ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নরওয়ের সমর্থন ফিফা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা’ লঙ্ঘনের অভিযোগে


নরওয়ের সমর্থন ফিফা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা’ লঙ্ঘনের অভিযোগে

নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগকে সমর্থন করেছে বলে জানিয়েছেন এনএফএফ সভাপতি লিস ক্লাভেনেস।

মঙ্গলবার (২ জুন) নরওয়ে জাতীয় দল বিশ্বকাপে রওনা হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লাভেনেস জানান, এনএফএফের সমর্থনপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে ক্লাভেনেস ফিফাকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে 'ফিফা পিস প্রাইজ' পুরস্কার বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার পর সংস্থাটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে যে অভিযোগ দায়ের করেছে, তাতে ইনফান্তিনোর ট্রাম্পকে 'শান্তি পুরস্কার' প্রদান করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। এই পুরস্কার প্রদান এবং সংশ্লিস্ট কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ফিফা সভাপতি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত সংস্থার বিধি লঙ্ঘন করেছেন কি না, এনএফএফ কমিটি তা তদন্ত করে দেখার জন্য কমিটিকে অনুরোধ করেছে।

ক্লাভেনেস সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা চিঠি পাঠিয়েছি এবং এটি কিছু রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আমরা বিষয়টি নিয়ে আরও এগোব, বৈঠকের অনুরোধ করব এবং সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করব।'

তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহান্তে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ফিফা কর্মকর্তারা এনএফএফের অবস্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন। ওই বৈঠকটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের সময় অনুষ্ঠিত হয়।

ক্লাভেনেস বলেন, 'একটি সদস্য ফেডারেশন থেকে এমন চিঠি এলে সেটিকে যে সমস্যাজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বৈঠকটি ভালো ছিল এবং কেন এটি বিতর্কিত বলে বিবেচিত হচ্ছে, আবার কেন নরওয়ের জন্য ফেয়ারস্কয়ারকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ, এসব বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।'

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

এনএফএফ অন্য সদস্য ফেডারেশনগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি না করে এককভাবেই চিঠিটি জমা দিয়েছে। ক্লাভেনেস বলেন, 'আমরা অন্যান্য ফেডারেশনের সমর্থন পেয়েছি, তবে এই চিঠিটি আমরা একাই পাঠাচ্ছি।'

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে আল জাজিরা, তবে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতিহাসের সাক্ষী মসজিদ কিবলাতাইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


ইতিহাসের সাক্ষী মসজিদ কিবলাতাইন

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া সমস্ত নবী ও রসুলের কেবলা ছিল বায়তুল মোকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসা। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে মদিনায় হিজরতের প্রায় ১৬ মাস পরও বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করা হচ্ছিল।

মুসলমানদের কেবলা বায়তুল মোকাদ্দাসের দিকে হওয়ার ফলে ইহুদিরা অপপ্রচার করতে থাকে যে, আমাদের ও মুসলমানদের কেবলা যেহেতু এক ও অভিন্ন, তাই ধর্মের ক্ষেত্রেও মুসলমানদের উচিত আমাদের অনুসরণ করা।

এসব কারণে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ের সুপ্ত বাসনা ছিল, যদি কাবা মুসলমানদের কেবলা হতো। মুসলমানদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা ও পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে ফিরে নামাজ আদায়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে শুরু করেন। নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকাতেন, ওহির মাধ্যমে অনুমোদনের প্রত্যাশা নিয়ে।

হিজরি দ্বিতীয় সনের শাবান মাসে বা মতান্তরে রজব মাসের মাঝে, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশ কিছু সাহাবি নিয়ে বিশর ইবনে বারা (রা.)-এর দাওয়াতে যোগ দিতে বনু সালামায় পৌঁছান এবং জোহরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাকাতের মাঝামাঝি সময়ে আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) ওহি সরবরাহ করতে অবতীর্ণ হন।

মহান আল্লাহ তখন বলেন,

আমি লক্ষ্য করি তুমি বারবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছ। সুতরাং তোমাকে এমন এক কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি যা তুমি পছন্দ করবে। তাই তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও। তোমরা যেখানে থাক না কেন, কাবার দিকে মুখ ফেরাও। আর যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা ভালভাবে জানে যে এটি তাদের প্রতিপালক-প্রেরিত সত্য। তারা যা করে তা আল্লাহর অজানা নয়। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৪৪)

নামাজ আদায়ের সময় কেবলা বদলের আদেশ আসলে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাবার দিকে মুখ ফিরে নামাজ সম্পন্ন করেন। প্রথমে কিবলা ছিল মসজিদে আকসা, এবং সবাই সেদিকে ফিরে নামাজ আদায় করতেন। পরবর্তীতে কাবা শরিফকে কিবলা হিসেবে নির্ধারণ করার পর এই মসজিদটিকে দুই কেবলার মসজিদ বলা হয়।

মদিনা শহরের পশ্চিম প্রান্তে খালিদ বিন ওয়ালিদ সড়কে অবস্থিত কিবলাতাইন মসজিদ, আরবি কিবলা শব্দের দ্বিবচন ‘কিবলাতাইন’ বা দুই কিবলা। বনু সালামা অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এই মসজিদের প্রথম নাম ছিল ‘মসজিদে বনু সালামা’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলার দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলার দাবি ইরানের

পারস্য উপসাগর ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আইআরজিসি বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, একটি বিমানঘাঁটি এবং একটি আঞ্চলিক দেশের সামরিক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই হামলা ছিল পরিকল্পিত পাল্টা জবাব—এমনটাই দাবি করেছে তারা।

আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইরানের একটি যোগাযোগ টাওয়ারে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। সেই ঘটনার পরপরই প্রতিশোধ হিসেবে এ আক্রমণ পরিচালনা করা হয়।

এ ছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা ‘পানায়া’ নামের একটি জাহাজেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। ইরান বলছে যে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ঘটনার জবাব হিসেবেই এই জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের তেল ও তরল গ্যাসের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তবে ইরানের হামলার দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ৯ অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪১ পি.এম


দেশের ৯ অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা

দেশের নয়টি অঞ্চল জুড়ে আজ রাত ১টার আগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সাথেই বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) দুপুর ২টা হতে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই আবহাওয়ার সঙ্গে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টিপাত অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা ৫ দিনের আবহওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজ করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর এই আগমনের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গেই রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এই সময় সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে।

বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও দেশের একটি বড় অংশের ওপর দিয়ে এখনো মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে– ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি অব্যাহত থাকতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলের কাছে ৮৯টি তাজা মরদেহ ‘বিক্রি করেছে’ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


ইসরায়েলের কাছে ৮৯টি তাজা মরদেহ ‘বিক্রি করেছে’ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়!

আল-জাজিরার শিক্ষানবিশ সাংবাদিক দল- (বাঁ থেকে) জেনিফার নেহরার, রিও, জ্যাকসন মিলস ও সাশা রিউ। ছবি: আল-জাজিরা থেকে সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি) এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর (ইউসিএসডি) মৃতদেহ দান কর্মসূচি ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, শিক্ষা ও চিকিৎসা গবেষণার জন্য দান করা মৃতদেহ মার্কিন নৌবাহিনী ও বিদেশি সামরিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক সার্জনদের প্রশিক্ষণের বিষয়ও রয়েছে।

এই তথ্য সামনে আসার পর দাতাদের পরিবার এবং মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন যে, মৃতদেহ দানকারীরা এমন ব্যবহারের বিষয়ে আগে থেকে অবহিত ছিলেন না।

নেভাডায় কর্মরত মেডিকেল কেস ম্যানেজার মিরিয়াম ভলপিন জানান, সম্প্রতি তিনি এক বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকের কাছ থেকে এমন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে পারেন, যেখানে দাবি করা হয়- ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় দানকৃত মৃতদেহ সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে।

ভলপিনের ১০১ বছর বয়সী মা জিনেট ভলপিন ২০২১ সালে মারা যান এবং তার মরদেহ ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় দান করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তার মায়ের মরদেহ হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতিতে চিকিৎসা প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে।

তিনি বলেন, "এটা শুনে আমি অসুস্থ বোধ করেছি। আমরা কখনওই জানতাম না এমন কিছু হতে পারে।"

আল-জাজিরার একটি অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘ডিরেক্ট ফ্রম’-এ উঠে আসে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মৃতদেহ সরবরাহ করে আসছে, যা সামরিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া অন্তত ৮৯টি মৃতদেহ নৌবাহিনীর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরবরাহ করেছে। অন্যদিকে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো থেকে প্রায় ১২৪টি মৃতদেহ ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থানান্তর করা হয় বলে শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের তদন্তে জানা গেছে।

একটি ২০২০ সালের গবেষণাপত্রে বলা হয়, প্রশিক্ষণের সময় মরদেহে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো, যাকে ‘পারফিউশন’ বলা হয়। এই প্রক্রিয়ায় মরদেহে কৃত্রিম রক্ত প্রবাহিত করা হয়, যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের মতো বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করা যায়।

প্রশিক্ষণে গুলিবিদ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণজনিত ক্ষতি এবং গুরুতর আঘাতের মতো দৃশ্য অনুকরণ করা হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আমেরিকান নৌবাহিনী দাবি করেছে, এটি একটি উচ্চমানের চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, যেখানে অভিজ্ঞ সার্জনরা বাস্তবসম্মত পরিবেশে দক্ষতা অর্জন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাবি করছে, এই কার্যক্রম শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, দাতাদের পরিবারকে সামরিক ব্যবহারের বিষয়টি আগে থেকে জানানো হয়নি।

ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক চিকিৎসক মোহাম্মদ রাদ প্রশ্ন তোলেন- দাতারা যদি জানতেন যে তাদের মরদেহ সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে, তাহলে তারা কি এই সিদ্ধান্ত নিতেন?

তিনি বলেন, "সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- দাতারা কি সত্যিই এ সম্পর্কে সম্মতি দিয়েছিলেন?"

অনেক পরিবার এখন দাবি করছেন, তারা প্রতারিত হয়েছেন। মরদেহ দানকারী এক পরিবারের সদস্য জেনিফার গোমেজ বলেন, তিনি আগে জানতেন না যে মৃতদেহ বিদেশি সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে।

তিনি বলেন, "আমি কখনও ভাবিনি আমাদের পরিবারের মরদেহ এভাবে সামরিক কাজে ব্যবহার হতে পারে।"

এই ঘটনার পর অনেক সম্ভাব্য দাতা তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন বলেও জানা গেছে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো জানিয়েছে, তারা এটিকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ’ হিসেবে না দেখে ‘শিক্ষামূলক কোর্স’ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ব্যবহারের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই।

এদিকে মার্কিন নৌবাহিনী ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে- মৃতদেহ দান কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত করা হয় এবং দাতাদের সম্মতি আসলে কতটা পূর্ণাঙ্গ?

মানবাধিকারকর্মী ও গবেষণার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা শিক্ষার জন্য মরদেহ দান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, ব্যবহারের ধরন সম্পর্কে পূর্ণ স্বচ্ছতা না থাকলে এটি নৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%