সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, পিতাঃ শেখ রুস্তুম আলী, মাতাঃশাহিদা বেগম, হাল সাং- শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ভাটারখাল,বরিশাল। স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রামঃ জামুয়া, ঢেপুয়ারপাড়, উপজেলাঃ মোড়লগঞ্জ, জেলাঃ বাগেরহাট এর বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে থেকে ঠিকাদারি ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতা, নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল পরিশোধে কমিশন দাবি এবং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি কোটি টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতের করেন ।
লিখিত আবেদনে আরো উল্লেখ করেন, শহিদুল ইসলামের মদদে মেসার্স মোমিন সিকদার, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স এবং মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্সের মাধ্যমে কাজ বণ্টন, সাবকন্ট্রাক্ট ও ব্যবসায়িক সুবিধা প্রদানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প এবং বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজের দরপত্র, কার্যাদেশ, প্রকৃত নির্মাণকাজ, পরিমাপ বই, বিল-ভাউচার, ব্যাংক লেনদেন ও নিরাপত্তা জামানতের নথি যাচাই করলে অনিয়মের প্রমাণ মিলবে।
এছাড়া শহিদুল ইসলাম বহুল আলোচিত কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন এবং পিএসসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ একটি শক্তিশালী প্রশ্নফাঁস চক্রের সাথে প্রকৌশলী শহিদুল জড়িত ছিলেন। শহিদুলের নিয়োগেও রয়েছে বড় অনিয়ম। তিনি ও তার বন্ধুদের নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ফাঁস হয়েছিল। বড় অংকের ঘুসের বিনিময়ে সেই অনিয়ম ধামাচ্পা দেয়া হয়।
এছাড়া বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম শেয়ারে বরিশাল ও ঢাকায় জমি ক্রয় করে ফ্ল্যাট ব্যবসা, উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট, গাড়িসহ নামে বেনামে শত শত কোটি টাকাসহ সহায় সম্পদ গড়েছেন। ঘুষ, ঠিকাদারি, ঠিকাদারদের থেকে প্রতি বিলে ঘুষ, কমিশন, ঠিকাদারী কাজ বিক্রি, পার্টনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজের রিভাইজের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিল করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ,প্রতি লাইসেন্স থেকে দশ হাজার করে ঘুষ আদায়সহ অনৈতিক ভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদক তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে তার সম্পদের পাহাড়ের সকল তথ্য।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, শহিদুল ইসলাম নিজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে টেন্ডার টেম্পারিং ও অবৈধভাবে ব্যবসায় জড়িত হয়েছেন। তিনি দন্ড বিধি ও সরকারি চাকরী আচরন বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন। এসব অপরাধ সরাসরি দুর্নীতি দমন কমিশন এর তফসিলভুক্ত অপরাধ।
অভিযোগকারী দাবি করেন, শহিদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করলে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ধারা ৫(২), দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর প্রাসঙ্গিক বিধান এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের প্রমাণ মিলবে।
এ ব্যাপারে সাকিল আহম্মেদ জানান, আমি সচেতন একজন নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে প্রকাশিত অভিযোগ, তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে দুদকের চেয়ারম্যানের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করি দুদকের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা মিলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ইজারাদারদের পক্ষের মো. দেলোয়ার হোসেন কাকন নামে একজন গুরুতর আহত হন।তিনি ভৈরব পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা।
অপরদিকে বালুমহাল ইজারাদারের লোকজন স্পীডবোডে এসে গণঅধিকার পরিষদের ভৈরবের সংগঠক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, সাংবাদিক মো. জাকির হোসেন, আশরাফুল আলম বাবু ও ঢাকার দুইজন সাংবাদিকসহ নৌকায় থাকা লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধর করে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল ও সাংবাদিক জাকির হোসেন।
আজ ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকায় নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ইজারাদার পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, উপজেলার খলাপাড়া এলাকায় ড্রেজারে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, আশরাফুল আলম বাবু ও আরমান মিয়ার নেতৃত্বে ইজারাদারের পক্ষের দেলোয়ার হোসেন কাকনের ওপর হামলা চালানো হয়। এসময় তার মাথায় ও কান সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে রক্তাক্ত জখমসহ গুরুতর আহত করা হয়। দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
আহত যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেন কাকন অভিযোগ করেন, বৈধ ইজারা নিয়ে নদীতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তিনি নৌকার টোকেন দেয়ার জন্য পাড়ে ছিলেন। তখন ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল, আশরাফুল আলম বাবু ও আরমান মিয়ার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২জন লোক তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁর মাথা ও কানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম ও শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে চিকিৎসা দেয়া হয়। এবিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পাল্টা অভিযোগ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল। তিনি বলেন, কয়েকজন সাংবাদিকসহ তাঁরা খলাপাড়া এলাকায় মেঘনা নদীতে যান ড্রেজারে বালু উত্তোলন দেখার জন্য। নদীতে ৭০টির অধিক ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ছবি ও ভিডিও করতে গেলে ইজারাদারের পক্ষের লোক ভৈরব পৌর তাঁতী দলের সভাপতি মাইনুল ইসলাম বেকুলের নেতৃত্বে ও নির্দেশে দুইটি স্পীডবোডে ১৫ থেকে ২০জন সন্ত্রাসী আমাদের ইঞ্জিন চালিত নৌকাকে ধাওয়া করলে নৌকাটি পাড়ে ভিড়ার সময় তারা পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নৌকায় উঠে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা ঢাকার দুই সাংবাদিকসহ আমাদের মারধোর করে আহত করেন এবং মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয় লোকজন তখন আমাদেরকে বাঁচতে এগিয়ে আসলে তারা স্পীডবোড নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইজারাদারের লোক দেলোয়ার হোসেন কাকন স্পীডবোড থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান। পরে আমরা ও এলাকাবাসী লোকজন তাকে ইজিবাইক দিয়ে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠাই। এখন তারা মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে আমরা তাদের ওপর হামলা করেছি। যা কোন ভাবেই সত্যি নয়। আমাদের কাছে ভিডিও রয়েছে তারা যে আমাদেরকে নদীতে ধাওয়া করেছে। এলাকাবাসী লোকজন স্বাক্ষী আছে। এলাকাবাসী লোকজন এগিয়ে না আসলে আমাদেরকে বালু খেকোরা প্রাণে মেরে ফেলতো। এবিষয়ে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর অভিযোগ করবো।
এবিষয়ে পৌর তাঁতীদল সভাপতি মাইনুল ইসলাম বেকুল বলেন, আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কথাটা সত্য না। ড্রেজার দেখার জন্য স্পীডবোড সারাদিনই নদীতে থাকে। নৌকা দিয়ে সাংবাদিক নিয়ে এসে ড্রেজারের ছবি ও ভিডিও করলে আমাদের কিছু লোক এসে আমার ম্পীডে উঠে নৌকার পিছনে পিছনে নদীর পাড়ে যায়। সেখানে গিয়ে নৌকায় উঠে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মারামারি হয়। এতে কাকন মারাত্মকভাবে আহত হয়। এছাড়াও আমাদের আরও দুইতিনজন আহত হয়েছে। আহত কাকন স্পীডবোডে আমাদের সঙ্গেই গিয়েছিলো। নৌকায় মারামারির ভেতরে কে কাকনকে মারধর করে আহত করেছে সেটা খেয়াল করতে পারেনি।
এবিষয়ে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ জানান, প্রতিমন্ত্রী স্যার আসায় আমি সকাল থেকে উনার সঙ্গে আছি। নদীতে মারামারি বিষয়ে আমি অবগত নই।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম মামুনুর রশীদ মুঠোফোনে জানান, নদীতে মারামারির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ