ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মিথ্যা মামলার শিকারদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিতে চায় সরকার


গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মিথ্যা মামলার শিকারদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিতে চায় সরকার

বর্তমান সরকার বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তিদের ত্যাগের স্বীকৃতি দিতে চায় বলে জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান। রবিবার বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাকিলুজ্জামানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানা গেছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনে গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদফতর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্র যেমন স্বীকৃতি দিয়েছে এবং 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতর' গঠন করেছে, ঠিক একইভাবে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যাদের অপরিসীম ত্যাগ রয়েছে— যারা গুম হয়েছেন, নির্মমভাবে খুন বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে আর পরিবারে ফিরে আসেননি, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কিংবা শত শত মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন— রাষ্ট্র তাদের এই ত্যাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়ে স্বজন হারাতে না হয়, সেটির স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিদপ্তর গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল— মানুষ স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ হবে এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক ভাবমূর্তি পদদলিত করা হয়েছে। তাই আমাদের উপর একটি দায়িত্ব রয়েছে যে, এই বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে জীবন দিল, অত্যাচারিত হলো, গুম হলো, আর্থিকভাবে তারা নিঃস্ব হয়ে গেল, তাদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি। সভায় মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালী বা ‘Rules of Business, 1996’-এর Schedule-I (Allocation of Business) সংশোধন করে নতুন দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার নীতিগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জাতিসংঘের 'Basic Principles and Guidelines on the Right to a Remedy and Reparation' নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুসরণে এই কল্যাণমূলক লক্ষ্য অর্জনে তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আলোচনা হয়: ১. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করা। ২. গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ভুক্তভোগী ও পরিবারের পূর্ণ অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সমোপযোগী আইন প্রণয়ন করা। ৩. ‘Rules of Business, 1996’-এর Schedule-I (Allocation of Business) সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলীতে এ সংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য সেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান, মহিলা ও শিশুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাকৃবির ‘কার্বডিট’ পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৩ পি.এম


গাকৃবির ‘কার্বডিট’ পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

জলবায়ু অর্থনীতির সম্ভাব্য সম্পদে গাছকে রূপান্তরের অভিনব ধারণা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল ‘কার্বডিট’।

সিরডাপ-রিডস আন্তর্জাতিক গ্রামীণ উন্নয়ন উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ-২০২৬-এ দলের এ অর্জন বাংলাদেশ থেকে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে হয়েছে। একই সঙ্গে তারা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সেরা পাঁচ উদ্ভাবনের একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

দলটির টিম লিডার সাইফুল্লাহ মানওয়ার, যিনি কার্বডিটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সহপ্রতিষ্ঠাতা। ফাবিয়ান তাসকিন প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ও সহপ্রতিষ্ঠাতা, অদিতি ঘোষ প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং আরফা সাইয়ারা রিজা ডেভেলপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় ১৩টি দেশ থেকে মোট ১৮৭টি উদ্ভাবনী প্রস্তাব জমা পড়ে। আন্তর্জাতিক বিচারক কমিটির কঠোর এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেরা উদ্ভাবনগুলো নির্বাচন করা হয়।

গত ৬ জুলাই সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে কার্বডিট দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

এই অর্জনের ফলে গাকৃবির তরুণ উদ্ভাবকদের সামনে আরও বড় সুযোগ এসেছে। আগামী ৬ থেকে ১০ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘এশিয়া-প্যাসিফিক কনফারেন্স অন ইনোভেশনস ইন রুরাল ডেভেলপমেন্ট’-এ কার্বডিটের উদ্ভাবন উপস্থাপনের জন্য দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনটিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও উদ্ভাবকদের সামনে বাংলাদেশের গ্রামীণ বাস্তবতার আলোকে তৈরি এই মডেল তুলে ধরবেন তাঁরা।

গাকৃবির শিক্ষার্থীদের এ বিশেষ অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, গাকৃবির বিভিন্ন অর্জনের অন্যতম অংশীদার শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের গুণগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং তিনি শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

কার্বডিটের উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ পরিবারের গাছগুলোকে সমষ্টিগতভাবে পরিমাপযোগ্য কার্বন সম্পদে রূপান্তর করা এবং সেগুলোকে বৈশ্বিক কার্বন বাজার ও জলবায়ু অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করা। এর ফলে গাছের মালিকেরা তাঁদের পরিবেশগত অবদানের আর্থিক মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এছাড়া, স্থানীয় তরুণদের সম্পৃক্ত করে গাছের তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও কার্বন সম্পদ তৈরির একটি সম্প্রদায়ভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

কার্বডিটের এই সাফল্য শুধুমাত্র একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনের ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি, গ্রামীণ মানুষের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের স্থানীয় সমাধান খোঁজার একটি উদাহরণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলের জন্য কূটনীতির দরজা এখনো খোলা: সিরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


ইসরায়েলের জন্য কূটনীতির দরজা এখনো খোলা: সিরিয়া

চলমান উত্তেজনার মধ্যে, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জানিয়েছেন যে, আলোচনার জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনীতির দরজা খোলা রয়েছে। দেশটিকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। রবিবার (২৩ আগস্ট) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নিরাপত্তা চুক্তি বিষয়ক আলোচনার ফলে সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েল সরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন আল-শাইবানি। তিনি বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর সময় নিরাপত্তা চুক্তি বিষয়ক আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য এখনও কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ে দামেস্কের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা। আল-শাইবানি জোর দিয়ে বলেন, এ লক্ষ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা-র সরকার এবং ইসরায়েলের মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সম্পাদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার প্রতি হুমকির অজুহাতে সিরিয়ার ভূখণ্ডে সৈন্য পাঠিয়েছে এবং সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

আল-শাইবানি বলেন, তারা মনে করেন যোগাযোগ থাকা উচিত, বিশেষ করে এমন পক্ষের সঙ্গে যারা সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু যদি এই যোগাযোগ কোনো ফল না বয়ে আনে, তবে আমাদের এর প্রয়োজন নেই। তিনি সাফ বলেন, বর্তমানে তারা ইসরায়েলকে বিশ্বাস করেন না।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। আল-শারা বলেছেন, সিরিয়া অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়; গৃহযুদ্ধের পর তারা দেশ পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সিরিয়া থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন ঝুঁকির কথা বলেছেন এবং গত বছর কয়েকজন কর্মকর্তা নতুন সরকারের সমালোচনাও করেছিলেন। আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছেন।

২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর ইসরায়েল দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ার কিছু ভূখণ্ড দখল করে নেয়। সিরিয়ার বহু সামরিক ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালিয়েছে। আল-শাইবানি বলেন, ইসরায়েল গায়ের জোরে নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কোথাও তারা সফল হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন, আলোচনা শিগগিরই আবার শুরু হবে। তিনি জানান, আলোচনা নির্বিঘ্ন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে সিরিয়ার শীর্ষ এই কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলের ওপর ভরসা করা খুব কঠিন। তবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সিরিয়ার অত্যন্ত জোরালো আশা রয়েছে। সিরিয়া সমঝোতা, শান্তি ও কূটনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েল আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বোমা হামলা চালালে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা নতুন করে সামনে আসে। ইসরায়েলের দাবি ছিল, দামেস্ক সেখানে তুর্কি বাহিনীর মোতায়েনের অনুমতি দিতে যাচ্ছিল। এই দাবি উভয় দেশই অস্বীকার করেছে।

আল-শাইবানি বলেন, সিরিয়া ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল; তবে ইসরায়েলকেও দামেস্কের উদ্বেগের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান ও ধরপাকড় চালানোর পরিবর্তে তাদের উচিত এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া।

তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুর দিকে নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে উভয় পক্ষ প্রায় সব কিছুতেই লিখিতভাবে সম্মত হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলকে সিরিয়ায় হামলা বন্ধ করতে হত এবং আল-আসাদের পতনের পর দখলকৃত এলাকা থেকে তাদের সরে আসার বিষয়টিও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

চুক্তিতে ইসরায়েল সীমান্তের কাছে সিরিয়ার ভূখণ্ডে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির কথা ছিল, যেখানে কেবল জাতিসংঘের উপস্থিতি থাকবে। তবে তিনি বলেন, ইসরায়েল চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো প্রকৃত সদিচ্ছা তাদের মধ্যে নেই বলেও তিনি জানেন।

১৯৪৮ সাল থেকে সিরিয়া এবং ইসরায়েল কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। আল-শাইবানি বলেন, এখন অগ্রাধিকার হলো নিরাপত্তা চুক্তি হওয়ার আগেই ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা। এরপর হয়তো আমরা শান্তি এবং গোলান সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারব।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারা আল-শারা সরকারের কাছে গোলান মালভূমি ফেরত দিতে ইচ্ছুক নন। সিরিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম বারাক গত সপ্তাহে বলেছেন, ইসরায়েল, তুরস্ক এবং সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত রোধে একটি ব্যবস্থা বা মেকানিজম তৈরির জন্য ওয়াশিংটন কাজ করছে।

আল-শাইবানি জানান, ওই ব্যবস্থা বা মেকানিজম নিয়ে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। হামলা বন্ধ করা এবং নিরাপত্তা চুক্তির পথ সুগম করা লক্ষ্য হতে হবে। তিনি আরও বলেন, আবু আল-দুহুর এলাকাটি তুরস্কের কোনো ঘাঁটি হবে না, সিরিয়া এমন বার্তা দেওয়ার পরেও ইসরায়েল সেখানে বোমা হামলা চালায়।

তিনি উল্লেখ করেন, সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে সিরিয়া তুরস্কের সহায়তা নিয়ে থাকে; জর্ডান, সৌদি আরব এবং অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। দামেস্ক তুরস্কের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞ, এবং তারা এই সহায়তা থেকে সরে আসবেন না বলেও জানান তিনি।

সূত্র: আলজাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিকল্পিত ও আধুনিক জনপদ গড়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


পরিকল্পিত ও আধুনিক জনপদ গড়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

সিলেট মহানগর ও পার্শ্ববর্তী চার উপজেলাকে পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। মঙ্গলবার দুপুরে কার্যালয় উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সিউকের কার্যক্রম শুরু হবে। রবিবার অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি বলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০২৩-এর আওতায় গঠিত এ সংস্থার মূল লক্ষ্য আধুনিক ও পর্যটনসমৃদ্ধ নগর গড়ে তোলা, সুষম ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিউকের আওতাধীন এলাকায় সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন এবং সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এসব এলাকার মোট আয়তন প্রায় ১ হাজার ১৬৮ বর্গকিলোমিটার। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় রয়েছে ভূমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, ভবন নির্মাণ ও অনুমোদন কার্যক্রম পরিচালনা, নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ এবং নিম্নআয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধান। পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ এবং পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। যান চলাচল ব্যবস্থাপনা, উড়ালসেতু নির্মাণ এবং নালা, খাল ও নদীর উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানান সিউক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সিলেটকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় ঘানিতে সরিষার তেল উৎপাদনে সাড়া ফেলেছেন উদ্যোক্তা মোশারফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


সাতক্ষীরায় ঘানিতে সরিষার তেল উৎপাদনে সাড়া ফেলেছেন উদ্যোক্তা মোশারফ

সাতক্ষীরা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : যখন বাজারে ভেজাল তেলের ছড়াছড়ি, তখন সাতক্ষীরার বিসিক শিল্প নগরীতে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছেন সফল উদ্যোক্তা মোশাররফ হোসেন। কিছুকাল আগে মধুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি, কিন্তু বর্তমানে ১২টি তেঁতুল কাঠের ঘানি এবং আধুনিক ফিল্টার মেশিনের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২০ টন সরিষার তেল উৎপাদন করছেন। এই উৎপাদন স্থানীয় পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানে সাহায্য করছে। স্থানীয় সরিষা থেকেই উৎপাদিত এ তেল এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।

উদ্যোক্তা মোশারফ হোসেন (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পার্শ্বেমারী গ্রামের মো. মজিদ গাজী ও করিমন নেছা দম্পতির সন্তান।

জানা যায়, সাতক্ষীরায় কাঠের ঘানির মাধ্যমে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। তেঁতুল বা অন্যান্য কাঠের ঘানিতে ভাঙানো তেলের জন্য এলাকায় রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। ভোজ্য তেলের বাজারে বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা প্রদান করে সাতক্ষীরার বিসিক শিল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক तেল মিল ‘সুন্দরবন ওয়েল’। উদ্যোক্তা মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে এখানে চলছে তেঁতুল কাঠের ঘানিতে সরিষা মাড়াইয়ের কাজ। প্রতিদিন ৫ টন সরিষা মাড়াইয়ের মাধ্যমে মাসে ২০ টনেরও বেশি তেল উৎপাদিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪২ লাখ টাকা। উৎপাদিত তেলের পাশাপাশি খৈলও স্থানীয় মৎস্য ঘেরগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলায় তার মতো আরো অনেক উদ্যোক্তা কাঠের ঘানিতে সরিষা মাড়াই করেও তেল উৎপাদন শুরু করেছেন। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

মিলের ম্যানেজার হাবিবুল্লাহ বাসসকে জানান, তাদের প্রথম কার্যক্রম চাষীদের কাছ থেকে সরিষা সংগ্রহ করার মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর আন্তরিকভাবে এ সরিষা শুকিয়ে কাঠের ঘানিতে দেয়া হয়। ঘানি থেকে ৮০-৮৫ পার্সেন্ট তেল বের হলে তা দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লাপার মেশিনে যায় এবং সেখানে আরো ১০-১৫ পার্সেন্ট তেল বের হয়। পরবর্তী ধাপে তেলগুলো অত্যাধুনিক ফিল্টার মেশিনের মাধ্যমে পরিশোধিত হয়ে বোতলজাত করে খুচরা ও পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন মিল থেকে ২০-২৫ মণ সরিষা মাড়াই করা হচ্ছে, আর এর থেকে ১ হাজার থেকে ১২’শ মণ তেল উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া, প্রতিদিন ২০-২৫ বস্তা খৈল উৎপাদিত হয়। এই খৈল স্থানীয় মৎস্য ও গরুর খামারে বিক্রি করা হয়।

তিনি আরও জানান, মিলের বিশেষত্ব হলো এখানে শতভাগ দেশি সরিষা ব্যবহার করা হয়। কোল্ড প্রেস এবং আধুনিক ফিল্টার প্রযুক্তির ব্যবহারসহ উৎপাদিত এ তেলের মান স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে।

কর্মচারী আশিকুজ্জামান জানান, এ মিলে আমরা ১০ জন শ্রমিক কাজ করছি। এখানে আমাদের যে বেতন দেয়া হয়, তা দিয়ে আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে ভালোভাবে আছি। দুই শিফ্টে ৬ ঘন্টা করে আমরা সবাই মিলে এখানে কাজ করি।

কারখানা দেখতে আসা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মোশারফ ভাইয়ের ‘সুন্দরবন অয়েল’ মিলটি দেখে তার খুব ভালো লেগেছে। তিনি তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চান।

‘সুন্দরবন অয়েল’ মিলের স্বত্বাধিকারী মো. মোশারফ হোসেন বাসসকে বলেন, বিসিক শিল্প নগরীতে আমার একটি মধু প্রসেসিং সেন্টার রয়েছে। তার সাথে সাতক্ষীরায় ব্যাপক প্রেক্ষাপটে সরিষার চাষের কারণে আমি ভেজাল মুক্ত সরিষার তেল সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘সুন্দরবন অয়েল’ মিল প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতিদিন এখানে ৫ টন সরিষা মাড়াই হচ্ছে। যা থেকে ২ থেকে ৩ টন তেল উৎপাদিত হচ্ছে। এই তেল বর্তমানে সারা দেশে পাইকারি দামে বাজারজাত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তার এ মিলের মাধ্যমে বর্তমানে ১০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। আরও অনেক ছোট উদ্যোক্তা তার কাছ থেকে তেল নিয়ে অনলাইনে খুচরা তেলের ব্যবসা করছেন। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিনা বাধায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান যাতে বিসিক শিল্প নগরীর সকল কলকারখানা চালু থাকে।

সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এ শিল্পটি জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

সাতক্ষীরার বিনেরপোতা বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাস বাসসকে জানিয়েছেন, শিল্প নগরী সাতক্ষীরা ১৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নানা শিল্প-কারখানার মাধ্যমে। এদের মধ্যে অনেক উদ্যোক্তা খুবই উদ্যমী, যার মধ্যে ‘সুন্দরবন অয়েল’ মিলের স্বত্তাধিকারী মোশারফ অন্যতম। তিনি তার মধু প্রসেসিং কারখানা থেকে এবারের তেঁতুল কাঠের ঘানি দিয়ে সরিষার তেল উৎপাদন করছেন, যা অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। চাহিদার কারণে বর্তমান সময়ে তিনি যথেষ্ট তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। বিসিক তাকে প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করেছে বিধায় ভবিষ্যতে তার মতো উদ্যোক্তাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তার মতে, এসব উদ্যোক্তার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%