০৮:৩১ পি.এম
বৈশ্বিক সংঘাত এবং পুরনো বাণিজ্য পথে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হওয়ার কারণে বড় বড় জাহাজ কোম্পানিগুলো নতুন পথ খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে, চীনের জাহাজ কোম্পানি সি লিজেন্ড আর্কটিক সাগরের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজি রাখছে। তারা ৪০ দিনের পথকে ২০ দিনে সম্পন্ন করতে নর্দার্ন সি রুট (এনএসআর) ব্যবহার করে নিয়মিত জাহাজ চালানো শুরু করছে।
নতুন এই পথটি চীনের পূর্বাঞ্চলীয় নিংবো শহরকে ব্রিটেনের বৃহত্তম কনটেইনার বন্দর ফেলিক্সস্টোকে যুক্ত করবে। এটি পূর্বএশিয়া এবং উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে দ্রুততম সমুদ্রপথ হতে পারে। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুক্রবার ১৭০০ কনটেইনার এবং ২০ জন ক্রু নিয়ে ৩৫ হাজার টনের একটি জাহাজ নিংবো থেকে যাত্রা শুরু করেছে। এই ভাসমান বরফের মাঝে থাকা ১২ হাজার কিলোমিটার (৭,৫০০ মাইল) পথ অতিক্রম করতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।
তবে, নতুন এই রুটে একটি শর্ত বা অসুবিধা বিদ্যমান। এটির পথ রাশিয়ার উত্তর উপকূলের পার্শ্ববর্তী হয়ে গেছে এবং এটি মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লোহিত সাগরে হুথিদের হামলার কারণে অনেক কোম্পানি সুয়েজ খাল পরিবর্তে আফ্রিকা ঘুরে যাতায়াত করছে। এর ফলে যাতায়াতে সময় লাগছে প্রায় ৫০ দিন। অন্যদিকে, যদিও আর্কটিক রুটে সময় কম লাগছে, এখানে বছরের বেশিরভাগ সময় বরফ জমে থাকে। এখান দিয়ে শুধু গ্রীষ্মকালে জাহাজ চলাচল করতে পারে।
আরও পড়ুন: আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের
এই রুটের নিয়ন্ত্রণ রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রোসাটমের হাতে থাকার কারণে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো কিছুটা চিন্তিত। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে অনেকেই এই পথ এড়িয়ে চলছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্যানস্টার কোম্পানি এই মাসে একটি পরীক্ষামূলক যাত্রার পরিকল্পনা করেছে। চীন প্রায় এক দশক ধরে আর্কটিক রুটে বাণিজ্যের পরিকল্পনা করছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে এই রুটে চীনের প্রভাব অনেক বেড়ে গেছে। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করছে, বাণিজ্যিক উপস্থিতির পেছনে বেইজিংয়ের সামরিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। বিশ্লেষক পিটার স্যান্ডের মতে, বাণিজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা এবং আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এটা একটি বড় কারণ হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন