মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৩ পি.এম
ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা এড়িয়ে আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই জোটকে আরও কার্যকর করার জন্য পারস্পরিক বিশ্বাস, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘বিমসটেককে সফল করতে হলে আমাদের দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না, বরং সম্পৃক্ততার পরিধি আরও বাড়াতে হবে।’
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হোটেলে বিমসটেক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে জোটের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে ও তার স্ত্রী সুষমা পান্ডে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিমসটেক সদস্য দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ বিমসটেকের সব সদস্য দেশ এবং বিমসটেক সচিবালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাস্তবায়নে অগ্রগতি সাধনের পাশাপাশি পরবর্তী বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে। ২০২৭ সালে ঢাকায় পরবর্তী বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের এ শীর্ষ সম্মেলন অগ্রগতি পর্যালোচনা, নতুন অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং অভিন্ন আঞ্চলিক কর্মসূচিতে আরও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আরও গতিশীল সেতুবন্ধন এবং আঞ্চলিক শান্তি, অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নের শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
তিনি এ উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বিমসটেকের সব সদস্য দেশের সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের আঞ্চলিক সহযোগিতা থেকে সরে আসা উচিত নয়। আমাদের দৃঢ়তা থাকতে হবে। কঠিন চ্যালেঞ্জ, কঠিন উত্তেজনা এবং কঠিন সংলাপকে মোকাবিলা করার মতো দূরদর্শিতা থাকতে হবে, যাতে পারস্পরিক আস্থা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সফল করা যায়।’
তিনি বিমসটেকের মহাসচিব এবং তার দলের সদস্যদের অভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার ও অব্যাহত সেবারও প্রশংসা করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, ১২ বছর আগে ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা আঞ্চলিক এই জোটের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। গত ১২ বছরে সচিবালয়টি বিমসটেকের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এটি সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সহজ করা, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রীদের সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানটির আয়োজক হতে পেরে গর্বিত এবং সচিবালয়কে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক আঞ্চলিকতাবাদের উত্থানের বহু আগে থেকেই বঙ্গোপসাগর শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে আসছে। এই উপসাগর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি, জ্ঞান, বিশ্বাস ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বহন করেছে। বিমসটেক সেই ঐতিহাসিক সংযোগকে সমসাময়িক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিমসটেকের সাত সদস্য দেশ—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড—একসঙ্গে বিপুল জনসংখ্যা, সম্পদ, মেধা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের কাজ হলো এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, খণ্ডিত সরবরাহ ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা, জনস্বাস্থ্যঝুঁকি, সাইবার হুমকি, আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং মানবিক চ্যালেঞ্জ কোনো দেশের সীমান্ত মেনে চলে না। কোনো দেশ এককভাবে এসব চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারে না। তাই শান্তি, সহনশীলতা ও আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য আরও শক্তিশালী বিমসটেক কেবল আকাঙ্ক্ষিত নয়; এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সংগঠনটিকে আরও কার্যকর, দৃশ্যমান, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে জনগণকেন্দ্রিক করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। আমাদের কর্মকৌশল বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন— বিশেষ করে সুনীল অর্থনীতি ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণ জোরদার করা, যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা ও জনগণের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান হুমায়ন কবির।
তিনি বলেন, বিমসটেক মুক্ত বাণিজ্য এলাকা প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রগতি অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুমায়ন কবির সুনীল অর্থনীতির ওপরও গুরুত্বারোপ করে বঙ্গোপসাগরকে এ অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ অভিন্ন সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ, নৌপরিবহন পথ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, পর্যটনের সম্ভাবনা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা টেকসই প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।
হুমায়ন কবির বলেন, ‘বিমসটেক উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই যোগাযোগব্যবস্থা থাকতে হবে।’ তিনি এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, উদ্ভাবনী অর্থায়ন এবং বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের আরও শক্তিশালী সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তির ওপরই সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। তাই সন্ত্রাসবাদ দমন, আন্তঃদেশীয় অপরাধ, মানবপাচার, মাদকদ্রব্য, সাইবার নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।’
হুমায়ুন কবির পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব বিনিময়, পেশাজীবী নেটওয়ার্ক, থিংক-ট্যাংকের মধ্যে সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং বেসরকারি খাতগুলোর মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘বিমসটেককে শুধু একটি আন্তঃসরকারি প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি জীবন্ত আঞ্চলিক কমিউনিটিতে পরিণত হতে হবে।’
বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান এবং বিমসটেক সচিবালয়ের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব শুধু সভা আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সদস্য রাষ্ট্র ও সচিবালয়ের সঙ্গে কাজ করে বিমসটেকের কার্যক্রম বাস্তবায়নে অগ্রগতি সাধন করবে এবং ২০২৭ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক কার্যক্রমগুলো আঞ্চলিক সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এমি অ্যাওয়ার্ডসের সন্ধ্যায় ‘গেম অফ থ্রোনস’ তারকা এমিলিয়া ক্লার্ক যেন এক স্বস্তির ঝোড়ো হাওয়া নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে ‘হাউস অব দ্য ড্রাগন’ তারকা এমা ডি’আর্সির সঙ্গে একই মঞ্চে তার দেখা হওয়া ছিল ভক্তদের জন্য এক অসাধারণ চমক। দুজন মিলে লিমিটেড বা অ্যান্থোলজি সিরিজ/মুভির সেরা প্রধান অভিনেত্রীর পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক ক্রসওভার মুহূর্ত তৈরি করেন। যদিও এমিলিয়ার পরনে থাকা লিলাক গাউনটি নজর কাড়ে, তবে এর কাপড়ের কুঁচকানো ভাব ও ফিটিং নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
চলতি বছর এমি অ্যাওয়ার্ডসের লাল গালিচায় ‘লিলাক’ বা হালকা বেগুনি রঙটি ছিল রাতের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ও আকর্ষণীয় ট্রেন্ড। ফ্লোরেন্স পিউ এবং সারাহ পিজনকেও একই আভার পোশাকে দেখা গেছে।
এমিলিয়া ক্লার্কের পরা প্রাডার এই লিলাক গাউনটির মূল আকর্ষণ ছিল এর কেপ-স্টাইল এবং একটি প্রতিসম বো, যা নিঃসন্দেহে এমিলিয়াকে একটি স্বতন্ত্র শৈলী প্রদান করেছিল। কিন্তু চমৎকার নকশা সত্ত্বেও সিল্ক ফেইল কাপড়ের সেলাই ও কুঁচকে যাওয়া ভাবটি অনুষ্ঠানজুড়ে নেতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে পোশাকের ত্রুটি কিছুটা ঢেকে দিয়েছিল তার গহনা। বুশেরোঁর রাজকীয় গয়নার ছোঁয়ায় এমিলিয়ার পুরো সাজটি এক ধরনের পূর্ণতা পায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেহনাজ গিল সহ-অভিনেতাদের নিরাপত্তাহীনতা পছন্দ করেন না। যদি কারো আচরণে কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পেশাগত সম্পর্কের বাইরে যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী নন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেহনাজ তাঁর কাজের ধরন এবং সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন।
সাক্ষাৎকারে শেহনাজকে প্রশ্ন করা হয়, যদি কোনো সহ-অভিনেতা তাঁকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে তিনি কিভাবে পরিস্থিতি সামলান।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে, আমি তার থেকে অনেক দূরেই থাকি।’ পেশাদার হিসেবে তিনি শুধুমাত্র কাজটুকু করেন।
শেহনাজের ভাষ্যমতে, ‘তখন শুধু অভিনয়টুকুই করি। অভিনয়ের বাইরে আর কোনো সম্পর্ক রাখি না।’
তবে সব সহ-অভিনেতার সঙ্গে তাঁর এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। গিপ্পি গ্রেবালের সঙ্গে ‘সিং ভার্সেস কৌর ২’ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে শেহনাজ জানান, তাঁরা দুজনেই একে অপরকে সব সময় সাহায্য করেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে কীভাবে নিজেদের কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়ে পরস্পরের পরামর্শও নিয়েছেন।
শেহনাজ মনে করেন, সহ-অভিনেতাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে তা শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
তিনি বলেন, ‘যেখানে এই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় বা পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে তার প্রভাব পড়ে ছবির কাজের ওপরেও।’
শেহনাজের অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল বড় পর্দায় নয়। ২০১৫ সালে পাঞ্জাবি গানের ভিডিওতে তিনি প্রথম দেখা দেন। ২০১৭ সালে ‘সৎ শ্রীআকাল ইংল্যান্ড’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে প্রবেশ করেন। এরপর একাধিক পাঞ্জাবি ছবিতে অভিনয় করেছেন।
তবে ২০১৯ সালে ‘বিগ বস ১৩’-তে অংশগ্রহণের পর তিনি ভারতজুড়ে পরিচিতি পান। তাঁর সহজ, অকপট স্বভাব দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়। ওই অনুষ্ঠানে তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
২০২৩ সালে ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি ছবিতে পদার্পণ করেন শেহনাজ। ‘ইক কুড়ি’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজনার কাজেও তাঁর হাতেখড়ি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটরিয়ামে নজরুলবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনা নতুন প্রজন্মের জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, নজরুলবর্ষ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা আরো বিস্তৃত হবে।
মন্ত্রী স্মরণ করেন, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশালে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নজরুলবর্ষ ঘোষণা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এর ফলে সারা দেশে নজরুলচর্চা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভিকারুননিসা নূনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশ গঠনে মেধাবী ও সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করে তার বহুমাত্রিক প্রতিভার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইসলামী সংগীত ও শ্যামাসংগীত রচনার মাধ্যমে নজরুল ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মন্ত্রী নজরুলের রচনায় আরবি, ফারসি, উর্দু ও বিভিন্ন বিদেশি শব্দের সৃজনশীল ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এতে বাংলা ভাষা আরো সমৃদ্ধ হয়েছে।
মন্ত্রী সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশে নৌকাবাইচ, যাত্রাশিল্প, বাউল গান, হাছন রাজা, লালন ও বিজয় সরকারের গানের চর্চা ও প্রসারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, পাহাড় ও সমতলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মিলনেই বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।
ছাত্রীদের উদ্দেশে নারীশক্তির জাগরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সভাপতিত্বে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার চীন সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, এই সফরের সময় তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি এর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রেক্ষাপটে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার বেইজিংয়ে ওয়াং ই ও আরাগচির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চীন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।
গত সপ্তাহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে ওয়াং ই ও আরাগচি অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তাদেরকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আলাপ করতে দেখা যায়।
এছাড়া, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীন বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে থাকে। হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের অবরোধ এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে চীনের অর্থনীতির ওপর চাপ পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ