ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নববী শিক্ষার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল পৃথিবী গড়ার গুরুত্ব


নববী শিক্ষার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল পৃথিবী গড়ার গুরুত্ব

মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী ও রাসুল প্রেরণ করেছেন এই পৃথিবীকে সভ্য ও সুশৃঙ্খল করার জন্য। তাঁদের মাধ্যমে মানবজাতিকে পার্থিব ও পরকালীন জীবনের সব বিষয় শেখানো হয়েছে। এই শিক্ষার ফলে মানুষের পৃথিবীর জীবন সহজ হয়েছে এবং সৃষ্টিজগতের অন্য সবকিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। আল্লামা রাগেব ইস্পাহানি (রহ.) বলেন, ‘মানবজাতির প্রতি নবীদের প্রেরণ একটি অপরিহার্য বিষয়। মানুষ কখনোই তাদের শিক্ষা থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না।’ (তাফসিরুর রাগিব : ৪/২৩২)

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহ.) লেখেন, ‘রিসালাত মানুষের জন্য আবশ্যক ও প্রয়োজনীয় বিষয়। নবী-রাসুলদের প্রতি মানুষের প্রয়োজন অন্য সব প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। রিসালাত (নববী শিক্ষা) পৃথিবীর আত্মা, আলো ও প্রাণতুল্য। আত্মা, আলো ও প্রাণ ছাড়া পৃথিবীর কী-ই বা মূল্য আছে? রিসালাতের সূর্য ছাড়া পৃথিবী অন্ধকার ও অভিশপ্ত। মানুষের অন্তরে যখন রিসালাতের সূর্য উদিত হয় না, তা থেকে প্রাণশক্তি সঞ্চার করে না, তা-ও অন্ধকারে আচ্ছন্ন এবং মৃত। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মৃত ছিল, যাকে আমি পরে জীবিত করেছি এবং যাকে মানুষের মধ্যে চলার আলো দিয়েছি, সেই ব্যক্তি কি ওই ব্যক্তির মতো যে অন্ধকারে আছে এবং সেই স্থান থেকে বের হওয়ার নয়?’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১২২)

এটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য। যে জাহালাতের অন্ধকারে মৃত ছিল আল্লাহ তাকে রিসালাতের প্রাণশক্তি ও ঈমানের আলো দ্বারা জীবিত করেছেন। তিনি তাকে এমন আলো দান করেছেন, যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে বিচরণ করে। অন্যদিকে অবিশ্বাসীর অন্তর মৃত ও অন্ধকারে আচ্ছন্ন। আল্লাহ কোরআনে নববী শিক্ষাকে আত্মা ও প্রাণ শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন।

আরও পড়ুন: নেক আমলে অবিচল থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো

আত্মা হারিয়ে গেলে জীবন হারিয়ে যায়। তিনি বলেছেন, ‘এভাবে আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করেছি রুহ তথা আমার নির্দেশ; তুমি জানতে না কিতাব কী এবং ঈমান কী! পক্ষান্তরে আমি তাকে করেছি আলো, যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করি; তুমি তো প্রদর্শন করো কেবল সরল পথ।’ (সুরা : আশ-শুরা, আয়াত : ৫২)

এখানে আল্লাহ দুটি মৌলিক বিষয় উল্লেখ করেছেন : রুহ (আত্মা) ও নুর (জ্যোতি)। রুহ হলো জীবন ও নুর হলো জীবনের আলো। (মাজমুউল ফাতাওয়া : ১৯/৯৩)

কুফর ও শিরকে আচ্ছন্ন অবিশ্বাসীরা প্রাণহীন। যদিও তাদের ভেতর জীবাত্মা বিদ্যমান, কিন্তু তাদের ভেতর উচ্চ মর্যাদাশীল আধ্যাত্মিক জীবন অনুপস্থিত, যা মূলত ঈমান থেকে সৃষ্ট। এর মাধ্যমেই বান্দা ইহকাল ও পরকালে সাফল্য অর্জন করে। আল্লাহ নবী-রাসুলদের নিজের ও বান্দাদের মধ্যে মাধ্যম বানিয়েছেন। যেন তাঁরা মানুষকে উপকারী ও ক্ষতিকর বিষয়গুলো জানাতে পারেন, তাঁদের পার্থিব জীবন ও পরকালীন জীবনের যাত্রা ত্রুটিমুক্ত হয়। তাঁরা সবাই মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান জানিয়েছেন, তাদের এমন পথ দেখিয়েছেন, যা অনুসরণ করে তারা আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে। তাঁরা এটাও বলেছেন, আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পর বান্দার পুরস্কার ও পরিণতি কী হবে। সুতরাং রিসালাতের প্রতি মানুষের প্রয়োজন চিকিৎসকের কাছে রোগীর প্রয়োজন থেকেও অনেক বড়। কেননা চিকিৎসা না পাওয়ার পরিণতি হলো দেহের মৃত্যু আর রিসালাতহীনতার পরিণতি অন্তরের মৃত্যু। অন্তরের মৃত্যু হলে যে দুর্ভাগ্য আপতিত হয় তা থেকে কোনো নিষ্কৃতি নেই।

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম জাওজি (রহ.) লেখেন, মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো রাসুলকে চেনা এবং তাঁর আনীত শিক্ষাগুলো জানা, তিনি যে সংবাদ দিয়েছেন তা সত্যায়ন করা, তাঁর আদেশ মান্য করা। রাসুলের আনুগত্য করা ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্যের কোনো পথ নেই। তাঁদের শিক্ষা ছাড়া ভালো ও মন্দের বিস্তারিত পরিচয় নির্ণয় করাও সম্ভব নয়। তাঁদের পথে চলা ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব নয়। উত্তম কথা, কাজ ও চরিত্রের দিশা শুধু তাঁদের কাছেই পাওয়া যায়। তাঁদের কথা, কাজ ও চরিত্র অন্যদের কথা, কাজ ও চরিত্রের মাপকাঠি। তাঁদের আনুগত্যের মাধ্যমেই বান্দা বিভ্রান্তির পথ থেকে হেদায়েতের পথে চালিত হয়। তাঁদের প্রয়োজনীয়তা দেহের জন্য প্রাণের, চোখের জন্য জ্যোতির, আত্মার জন্য প্রাণের প্রয়োজনীয়তা থেকেও বেশি। (জাদুল মাআদ : ১/৪০)

আরও পড়ুন: নিয়ামতের মহিমা ও কৃতজ্ঞতার অমর বাণী

মুহাম্মদ রশিদ রেজা বলেন, ‘বর্তমান যুগে মানবজাতিকে রক্ষার একমাত্র পথ মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর প্রেরিত ওহির ওপর দৃঢ় থাকা, যা মানবজাতিকে একত্রকারী, যা আত্মাকে পবিত্রকারী, যে মানব প্রকৃতিকে পূর্ণতা দানকারী। আর এটাই দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য।’ (আল ওয়াহইয়ুল মুহাম্মাদি, পৃষ্ঠা-৩৬)

আল্লাহ সবাইকে নববী শিক্ষার অনুসারী করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যান সিটির আর্থিক হিসাবের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাজ্যের অডিট বিভাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ এম


ম্যান সিটির আর্থিক হিসাবের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাজ্যের অডিট বিভাগ

ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক হিসাবের অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে যুক্তরাজ্যের অডিট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

হাউস অব কমন্সের বিজনেস সিলেক্ট কমিটিকে পাঠানো এক চিঠিতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) জানিয়েছে, তারা ৩০ সেপ্টেম্বর ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ইন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস (আইসিএইডব্লিউ)-এর কাছ থেকে মামলাটির "নিয়ন্ত্রক বিবেচনা" গ্রহণ করেছে।

এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি, তবে এফআরসি বিষয়টি নিয়ে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

পূর্বে একটি স্বাধীন কমিশন ম্যানচেস্টার সিটিকে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ক্লাবের আর্থিক অবস্থাকে ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি বাড়িয়ে দেখানোর বিষয়টি। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে সিটি।

এফআরসির কাছে বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে। যদি তারা কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়, তাহলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার তাদের রয়েছে। সাধারণত তালিকাভুক্ত বড় কোম্পানির হিসাবমান তদারকি করলেও ফুটবল ক্লাব নিয়ে কাজ করা তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক।

এফআরসি ম্যানচেস্টার সিটির অডিটর বিডিও-এর কার্যক্রমও খতিয়ে দেখতে পারে, যাতে তাদের অডিটিং প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না তা যাচাই করা যায়।

শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, যদি তারা পেশাদার হিসাববিদ সংগঠনের সদস্য হন, তাহলে এতিহাদ ক্লাবের পরিচালক বা কর্মীদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির।

যুক্তরাজ্যের পঞ্চম বৃহত্তম অ্যাকাউন্টিং প্রতিষ্ঠান বিডিও দাবি করেছে, ফুটবল খাতে তারা বাজারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাবকে পরামর্শ দেয়।

স্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লাবে শেয়ারহোল্ডারদের অর্থায়নের প্রকৃত উৎস গোপন রাখতে ব্যবহৃত ব্যবস্থার বিষয়ে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের অডিটরদের কাছে "বিভ্রান্তিকর ধারণা" দিয়েছিল। কমিশনের মতে, অডিটররা ওই ব্যবস্থার ব্যাপারে "অবগত ছিলেন না"।

ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, তারা কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ক্লাবটির দাবি, রায়টিতে আইন, নীতি ও বাস্তব তথ্যগত দিক থেকে "গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি" রয়েছে এবং এটি নির্ভরযোগ্য নয়।

বিজনেস সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান লিয়াম বায়র্ন এ ধরনের মামলায় এফআরসির ক্ষমতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "নিয়ন্ত্রকের চিঠি দেখিয়ে দিচ্ছে, ক্লাব থেকে প্রমাণ আদায় এবং তাদের শৃঙ্খলামূলক বিধির বাইরে থাকা পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে।

এর ফলে কোম্পানি ও পরিচালকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বিদ্যমান ক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।

এই ঘাটতি দূর করার জন্য প্রস্তাবিত সংস্কার কেন বাতিল করা হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব সরকারের। একই সঙ্গে জবাবদিহি জোরদারে এখন কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।

এদিকে বিডিও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩০ সেকেন্ডের অভ্যাসে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


৩০ সেকেন্ডের অভ্যাসে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব

ক্লান্তি বা মানসিক অবসাদ কাজের চাপের কারণে আপনার ওপর ভর করেছে? নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং মানসিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে কিছু ছোট ছোট অভ্যাস বা ‘মাইক্রোপ্র্যাকটিস’ গড়ে তুলেই দ্রুত মন ভালো করা সম্ভব।

সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের গবেষক নাটালি ভ্যান ডার ওয়ালের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি হাসির যোগব্যায়াম (লাফটার ইয়োগা) করানোর উদ্যোগ নেন। প্রথমে এটি ছিল কৃত্রিম হাসি, কিন্তু কিছুক্ষণ পর তা স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রকৃত হাসিতে পরিণত হয়। একসময় পেটে টান পড়ার মতো অবস্থা হলেও হাসি থামানো যাচ্ছিল না।

ভোর ৫টায় উঠে দীর্ঘ সময় ধরে ধ্যান করা কিংবা শীতল পানিতে সাঁতার কাটার মতো ট্রেন্ডি সেলফ-কেয়ার পদ্ধতিগুলো সময়সাপেক্ষ। তবে একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নিজেকে ভালো রাখতে এত দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন নেই। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ছোট ছোট অভ্যাস মন-মেজাজ চাঙা করা এবং শক্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর। ‘মাইক্রোপ্র্যাকটিস’ বইয়ের লেখক ইলাই সুসম্যানের মতে, এমন কিছু সহজ অভ্যাস রয়েছে যা এখনই শুরু করা যেতে পারে:

হাসির যোগব্যায়াম (লাফটার ইয়োগা)

কৌতুক বা মজার কিছু ছাড়াই জোর করে হাসার চেষ্টা দিয়ে এই ব্যায়াম শুরু হয়। প্রথম দিকে বিষয়টি কিছুটা অস্বস্তিকর বা অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, হতাশা ও দুশ্চিন্তা কমাতে স্বাভাবিক হাসির চেয়ে এই ‘ভুয়া হাসি’ দ্বিগুণ কার্যকর!

যেভাবে করবেন: পেটে হাত রেখে প্রথমে তিনটি দীর্ঘ শ্বাস নিন। এরপর কৃত্রিমভাবে হাসার চেষ্টা করুন। শুরু করতে না পারলে বলুন- ‘হি হি হি, হা হা হা’—ধীরে ধীরে শব্দ বাড়ান। খুব দ্রুতই এটি প্রকৃত হাসিতে রূপ নেবে। শেষে আরেকটি গভীর শ্বাস নিয়ে ভাবুন, জীবন আপনাকে কী দিয়েছে। সঙ্গী থাকলে একে অপরকে দেখে অনুকরণ করে হাসার চেষ্টা করতে পারেন।

স্ক্রিনের সামনে একনাগাড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করার ফলে শরীরে যে জড়তা ও মানসিক ক্লান্তি আসে, তা কাটাতে ‘মাইক্রো ইয়োগা’ বেশ কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১৫ মিনিটে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য একটু টান টান হয়ে বা ‘স্ট্রেচ’ করলে কাজের উৎপাদনশীলতা প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

যেভাবে করবেন: পিঠের পেছনে দুই হাতের আঙুলগুলো একটির ভেতর আরেকটি আটকে নিন। গভীর শ্বাস নিতে নিতে হাত দুটো নিচের দিকে টান টান করুন এবং বুক খানিকটা ওপরের দিকে তুলুন। শ্বাস ছাড়ার সময় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরুন। দুই-তিনবার এই চর্চা করুন। (নতুন যেকোনো শারীরিক ব্যায়ামের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখা ভালো।)

ধীরগতির শ্বাস-প্রশ্বাস

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের সময় ধীর গতিতে গভীর শ্বাস নিলে শরীরের নার্ভাস সিস্টেম বা স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হয়। এটি শরীরের রেস্ট-অ্যান্ড-ডাইজেস্ট বা আরামদায়ক অবস্থাকে জাগ্রত করে এবং মস্তিষ্কের আলফা ও থিটা তরঙ্গ বাড়িয়ে মনকে শান্ত ও মনোযোগী করে তোলে।

যেভাবে করবেন: সুবিধাজনকভাবে বসে চোখ বন্ধ করুন। প্রায় ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে আস্তে আস্তে ৩টি গভীর শ্বাস নিন। খেয়াল রাখবেন, শ্বাস নেওয়ার চেয়ে ছাড়ার সময় যেন একটু বেশি হয়। শ্বাস ভেতরে যাওয়া ও বের হওয়ার অনুভূতিতে মনোযোগ দিন। সারাদিনে সুযোগ পেলেই কাজের ফাঁকে বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো মিটিংয়ের আগে এটি বারবার করতে পারেন।

মানুষের স্পর্শ মানসিক প্রশান্তি দেয়—এটি একটি পরিচিত সত্য। তবে নিজেকে নিজে স্পর্শ করে বা আদর করে শান্ত করার পদ্ধতিও দারুণ কার্যকর। গবেষক সুসম্যান জানান, মাত্র ২০ সেকেন্ডের আত্ম-মনোযোগী স্পর্শ শরীরে মানসিক চাপের হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

যেভাবে করবেন: একটি বা দুটি হাত নিজের বুকের ওপর অথবা বাহুতে আলতো করে রাখুন। একবার গভীর শ্বাস নিন। হাতের উষ্ণতা ও আলতো চাপ অনুভব করার পাশাপাশি নিজের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও ভালোবাসাপূর্ণ চিন্তাভাবনা মনে আনুন।

সবকটি অভ্যাস যে একসঙ্গে রপ্ত করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আপনার জীবনযাত্রার সঙ্গে যেটি বেশি খাপ খায়, সেটিই বেছে নিতে পারেন। হাঁটার সময় কিংবা থালাবাসন ধোয়ার সময়ও গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে মাইন্ডফুলনেস বা সচেতন মনোযোগের অনুশীলন করা সম্ভব।

ছোট ছোট এই অভ্যাসে প্রতিদিনের মানসিক চাপ কমে মন হবে অনেক বেশি হালকা ও প্রশান্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিভারপুলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলে হারাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ এম


লিভারপুলের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন, ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলে হারাল

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল লিভারপুল। অলরেডরা অ্যানফিল্ডে ভিয়ারিয়ালকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা তৃতীয় জয় অর্জন করেছে। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জোড়া গোলের পাশাপাশি রোনাল্ড আরাউহো ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজের গোলে নাটকীয় জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা, যিনি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন।

অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের ভুলে বল পেয়ে গোল করেন জর্জেস মিকাউতাদজে। ২৯ মিনিটে সার্জি কার্দোনার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভিয়ারিয়াল। তখন মনে হচ্ছিল, নিজেদের মাঠেই বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে লিভারপুল।

তবে বিরতির আগে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় স্বাগতিকেরা। ৩৬ মিনিটে কোস্তাস সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান কমান ম্যাক অ্যালিস্টার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এনগুমোহার ক্রস থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান আরাউহো।

বিরতির পর লিভারপুলের আক্রমণের গতি আরও বাড়ে। ৬৫ মিনিটে এনগুমোহার দুর্দান্ত ড্রিবলিং ও পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ম্যাক অ্যালিস্টার। তিন মিনিট পর ভির্টজের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-২। চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে এটিই ছিল জার্মান মিডফিল্ডারের প্রথম গোল।

৮৭ মিনিটে তানি ওলুসেইয়ের গোলে আবার উত্তেজনা ফেরে। শেষ দিকে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও আর গোল পায়নি ভিয়ারিয়াল। ফলে ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল। এই ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাসিস্টদাতা হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন নগুমোহা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিগ্যাল এইডে এডিআর-এ নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ লাখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ এম


লিগ্যাল এইডে এডিআর-এ নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ লাখ

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবায় (এডিআর) নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ২ হাজার ১৮১ জন বলে জানা গেছে।

এ তথ্যটি বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, এই সময়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সেবার (এডিআর) জন্য মোট ৩ লাখ ২ হাজার ৭৪২টি মামলায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ লাখ ৫৭ হাজার ২২৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এডিআর-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তিকৃত মামলায় উপকারভোগী ৫ লাখ ২ হাজার ১৮১ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি খরচে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জনকে আইনি সেবা প্রদান করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ, দেশের সব নিম্ন আদালত ও শ্রম আদালত এবং কারাগারে থাকা অসচ্ছল বন্দিরাও এই সেবার আওতায় ছিলেন।

দেশের আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে সরকারি খরচে এই সেবা দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%