ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘পশ্চিমা গণমাধ্যমের যু-দ্ধে-র বয়ান পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্যায়’: জবিতে ইরানি রাষ্ট্রদূত


‘পশ্চিমা গণমাধ্যমের যু-দ্ধে-র বয়ান পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্যায়’: জবিতে ইরানি রাষ্ট্রদূত

ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলো পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ঘটনাবলিকে অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন করছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত মানুষকে সন্ত্রাসী হিসেবে এবং ইসরায়েলিদের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পশ্চিমারা বা যুক্তরাষ্ট্র যখন আক্রমণ চালায়, তখন তাদের যুদ্ধের বিভিন্ন দিক থাকে এবং তার মধ্যে অন্যতম প্রধান দিক হলো ‘মিডিয়া যুদ্ধ’ বা গণমাধ্যম যুদ্ধ।”

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে দৃশ্যপট এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো সন্ত্রাসী, আর যেসব ইসরায়েলি হাজার হাজার মানুষ হত্যা করছে, তারা নাকি ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক!”

জাহানাবাদী উল্লেখ করেন, “পশ্চিমাদের এই যুদ্ধের বয়ান বা ন্যারেটিভ সম্পূর্ণ অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট।”

স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো বিশ্বমঞ্চে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ন্যায়বিচারের ঘটনাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরা।”

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে স্বাধীন গণমাধ্যমকে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা সত্য, ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পক্ষে থাকুক।”

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

যুদ্ধের সময় বেসামরিক স্থাপনা ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা যুদ্ধ আইনের অধীনে হাসপাতাল, শিশু, বিদ্যালয়, নারী কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনায় আক্রমণ বৈধ কি না, তা গণমাধ্যমের সামনে প্রশ্ন হিসেবে আসা উচিত।

তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধক্ষেত্রে যে কর্মকাণ্ড করছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি অংশ সেগুলো আড়াল করার এবং যৌক্তিকতা দেখানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্বের স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহানাবাদী বলেন, “আপনারা ইরানে আসুন এবং স্বচক্ষে দেখুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেখানে মানবতাবিরোধী কী পরিমাণ যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে।”

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ইরানিদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এবং দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আশা করেন।

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্‌দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।

এ ছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীর ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধ কেবল সেনাবাহিনী বা সরকারের সংঘর্ষ নয়, এটি মানবিক ট্র্যাজেডি: জবি ভিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


যুদ্ধ কেবল সেনাবাহিনী বা সরকারের সংঘর্ষ নয়, এটি মানবিক ট্র্যাজেডি: জবি ভিসি

যুদ্ধ কেবল সেনাবাহিনী, সরকার বা রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘর্ষ নয়, বরং এর গভীরতম স্তরে এটি একটি মানবিক ট্র্যাজেডি বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে একজন মানুষ, প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের পেছনে একটি পরিবার এবং প্রতিটি বাস্তুচ্যুত মানুষের পেছনে ক্ষতি, ভয় ও আশার গল্প রয়েছে।"

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব মিডিয়া: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, "যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" সাংবাদিকতার তিনটি নৈতিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সাংবাদিকতার প্রথম নৈতিক দায়িত্ব হলো সত্য, দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো মানবিক মর্যাদা এবং অবশেষে তৃতীয় দায়িত্ব হলো প্রাসঙ্গিকতা ও ভারসাম্য।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমের নৈতিক দায়বদ্ধতা শুধুমাত্র সাংবাদিকদের একার নয়। রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। যুদ্ধকালীন তথ্য প্রকাশ জনমত ও আন্তর্জাতিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা, সঠিকতা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়িত্বের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক রইছ উদ্‌দীন বলেন, "তাদের স্বাধীন যাচাইকরণ, সাংবাদিকদের সুরক্ষা, নির্ভরযোগ্য তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দলিল সংরক্ষণে সহায়তা করা উচিত।"

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে নাগরিকদের দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। উপাচার্য বলেন, "বর্তমানে প্রত্যেক ব্যক্তি তথ্যের প্রচারক হয়ে উঠতে পারেন।" কোনো নাটকীয় ছবি, ভিডিও বা অভিযোগ শেয়ার করার আগে প্রত্যেকের নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, সেটি সত্য কি না, বিশ্বাসযোগ্য কি না এবং সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কি না।

তিনি বলেন, "আমি কি সমঝোতায় অবদান রাখছি, নাকি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছি?" এই প্রশ্নটিও তথ্য প্রচারের আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

যুদ্ধের ওপর গণমাধ্যমের প্রভাব তুলে ধরে ভিসি বলেন, "মিডিয়া একা কোনো যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে না, তবে মানুষ কীভাবে যুদ্ধকে অনুধাবন করে তা প্রভাবিত করতে পারে।"

তিনি মন্তব্য করেন, গণমাধ্যম একদিকে মেরুকরণকে আরও গভীর করতে পারে, অন্যদিকে সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একইভাবে এটি সহিংসতা বাড়াতে পারে অথবা মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরতে পারে। গণমাধ্যম সহিংসতাকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করার পরিবর্তে প্রতিটি মানবজীবনের মর্যাদা সম্পর্কে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।

অধ্যাপক রইছ উদ্‌দীন বলেন, "আমাদের যা প্রয়োজন তা কম সাংবাদিকতা নয়, বরং আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা; মতপ্রকাশের কম স্বাধীনতা নয়, বরং সত্য ও সত্যতা যাচাইয়ের প্রতি আরও বড় প্রতিশ্রুতি; নীরবতা নয়, বরং নৈতিক ও সাহসী প্রতিবেদন।"

তিনি আরও বলেন, "আসুন আমরা কোনো অপপ্রচার ছাড়া সত্যকে, কোনো বিদ্বেষ ছাড়া সমালোচনাকে, কোনো দায়িত্বহীনতা ছাড়া স্বাধীনতাকে এবং কোনো দ্বিমুখী নীতি ছাড়া মানবতাকে সমুন্নত রাখি।"

আজকের আলোচনা এমন একটি গণমাধ্যম সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রাখবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "সেই সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য, মানবিক মর্যাদা, শান্তি ও দায়বদ্ধতা।"

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদীকে স্বাগত জানিয়ে উপাচার্য বলেন, "তাঁর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত।" বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ফারসি ভাষায় ইরানি রাষ্ট্রদূতকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় আসার আমন্ত্রণ জানান তিনি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিনের প্রতিনিধি সোফিয়া এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী।

এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীরসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাবেক আইনমন্ত্রীর ভাইয়ের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


সাবেক আইনমন্ত্রীর ভাইয়ের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে একটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পক্ষে উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এই আবেদনটি করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আনিসুল হকসহ মামলায় তদন্তাধীন আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসাধু উপায়ে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদ অর্জন করে দখলে রেখেছেন। এছাড়া ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা এবং ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

এছাড়া, আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলার তদন্তকালে এজাহারভুক্ত আসামি আনিসুল হক এবং তদন্তে আসা আসামি মোহাম্মদ ইকবাল, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম ও জেবুন্নেসা বেগম হকের নামে মোট ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

আসামিদের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। আসামিরা অবৈধভাবে ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ উত্তোলন/হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অবিলম্বে তদন্তে আসা আসামি জেবুন্নেসা বেগম হকের নাম থাকা ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (Freeze) করা প্রয়োজন। যদি তদন্তে আসামির ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা না হয়, তবে বিচারকালে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। এতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৯ পি.এম


নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজধানীর নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।

আজ মঙ্গলবার, ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে, গ্রেফতারকৃতদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে, গত শনিবার রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা ভুক্তভোগীদের দ্বারা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদরাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আব্দুল্লাহ সহকারী জজ হলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২০ পি.এম


মাদরাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আব্দুল্লাহ সহকারী জজ হলেন

দীর্ঘ আট বছরের কঠোর পরিশ্রম ও অপেক্ষার পর খুলনার পাইকগাছার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ২০০ প্রার্থীর মধ্যে তার অবস্থান ১৩৬তম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি (LLB) সম্পন্ন করা আব্দুল্লাহ আল মামুনের এই সাফল্যে তার পরিবার ও এলাকায় এক আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি পাইকগাছা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামে। তার বাবা মো. এনামুল হক লস্কর পাইকগাছা দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী। মা হ্যাপিয়ারা বেগম গৃহিণী।

একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান হিসেবে আব্দুল্লাহর এই অর্জনকে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখছেন।

আব্দুল্লাহর শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল মাদরাসায়। তিনি রাজশাহীর আল-মারকাযুল ইসলামী আস-সালাফী থেকে দাখিল এবং গাজীপুরের টঙ্গীর তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে আলিম পাস করেন।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ‘খ’ ইউনিটে তিনি ১১তম এবং ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে এলএলবি সম্পন্ন করেন।

জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসার পথে আব্দুল্লাহর জন্য সহজ ছিল না। প্রথমবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। তবে তিনি ব্যর্থ হয়ে থেমে যাননি। বরং আরও মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গত আট বছর যাবৎ এই দিনটির জন্য স্বপ্ন দেখছি ও অপেক্ষা করছি। প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে খারাপ লেগেছিল অবশ্যই, কিন্তু হতাশ হইনি। ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করে গেছি। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় আল্লাহ রহমতের দুয়ার খুলে দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “পরিশ্রম করলে ও লেগে থাকলে আল্লাহ কখনো নিরাশ করেন না।” নিজের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, “সফলতার পেছনে নিজের স্বপ্ন ও পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমার এই স্বপ্ন পূরণ করার মতো সক্ষমতা আমার আছে—তারা এটা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন। বাবা-মায়ের এই আস্থা ও বিশ্বাসই আমাকে প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করার মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।”

সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, “বর্তমানে নিম্ন আদালতে ৪০ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং রয়েছে। একটি মামলা শেষ হতে বছরের পর বছর লেগে যাচ্ছে। যার কারণে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা একেবারে তলানিতে। ভুক্তভোগীরা এখন বিচার পাবেন না ভেবে আদালতেই আসতে চান না।”

আব্দুল্লাহ বলেন, “আমি এই অবস্থা কিছুটা হলেও বদলাতে চাই। দেশের বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাই আমার মূল লক্ষ্য।”

জুডিশিয়াল সার্ভিসে আসতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিশ্রম করা ও লেগে থাকার মানসিকতা থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না। লেগে থাকলে সফলতা আসবেই।”

আব্দুল্লাহ আল মামুনের ১৮তম বিজেএসে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবরে তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্য—তার এই পথচলা এখন স্থানীয়দের কাছেও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%