০৫:৩৩ পি.এম
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর ভাঙনে শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীসহ আশপাশের প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ভাঙনের ফলে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি খোয়াই নদীর ভাঙনে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এই ঘটনায় বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙনে লস্করপুর, চরহামুয়া, কালিগঞ্জ, আদ্যপাশাসহ আশপাশের প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সংলগ্ন অংশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেওয়ায় সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে স্কুলশিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন। ভাঙা অংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে এলাকাবাসীকে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে তাদের স্বজনদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া বিকল্প পথে নতুন বাজার হয়ে প্রায় চার কিলোমিটার ঘুরে শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা পেরিয়ে বৈদ্যের বাজারে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও যাতায়াতের খরচ বাড়ার পাশাপাশি শারীরিক কষ্টও বেড়েছে।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় ‘জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার ও উন্নয়ন ফোরামের’ আত্মপ্রকাশ
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। খোয়াই নদীর ভাঙনে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার চাই।" শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলেন, "ভাঙা রাস্তার কারণে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা ও গর্তে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। অনেক সময় ঠিকমতো ক্লাসেও পৌঁছাতে পারি না। আমাদের পড়াশোনা ও যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানাই।"
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ-আবু-জাহের জানান, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে বিশেষ বরাদ্দ এসেছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ তানজীর উল্লাহ সিদ্দিকী এ বিষয়ে জানান, সড়কটির সংস্কারকাজের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় ৪ লাখ ৩ হাজার ভারতীয় রুপিসহ দুলাল মিয়া আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন